থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে মায়ানমারের প্রবাসীদের জন্য আজ শনিবার দেশটির বহুল সমালোচিত জাতীয় নির্বাচনের আগাম ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
থাইল্যান্ডে মায়ানমারের দূতাবাস প্রাঙ্গণে দেশটির বেশ কয়েকজন প্রবাসী নাগরিক ভোট দিতে আসেন।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটি বহু-পাক্ষিক গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত। তবুও সামরিক জান্তা দাবি করছে যে এই নির্বাচনই নাকি মায়ানমারকে শান্তি ও গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নেবে।
নির্বাচন ধাপে ধাপে মায়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়ার কথা। তবে হংকং, সিঙ্গাপুর, চিয়াং মাই ও ব্যাংককের মায়ানমার দূতাবাসে প্রবাসীদের আগাম ভোট ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
শনিবার সকালে ব্যাংকক দূতাবাসে ছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা। প্রথম দুই ঘণ্টায় প্রায় ২৫ জন ভোটার ভোটদানে নিবন্ধন করতে দেখা গেছে বলে এএফপি জানায়। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বেশ কয়েকজন ভোটের বিষয়ে মন্তব্য দিতে রাজি হননি।
থাইল্যান্ডের শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী কেবল ব্যাংককেই মায়ানমারের প্রায় পাঁচ লাখ নথিভুক্ত নাগরিক বসবাস করেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, পুরো থাইল্যান্ডে মায়ানমারের প্রায় ৪ দশমিক ১ মিলিয়ন (৪১ লাখ) নাগরিক রয়েছে।
থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া মায়ানমারের এই নাগরিকদের একটি বড় অংশই নথিহীন এবং যুদ্ধের কারণে পালিয়ে আসা।
দূতাবাস কর্মকর্তারা জানান, কতজন আগাম ভোটের জন্য আবেদন করেছিলেন, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। ভোটার নিবন্ধনের শেষ তারিখ ছিল ১৫ অক্টোবর।
ক্ষমতাচ্যুত আইনপ্রণেতা, মানবাধিকার সংস্থা ও সামরিক সরকারের বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, এই নির্বাচন সামরিক শাসন টিকিয়ে রাখারই একটি কৌশল।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামরিক সরকার নতুন কঠোর আইনও প্রণয়ন করেছে। এই আইনের আওতায় নির্বাচন নিয়ে প্রতিবাদ বা সমালোচনা করার জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সূত্র: এএফপি
মাহফুজ/