পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ মঞ্চে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই মঞ্চে দুর্গাপুজা থেকে শুরু করে বাঙালি সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের ছাপ ছিল। অনুষ্ঠানে ছৌ নাচ ও বাউল গানের আয়োজন করা হয়েছে। ঝালমুড়ি, মিষ্টির স্টলও ছিল ব্রিগেডে।
বাঙালি বনাম অবাঙালি বিভাজনের সমীকরণে পশ্চিমবঙ্গের গদি নিজেদের দখলে রাখতে চেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি বাংলায় সরকার গঠন করল।
শনিবার (৯ মে) পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ উপলক্ষে মঞ্চ তৈরি হয় বাঙালি সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের আদলে।
তৃণমূলের বাংলাবিরোধী তকমা ঝেড়ে ফেলতে মরিয়া বিজেপি রবীন্দ্রজয়ন্তীতে নতুন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে করেছিলেন।
আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য মাঠে কয়েক ডজন স্টল বসানো হয়। এসব স্টলে মিহিদানা, মিষ্টি দই, ঝালমুড়ি, রসগোল্লা ও সন্দেশ বিক্রি করা হয়। জানানো হয়, সেখানে ঝালমুড়ির স্টলই ছিল ২০টি।
ঝাড়গ্রামের প্রচারে গিয়ে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর থেকেই রাজ্যের রাজনীতিতে একটি বড় প্রতীক হয়ে ওঠে ঝালমুড়ি। এনিয়ে মোদিকে কটাক্ষ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহে শুভেন্দুর শপথে সেই ঝালমুড়ির স্টল দিয়ে কতকটা তৃণমূলকে খোঁচাও মারল বিজেপি।
শনিবার সকালে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে সমাজমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুভেন্দু লিখেছেন, ‘‘নোবেলজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীতে তাঁর উদ্দেশে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। কবিগুরুর অমর সৃষ্টি, দর্শন এবং দেশপ্রেম আমাদের জীবনের পাথেয়। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির আকাশে তিনি চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন। তাঁর মহান বাণী ‘চিত্ত যেথা ভয় শূন্য, উচ্চ যেথা শির’ আগামী দিনে মানবসভ্যতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাক।’’
দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই ও নাটকীয় উত্থান-পতনের পর পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী ও পাঁচ মন্ত্রী। কমিউনিস্ট শাসনের অবসানের পর মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে টানা ১৫ বছরের রাজনৈতিক অধ্যায়ের পর এবার রাজ্যে ক্ষমতায় এলো বিজেপি।
একসময় মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে রাজনৈতিক অবস্থান বদলে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। সেই রাজনৈতিক যাত্রার পরিণতিতে আজ তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক নেতৃত্বের শীর্ষে পৌঁছালেন।
বর্তমান বাংলার রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর উত্থানকে অনেকেই অত্যন্ত নাটকীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের রাজনৈতিক লড়াইয়ে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করে তিনি রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে উঠে আসেন।
নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাদের উপস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বকেই তুলে ধরে।
মঞ্চে ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা প্রফুল পটেল, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি, চিরাগ পাসোয়ান, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা, স্মৃতি ইরানি, শিবরাজ সিংহ চৌহান, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবিশ, অগ্নিমিত্রা পাল, মিঠুন চক্রবর্তীসহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা
গত ৪ মে রাজ্যের ভোটের ফল ঘোষিত হয়। ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসে।
গতকাল শুক্রবার দলের সবার প্রস্তাবনায় শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ। বিধায়কদলের বৈঠকের পর শাহ বলেন, ‘পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবে একটিই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল কিন্তু কোনো দ্বিতীয় নাম আসেনি, তাই শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করছি।’ সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, আনন্দবাজার
অমিয়/