আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে আত্মঘাতী হামলায় সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। আজ শুক্রবারের এই হামলার ঘটনা ঘটে এমন সময়ে, যখন দুই দেশের মধ্যে টানা কয়েক দিনের তীব্র সংঘর্ষের পর ঘোষিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেয়াদ শেষ হয়, আর সেটি আর নবায়ন করার কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দুটি দেশ সম্প্রতি তীব্র স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তান আফগান সীমান্তের ওপারেও বিমান হামলা চালায়, যাতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়। এর পর দুই পক্ষ ৪৮ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়, যা শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় শেষ হয়।
পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে একটি সামরিক শিবিরে জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলায় সাত সেনা নিহত ও আরও ১৩ জন আহত হন। এক আত্মঘাতী বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে শিবিরের প্রাচীরে ধাক্কা দেয়, আর দুইজন জঙ্গি ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে সেনারা গুলি করে তাদের হত্যা করে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, আত্মঘাতী ওই হামলায় ছয় জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে সেনা নিহতের সঠিক সংখ্যা তারা জানায়নি। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি, কোনো গোষ্ঠীও এখনো এর দায় স্বীকার করেনি।
পাকিস্তানে ক্রমবর্ধমান জঙ্গি তৎপরতা দেশটির সঙ্গে আফগান তালেবান সরকারের সম্পর্কের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনীর প্রত্যাহারের পর তালেবান কাবুলের ক্ষমতায় ফিরে আসে। সাম্প্রতিক সংঘাতের সূত্রপাত হয়, যখন ইসলামাবাদ কাবুলকে পাকিস্তানে বেড়ে ওঠা জঙ্গি হামলাগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে বলে—যে হামলাগুলোর পরিকল্পনা পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী আফগান ভূখণ্ড থেকেই করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, একের পর এক জঙ্গি হামলার পর ধৈর্য হারিয়ে পাকিস্তান ‘প্রতিশোধমূলক’ পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে তিনি দ্বন্দ্ব সমাধানে আলোচনায় বসার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে আফগান তালেবান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তান ভুল তথ্য ছড়িয়ে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং আইএস-সম্পৃক্ত জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে—যা আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্ব নষ্টের উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। ইসলামাবাদ এসব অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে।
শুক্রবার পাকিস্তান রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, আফগানিস্তান তাদের কাছে সাত পাকিস্তানির মৃতদেহ হস্তান্তর করেছে—যাদের মধ্যে দুজন নিরাপত্তাকর্মী ও পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক। তারা সপ্তাহের শুরুতে সীমান্তে সংঘর্ষে নিহত হন।
যদিও ইসলামি দেশ দুটি অতীতেও সংঘর্ষে জড়িয়েছে, চলতি মাসের লড়াই বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সৌদি আরব ও কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি চাইলে এই সংঘাত নিরসনে সহায়তা করতে পারেন। সূত্র: রয়টার্স
মাহফুজ/