ব্রাজিলের বেলেমে চলমান কপ৩০ জলবায়ু সম্মেলনে ১ হাজার ৬০০-এরও বেশি জীবাশ্ম জ্বালানির লবিস্ট অংশগ্রহণের অনুমতি পেয়েছেন। পরিবেশসংক্রান্ত ৪৫০টি সংগঠনের জোট ‘কিক বিগ পলিউটার্স আউট (কেবিপিও)’-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে তথ্যটি।
কেবিপিওর তথ্যানুসারে, চলতি বছরের জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে প্রতি ২৫ জন অংশগ্রহণকারীর একজন জীবাশ্ম জ্বালানির লবিস্ট। এতে করপোরেট প্রভাব ও কপ প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
গত বছরের বাকু সম্মেলনের তুলনায় চলতি বছরের আয়োজনে লবিস্টের সংখ্যা ১২ শতাংশ বেশি। ২০২১ সালে কেবিপিও প্রথম এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ শুরু করে। তারপর এবারই কপ সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানি লবিস্টদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি রেকর্ড হলো। তবে এবার তাদের উপস্থিতি অনুপাতের দিক থেকে বেশি, সংখ্যার দিক থেকে নয়। সংখ্যার দিক থেকে বেশি লবিস্ট অংশ নিয়েছিলেন কপ২৮ ও কপ২৯-এ।
গত পাঁচ বছরে কপ সম্মেলনগুলোতে অংশ নেওয়া জীবাশ্ম জ্বালানি লবিস্টদের মোট সংখ্যা সাত হাজারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে বিশ্বকে দেখা গেছে জলবায়ুর প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ায় ভুগতে। অথচ বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার ও তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর রেকর্ড মুনাফা থেমে থাকেনি।
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ল’-এর সিনিয়র ক্যাম্পেইনার লিয়েন ভানড্যাম বলেন, ‘আরেকটি কপ, একই কৌশল। এটি জলবায়ুর তত্ত্বাবধান নয়, করপোরেট দখল।’
গত সোমবার বেলেমে সম্মেলন উদ্বোধন করেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডা সিলভা। তিনি অসত্য তথ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এবারের আয়োজনকে ‘সত্যের কপ’ বলে ঘোষণা করেন।
তবে কেবিপিওর তথ্য বলছে, জীবাশ্ম জ্বালানিশিল্প চলতি বছর কপ৩০ সম্মেলনে জলবায়ুর তীব্র ঝুঁকিতে থাকা ১০ দেশের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি পাস পেয়েছে।
চীন পাচ্ছে জলবায়ু অর্থায়ন!
এদিকে চীন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ধনী পেট্রো-রাষ্ট্রগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জলবায়ু অর্থায়ন পাচ্ছে বলে উঠে এসেছে এক বিশ্লেষণে।
দ্য গার্ডিয়ান ও কার্বন ব্রিফ জাতিসংঘে জমা দেওয়া অপ্রকাশিত নথি ও ওইসিডির তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। সেখানেই উঠে এসেছে তথ্যগুলো।
তদন্তে দেখা গেছে, ধনী দূষণকারী দেশগুলো থেকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর দিকে অর্থ স্থানান্তরে একটি বড় কাঠামো কাজ করছে। সেটি চেষ্টা করছে পরিবেশ ঠিক করতে ও উষ্ণতর পৃথিবীতে মানিয়ে নিতে ঝুঁকিপূর্ণ দেশকে সহায়তা করতে। তবে এর উল্টোটাও ঘটছে। স্বয়ং ধনী ও দূষণকারী দেশগুলোই অর্থ সহায়তা পাচ্ছে ও নিচ্ছে।
আরও দেখা গেছে, তহবিল বণ্টনের বড় অংশে কোনো কেন্দ্রীয় তদারকি নেই এবং সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব বেশ স্পষ্ট। এতে করে অর্থ সব সময় বেশি প্রয়োজনীয় দেশে যাচ্ছে না। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান