যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের সমতুল্য সুপার রাফাল যুদ্ধবিমান আনতে চলেছে ন্যাটোভুক্ত দেশে ফ্রান্স। ফ্রান্সের নতুন ‘সুপার রাফাল’ (এফ৫) হলো দাসো রাফালের উন্নত সংস্করণ।
রাফালের এই সংস্করণটি নিউরন নামের স্বয়ংক্রিয় ড্রোনের সঙ্গে কাজ করবে এবং একটি নতুন ‘সেলফ-ডিফেন্স বাবল’ দিয়ে সুরক্ষিত থাকবে। এতে নতুন ফিউচার ক্রুজ মিসাইল এবং ফিউচার অ্যান্টি-শিপ মিসাইল যুক্ত হবে। এ ছাড়া এটি এসএন৪জি হাইপারসনিক পারমাণবিক মিসাইল বহন করতে পারবে। রাফালের এ মডেলটি ফ্রান্সের ষষ্ঠ প্রজন্মের এফসিএএস বিমানের পথ প্রশস্ত করবে।
‘সুপার রাফাল’-এর নতুন বৈশিষ্ট্য কী?
ফ্রান্সের দাসো রাফাল যুদ্ধবিমান তাদের বিমান বাহিনীর অন্যতম সেরা সম্পদ। এটি একটি শক্তিশালী এবং বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা ফ্রান্সের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ন্যাটোর সঙ্গে আকাশ পাহারা এবং রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষকে প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। এটি বিশ্ববাজারেও জনপ্রিয়। এখন নতুন ‘সুপার রাফাল’ নামের একটি উন্নত সংস্করণ এটিকে আরও শক্তিশালী করবে।
ফ্রান্সের উচ্চাকাঙ্ক্ষা: যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫-এর সমকক্ষ হবে কি?
ফ্রান্স চায় তাদের সুপার রাফাল আমেরিকার এফ-৩৫ লাইটনিং টু-এর মতো শক্তিশালী হোক। এই নতুন রাফাল দাসো অ্যাভিয়েশন এবং ফ্রান্সের বিমান বাহিনীর জন্য গর্বের বিষয় হবে। দাসো এই বিমান দিয়ে বিশ্ববাজারে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্য নিয়েছে।
রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্য
সুপার রাফাল বা এফ৫ মডেলটি বর্তমান এফ৪ সংস্করণের চেয়ে উন্নত। আমেরিকার এফ-৩৫ ১৯টি দেশে রপ্তানি হয়েছে, আর রাফাল এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার আটটি দেশে রপ্তানি হয়েছে। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বড় চুক্তি হয়েছে। ফ্রান্স এই সুপার রাফাল দিয়ে আরও বেশি দেশের কাছে তাদের প্রযুক্তি ও গুণমান প্রমাণ করতে চায়।
ড্রোনের সঙ্গে সমন্বয়
সুপার রাফাল নিউরন নামের স্বয়ংক্রিয় ড্রোনের সঙ্গে কাজ করবে। এই ড্রোনগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে অতিরিক্ত অস্ত্র বহন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, শত্রুর রাডার জ্যাম করা এবং যুদ্ধের ক্ষতি মূল্যায়ন করতে সাহায্য করবে।
নতুন অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
সুপার রাফালে থাকবে একটি বিশেষ ‘সেলফ-ডিফেন্স বাবল’ যা বিমানটি নিজেকে এবং আশেপাশের নিজেদের বিমানকে সুরক্ষা দেবে। বর্তমান এফ৪ রাফালে এক্সোসেট অ্যান্টি-শিপ মিসাইল এবং স্কাল্প/স্টর্ম শ্যাডো ক্রুজ মিসাইল ব্যবহৃত হয়। সুপার রাফালে নতুন ফিউচার ক্রুজ মিসাইল (এফসিএম) এবং ফিউচার অ্যান্টি-শিপ মিসাইল (এফএএসএম) যুক্ত হবে। এটি ১৪টি হার্ডপয়েন্টে ৯.৫ টন অস্ত্র বহন করতে পারবে।
ট্যালিওস এবং রেকো এনজি টার্গেটিং পডের সমন্বয়ে সুপার রাফালের আকাশ থেকে মাটিতে এবং আকাশে আকাশে আঘাতের নির্ভুলতা বাড়বে। এটি এফ-৩৫-এর উন্নত টার্গেটিং সিস্টেমের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে।
হাইপারসনিক পারমাণবিক অস্ত্র
সুপার রাফালে এএসএন৪জি হাইপারসনিক পারমাণবিক মিসাইল যুক্ত হবে, যা ফ্রান্সের কৌশলগত শক্তি বাড়াবে। এটি পুরোনো এএসএমপিএ পারমাণবিক অস্ত্রের জায়গা নেবে। এই হাইপারসনিক অস্ত্র সুপার রাফালকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের কাছাকাছি নিয়ে যাবে।
ক্লাব রাফাল ও ন্যাটোর সঙ্গে সমন্বয়
‘ক্লাব রাফাল’ নামের একটি নতুন সফটওয়্যার ব্যবস্থা থাকবে, যা বিমানের সেন্সরগুলোর তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করবে এবং ন্যাটোর অন্যান্য যুদ্ধবিমান, যেমন ইউরোফাইটার টাইফুন বা জেএএস ৩৯ গ্রিপেনের সঙ্গে আরও ভালো সমন্বয় করবে।
উন্নত প্রযুক্তি
সুপার রাফালে থাকবে উন্নত এইএসএ রাডার এবং ইনফ্রারেড সার্চ অ্যান্ড ট্র্যাক সিস্টেম, যা স্টিলথ বিমান শনাক্ত করতে পারবে। থ্যালেস স্কর্পিয়ন হেলমেট-মাউন্টেড ডিসপ্লে পাইলটদের জন্য ককপিটকে আরও সুবিধাজনক করবে। সুপার রাফাল শত্রুর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দমনে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। এটি যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই বহুমুখী কাজ করতে সক্ষম। পারমাণবিক অস্ত্র বহনের ক্ষমতা এটিকে ফ্রান্সের প্রতিরোধ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সুপার রাফাল ফ্রান্সের ষষ্ঠ প্রজন্মের ফিউচার কমব্যাট এয়ার সিস্টেম (এফসিএএস)-এর পথ প্রশস্ত করবে। এটি ২০২৬ সালে তৈরি শুরু হবে এবং ২০৩০ সালে ফ্রান্সের বিমান বাহিনীতে যুক্ত হবে। এটি ২০৪০-এর দশক পর্যন্ত সেবা দেবে।
সুপার রাফালের গুরুত্ব
ফ্রান্স সুপার রাফাল নিয়ে গর্বিত। এটি আরও বেশি দেশে রপ্তানি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। হাইপারসনিক পারমাণবিক মিসাইল রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। ন্যাটোর বিমান বহরে এটি একটি শক্তিশালী সংযোজন হবে। নিউরন ড্রোনের সঙ্গে কাজ করার ক্ষমতা ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এটি এফ-৩৫-এর স্টিলথ ক্ষমতার সমান নয়, তবুও এর উন্নত বৈশিষ্ট্য এটিকে ইউরোপের সেরা যুদ্ধবিমানের দৌড়ে এগিয়ে রাখবে। আগামী বছরগুলোতে সুপার রাফালের প্রভাব লক্ষ করার মতো হবে। সূত্র: দ্য ন্যাশনাল সিকিউরিটি জার্নাল
সুমন বিশ্বাস/