ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লেবানন থেকে ড্রোন হামলায় ফিরল দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক সৌরবিদ্যুৎ খাতে বাড়তি কর চাপানো ঠিক হবে না হাসপাতালে ভর্তি সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম মূল্যস্ফীতি বেড়েছে : চাপে সাধারণ মানুষ আনোয়ারা: দল বদলায়, রক্ষাকবচে অত্যাচার থামে না ৮ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প জয়ী হননি, বিশ্ব অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি ৮ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া জোটে’র বৈঠক আজ, বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ২৩ দল সবজির শত্রু কাঁঠালে পোকা আলোচিত না হলেই তদন্ত ও বিচারে ধীরগতি ৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি ভয়ভীতি দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ: ভারতের মানবাধিকার সংগঠন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে পুশইন করছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নিয়মের তোয়াক্কা নেই, সড়কে বেপরোয়া ডিএসসিসির ডাম্পট্রাক চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই শরীয়তপুরে মব করে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এনসিটিবিসহ চার শিক্ষা বোর্ডে নতুন নেতৃত্ব স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত? ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জেট ফুয়েলের দাম লিটারে কমল ১৫ টাকা চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ
Nagad desktop

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘শেষের পথে’, ইঙ্গিত পুতিনের

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
আপডেট: ১০ মে ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘শেষের পথে’, ইঙ্গিত পুতিনের
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ হয়তো শেষের পথে, এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি জানিয়েছেন, শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হলে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তৃতীয় কোনো দেশে বৈঠকে বসতেও আগ্রহী।

শনিবার (৯ মে) মস্কোতে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পুতিন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত এই কুচকাওয়াজে তিনি ইউক্রেনে রুশ সেনাদের অভিযানকে ‘ন্যায্য উদ্দেশ্য’ বলে উল্লেখ করেন।

পুতিন দাবি করেন, রাশিয়া ‘ন্যাটো জোটের সশস্ত্র ও সমর্থিত একটি আগ্রাসী শক্তির’ বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

মস্কোর রেড স্কোয়ারে সৈন্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিজয় সবসময় আমাদেরই ছিল এবং থাকবে।’

শান্তি আলোচনার ইঙ্গিত
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পুতিন পশ্চিমা ‘বিশ্বায়নবাদী অভিজাতদের’ এই যুদ্ধের জন্য দায়ী করেন।

তার অভিযোগ, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীরের পতনের পর ন্যাটো পূর্ব দিকে সম্প্রসারণ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে নিজেদের বলয়ে টানার চেষ্টা করেছে।

এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় বিষয়টি শেষ হতে চলেছে।’

রাশিয়া ও ইউক্রেন সম্প্রতি তিন দিনের যুদ্ধবিরতি এবং এক হাজার বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে। এতে নতুন করে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে উত্তর কোরিয়ার সেনা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় স্মরণ করে রাশিয়ায় বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়। এই যুদ্ধে নিহত প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ সোভিয়েত নাগরিককে সম্মান জানানো হয়।

তবে এবারের কুচকাওয়াজ ছিল তুলনামূলক নিরুত্তাপ। রেড স্কোয়ারে ভারী সামরিক সরঞ্জামের প্রদর্শনের বদলে বড় পর্দায় ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

এবারের কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ার সেনারাও অংশ নেয়। রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে মস্কোর বাহিনীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য পিয়ংইয়ংকে সম্মান জানাতেই এই অংশগ্রহণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ
এর আগে রাশিয়া একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ তোলে। পরিস্থিতির মধ্যে নতুন মোড় আসে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তার আহ্বানে রাশিয়া ও ইউক্রেন শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি এবং এক হাজার বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘এই যুদ্ধবিরতিতে সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং উভয় দেশ এক হাজার বন্দি বিনিময় করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন শান্তি চুক্তির আরও কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছি। আশা করি, এটি দীর্ঘ ও প্রাণঘাতী এই সংঘাতের অবসানের সূচনা হবে।’

জেলেনস্কির পাল্টা প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের ঘোষণার পর জেলেনস্কি বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিতে রাশিয়াকে বিজয় দিবস উদযাপনের অনুমতি দিয়ে একটি ডিক্রি জারি করেন এবং ইউক্রেনের হামলার জন্য রেড স্কোয়ারকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষণা করেন। তবে ক্রেমলিন এই মন্তব্যকে ‘হাস্যকর রসিকতা’ বলে উড়িয়ে দেয়।

জেলেনস্কি আগেও শান্তি আলোচনার জন্য পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে মস্কোয় বৈঠকের রুশ প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। 

গতকাল শনিবার পুতিন বলেন, তৃতীয় কোনো দেশে বৈঠক সম্ভব, তবে সেটি কেবল একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি অনুমোদনের জন্যই হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘এটি আলোচনার জন্য নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি ঐতিহাসিক সমঝোতার চূড়ান্ত চুক্তি হওয়া উচিত।’

দীর্ঘ যুদ্ধের চাপ
১৯৯৯ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাশিয়া শাসন করে আসা পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছেন। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে লাখো মানুষ নিহত হয়েছেন, ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং রাশিয়ার অর্থনীতিও বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।

যদিও রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, তবুও পূর্বাঞ্চলের পুরো ডনবাস অঞ্চল এখনো দখল করতে পারেনি মস্কো।

এদিকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা সম্প্রতি বলেছেন, ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে ইউরোপ ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, আলোচনার জন্য তার পছন্দের ব্যক্তি হলেন জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোডার। সূত্র: আল জাজিরা

অমিয়/

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প জয়ী হননি, বিশ্ব অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প জয়ী হননি, বিশ্ব অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি
ছবি: খবরের কাগজ

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ গত শনিবার ১০০ দিনে পদার্পণ করেছে। এর মধ্যে গত এপ্রিল মাসে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও নিয়মিত বিরতিতে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এই অঞ্চলকে অশান্ত করে রেখেছে। গত ১০০ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি যেমন বদলে গেছে, তেমনি বিশ্ব অর্থনীতিও এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

১০০ দিনের মাথায় এসে এই যুদ্ধে সামরিক বা কৌশলগতভাবে কোনো পক্ষেরই স্পষ্ট বিজয় আসেনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। ইরান তার সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং পরমাণু অবকাঠামোর বড় অংশ হারালেও বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে পেরেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান একে নিজেদের একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখছে। তবে এই ১০০ দিনে ইরানের ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারলেও তাদের মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি, উল্টো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কারণে মার্কিন প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। যুদ্ধে ইসরায়েলের ২৬ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন।

এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যে। ইরান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার পর থেকেই বৈশ্বিক বাজার স্থবির হয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় দৈনিক প্রায় ১৪.৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে ৩০% থেকে ৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯০ থেকে ১২০ ডলার ছাড়িয়েছে। ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০%। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) একে ইতিহাসের বৃহত্তম বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেছে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে জাহাজ ভাড়া ৫৯% বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বাড়ায় বিশ্বব্যাপী তীব্র মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ২.৮%-এ নেমে আসতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতি প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, তবে কিছু দেশ ও অঞ্চল চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতি ৭০% ছাড়িয়ে গেছে, কলকারখানা বন্ধ হওয়ায় লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন এবং দেশটিতে তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ওমান, কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। কাতার এনার্জি তাদের এলএনজি রপ্তানিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে এবং আরব দেশগুলোর জিডিপি প্রায় ১২০ থেকে ১৯৪ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

পাশাপাশি চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও সারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হয়েছে। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে সড়ক নির্মাণের বিটুমিনের দাম ৭০% এবং ডিজেলের দাম ৮০% বেড়েছে। বিশ্ববাজারে ৩০% সার ও ইউরিয়া সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বড় অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।

ইরান যুদ্ধ বিশ্বকে এক দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা চললেও হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত না হওয়া এবং স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান না আসা পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতি এই গভীর ক্ষত থেকে সহজে সেরে উঠবে না বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। সূত্র: আল-জাজিরা

দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া জোটে’র বৈঠক আজ, বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ২৩ দল

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:১৯ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া জোটে’র বৈঠক আজ, বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ২৩ দল
ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আজ ৮ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ভারতের বিজেপিবিরোধী ‘ইন্ডিয়া জোটে’র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হাইপ্রোফাইল বৈঠক। লোকসভা নির্বাচনের পর এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবিরের এই তৎপরতা দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন দিল্লির এই কনস্টিটিউশন ক্লাবের দিকে, যেখানে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসসহ দেশের ২৩টি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল এক টেবিলে বসতে যাচ্ছে। এই বৈঠক ঘিরে বিরোধী দলগুলোর একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও রণকৌশল রয়েছে, যা আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে পারে।

এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই একটি সুনির্দিষ্ট ও শক্তিশালী রোডম্যাপ তৈরি করা। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং তাদের নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের একক আধিপত্যকে জাতীয় স্তরে চ্যালেঞ্জ জানাতে একটি ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণ করা হবে এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। 

এবারের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক তৃণমূল কংগ্রেস দল অত্যন্ত সক্রিয় ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে। দলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতোমধ্যে এই বৈঠকে সশরীরে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তৃণমূল নেত্রী নিজেকে ‘মুক্ত বিহঙ্গ’ হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় রাজনীতিতে ইন্ডিয়া জোটকে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করতে নিজের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি গতকাল রবিবার দিল্লি গেছেন। একই সঙ্গে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (আপ), সমাজবাদী পার্টি এবং বাম দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও এই বৈঠকে উপস্থিত থেকে জোটের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরিতে অংশ নেবেন।

বৈঠকের কর্মপরিকল্পনার আরেকটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে সংসদের ভেতরে ও বাইরে যৌথ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা। ক্ষমতাসীন সরকারের বিভিন্ন গণবিরোধী নীতি, দেশের সংবিধান রক্ষা, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষার মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলোতে বিরোধী দলগুলো কীভাবে একযোগে রাস্তায় নামবে, তার একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন রাজ্যে আসন্ন স্থানীয় সরকার ও বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলগুলোর মধ্যে আসন সমঝোতা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও দৃঢ় করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইন্ডিয়া জোটের দলগুলো এককভাবে লড়াই করার চেয়ে যৌথভাবে অভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালালে তার প্রভাব সাধারণ ভোটারদের ওপর অনেক বেশি ইতিবাচক হবে।

তবে এই বিশাল মহাজোটের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে কিছু বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ ও টানাপোড়েনও রয়েছে, যা এই বৈঠকে আলোচনার টেবিলে উঠবে। যেমন, তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সমীকরণ এবং কংগ্রেসের কিছু রাজনৈতিক অবস্থানের জেরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ডিএমকে এই বৈঠক বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে।

ডিএমকের এই দূরত্ব জোটের ঐক্যে কিছুটা ধাক্কা দিলেও বাকি দলগুলো তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এর পাশাপাশি কেরালায় কংগ্রেস ও বামপন্থিদের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব এবং পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টি ও কংগ্রেসের মধ্যকার স্থানীয় রাজনৈতিক বৈরিতা কীভাবে নিরসন করা যায়, তা-ও এই বৈঠকের একটি বড় পরীক্ষা। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এবং তৃণমূলের সংসদীয় দলের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন সামাজিক মাধ্যমে জোটের এই বৈঠককে ‘স্পষ্ট উদ্দেশ্য ও অভিন্ন লক্ষ্য’ অর্জনের এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য হিন্দু

ভয়ভীতি দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ: ভারতের মানবাধিকার সংগঠন

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:০৮ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
ভয়ভীতি দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ: ভারতের মানবাধিকার সংগঠন
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সন্দেহভাজন নাগরিকদের জোর করে পুশইনের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অফ ডেমোক্রেটিক রাইটস’ (এপিডিআর) এই অভিযোগ করেছে। সংগঠনটির দাবি, বিএসএফের এই ভূমিকার কারণে নারী ও শিশুসহ প্রচুর মানুষ দুই দেশের মধ্যবর্তী ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ বা শূন্যরেখায় অত্যন্ত অমানবিক পরিস্থিতিতে আটকা পড়ে আছে। সীমান্তে জোর করে পুশইন করার এই প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও বেআইনি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

এপিডিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএসএফ সদস্যরা ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এই ব্যক্তিদের বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটকে পড়া ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিকত্বের পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। দুই বাহিনীর এই অনড় অবস্থানের কারণে গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে আটকা পড়েছেন। তীব্র গরম ও আবহাওয়ার প্রতিকূলতার মধ্যে তারা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং আশ্রয়ের চরম সংকটে ভুগছেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর এই পরিস্থিতিকে একটি ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, বিএসএফ এই মানুষদের ‘বিদেশি’ আখ্যা দিয়ে নিজেদের দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। বিপরীত দিকে, বিজিবি তাদের ‘ভারতীয় নাগরিক’ দাবি করে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এপিডিআরের মতে, ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ (শনাক্তকরণ, বাদ দেওয়া এবং বহিষ্কার) বা থ্রিডি নীতির ফলেই আজ এই সংকট তৈরি হয়েছে। ডিটেনশন ক্যাম্প বা হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা এবং সীমান্তে জোর করে পুশইন করার এই প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও বেআইনি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তারা জানায়, এই ধরনের পদক্ষেপ ভারতের সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা) এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার)-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।

এই চরম সংকটের বিষয়ে এপিডিআরের সহসভাপতি রঞ্জিত সুর অবিলম্বে এই পুশ-ব্যাক নীতি বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সীমান্তে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত পুনর্বাসন ও ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সংকট সমাধানে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি। এই বিতর্কিত সীমান্ত নীতি ও কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং পুশ-ব্যাক বন্ধের দাবিতে আগামী ১১ জুন মালদহে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে এপিডিআর।

সূত্র: সে অলওয়েজ ট্রুথ নিউজ

আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:২২ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি
ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি। ছবি: সংগৃহীত

আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনীর মর্যাদা ফিরে পেয়েছেন ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি।

শুক্রবার (৫ জুন) তার মালিকানাধীন আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম এক লাফে বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিবর্তন এসেছে।

বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র এক দিনেই গৌতম আদানির সম্পদ প্রায় ২৫০ কোটি ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অভাবনীয় উত্থানের পর আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯২০ কোটি মার্কিন ডলার।

এর মাধ্যমে তিনি ভারতের আরেক শীর্ষ ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানি এবং জাপানের সফটব্যাংক গোষ্ঠীর প্রধান মাসায়োশি সনকে পেছনে ফেলে ধনীর তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করলেন।

বর্তমানে আম্বানির সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, জাপানের শেয়ারবাজারে হঠাৎ বড় ধরনের পতনের কারণে মাসায়োশি সনের সম্পদ কমে ৮ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে গৌতম আদানির এই আধিপত্য বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। আদানির মালিকানাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আদানি পাওয়ার’ বাংলাদেশে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে অবস্থিত আদানির ১৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।

এসএন/ ফোর্বস

আর্মেনিয়ায় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
আর্মেনিয়ায় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে
ছবি: সংগৃহীত

আর্মেনিয়ায় ভোটগ্রহণ চলছে। দেশটির বর্তমান নির্বাচনই নির্ধারণ করে দেবে এটি পশ্চিমা বিশ্বের দিকে আরও এগিয়ে যাবে, নাকি  ঐতিহ্যগত মিত্র রাশিয়ার দিকে ফিরবে।

দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। এই ছোট দেশটি মস্কোর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে, কারণ প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান ইউরোপীয় একীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুনর্নির্বাচন চাইছেন।

এই নির্বাচন আর্মেনিয়ার প্রতি ব্যাপক আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, কারণ- দেশটি তার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার রাশিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকা সত্ত্বেও ক্রমশ পশ্চিমাদের ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

পশ্চিমের সঙ্গে আর্মেনিয়ার সম্পর্কোন্নয়নের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছেন পাশিনিয়ান। ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর নিকোল পাশিনিয়ান দেশকে ধীরে ধীরে মস্কোর প্রভাববলয় থেকে সরিয়ে আনেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য একটি আইন পাস করেন। এতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনও লাভ করেন।

এসব কূটনৈতিক সাফল্যের পরও পাশিনিয়ানের জনপ্রিয়তা কমেছে। ২০২১ সালে তার সমর্থনের হার ছিল ৫৪ শতাংশ, যা বর্তমানে নেমে এসেছে প্রায় ৩০ শতাংশে। এবার পাশিনিয়ানের নির্বাচনী স্লোগান হলো- ‘শান্তির পক্ষে দাঁড়ান’।

পাশিনিয়ানের বিরোধীরা এখন বিভিন্ন দল ও জোট গঠন করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট কোচারিয়ানের নেতৃত্বাধীন ‘আর্মেনিয়া অ্যালায়েন্স’। আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট সের্ঝ সার্গসিয়ানের রিপাবলিকান পার্টি সরাসরি প্রার্থী না দিলেও তাদের সমর্থকদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

পাশিনিয়ানের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন রাশিয়ায় ধনী ব্যবসায়ী সামভেল কারাপেতিয়ান। তিনি বর্তমানে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গৃহবন্দী রয়েছেন। কারাপেতিয়ান তার ভাতিজার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সবশেষ ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের জরিপে দেখা গেছে, পাশিনিয়ানের ‘সিভিল কনট্রাক্ট’ দল ৩২ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক নেতার ওপরই আস্থা রাখেন না। বিরোধী দলগুলো যদি একজোট হতো, তাহলে তারা পাশিনিয়ানের ভোটের সমান সমর্থন পেতে পারতো। কিন্তু বিভক্ত অবস্থায় তারা তাকে পরাজিত করতে পারবে না।

খাদিজা রুমি/