৪১ বছর পর মহাকাশ গেলেন দ্বিতীয় ভারতীয় শুভাংশু শুক্লা। গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় ৬টা ৩১ মিনিটে তাকে বহনকারী রকেটটি রওনা হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে। ফ্যালকন-৯ রকেটের স্পেসএক্স ড্রাগন ক্যাপসুলের মাধ্যমে পাঠানো হয় তাদের।
সব ঠিক থাকলে আগামী ২৬ জুন ভারতীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ শুভাংশু শুক্লাদের নিয়ে স্পেসএক্সের রকেট পৌঁছে যাবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে (আইএসএস)।
এর আগে ১৯৮৪ সালে উইং কমান্ডার রাকেশ শর্মা প্রথম ভারতীয় হিসেবে মহাকাশে যান। তার ৪১ বছর পর মহাকাশের পথে রওনা হলেন ৩৯ বছর বয়সী গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা। তিনিই এই মহাকাশযানের পাইলট।
এই মহাকাশযানে অন্যান্য দেশের নভোচারীও রয়েছেন। এটির পরিচালক রেগি হুইটসন। পোল্যান্ডের স্লায়োস উজনানস্কি-উইসনিউস্কি ও হাঙ্গেরির টিবর কাপুও রয়েছেন এ যাত্রায়।
সব মিলিয়ে ১৪ দিনের অভিযান। আর এ অভিযানের জন্য এই চার মহাকাশযাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। শুভাংশুসহ চার মহাকাশচারী আগামী ১৪ দিন আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে থাকবেন। সেখানে অন্তত ৬০টি পরীক্ষা করবেন তারা। তার মধ্যে সাতটি পরীক্ষা ভারতীয় গবেষকরা ঠিক করেছেন। ক্যাপ্টেন শুক্লা মহাকাশে অবস্থানরত সময়ে কোনো এক ভিআইপির সঙ্গে কথাও বলবেন বলে জানা গেছে।
শুভ্রাংশু গুপ্ত মহাকাশ থেকে পাঠানো প্রথম বার্তায় বলেছেন, ‘আমার প্রিয় দেশবাসীকে নমস্কার। কী অসাধারণ যাত্রা। ৪১ বছর পর আমরা আবার মহাকাশে। প্রতি সেকেন্ডে সাড়ে সাত কিলোমিটার গতিতে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছি। আমার কাঁধে লাগানো তিন রঙের পতাকা বলে দিচ্ছে, আমি আপনাদের প্রতিনিধি। আমার এই যাত্রা শুধু আন্তর্জাতিক মহাকাশকেন্দ্রে প্রবেশের সূচনা নয়, এটি ভারতের মানবিক মহাকাশ প্রকল্পের যাত্রার সূচনা। আপনারা সবাই এই যাত্রায় শামিল। আপনাদের বুকও নিশ্চয়ই গর্বে ফুলে উঠেছে।’
ভারতীয় বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা শুভাংশু শুক্লার জন্ম ১৯৮৫ সালে লক্ষ্ণৌতে। ২০০৫ সালে তিনি সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করেন এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে ডিগ্রি নেন। মিগ, জাগুয়ার, হক এবং অন্যান্য যুদ্ধবিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ২০২৪ সালে তিনি গ্রুপ ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন।
২০১৯ সালে তিনি ইসরো থেকে ডাক পান। ২০২০ সালে তিনি রাশিয়ায় গ্যাগারিন কসমোনট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, শুভাংশু গুপ্ত গগনযান মিশনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
ডয়চে ভেলের খবর বলছে, গতকাল যাত্রার আগে মহাকাশযানে কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দেয়। তবে দ্রুতই তা ঠিক করে নেওয়া হয়।
বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, ইসরো বেশ কয়েক বছর ধরেই মহাকাশে যাওয়ার জন্য নানাবিধ পরীক্ষা চালিয়ে আসছিল। গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুক্লার আসন নিরাপদে ও প্রশিক্ষণে ইসরো এ অভিযানে ৫০০ কোটি ডলার দিয়েছে। রকেটের সফল উৎক্ষেপণে অভিবাদন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্র: বিবিসি, ডয়চে ভেলে