আলাস্কার অ্যানকোরেজের জয়েন্ট বেস এলমেনডর্ফ–রিচার্ডসন সামরিক ঘাঁটিতে শুক্রবার (১৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৮ মিনিটে অনুষ্ঠিত হলো ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যকার বহুল আলোচিত ঐতিহাসিক বৈঠক।
আশা করা হচ্ছে, এই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসবে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে, প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে যুদ্ধ বন্ধের কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।
কিন্তু বৈঠককে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে এখনো কিছু বিষয় মীমাংসার অপেক্ষায় আছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটন বৈঠক শুরুর আগে তার কিছু প্রত্যাশার কথা জানান।
‘রেজিং মডারেটস’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সফল হলে তিনি ট্রাম্পকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেবেন। তবে সেক্ষেত্রে একটি শর্ত আছে। তা হলো, এই সমাধান বা আলোচনা যেন রাশিয়া তথা পুতিনের কাছে আত্মসমর্পণের নামান্তর না হয়।’
হিলারি আরো বলেন,‘ আলাস্কার এই শীর্ষ বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সুযোগ’ এনে দিয়েছে। সত্যি বলতে, যদি ট্রাম্প এ ভয়াবহ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পারেন এবং সেটা এমনভাবে যাতে হয়—ইউক্রেনকে আক্রমণকারী পক্ষের কাছে যেন কোনো ভূখণ্ড ছাড়তে না হয়। যদি তিনি (ট্রাম্প) সত্যিই পুতিনের সামনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন, যা আমরা এখনো দেখিনি, তবে হয়তো এ মুহূর্তটাই সেই সুযোগ।’
হিলারি আরও যোগ করেন, ‘যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই উদ্যোগের স্থপতি হন, আমি তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেব। কারণ, আমার লক্ষ্য হলো—পুতিনের কাছে আত্মসমর্পণ ঠেকানো।’
নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ বলে পরিচয় দেওয়া ট্রাম্প বহুবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এর আগেও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন কয়েকজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাদের মধ্যে রয়েছেন থিওডোর রুজভেল্ট (১৯০৬), উড্রো উইলসন (১৯১৯), জিমি কার্টার (২০০২) এবং বারাক ওবামা (২০০৯)।
সুলতানা দিনা/