ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আনা ‘নিউ ইয়র্ক ঘোষণা’ বিপুল সমর্থনে গৃহীত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ভোটে ১৪২টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়।
হামাসকে সন্ত্রাসী বা উগ্র সংগঠন বলা দেশ যেমন ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্কীকৃতি দিয়েছে এবার। তবে এর বিরোধীতা করেছে ১০টি দেশ।
এদের মধ্যে উল্লেখ করার মতো দেশগুলো হলো আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্র, হাঙ্গেরি ও ইসরায়েল। বাকিরা হলো মাইক্রোনেশিয়া, নাউরু, পালাউ, পাপুয়া নিউ গিনি, প্যারাগুয়ে ও টোঙ্গা।
আর্জেন্টিনাসহ এসব দেশ শুধু যে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয় নি তা নয়, ২০২৩ এর অক্টোবরে সংঘাত শুরুর পর থেকে গাজায় জরুরি ওষধ সরবরাহ, ত্রাণ প্রবেশ এমনকি যুদ্ধবিরতিরও বিরোধীতা করেছে। এ যাবৎ যত ধরনের ভোটাভুটি হয়েছে সবগুলোতে ইসরায়েলের পাশে ছিল এসব দেশ।
ভোটেদানে বিরত থাকে ১২টি দেশ। এ দেশগুলো হলো ক্যামেরুন, চাদ, গুয়াতেমালা, ফিজি, গ্রেনাডা, উত্তর মেসিডোনিয়া, ভানুয়াতু, উরুগুয়ে, গিনি, মার্শাল আইল্যান্ডস, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি এবং এসওয়াতিনি।
প্রস্তাবে বলা হয়, “দুই রাষ্ট্র সমাধান” বাস্তবায়নের জন্য স্পষ্ট, সময়সীমাবদ্ধ ও অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি হামাসকে জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানানো হয়।
ঘোষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, গাজায় যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
আগামী ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সৌদি আরব ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে এক সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং বেলজিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল এ প্রস্তাবকে “সন্ত্রাসের পুরস্কার” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। জাতিসংঘে দেশটির রাষ্ট্রদূত ড্যানি দানন বলেন, “এতে শান্তি নয়, বরং সন্ত্রাসই উৎসাহিত হচ্ছে।”
মাহফুজ/