বিত্তশালী বিদেশি বাসিন্দাদের জন্য মদ কেনার সুযোগ দিতে শুরু করেছে সৌদি আরব। এ শিথিলতা ধীরে ধীরে পর্যটকদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। খবর বিবিসির।
রিয়াদের ডিপ্লোম্যাটিক কোয়ার্টার এলাকাটি রাজধানীর অন্য অংশগুলো থেকে আলাদা একটি এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে রয়েছে দূতাবাস ও উচ্চমানের আবাসন ব্যবস্থা। এ ছাড়া এখানকার ছায়াঘেরা হাঁটার পথ, সবুজায়ন এবং ক্যাফে সংস্কৃতি তরুণ সৌদি ও প্রবাসীদের আকর্ষণ করে। এ অভিজাত এলাকাটির ভেতরেই একটি নামহীন ও সাধারণ ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে একটি ছোট মদের দোকান। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালিত এই দোকানটিই বর্তমানে সৌদি আরবের অন্যতম সংবেদনশীল নীতি পরিবর্তনের পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে। আর এ পরিবর্তনটি হলো–অমুসলিম বিত্তশালী বিদেশি বাসিন্দাদের কাছে সীমিত পরিসরে মদ বিক্রি করা।
১৯৫২ সালে সৌদি আরবে অ্যালকোহল বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি মধ্যপন্থি ও বিনিয়োগবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে ব্যাপক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার চালু করেছে। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সৌদি আরব পুনরায় সিনেমা হল চালু করেছে, বড় আকারের সংগীত উৎসব আয়োজন করেছে, নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে এবং ধর্মীয় পুলিশের ক্ষমতা সীমিত করেছে। তবে নীরবে অ্যালকোহল বিক্রির আইনি পরিসর বাড়ানোকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সাহসী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রিয়াদে এই মদের দোকানটি প্রথম চালু হয়। শুরুতে সেখানে প্রবেশাধিকার ছিল শুধু অমুসলিম কূটনীতিকদের। তবে ২০২৫ সালের শেষদিকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই চালু হওয়া নতুন নীতিমালার আওতায় এখন ধনী অমুসলিম বিদেশি বাসিন্দারাও সেখানে গিয়ে বিয়ার, ওয়াইন ও বিভিন্ন ধরনের মদ কিনতে পারছেন। এই সুবিধা পেতে হলে প্রবাসীদের হয় ‘প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি’ পারমিট থাকতে হবে–যার বার্ষিক মূল্য ১ লাখ সৌদি রিয়াল (প্রায় ২৭ হাজার ডলার) অথবা তার মাসিক আয় হতে হবে অন্তত ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল। বিনিয়োগকারী এবং বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীরাই এই প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি কার্ড পেয়ে থাকেন। মদ কেনার সময় পারমিটধারী বা উচ্চ আয়ের বিদেশি–উভয়কেই প্রবেশপথে নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে তাদের রেসিডেন্সি আইডি কার্ড (ইকামা) প্রদর্শন করতে হয়। এই কার্ডেই ওই ব্যক্তির ধর্ম এবং বসবাসের মর্যাদার বিস্তারিত উল্লেখ থাকে।