সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিতে গাজায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মৃতদের মধ্যে দুজন শিশু। এ নিয়ে অনাহারে মৃতের সংখ্যা ৩১৩-তে এসে ঠেকল। তাদের মধ্যে ১১৯ জনই শিশু।
ইসরায়েল দুর্ভিক্ষের মধ্যেও হামলা অব্যাহত রেখেছে। গাজা সিটিতে তারা ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পুরো এলাকা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আল-জাজিরার প্রতিবেদকরা। অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে গতকাল ভোর থেকে অন্তত ২৩ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। তাদের মধ্যে চারজন সহায়তাপ্রত্যাশী।
পশ্চিম তীরেও পূর্ণ গতিতে চলছে ইসরায়েলি অভিযান। ফিলিস্তিনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী অধিকৃত পশ্চিম তীরে ‘বিপজ্জনকভাবে বাড়াবাড়ি’ করছে। মূলত রামাল্লাতে এক অভিযান চালিয়েছিল তারা। ওই অভিযানে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি আহত হয়। এর পরই এল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের এ তথ্য।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ৬২ হাজার ৮১৯ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬২৯ জন। এদিকে জাতিসংঘের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে অন্তত ৯৮২ জন ফিলিস্তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রাণ হারিয়েছেন। গাজার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে নিহত হয়েছেন ওই ব্যক্তিরা। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের দেওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে এসব।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জাতিসংঘের সংস্থা জানিয়েছে, গত সপ্তাহে আল-মুঘাইয়ির গ্রামে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। সেখানে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন ও চাপ প্রয়োগের নতুন নজির গড়েছে তারা। এ ছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীরে রামাল্লার কাছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত সপ্তাহে প্রায় তিন হাজার জলপাই গাছ নষ্ট করেছে। স্থানীয় পরিষদের প্রধান ওই তথ্য জানান।
গতকাল বুধবার ৯ ঘণ্টার বেশি সময় পশ্চিম তীরের নাবলুসে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে মোতায়েন করা ইসরায়েলি সেনা সদস্যরা কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্টের বরাতে জানা গেছে তথ্যটি। এ ছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিবর্ষণে এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় চিকিৎসা সূত্র থেকে তথ্যটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে চাপ বাড়ছে বেলজিয়ামের ওপর
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী নিজের উপপ্রধানদের নিয়ে গতকাল বুধবার বৈঠক করেছেন। মূলত ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রশ্নে চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে তাদের ওপর। উপপ্রধানদের সবাই ক্ষমতাসীন জোটের পাঁচ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি।
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানান, সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না করা হলে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো কারণ দেখেন না তিনি। প্রধানমন্ত্রী বুঝাতে চেয়েছিলেন হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ, জিম্মিদের মুক্তি ও ইসরায়েলের জন্য সুরক্ষা- ইত্যাদি শর্ত আগে পূরণ করতে হবে। তবে বেলজিয়ামের অন্যান্য মহল থেকে চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের মতে, এসব সিদ্ধান্ত আমাদের নয়। বেলজিয়ামের আন্তর্জাতিক বৈধতা ও অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোর রেকর্ড রয়েছে। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার এটিই সঠিক সময়। সূত্র: আল-জাজিরা