ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর সিদ্ধান্তের দায়ভার নিজের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথের ওপর চাপিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
টেনেসিতে একটি জনসমাবেশ চলাকালীন তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধ বর্তমানে চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করেছে এবং যুদ্ধ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) 'মেম্ফিস সেফ টাস্ক ফোর্স'-এর একটি গোলটেবিল বৈঠকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, হেগসেথই তার প্রশাসনের প্রথম শীর্ষ কর্মকর্তা যিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষে সওয়াল হয়েছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, 'পিট, আমার মনে হয় আপনিই প্রথম সোচ্চার হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন- চলুন এটা করি, কারণ আপনি তাদের পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পেতে দিতে পারেন না।'
ট্রাম্পের এই মন্তব্য ওয়াশিংটনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের ভেতরে ঠিক কারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য চাপ দিয়েছিলেন, তা নিয়ে কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মধ্যে আগে থেকেই বিতর্ক চলছে।
যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরান আক্রমণের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তার প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ও পরিবর্তনশীল ব্যাখ্যার তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অভিযান অনুমোদনের আগের মুহূর্তগুলো বর্ণনা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন যে, তিনি বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেন, আমি পিটকে ফোন করেছিলাম। আমি জেনারেল কেইনকে ফোন করেছিলাম। আমি আমাদের অনেক দক্ষ মানুষকে ফোন করেছিলাম।'
মূলত ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকির মোকাবিলা করার বিষয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মার্কিন হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন ইরান ও তার মিত্রদের জড়িয়ে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা এই অভিযানকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতা এবং নৌ-শক্তি ধ্বংস করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
যুদ্ধের প্রকাশ্য মুখ হয়ে উঠছেন হেগসেথ
যুদ্ধের সপক্ষে প্রচারণায় হেগসেথ একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন। তিনি নিয়মিত পেন্টাগনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং দিচ্ছেন এবং মার্কিন সামরিক লক্ষ্যগুলো তুলে ধরছেন। এ ছাড়া তিনি এই অভিযানের সমালোচকদের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে নেতিবাচকভাবে চিত্রায়িত করার অভিযোগ তুলেছেন।
সম্প্রতি এই সামরিক অভিযান কতদিন চলতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'আমরা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে চাই না।' তিনি আরও যোগ করেন যে, মিশনটি 'সঠিক পথেই রয়েছে' এবং ট্রাম্পই শেষ পর্যন্ত এর সমাপ্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
প্রশাসনের অভ্যন্তরে বিভাজন
পর্দার আড়ালের খবর অনুযায়ী, হামলা চালানো হবে কি না তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিধাবিভক্ত ছিল। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স- যিনি দীর্ঘকাল ধরে বিদেশের মাটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে আসছেন- এই অভিযানের ব্যাপারে খুব একটা উৎসাহী ছিলেন না। যদিও তিনি প্রকাশ্যে এর বিরোধিতাও করেননি।
অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, যেমন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মিডিয়া মোগল রুপার্ট মারডক, সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে কিছু উপদেষ্টা এই বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
সুমন/