ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বাধা’ নিয়ে ক্ষোভ, মেক্সিকোয় পৌঁছেছে ইরান দল হামে ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেলে ১ শিশুর মৃত্যু, ভর্তি ২৯ বিশ্ববাজারে ফের কমল স্বর্ণের দাম ভুয়া কমিটি ঘোষণা নিয়ে বিএনপি মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা ৯ অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস স্পেন ও ইয়ামালের মাঝে বার্সা গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন সৌরভ-ইউসুফ, মমতার জন্য এমপি পদ ছাড়ার দাবি অস্বীকার বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ স্মারক গ্রন্থের জন্য লেখা আহ্বান মানিকগঞ্জে চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত ১ টিভিতে আজকের খেলা ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি টেকনাফে বজ্রপাতে সাগরপারের দোকান ক্ষতিগ্রস্ত স্পেসএক্সের শেয়ার যেভাবে কিনবেন, ঝুঁকি কী গাইবান্ধায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত ছোট ভাই, আশঙ্কাজনক বড় ভাই ময়মনসিংহে ডিসি অফিসে বিএনপির বর্তমান ও বহিষ্কৃত নেতার হাতাহাতি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র হাত ও পায়ের গঠন কেমন ছিল? ঈশ্বরদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ২ চুরি, সিস্টেম লস ও ভর্তুকিতে ঘুরপাক পঞ্চগড়ে ব্যর্থ হয়ে চার দিন পর ১০ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ রামিসা হত্যা মামলার রায় যেভাবে কার্যকর হবে রৌমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা মুক্তাগাছায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু পটুয়াখালীতে জলোচ্ছ্বাস ঠেকানো সবুজ দেয়াল বিলীন! আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর চলচ্চিত্র 'সাঁকোটা দুলছে' বিএনপির ১৩ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগ -যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২১ পুশইন ব্যর্থ, দুদিন পর হরিপুর সীমান্ত থেকে ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিল বিএসএফ বিশ্ব সমুদ্র দিবস আজ ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়াল এনবিআর
Nagad desktop

মাত্র ৭ মিনিটে ল্যুভরে সিনেম্যাটিক কায়দায় যেভাবে চুরি হয়

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৪৩ এএম
মাত্র ৭ মিনিটে ল্যুভরে সিনেম্যাটিক কায়দায় যেভাবে চুরি হয়
ছবি: সংগৃহীত

সিনেমাতে আমরা সাধারণত যে ধরনের চুরির ঘটনা দেখে থাকি অনেকটা সেরকম অবিশ্বাস্য উপায়েই ফ্রান্সের ল্যুভর মিউজিয়ামে দুর্ধর্ষ এই চুরির ঘটনা ঘটেছে। জানা গিয়েছে, মাত্র মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে! 

এই অভিযানে চোরেরা ‘চেরি পিকার’ (ট্রাকের ওপর বসানো একধরনের হাইড্রোলিক মই) ও ‘অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার’ ব্যবহার করেছে। চেরি পিকারের সাহায্যে তারা মূলত বাইরে থেকে জানালা ভেঙে জাদুঘরের ভেতরে ঢোকে। পরে ‘অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার’ দিয়ে কাচ কেটে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন ও সম্রাজ্ঞীর ঐতিহাসিক গয়নার সংগ্রহ থেকে ৯টি মহামূল্যবান অলংকার চুরি করে পালিয়ে যায়।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নিউনে জানান, চোরের দলটি ল্যুভরের বিখ্যাত ‘অ্যাপোলো গ্যালারি’-তে ঢুকে পড়ে। সেখানকার দুটি প্রদর্শনী কেসের কাচ কেটে ঐতিহাসিক গয়নাগুলো নিয়ে যায়। ঘটনাটি ছিল নিখুঁত পরিকল্পিত, সম্ভবত চোরেরা আগেই জায়গাটা সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিল এবং নিরাপত্তার দুর্বল দিকগুলো বুঝে নিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে এমন একটি দল, যারা আগেই জাদুঘরটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে।’

রবিবার (১৯ অক্টোবর) এপি জানায়, চুরির সময় চোরেরা কয়েকটি জানালা ভেঙে ফেলে এবং অন্তত দুজন ভেতরে ঢোকে। চুরি শেষে তারা মোটরসাইকেল নিয়ে প্যারিস থেকে এ৬ মোটরওয়ের দিকে দ্রুত পালিয়ে যায়। আর এই পুরো ঘটনাটি ঘটেছে মাত্র সাত মিনিটে।

ল্যুভর কর্তৃপক্ষ জানায়, চুরি হওয়া ৯টি অলংকারের মধ্যে একটি পরে জাদুঘরের বাইরে উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাটির পরই জাদুঘর খালি করে দেওয়া হয় এবং ফরেনসিক দল তদন্ত শুরু করে।

প্যারিস সেন্টারের মেয়র অ্যারিয়েল ওয়েইল বলেন, ‘এটা সত্যিই বিস্ময়কর যে ল্যুভরের মতো কঠোর পাহারা থাকা জায়গায় এমন সহজে চুরি সম্ভব হলো। এত দিন এমন দৃশ্য আমরা শুধু সিনেমায় দেখেছি।’

প্যারিস প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, সংগঠিত চুরি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই রুদ্ধশ্বাস সাত মিনিটের অভিযানের সূত্র খুঁজে বের করতে তদন্তকারীরা বর্তমানে ল্যুভরের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করছেন।

এই ঘটনার পর ফ্রান্সজুড়ে জাদুঘরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক জাদুঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে প্যারিসের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে সোনার রেপ্লিকা চুরি হয় এবং লিমোজের এক জাদুঘর থেকে ৬৫ লাখ ইউরো মূল্যের পোর্সেলিন হারিয়ে যায়।

এদিকে, এখন পর্যন্ত এই চুরির ফলে ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ প্রকাশ করা না হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নিউনে বলেন, ‘এগুলো শুধু গয়না নয়, এগুলোর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মূল্য অপরিমেয়।’

সুলতানা দিনা/ 

গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন সৌরভ-ইউসুফ, মমতার জন্য এমপি পদ ছাড়ার দাবি অস্বীকার

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ১১:০৪ এএম
গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন সৌরভ-ইউসুফ, মমতার জন্য এমপি পদ ছাড়ার দাবি অস্বীকার
ইউসুফ পাঠান-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সৌরভ গাঙ্গুলী। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে লোকসভার সংসদ সদস্য ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগ করতে বলার জন্য সৌরভ গাঙ্গুলীকে পাঠানো হয়েছিল- এমন একটি সংবাদ ঘিরে শুরু হওয়া জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন দুইজনই।

ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি মমতার পক্ষ থেকে ইউসুফ পাঠানের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি বা তাকে পদ ছাড়ার কোনো বার্তা দেননি। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুল’।

অন্যদিকে ইউসুফ পাঠানও জানিয়েছেন, তাকে কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা দলের কেউ এমপি পদ ছাড়তে বলেননি। তিনি এসব খবরকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন।

এর আগে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভায় উপনির্বাচনের মাধ্যমে ফিরতে চাইতে পারেন এবং সে কারণেই ইউসুফ পাঠানকে আসন ছাড়তে বলা হয়েছিল। তবে এই দাবির কোনো সত্যতা নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সৌরভ গাঙ্গুলী আরও বলেন, ‘তিনি কোনো রাজনৈতিক বিষয়ে যুক্ত নন এবং এমন কোনো বার্তা আদান-প্রদানও করেননি’।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হওয়া উত্তেজনা ও গুঞ্জন শেষ পর্যন্ত অস্বীকারে গড়িয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/

ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:১৮ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:২২ এএম
ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, সোমবার (৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এ ঘটনায় ১ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বহু ভবন ধসে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে কয়েকটি ভবনের ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসস্তূপের চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনার তথ্য যাচাই করছে।

শক্তিশালী এ ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও জাপানসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ফিলিপাইনের উপকূলে প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানতে পারে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার কিছু এলাকায় ৩ ফুটের বেশি উচ্চতার ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র এক জরুরি বার্তায় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জীবন রক্ষাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকারি সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

এছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাডে তাকাচিও এক বার্তায় বলেছেন, যদি উঁচু স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশনা আসে তাহলে যেন সবাই এ নির্দেশনা মেনে চলেন। সূত্র: আল জাজিরা

আমান/

ইতিহাসের বৃহত্তম আইপিও স্পেসএক্সের শেয়ার যেভাবে কিনবেন, ঝুঁকি কী

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:১৩ এএম
স্পেসএক্সের শেয়ার যেভাবে কিনবেন, ঝুঁকি কী
ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজার (আইপিও) শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইলন মাস্কের রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স। আগামী ১২ জুন নিউইয়র্কের নাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে এই মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি শেয়ারের দাম ধরা হয়েছে ১৩৫ ডলার (১০০.৮৪ পাউন্ড)। এই আইপিওর মাধ্যমে স্পেসএক্স মোট ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করেছে।

সাধারণত বড় আইপিওগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল ও ব্যাংকের প্রাধান্য থাকে। তবে গত শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, এবার স্পেসএক্সের মোট শেয়ারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৫ শতাংশ) সাধারণ বা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হতে পারে।

কীভাবে শেয়ার কেনা যাবে?
স্পেসএক্সের শেয়ার সরাসরি নাসডাকে তালিকাভুক্ত হলেও আপনি নিজে সরাসরি কেনার চেষ্টা না করলেও পরোক্ষভাবে এর মালিক হতে পারেন। নাসডাকের সাম্প্রতিক নিয়ম পরিবর্তনের কারণে স্পেসএক্স দ্রুতই বিভিন্ন ইনডেক্স ট্র্যাকার ফান্ডের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া অন্যান্য ফান্ড ম্যানেজাররাও এতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

যুক্তরাজ্যের এডিনবরা ওয়ার্ল্ডওয়াইড ও বেইলি গিফোর্ড ইউএস গ্রোথের মতো কিছু ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্টের ইতোমধ্যেই স্পেসএক্সে মালিকানা রয়েছে।

তবে আপনি যদি সরাসরি ব্যক্তিগতভাবে শেয়ার কিনতে চান, তাহলে এই আইপিওতে ব্রোকার হিসেবে কাজ করছে এমন প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। যুক্তরাজ্যের গ্রাহকদের জন্য ‘এজে বেল’ ও ‘হারগ্রিভস ল্যান্সডাউন’ শেয়ার কেনার জন্য আবেদনের সুযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা চার্লস শয়াব, ফিডেলিটি, রবিনহুড, সোফাই টেকনোলজিস ও মরগান স্ট্যানলির ই-ট্রেডের মাধ্যমে শেয়ার কিনতে পারবেন।

বেস্টইনভেস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেসন হল্যান্ডস বলেন, ‘সাধারণত যুক্তরাজ্যভিত্তিক খুচরা বিনিয়োগকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আইপিওতে অংশ নেওয়া বেশ কঠিন। কিন্তু যুক্তরাজ্যের অনেক ব্রোকার ও ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যাটফর্ম এবার এই সুযোগ দিচ্ছে। তারা গ্রাহকদের বিপুল চাহিদার প্রেক্ষাপটে ভালো বাণিজ্য করার সুযোগ পেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম আবেদনের পরিমাণ সাধারণত ১ হাজার পাউন্ড ও আবেদনের সময়সীমা আগামী বুধবার শেষ হবে। আপনার প্ল্যাটফর্ম বা ব্রোকার এই আইপিওতে অংশ নিচ্ছে কি না এবং তারা ‘ইসা’ বা ইনভেস্টমেন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শেয়ারের আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে পারে কি না, তা যাচাই করে নিন।’

আইপিওর আনুষ্ঠানিক শুরুর আগে আপনি কত টাকা বিনিয়োগ করতে চান, তা জানিয়ে আগ্রহ নিবন্ধন করতে পারবেন। বিনিয়োগকারীদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আগামী ১১ জুন কোম্পানিটি শেয়ারের চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ করবে।

আবেদন করলেই কি সব শেয়ার পাওয়া যাবে?
যদি আইপিওতে চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত আবেদন জমা পড়ে (ওভারসাবস্ক্রাইবড), তবে কীভাবে শেয়ার বণ্টন করা হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। হতে পারে সবাইকে সমানসংখ্যক শেয়ার দেওয়া হবে অথবা আবেদনের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে তা বণ্টন করা হবে। এমনকি আবেদনকারীর সংখ্যা খুব বেশি হলে কিছু বিনিয়োগকারী কোনো শেয়ার নাও পেতে পারেন।

এজে বেলের মার্কেটিং প্রধান ড্যান কোটসওয়ার্থ বলেন, ‘ধরুন, কেউ একটি আইপিও অফারে ৫ হাজার পাউন্ড মূল্যের শেয়ারের জন্য আবেদন করলেন। তারা হয়তো প্রথম ১ হাজার পাউন্ডের শেয়ার সম্পূর্ণ পেতে পারেন ও বাকি অতিরিক্ত অঙ্কের ওপর একটি নির্দিষ্ট শতাংশ হিসেবে সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত শেয়ার পেতে পারেন। সব অফারের জন্য কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই এবং আইপিও আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই এই বণ্টন নির্ধারিত হয়। আইপিও অফারে একদম কোনো শেয়ার না পাওয়া বেশ বিরল, তবে এই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে যাওয়ার পর যেকোনো সময় এই শেয়ার কেনা যাবে। প্রাথমিক বিনিয়োগকারীরা আশা করবেন যেন শেয়ারের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। তবে শেয়ারের দাম যেমন বাড়তে পারে, তেমনি কমতেও পারে। তাই পরে কম দামে কেনার সুযোগও আসতে পারে।

কোম্পানির পরিচালনায় কি আপনার কোনো হাত থাকবে?
না। আপনি যদি বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ করেন ও অনেক শেয়ার কিনে ফেলেন, তবু কোম্পানির পরিচালনায় আপনার তেমন বড় ভূমিকা থাকবে না। ইলন মাস্ক নিজের কোনো শেয়ার বিক্রি করছেন না এবং কোম্পানির মোট ভোটিং ক্ষমতার ৮২ দশমিক ৪ শতাংশ তার নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

আপনার কি এই শেয়ার কেনা উচিত?
এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আপনার উদ্দেশ্যের ওপর। আপনি যদি কেবল স্পেসএক্সের অংশীদার হিসেবে নিজের নাম জড়াতে চান, তবে হারানোর কিছু নেই। কিন্তু আপনি যদি এটিকে নিখাদ বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখেন, তবে এটি দুর্বল চিত্তের মানুষদের জন্য নয়।

বাজার বিশ্লেষক নিলস প্র্যাটলি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আইপিওর যে দাম ধরা হয়েছে সেই তুলনায় স্পেসএক্সের মূল্যমান অনেক বেশি বা ওভারভ্যালুড মনে হচ্ছে। তার মতে, কিছু কারণে উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই শেয়ারের দাম ধসে পড়বে না ঠিকই, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর দাম কমে যেতে পারে।

অবশ্য ড্যান কোটসওয়ার্থ কোম্পানির কিছু ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। তার মতে, বিনিয়োগকারীদের দুটি মূল বিষয়ের দিকে নজর রাখা উচিত। প্রথমটি হলো প্রতিরক্ষা খাতে মার্কিন সরকারের সঙ্গে স্পেসএক্সের কাজ ও দ্বিতীয়টি হলো তাদের পুনরায় ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান ‘স্টারশিপ’। কোটসওয়ার্থ বলেন, ‘স্টারশিপকে সম্পূর্ণ কার্যকর করা স্পেসএক্সের জন্য কৌশলগত ও বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। কারণ এটি কোম্পানির কার্গো বহন ও দূরপাল্লার ভ্রমণের সক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেবে।’

ঝুঁকির ক্ষেত্রগুলো কী কী?
সম্ভাবনার পাশাপাশি কোটসওয়ার্থ কিছু সম্ভাব্য ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছেন, যা ভবিষ্যতে শেয়ারের দাম কমিয়ে দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘স্পেসএক্সের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় ভুল পথে যেতে পারে তার মধ্যে রয়েছে রকেট উৎক্ষেপণ ব্যর্থতা, নীতিগত বা নিয়ন্ত্রণমূলক পরিবর্তন, প্রতিযোগীদের দ্রুত এগিয়ে আসা ও ইলন মাস্কের বিতর্কিত মন্তব্য, যা কোম্পানির সুনাম নষ্ট করতে পারে। এ ছাড়া করপোরেট সুশাসনের বিষয়টিও ভাবার মতো। কারণ বোর্ডরুমে মাস্কের হাতেই একক ক্ষমতা থাকবে।’

এর বাইরে কোনো ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ না করে একক কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনা সব সময়ই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ কোনো বিপর্যয় ঘটলে ক্ষতি সামাল দেওয়ার মতো বিকল্প থাকে না।

জেসন হল্যান্ডস পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আপনি যদি কিছুটা বাজি ধরার মতো করে বিনিয়োগ করতে চান, তবে বৈচিত্র্যময় পোর্টফোলিওর পাশাপাশি তুলনামূলকভাবে ছোট একটি অঙ্ক এখানে বরাদ্দ করা যেতে পারে। স্বল্প মেয়াদে কিছু ইনডেক্স ফান্ডের বাধ্যতামূলক ক্রয়ের কারণে শেয়ারের দাম বাড়তে পারে। এটি দ্রুত লাভের সুযোগ তৈরি করবে। তবে স্পেসএক্সে আপনার বিনিয়োগের খুব বড় অংশ খাটাতে হলে আমি সতর্ক করব। যদি শুরুতে ভালো লাভ আসে, তবে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিরা শেয়ার বিক্রি শুরু করার আগেই কিছু লাভ তুলে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক
ইলন মাস্ক

এক ট্রিলিয়ন ডলার মানে ১ লাখ মিলিয়ন ডলার। একজন মানুষের পক্ষে সারা জীবনেও এ পরিমাণ অর্থ খরচ করা প্রায় অসম্ভব। কেউ যদি প্রতি ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার করে দিনের ২৪ ঘণ্টা, বছরের ৩৬৫ দিন ব্যয় করেন, তাহলেও ১ ট্রিলিয়ন ডলার শেষ করতে এক শতাব্দীরও বেশি সময় লাগবে।

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হতে চলেছেন ইলন মাস্ক। মানব ইতিহাসের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড থেকে এত বিপুল ব্যক্তিগত সম্পদের নজির আগে দেখা যায়নি।

টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাস্কের মালিকানাধীন শেয়ার ও স্টক অপশনের মূল্য বর্তমানে প্রায় ২৭৩ বিলিয়ন ডলার। তবে আগামী সপ্তাহে মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) পরিকল্পনামাফিক সম্পন্ন হলে তার সম্পদে আরও প্রায় ৮৪১ বিলিয়ন ডলার যোগ হতে পারে।

স্পেসএক্সের প্রায় অর্ধেক শেয়ারের মালিক মাস্ক, আর কোম্পানিটির মোট মূল্যায়ন ধরা হচ্ছে ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। ফলে টেসলা ও স্পেসএক্স–এ দুই কোম্পানি থেকেই মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ডলার।

তবে আকাশছোঁয়া সম্পদ মূলত ‘কাগুজে সম্পদ’। এটি কোনো ব্যাংকে জমা থাকা নগদ অর্থ নয়। টেসলা ও স্পেসএক্সের বাজারমূল্য ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীরা কীভাবে মূল্যায়ন করেন, তার ওপরই এই সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ভর করবে।

এ বিপুল সম্পদের পরিমাণ বোঝাতে নিচে ছয়টি উদাহরণ দেওয়া হলো, যেগুলোর মূল্য শিগগিরই ইলন মাস্কের সম্পদের চেয়েও কম হতে পারে।

অধিকাংশ দেশের অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে মাত্র ২০টি দেশের অর্থনীতির আকার ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। অর্থাৎ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পুরো অর্থনীতির মূল্যও ইলন মাস্কের সম্পদের চেয়ে কম।

এ তালিকায় রয়েছে তাইওয়ান (৯৭৭ বিলিয়ন ডলার), আয়ারল্যান্ড (৭৭৯ বিলিয়ন ডলার), সুইডেন (৭৬০ বিলিয়ন ডলার), সিঙ্গাপুর (৬৬০ বিলিয়ন ডলার) ও মাস্কের জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকা (৪৮০ বিলিয়ন ডলার)।

ম্যানহাটনের অর্থনীতি

এত বড় অর্থনীতির উদাহরণ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রে বাইরে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই। ওয়াল স্ট্রিটসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক আর্থিক ও করপোরেট সংস্থার শক্তিকেন্দ্র নিউইয়র্কের ম্যানহাটন দ্বীপ। ২০২৪ সালে অঞ্চলটির জিডিপি ছিল সামান্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি।

হিউস্টনের সব সম্পত্তি

হিউস্টন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম শহর, যার অবস্থান নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসের পরই। মেক্সিকো উপসাগর উপকূলের টেক্সাসে এ শহর দেশটির জ্বালানি তেল ও গ্যাসশিল্পের অন্যতম কেন্দ্র। শহরটির আবাসিক ও বাণিজ্যিক–সব ধরনের সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৮৭৯ বিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরে কেনা সব নতুন গাড়ি

বাড়ির পর গাড়ি ও ট্রাকই অধিকাংশ মার্কিনির সবচেয়ে বড় কেনাকাটা। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি গাড়ির গড় মূল্য ছিল রেকর্ড ৪৮ হাজার ৪০২ ডলার। ওই বছর মার্কিনিরা মোট ১ কোটি ৬৩ লাখ নতুন গাড়ি কিনেছেন, যার সম্মিলিত মূল্য ছিল প্রায় ৭৮৯ বিলিয়ন ডলার।

অন্যান্য প্রযুক্তি খাতের বিলিয়নিয়াররা

অনেক দিন ধরে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় প্রথমে রয়েছেন ইলন মাস্ক। তবে তার সম্পদ শিগগিরই প্রযুক্তি খাতের অন্য ধনকুবেরদের সম্মিলিত সম্পদকে অনেক পেছনে ফেলে দিতে পারে। গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন এবং অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস–এই চারজনের সম্পদ একত্র করলেও মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ দশমিক শূন্য ৯ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ তাদের সম্মিলিত সম্পদও মাস্কের সম্ভাব্য ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের চেয়ে কিছুটা কম। মাস্কের মতো তারাও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারের মাধ্যমেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

বিশ্বের সব পেশাদার স্পোর্টস ক্লাব

স্পোর্টস ক্লাব কেনা ধনকুবেরদের অন্যতম প্রিয় শখ। কিন্তু ১ ট্রিলিয়ন ডলার থাকলে পৃথিবীর প্রায় সব বড় দলই কেনা সম্ভব। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ৫০টি সবচেয়ে মূল্যবান স্পোর্টস টিকের সম্মিলিত মূল্য মাত্র ৩৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা ১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

এর মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান দল হলো এনএফএলের ডালাস কাউবয়েজ, যার মূল্য প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। আর তালিকার ৫০তম স্থানে থাকা এনবিএর টরন্টো র‌্যাপপটরসের মূল্য প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার।

মিত্রদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ইরানের সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
মিত্রদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ইরানের সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
তেহরানের রাস্তায় একটি বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে মানুষ হেঁটে যাচ্ছেন –সংগৃহীত

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় দেশগুলোর পুনর্গঠন ও মেরামতের জন্য দেশটির বাজেয়াপ্ত সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশ করেছে রয়টার্স। কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরই মূলত এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইতোমধ্যে একটি বিশেষ দলকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্রটি গত শনিবার জানায়, ভবিষ্যতে ইরান আর কোনো ধ্বংসযজ্ঞ চালালে তা মেরামতের জন্য এই সম্পদ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।

এর ঠিক এক দিন আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই সিএনএনকে জানিয়েছিলেন, তিন মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ অবসানের মূল শর্ত হলো যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।

থমকে গেছে শান্তি আলোচনা

ট্রেজারি বিভাগ ঠিক কোন ধরনের ইরানি সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে, তা সূত্রটি নির্দিষ্ট করে জানায়নি। তবে কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত ভাষা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কেবল আগের ফ্রিজ করা বা অবরুদ্ধ সম্পদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

সম্পদ স্থানান্তরের এই মার্কিন হুমকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। দুই পক্ষের এই হামলা-পাল্টা হামলার কারণে শান্তি আলোচনা এখন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। যদিও সমঝোতাকারী দেশ পাকিস্তানের একজন মন্ত্রী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কাছে একটি চিঠি নিয়ে তেহরান সফর করছেন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত শনিবার ভোরে তারা হরমুজ প্রণালির গরুক এবং কেশম দ্বীপে ইরানের উপকূলীয় রাডার সাইটগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে। এর আগে সমুদ্রসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি সৃষ্টি করা দুটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করে মার্কিন বাহিনী। শনিবার রাতে আরও দুটি ইরানি ড্রোন গুলি করে নামানো হয়।

জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। কুয়েত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। এতে কিছু বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বাহরাইনেও এই হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের ছোড়া ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে এবং সপ্তম ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।

তেলের বাজারে অস্থিরতা ও ট্রাম্পের ওপর চাপ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির জন্য পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচির মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে দুই পক্ষ এখনো সমঝোতায় পৌঁছায়নি।

তেহরান মূলত তাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তেল রাজস্বের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। যুদ্ধের আগে বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো, যা এখন ইরান পুরোপুরি বন্ধ করে রেখেছে।

এদিকে মার্কিন বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এনবিসি নিউজকে বলেন, ‘ইরানের বেশির ভাগ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এখনো তাদের কাছে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে।’ ট্রাম্পের ভাষায়, ‘ওদের কাছে এখন প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আছে। সংখ্যাটি একেবারে কম নয়, তবে যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় এটি কিছুই না।’

এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ওপেক প্লাস জোট গতকাল রবিবার তেলের উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে চতুর্থবারের মতো বৈঠকে বসেছে। যদিও যুদ্ধের কারণে বেশ কয়েকটি সদস্য দেশ এখনো তেল সরবরাহ করতে পারছে না। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গতকাল জানিয়েছে, তারা লেবানন থেকে ছিটকে আসা দুটি রকেট প্রতিহত করেছে। এর আগের দিনই লেবাননের দক্ষিণে ইসরায়েলি হামলায় তাদের তিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছিল। সূত্র: রয়টার্স