ভেনেজুয়েলায় গোপন অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য এই গোপন অভিযান থেকে নিজেদের উপকূল রক্ষা করতে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে ভেনেজুয়েলা।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো গত শনিবার জানান, এই মহড়া বড় আকারের সামরিক হুমকি, মাদক পাচার এবং সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধের পাশাপাশি দেশের ভেতরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে—এমন যেকোনো গোপন অভিযান থেকে রক্ষা পেতে আয়োজন করা হয়েছে।
৭২ ঘণ্টা আগে শুরু হওয়া এই সামরিক মহড়া চলমান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই মহড়ার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
চলতি বছরের আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে ক্যারিবিয়ান সাগরের ভেনেজুয়েলার উপকূলে নৌবাহিনী, যুদ্ধবিমান ও পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন মোতায়েন করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালানোর জন্য সিআইএ-কে পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছেন। এছাড়া মাদকচক্রের বিরুদ্ধে স্থল হামলার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, নয়টি উপকূলীয় প্রদেশে সামরিক বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। মাদুরোর বেসামরিক মিলিশিয়ার এক সদস্যকে রাশিয়ার তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে দেখা গেছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন বাহিনী ১০টি কথিত মাদকবাহী নৌযানে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে আটটি হামলা ক্যারিবীয় সাগরে হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো নিজেই মাদকচক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা মাদুরো অস্বীকার করেছেন।
এদিকে, পাদ্রিনো জানান, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভেনেজুয়েলাতেও সিআইএর উপস্থিতি রয়েছে। তবে সেখান থেকে তাদের যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।
তিনি আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী, যুদ্ধবিমান ও সাবমেরিনের মোতায়েনের লক্ষ্য প্রকৃতপক্ষে দেশটির সরকারকে উৎখাত করা। জানা গিয়েছে, মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডও এই বহরে যোগ দেবে, এবং ইউএসএস গ্রেভলি যুদ্ধজাহাজ ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে পাঁচ দিনের যৌথ মহড়ায় অংশ নেবে।
সুলতানা দিনা/