যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর প্রস্তাবিত ডিজিটাল সার্ভিস কর আরোপের পরিকল্পনা বাতিল করার পর কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৯ জুন) কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এ কথা জানিয়েছেন।
সোমবার ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দুস্থান টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
এ বিষয়ে কার্নি জানান, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত ছিল, তা আবার শুরু হচ্ছে এবং এটি জি-৭ সম্মেলনে নির্ধারিত সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে এগোবে। দুই দেশ আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে চায়।
এদিকে কার্নির দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়ে বাণিজ্য আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার (২৮ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এই আলোচনা বন্ধের জন্য ট্রাম্প কানাডাকে দায়ী করেছিলেন।
ট্রাম্পের দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ডিজিটাল সার্ভিসে প্রস্তাবিত কর আরোপ করার যে সিদ্ধান্ত কানাডা নিয়েছে সেটি ছিল ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রকাশ্য ও নির্লজ্জ আক্রমণ।’
এর আগে উভয় দেশই গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে একটি নতুন অর্থনৈতিক চুক্তি চূড়ান্ত করার ব্যাপারে একমত হয়েছিল।
কানাডা ঘোষণা করেছিল যে, তারা অ্যামাজন, মেটা, অ্যালফাবেটের গুগল ও অ্যাপলের মতো মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের ডিজিটাল আয়ের ওপর ৩ শতাংশ হারে কর আরোপ করবে। এই কর ২ কোটি কানাডীয় ডলারের বেশি আয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং এটি ২০২২ সাল থেকে কার্যকর হবে।
মূলত, এর প্রেক্ষিতে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ করেছিলেন ট্রাম্প। তখন ট্রাম্প কানাডাকে ‘বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত কঠিন একটি দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘কানাডার ওপর আমাদের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। কানাডা নিজেদের আইন সংশোধন না করা পর্যন্ত আলোচনার পুনরারম্ভ হবে না।’
উল্লেখ্য, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার, যেখানে গত বছর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৭৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সূত্র: দ্য হিন্দুস্থান টাইমস, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
সুমন বিশ্বাস/