ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সাম্বার ছন্দে থেমে যাবে আটলাসের গর্জন? লাইসেন্স বাতিলে আদ্-দ্বীন ছাড়ছেন রোগীরা রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা চট্টগ্রামে সরকারি খামারে প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ বিশেষ চক্রের কাছে জিম্মি রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার গৌরীপুর ও মুক্তাগাছায় পানির প্রকল্প: ২ বছরে অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের সাম্বার অপেক্ষায় বিশ্ব অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস আমন্ত্রণে শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণে ১৪ দিনের সফরে বেরোবি উপাচার্য জাকসু ভিপি ও জিএস: ছাত্রত্ব শেষে পদে বহাল থাকা নিয়ে বিতর্ক রমনার বন আসরা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ১৪ জুন ১৩ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৩ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল অর্থবিল বিশ্লেষণ: পার পাচ্ছেন সম্পদশালীরা হাকিমি: আফ্রিকার আশা, মরক্কোর প্রাণ ভিনিসিয়ুস: এবার হলুদ জার্সিতে প্রমাণের পালা প্রেরণার নাম ম্যাকগিন মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ হাইতির স্বপ্নসারথি ইসিদোর অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন
Nagad desktop

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই হামলা ও সংঘর্ষ ইউক্রেন-রাশিয়া

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
আপডেট: ১২ মে ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই হামলা ও সংঘর্ষ ইউক্রেন-রাশিয়া
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার ড্রোন হামলা ও সামনের সারিতে সংঘর্ষের খবর দিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ও আঞ্চলিক কর্মকর্তারা। অথচ গত শনিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের দিকে বলে মনে করছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে শান্তি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইউক্রেন ও রাশিয়া ৯ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে চার বছরের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত রবিবার বলেন, মস্কো বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ হামলা থেকে বিরত ছিল, তবে দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনের বিভিন্ন অংশে রুশ বাহিনী তাদের আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পাল্টা অভিযোগ করে জানায়, ইউক্রেনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তাদের দাবি–গত এক দিনে তারা ৫৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ‘সমপর্যায়ের জবাব’ দিয়েছে। তবে গত সোমবার তারা যুদ্ধক্ষেত্রের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য দেয়নি।
 
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর। দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসনে দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া পাশের মাইকোলাইভ অঞ্চলে তিনজন, উত্তরাঞ্চলীয় খারকিভে পাঁচজন এবং পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্কে চারজন আহত হয়েছেন বলে আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ফ্রন্টলাইনে ১৮০টি সংঘর্ষ রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া রুশ বাহিনী রোববার বিভিন্ন বসতি ও সামরিক অবস্থানে হামলায় ৮ হাজার ৩৭টি ‘কামিকাজে’ ড্রোন ব্যবহার করেছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সোমবার জানান, ইউক্রেনের সঙ্গে ড্রোন চুক্তিতে প্রায় ২০টি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে এবং এর মধ্যে চারটি চুক্তি ইতোমধ্যে স্বাক্ষর হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জেলেনস্কি ড্রোনযুদ্ধে ইউক্রেনের অভিজ্ঞতাকে কূটনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ সফরের সময় তিনি একাধিক প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা চুক্তি করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি লেখেন, ‘প্রায় ২০টি দেশ বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পৃক্ত রয়েছে। এর মধ্যে চারটি চুক্তি ইতোমধ্যে সই হয়েছে এবং সেসবের আওতায় প্রথম দফার চুক্তিপত্র এখন প্রস্তুত করা হচ্ছে।’

এপ্রিল মাসে ইউক্রেন জার্মানি, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও ড্রোন চুক্তি সই করে। এর আগে মার্চের শেষ দিকে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা অংশীদারত্ব গড়ে তোলে কিয়েভ।

গত মাসে ইউক্রেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তি করেছে।

জেলেনস্কি আরও জানান, বিশ্বের আরেকটি অঞ্চলের সঙ্গে ড্রোন চুক্তির আওতায় নতুন নিরাপত্তা সহযোগিতা শুরু করতে যাচ্ছে ইউক্রেন, যদিও তিনি কোন অঞ্চল তা উল্লেখ করেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব চুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি পেতে শুরু করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

জেলেনস্কি আশা করছেন, তার ‘ড্রোন কূটনীতি’ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি এবং ইউক্রেনের কৃষিপণ্যের নতুন বাজার নিশ্চিত করতেও সহায়তা করবে।

‘ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে’

এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত শনিবার বলেছেন, তার ধারণা ইউক্রেন যুদ্ধ ‘শেষের দিকে এগোচ্ছে।’ মস্কোতে সাম্প্রতিক বছরের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে বিজয়ের অঙ্গীকার করার কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি এই মন্তব্য করেন।

পুতিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হয় বিষয়টি শেষের দিকে যাচ্ছে।’ ইউক্রেন যুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ইউরোপের জন্য নতুন নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে তিনি প্রস্তুত আছেন। এ ধরনের আলোচনায় তার পছন্দের অংশীদার হবেন জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর জেরহার্ড শ্রোডের।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক ১৯৬২ সালের কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের পর সবচেয়ে বড় সংকটে পড়ে। সেই সময় বিশ্ব পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কায় ছিল। ক্রেমলিন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি আলোচনা আপাতত স্থগিত রয়েছে। পুতিন বারবার বলে আসছেন, মস্কোর ভাষায় ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’-এর সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়া যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

ক্রেমলিনে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন যুদ্ধের কারণ হিসেবে পশ্চিমা ‘গ্লোবালিস্ট’নেতাদের দায়ী করেন। তার দাবি, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর ন্যাটো পূর্বদিকে সম্প্রসারণ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পশ্চিমা দেশগুলো। কিন্তু পরে তারা ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাব বলয়ে টানার চেষ্টা করে।

পুতিনের এই বক্তব্য আসে ৯ মে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজের কয়েক ঘণ্টা পর। সোভিয়েত ইউনিয়নের নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জয়ের স্মরণে এই জাতীয় দিবস পালন করা হয়। যুদ্ধে নিহত ২ কোটি ৭০ লাখ সোভিয়েত নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই মূলত এই আয়োজন।

তবে এবারের আয়োজন ছিল অনেকটাই সীমিত। সাধারণত রেড স্কয়ারে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক ও বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রদর্শন করা হলেও এবার ক্রেমলিনের দেয়ালের বিপরীতে বড় পর্দায় রুশ সামরিক সরঞ্জামের ভিডিও দেখানো হয়।
ইউক্রেনে রুশ বাহিনী চার বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ করছে। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত বাহিনীর যুদ্ধকালীন সময়ের চেয়েও দীর্ঘ, যা রাশিয়ায় ‘গ্রেট প্যাট্রিয়টিক ওয়ার’ নামে পরিচিত।

১৯৯৯ সালের শেষ দিন থেকে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থাকা পুতিন এখন মস্কোয় যুদ্ধ নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মুখে আছেন। এই যুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। ইউক্রেনের বিশাল এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং রাশিয়ার ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

রাশিয়া ও ইউরোপের সম্পর্কও এখন স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। রুশ বাহিনী এখনো ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনবাস পুরোপুরি দখল করতে পারেনি। সেখানে কিয়েভের বাহিনী দুর্গনগরভিত্তিক প্রতিরক্ষা লাইন ধরে রেখেছে। যদিও চলতি বছরে রাশিয়ার অগ্রগতি ধীর হয়েছে, তবুও মস্কো বর্তমানে ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, যা মস্কো ও কিয়েভ–উভয়ই সমর্থন করে। পাশাপাশি দুই পক্ষ ১ হাজার যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে।

ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটা থামতে দেখতে চাই। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রাণহানির দিক থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। প্রতি মাসে ২৫ হাজার তরুণ সৈন্য মারা যাচ্ছে। এটা পাগলামি।’

তিনি আরও বলেন, তিনি যুদ্ধবিরতি ‘আরও দীর্ঘায়িত’ হতে দেখতে চান। এদিকে মস্কো বা কিয়েভ, কোনো পক্ষ থেকেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের খবর পাওয়া যায়নি। গত সপ্তাহে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও কস্টা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা এবং ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে কথাবার্তার ‘সম্ভাবনা’ রয়েছে।

ইউরোপীয়দের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তিনি রাজি কি না এমন প্রশ্নে পুতিন বলেন, তার কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হলেন শ্রোডার। পুতিন বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর শ্রোডারই বেশি গ্রহণযোগ্য।’

ইউরোপীয় নেতারা বলে আসছেন, ইউক্রেনে রাশিয়াকে পরাজিত করতেই হবে। তারা পুতিনকে যুদ্ধাপরাধী ও স্বৈরশাসক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন, যদি তিনি এই যুদ্ধে জয় পান, তাহলে ভবিষ্যতে ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশেও হামলা চালাতে পারেন। রাশিয়া এসব অভিযোগকে ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ছবি: ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় গতকাল শুক্রবার সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীরা (সংগৃহীত )

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় গতকাল শুক্রবার শত শত শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সরকারের এসব পদক্ষেপ দেশকে ‘দেউলিয়াত্বের দিকে’ ঠেলে দিচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর প্রতি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি তারা তার অন্যতম প্রধান কর্মসূচি বিনামূল্যের খাবার বিতরণ প্রকল্প বাতিলেরও আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক সময়ে এই কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা এবং দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে।

শিক্ষার্থীরা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানান। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। কয়েক মাস ধরে সরকারের কথিত অব্যবস্থাপনা নিয়ে জনঅসন্তোষ বাড়তে থাকায় এই বিক্ষোভ হয়। দেশটির মুদ্রা রুপিয়ার মানও সম্প্রতি নতুন সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জাকি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়ছে, আর আমাদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে কেন ভয় পাচ্ছেন? বলা হয়, সংবিধান বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত করেছে। কিন্তু আজ আমরা তা দেখতে পাচ্ছি না।’

বিক্ষোভের ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা জাকার্তার বিখ্যাত হোটেল ইন্দোনেশিয়া মোড়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ঢাল নিয়ে তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা যায়, পরে কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ধাক্কাধাক্কি ও লাথি মারার ঘটনাও ঘটে। কিছু বস্তু আকাশে ছুড়ে মারতেও দেখা যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকারীরা ‘মেনুজু ইন্দোনেশিয়া বাংক্রুট’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন, যার অর্থ ‘দেউলিয়া ইন্দোনেশিয়ার পথে’।

গত বছরের আগস্টে সরকারবিরোধী সহিংস বিক্ষোভেরও এক বছরের কম সময়ের মধ্যে এই নতুন আন্দোলন শুরু হলো। সে সময় এক পণ্যবাহী মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শাসকগোষ্ঠীর আধিপত্য ও রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জনরোষ ছড়িয়ে পড়েছিল। সূত্র: বিবিসি

রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার কাছে মে মাসে ইউক্রেন যতটুকু ভূখণ্ড হারিয়েছে তার চেয়ে বেশি এলাকা পুনর্দখল করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি কিয়েভের। কয়েক মাস ধরে চলমান রাশিয়ার ধারাবাহিক নেট অগ্রগতির প্রবণতাও উল্টে গেছে।

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কি টেলিগ্রামে বলেন, ‘মুক্ত করা এবং হারানো ভূখণ্ডের অনুপাত প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার আমাদের পক্ষে রয়েছে।’ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিলিতারনি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রকৃত নেট অর্জনের পরিমাণ আরও বেশি, প্রায় ১২০ বর্গকিলোমিটার। তাদের হিসাব অনুযায়ী, মে মাসে রাশিয়া প্রায় ১৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করলেও ২৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা হারিয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার উন্মুক্ত উৎস থেকে পাওয়া ভূ-অবস্থানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও বড় অঙ্কের ইউক্রেনীয় অগ্রগতির কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, মে মাসে রাশিয়া প্রায় ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করতে সক্ষম হলেও প্রায় ২৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, ইউক্রেন এপ্রিল মাসেও রাশিয়ার অগ্রগতি উল্টে দিতে সক্ষম হয়েছিল। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ওই মাসে রাশিয়া ২৮ বর্গকিলোমিটার ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড দখল করলেও ১১৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা হারায়। এই মূল্যায়নগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের পাল্টা অগ্রগতি ক্রমেই বাড়ছে।

সিরস্কি জানান, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে ইউক্রেন মোট ৬০০ বর্গকিলোমিটার ভূখণ্ড পুনর্দখল করেছে। তবে একটি ফ্রন্টে অগ্রসর হচ্ছে রাশিয়া। এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে রাশিয়া অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় সামরিক বিশ্লেষক কোস্তিয়ানতিন মাশোভেটস।

তিনি গত বুধবার (১০জুন) জানান, রুশ বাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় কোস্তিয়ানতিনিভকা শহরের পূর্ব অংশে আরও এগিয়ে গেছে। শহরটি দোনেৎস্ক অঞ্চলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক শহর নিয়ে গঠিত তথাকথিত ‘দুর্গ বেল্ট’-এর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। রুশ বাহিনী প্রথম গত বছরের অক্টোবর মাসে শহরটির কিছু অংশে অনুপ্রবেশ করেছিল। বর্তমানে তারা শহরের প্রায় ১৩ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দোনেৎস্ক অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশ দখলকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন। বর্তমানে অঞ্চলটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এখনো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা কয়েকবার পেরিয়ে গেলেও তা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ১৪ জুন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ১৪ জুন
ছবি: ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি রাস্তায় গত বুধবার এক নারী দেশটির পতাকা ধরে আছেন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক আগামী রবিবারের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে গতকাল শুক্রবার (১২জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে একটি পশ্চিমা সূত্র। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে আলোচনায় রয়েছে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা।

সূত্রটি জানায়, সমঝোতা স্মারকের ভাষা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইরান চুক্তিতে লেবাননকে যুক্ত করার অবস্থানে অনড় রয়েছে। আজ শনিবারের মধ্যে চুক্তির ভাষা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে, যাতে রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এতে স্বাক্ষর করতে পারেন। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য কোনো স্থান নির্ধারিত হয়নি। তবে জেনেভাই সবচেয়ে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার (১১জুন) বলেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা স্থগিত করছেন, কারণ চুক্তিটি এখন প্রায় প্রস্তুত। ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়ে একটি দুর্দান্ত মীমাংসা করেছি।’

গতকাল ইরানি কর্মকর্তাদের বর্ণনায় যে চুক্তির খসড়ার বিষয়বস্তু উঠে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে তেহরান তার দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর অধিকাংশই আদায় করতে যাচ্ছে। বিপরীতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়া ছাড়া ট্রাম্প তার ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর খুব কমই অর্জন করতে পেরেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।

রয়টার্সকে ইরানের একটি সূত্র গতকাল জানায়, খসড়া চুক্তির আওতায় ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। বিদেশে আটকে থাকা ইরানের কয়েক শ কোটি ডলারের তহবিল অবমুক্ত করা হবে এবং লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতির শর্ত আরোপ করা হবে। পারমাণবিক ইস্যু পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হবে। ওয়াশিংটন এমন একটি চুক্তি চায়, যা নিশ্চিত করবে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। 

ইরানের প্রধান দাবি– তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা। তবে বিনিময়ে ইরান কী দেবে, সে বিষয়ে সূত্রটি কিছু জানায়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইরানের মেহর বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, চুক্তির শর্তগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরও গুরুত্বপূর্ণ ছাড়ের বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের অঙ্গীকার এবং বিধ্বস্ত ইরানি অর্থনীতি পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন। ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।’

দুর্দান্ত মীমাংসা

বৃহস্পতিবার (১১জুন) রাতে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও ‘খুব কঠোর’ হামলার হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্পের চুক্তির ঘোষণা আসে। এর ফলে গতকাল বিশ্ববাজারে শেয়ারদরের ঊর্ধ্বগতি দেখা যায় এবং তেলের দাম কমে যায়। ইউরোপীয় লেনদেনে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশেরও বেশি কমে যায়।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন যে চুক্তি আসন্ন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়নি। এবার বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে, কারণ ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যকে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত কয়েক দিনে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলা হয়। এরপর দুই দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায় এবং জবাবে ইরানও অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানে।

ট্রাম্প বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই প্রণালিটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। ইউরোপে সেটি খুব দ্রুত, হয়তো চলতি সপ্তাহের শেষ দিকেই হতে পারে।’ তিনি আরও জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি চুক্তিটি অনুমোদন করেছেন কি না–এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার জানামতে উত্তর হলো হ্যাঁ।’

দুটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত

ইরানের গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বৃহস্পতিবার বলেছেন, চুক্তির বেশির ভাগই চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে ইরান তার ‘রেড লাইন’-এর বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করবে না।এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এখনো চলছে। বৃহস্পতিবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার চেষ্টাকালে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দুটি ইরানি একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনী একটি তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে বাধা দিয়েছে। গতকাল ভোরে সেখানে বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে বলে খবর প্রকাশ করা হয়।

এই যুদ্ধ হোয়াইট হাউসের জন্য রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে।রিপাবলিকান পার্টির কিছু সদস্য প্রকাশ্যেই উদ্বেগ জানিয়েছেন যে যুদ্ধে জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ায় নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে ট্রাম্পের দল।

লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি ইসরায়েলের জন্য গ্রহণ করা কঠিন হতে পারে। কারণ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে যুদ্ধ শুরু করলেও শান্তি আলোচনায় ইসরায়েলকে রাখা হয়নি। এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা স্মারকের পক্ষে নয় ইসরায়েল। সূত্র: রয়টার্স

চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি
ডেভিড হকনি। ছবি: এআই

কিংবদন্তি ব্রিটিশ চিত্রশিল্পী ডেভিড হকনি মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

শুক্রবার (১২ জুন) তার প্রচার কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার লন্ডনে নিজ বাড়িতে শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শিল্পী।

১৯৩৭ সালে ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারে জন্ম নেওয়া হকনির সাত দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ার ছিল বৈচিত্র্যে ভরপুর। তিনি ১৯৬০-এর দশকে বিশ্ব কাঁপানো 'পপ আর্ট' আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সারথী ছিলেন।

ব্রাডফোর্ড স্কুল অব আর্ট ও রয়্যাল কলেজ অব আর্ট থেকে স্বর্ণপদকসহ শিক্ষা শেষ করা হকনি তরুণ বয়সেই চেনা সামাজিক নিয়ম ভেঙে নিজের সমকামী পরিচয় প্রকাশ করেন এবং চিত্রশিল্পে মনোনিবেশ করেন।

১৯৬৪ সালে হকনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যান। সেখানকার প্রাণোচ্ছল জীবন, বিশেষ করে সুইমিং পুলের পটভূমিতে আঁকা চিত্রকর্মের জন্য তিনি বিশ্বজোড়া খ্যাতি পান।

পানির ওপর আলোর খেলা এবং ম্যাট অ্যাক্রিলিক পেইন্টের জাদুকরী ব্যবহারে তিনি ক্যানভাসে এক স্বপ্নময় জগৎ তৈরি করেছিলেন।
২০১৮ সালে নিউ ইয়র্কের এক নিলামে তার বিখ্যাত পেইন্টিং 'পোর্ট্রেট অব অ্যান আর্টিস্ট (পুল উইথ টু ফিগারস)' প্রায় ৭ কোটি পাউন্ডে বিক্রি হয়, যা সে সময় কোনও জীবিত শিল্পীর ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়েছিল।

চিত্রাঙ্কন ছাড়াও ফটোগ্রাফি ও স্টেজ ডিজাইনে দক্ষ হকনি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অগ্রগামী ছিলেন। ২০১০ সালে আইপ্যাড বাজারে আসার পর থেকেই তিনি ডিজিটাল মাধ্যমে ছবি আঁকা শুরু করেন এবং অ্যাপ প্রস্তুতকারীদের সাথে মিলে বিশেষ অ্যাপ তৈরি করেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিয়মিত ছবি আঁকা ও প্রদর্শনী চালিয়ে যাওয়া এই শিল্পী দীর্ঘদিনের সঙ্গী জঁ-পিয়ের গনকালভেস দে লিমা, দুই ভাই এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এসএন/

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৩২ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৩২ পিএম
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি
শাহবাজ শরিফ। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে একটি ‘চূড়ান্ত ও সর্বসম্মত’ যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর এই প্রথম শান্তি প্রতিষ্ঠার এত কাছাকাছি পৌঁছালো দুই দেশ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ লিখেছেন, পরবর্তী পদক্ষেপগুলো চূড়ান্ত করতে পাকিস্তান এখন উভয় পক্ষের সঙ্গেই নিবিড়ভাবে কাজ করছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ এর আগে কখনও এতটা কাছাকাছি আসেনি, যা এখন এসেছে।

উভয় দেশের কর্মকর্তারা চুক্তির বিবরণ নিয়ে গণমাধ্যমের জল্পনা-কল্পনার বিষয়ে সতর্ক করার পরই শাহবাজ শরিফ এই ঘোষণা দেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও চুক্তিটি ‘খুবই কাছাকাছি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।


কী আছে ইরান চুক্তিতে, যা সই করতে প্রস্তুত ট্রাম্প
গণমাধ্যমের জল্পনা নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বার্তায় বলেন, চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে গণমাধ্যমের যেকোনও ধরনের অনুমান করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কোনও ইরানি অবরুদ্ধ সম্পদ অবিলম্বে অবমুক্ত করার বিষয়টি অস্বীকার করে লিখেছেন, এই চুক্তিটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা নিশ্চিত করে যে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের উদ্বেগগুলো অগ্রাধিকার পাবে। ইরান যদি তাদের বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণ করে, তবেই অর্থনৈতিক সুবিধা তাদের এবং সমগ্র অঞ্চলে প্রবাহিত হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের চিত্র বদলে দেওয়ার এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ পুনরায় পোস্ট করেছেন। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা চুক্তির সাতটি সম্ভাব্য মূল পয়েন্টের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে কোনও নতুন ছাড় দেওয়া হয়নি এবং ইরানের কিছু সম্পদ অবিলম্বে অবমুক্ত করা হবে।

এসএন/