রাশিয়ার পতাকাবাহী ভেনেজুয়েলা সংশ্লিষ্ট একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। আটলান্টিক মহাসাগরে টানা ১৪ দিন ধাওয়ার পর এই ট্যাংকার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এনিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখন বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা গেছে,রাশিয়ার পতাকা লাগিয়ে এবং নাম পরিবর্তন করে পার পাওয়ার চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি ‘মেরিনেরা’ (আগের নাম বেলা-১) নামক এই বিশাল জাহাজটির।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ড (ইউকম) এই অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছে।
রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড ও সামরিক বাহিনী এই অভিযানে অংশ নেয়।
মার্কিন প্রশাসন জানায়, ‘বেলা-১’ নামের এই জাহাজটি মূলত ভেনেজুয়েলার তেল পাচারের কাজে নিয়োজিত একটি ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহরের অংশ। গত মাসে ভেনেজুয়েলা উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড এটিকে থামানোর চেষ্টা করলে এটি দ্রুত গতিপথ পরিবর্তন করে আটলান্টিকের দিকে পালিয়ে যায়।
ধাওয়ার মুখে থাকা অবস্থায় জাহাজের কর্মীরা রাতারাতি সেটির নাম পরিবর্তন করে ‘মেরিনেরা’ রাখেন এবং জাহাজের গায়ে কাঁচা হাতে রাশিয়ার পতাকা এঁকে দেন। এমনকি রুশ সরকার তড়িঘড়ি করে জাহাজটিকে নিজেদের নামে নিবন্ধন করে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই পরিবর্তনকে স্বীকৃতি না দিয়ে জাহাজটিকে ‘পতাকাহীন’ বা রাষ্ট্রহীন হিসেবে গণ্য করে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেয়।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে এই বিশাল অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রথমে ইংল্যান্ডের মিলডেনহল ও ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে মার্কিন পি-৮ সার্ভেইল্যান্স বিমান, এসি-১৩০ গানশিপ এবং ভি-২২ অস্প্রে হেলিকপ্টার আকাশে ওড়ে। অন্তত ১২টি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার পরিবহন বিমান এই অভিযানে রসদ জোগায়।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের কাটার ও বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে চলন্ত জাহাজে অবতরণ করেন। আইসল্যান্ড ও ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের মাঝামাঝি এলাকায় প্রচণ্ড প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডোরা জাহাজটিতে আক্রমণ করে ক্রুদের জিম্মি করে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেন।
এর আগে এই অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তর আটলান্টিকের আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছিল। তখন থেকে রাশিয়ার একটি সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ ট্যাংকারটিকে পাহারা দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডোরা শেষ পর্যন্ত সেটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়।
সুলতানা দিনা/