সিলেট কোতোয়ালি থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা হয়েছে। মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাবেক এমপি ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং তার স্ত্রী সেলিনা মোমেনসহ ১৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক নিশ্চিত করেছেন। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) রাতে দক্ষিণ সুরমার জালালপুরের মো. আলাল মিয়া বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে মামলাটি করেন। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) রাতে এটি নথিভুক্ত হয়। মামলার এজাহারে তিনি নিজেকে পথচারী ও হামলায় আহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সিলেট অফিসের এপিএস শফিউল আলম জুয়েল ও মোমেনের স্ত্রীর বান্ধবী হিসেবে পরিচিত সিলেট জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হেলেন আহমদকেও আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. মুর্শেদ আহমদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অভিনেত্রী তারিন জাহান, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আফতাব হোসেন খান, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম রোমেন, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তুষার, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ লায়েক, এস এম শওকত আমীন প্রমুখ।
মামলার এজাহারে বাদী আলাল মিয়া আসামিদের হামলায় আহত হন উল্লেখ করে বলেছেন, ৪ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সিলেট নগরীর মিরবক্সটুলায় খায়রুন ভবনের সামনে রাস্তায় অবস্থান নেওয়া ছাত্র-জনতার ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, কাটা রাইফেল, পাইপগানসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা ককটেল, পেট্রলবোমা ও সাউন্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় তিনি বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। এতদিন চিকিৎসাধীন থাকার কারণে মামলা দায়েরে বিলম্ব হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী মো. আলাল মিয়া।