যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা এখন এমন এক অচলাবস্থার দিকে এগোচ্ছে যেখানে কোনো পক্ষই আপস করার ইঙ্গিত দিচ্ছে না। স্থানীয় সময় গত সোমবার (১৮ আগস্ট) ভেনেজুয়েলা সরকার ৪ হাজার সেনা ও ৪৫ লাখেরও বেশি মিলিশিয়া সদস্যকে মোতায়েন করেছে। মনে করা হচ্ছে, ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অভিযান সম্পর্কিত প্রতিবেদনের জবাব হিসেবেই করা হয়েছে।
সোমবার টেলিভিশন ভাষণে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেন, আমরা আমাদের সমুদ্র, আমাদের আকাশ আর আমাদের ভূমি রক্ষা করি। আমরা এগুলো মুক্ত করেছি। আমরা এগুলো পাহারা দিই, টহল দিই। কোনো সাম্রাজ্য ভেনিজুয়েলার পবিত্র ভূমিকে স্পর্শ করবে না, দক্ষিণ আমেরিকার পবিত্র ভূমিকেও স্পর্শ করা উচিত নয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা সোমবার সংবাদ মাধ্যম রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনীর তিনটি মিসাইলবাহী ডেস্ট্রয়ার ক্যাটাগরির যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে।
ছবি: সংগৃহীত
গতকাল মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি আমেরিকার শক্তির প্রতিটি উপাদান ব্যবহার করতে প্রস্তুত, যাতে আমাদের দেশে মাদকের স্রোত ঠেকানো যায় এবং এর জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা যায়।
ট্রাম্প ও মাদুরোর দীর্ঘদিনের বৈরিতা
ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয় ২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকালে, যখন ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে সমর্থন দেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকার মাদুরোর সর্বশেষ দুটি নির্বাচনী বিজয়কে স্বীকৃতি দেয়নি। আর ট্রাম্প প্রশাসন বারবার মাদুরোর প্রেসিডেন্ট পদকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেছে—এমনকি সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবারও।
ভেনেজুয়েলার উপকূলে মার্কিন নৌ-শক্তির উপস্থিতি। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প বলেন, আমি খুব ভালোভাবেই জানি, ভেনেজুয়েলা এখন এক স্বৈরশাসকের হাতে চলছে। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, দেশটি অপরাধীদের ও মাদকের স্রোত যুক্তরাষ্ট্রে ঠেলে দিচ্ছে এবং এ কারণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
ডেমোক্র্যাট সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জো বাইডেনও মাদুরো সরকারের বিরোধিতা করেছিলেন। মাদুরো সরকার বিরোধীদের কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিয়েছে এবং মার্কিন সাংবাদিকদের বহিষ্কার করেছেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকালে ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০২০ সালে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদ, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্রসহ নানা অভিযোগ আনা হয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এসে দুই নেতার মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।
এই আগস্ট মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর গ্রেপ্তারের তথ্য দিতে পারলে পুরস্কার দ্বিগুণ করে ৫ কোটি ডলার ঘোষণা করে। প্রশাসন আরও অভিযোগ করে যে, মাদুরো ‘‘বিশ্বের অন্যতম বড় মাদক চোরাকারবারি’’ এবং কথিত কার্টেল অব দ্য সানস-এর প্রধান। তবে ভেনেজুয়েলা সরকার এসব অভিযোগ নাকচ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আরও দাবি করেছে, মাদুরোর সঙ্গে মেক্সিকোর সিনালোয়া কার্টেলের যোগসূত্র আছে, যদিও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম এ মাসের শুরুর দিকে বলেছেন, তাদের সরকারের কাছে এর কোনো প্রমাণ নেই।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানিয়েছেন, ১৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র সরকার মাদুরোর সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে ৭০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে—যার মধ্যে রয়েছে বিলাসবহুল সামগ্রী, ব্যাংক হিসাব ও প্রাইভেট জেট। সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন
মাহফুজ/