ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা? রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায় রাজধানীতে প্রান্তিক গ্রামের ফুটবল উন্মাদনা, আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল ম্যাচ একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’ আয়োজন সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ ‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির আলোচিত সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে জয়া টেইলর সুইফটের নতুন রেকর্ড পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি? সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা নিজেকে সমকামী বলে কটাক্ষের জবাব দিলেন মৌনী ফ্যাশনে বিশ্বকাপ মাদক কারবারে হাজার কোটিপতির উত্থান, দাবি ভূমিমন্ত্রীর
Nagad desktop

আহমদ ছফা: তার দর্শন ও জীবনবোধ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৫, ০৭:২৬ পিএম
আহমদ ছফা: তার দর্শন ও জীবনবোধ
আঁকা: নিয়াজ চৌধুরী তুলি

আহমদ ছফা বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, কবি, ঔপন্যাসিক ও সমাজচিন্তক। সমাজ সংসারে এমন কিছু মানুষ থাকেন, যারা স্বেচ্ছায় জনকল্যাণের প্রয়োজনে সাহিত্য রচনায় ব্রতী হন, আহমদ ছফা ছিলেন তাদের অন্যতম। প্রচলিত জীবনব্যবস্থার প্রতি অনীহ তার সাহিত্যে মানবমুক্তির কথামালা প্রতিধ্বনিত। চলমান রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থার বিপরীতে দাঁড়িয়ে তিনি শোষণ, বঞ্চনা ও মানুষের মর্মবেদনা উপন্যাস, ছোটগল্প ও বিশ্লেষণমূলক রচনায় প্রতিপাদ্য করেছেন। বাংলাদেশে আহমদ ছফা বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাঙালির রাষ্ট্রভাবনা ও মানুষের মুক্তির লড়াই-এ জনসম্পৃক্তির বিষয়টি তার সাহিত্যে প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গ্রন্থ: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাসে (১৩৭১), বাঙালি মুসলমানের মন (১৯৮১), শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য প্রবন্ধ (১৯৮৯), নিকট ও দূরের প্রসঙ্গ (১৯৯৫), সংকটের নানান চেহারা (১৯৯৫), যদ্যপী আমার গুরু (১৯৯৮), বাংলাভাষা: রাজনীতির আলোকে, উপন্যাস: ওঙ্কার (১৯৭৫), একজন আলী কেনানের উত্থানপতন (১৯৮৮), মরণ বিলাস (১৯৮৯), অলাতচক্র, (১৯৯৩), সূর্য তুমি সাথী (১৯৮৭), অর্ধেক নারী, অর্ধেক ঈশ্বরী (১৯৯৬), পুষ্প বৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ (১৯৯৬), গল্পগুচ্ছ: নিহত নক্ষত্র (১৯৬৯), দোলা আমার কনকচাঁপা (১৯৬৮), অনুবাদ, তানিয়া (মূল: পিলিটিভ) (১৯৬৭), ফাউস্ট (১৯৮৬)। এ ছাড়া উপন্যাস সমগ্র, নির্বাচিত প্রবন্ধ, সাক্ষাৎকারভিত্তিকগ্রন্থ, আহমদ ছফার কবিতা (২০০০)।

আহমদ ছফার সাহিত্যে সচেতনতার বহিঃপ্রকাশ প্রকট। সমাজ, রাষ্ট্র, মানুষকে স্পর্শ করে আছে রাজনীতি। তিনি রাজনীতিসচেতন সাহিত্যিক, ১৯৬৭-তে প্রকাশিত ‘সূর্য তুমি সাথী’ উপন্যাসে গ্রাম ও গ্রামের মানুষের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, মানুষের নিরন্তর সংগ্রাম ও সমাজপরিবর্তনকে আমরা প্রত্যক্ষ করি। সাতবাড়িয়া গ্রামের হাসিম গোকুলের ছেলে কাজী বাড়ির মেয়ে জরিনার প্রেমে পড়ে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হয়। গ্রামের মানুষ এ বিষয় নিয়ে নানা সমালোচনায় মত্ত। ক্ষুধা, দরিদ্রতা, বাঁচার লড়াইয়ের সঙ্গে গ্রামীণ জনপদে ধর্মবিশ্বাস যুক্ত হয়। পশ্চাৎপদ মানুষের দিন যাপন ছফা মমতার সঙ্গে বিবৃত করেছেন। অভিমান করে হাকিম গ্রাম ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। গ্রামীণ সমাজ কাঠামোর একটি নিখুঁত বর্ণনা আহমদ ছফা এ উপন্যাসে দিয়েছেন। গ্রাম ঘিরে যাদের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও দিনযাপন তারা কীভাবে খোলস থেকে বেরিয়ে পড়ে, মূল থেকে বিচ্যুত হয়। এসব বিবরণ, ব্যাখ্যা ও পর্যবেক্ষণ তার সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আগ্রাসন; পরবর্তী সময়ে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে যুক্ত হওয়ার পূর্বাপর ঘটনাবলি গাভী বিত্তান্ত, অলতচক্র, একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন পর্বে বিস্তৃত পরিসরে প্রতিস্থাপিত হয়েছে। আহমদ ছফা সুস্থ রাজনৈতিক চিন্তাধারার সঙ্গে বাঙালির দিনযাপনকে যুক্ত করেছেন তার উপন্যাস গল্পের কাহিনির সঙ্গে। ‘ওঙ্কার’ উপন্যাসে জীবনবীক্ষণ, যা আঞ্চলিক ভৌগোলিক অবস্থান থেকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বৃহৎ পরিসরে সম্পর্ক তৈরি করে। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস ‘ওঙ্কার’-এ নারীমুক্তির বার্তা স্পষ্ট। ‘অলাত চক্র’ উপন্যাসে অন্য এক নারী তায়েবা ক্যানসার আক্রান্ত। তার মৃত্যু প্রতীকী ব্যবহার করা হয়েছে।

ষাট দশকে, উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ঘটনা গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ আহমদ ছফা তার উপন্যাসে ধারণ করেছেন। ভোলার তামাপুকুর গ্রামে আলী কেনানের আবির্ভাব। গভর্নরের পিয়ন আলী কেনানের দোর্দণ্ড প্রতাপ। চাকরিচ্যুত হয়ে পীর সেজে ঢাকার মাজারে তার তেলেসমাতি একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন পর্বে বিবৃত। ঊনসত্তর, সত্তর ও পরবর্তী সময়ে পঁচাত্তরের রাজনৈতিক ঘটনার ঘূর্ণি আহমদ ছফা তার উপন্যাসে ধারণ করেছেন।

‘গাভী বিত্তান্ত’ উপন্যাসে ক্ষমতাধর মানুষদের ক্ষমতা প্রয়োগের ছলচাতুরী সুবিধা ভোগের কলাকৌশল উঠে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চপদে আসীন ব্যক্তি, উচ্চশিক্ষিত ও ডিগ্রিধারী মানুষদের চালচলন, ক্ষমতালিপ্সা ও তাদের চারপাশের কাচের দেয়ালে যাদের বসবাস, আহমদ ছফা গভীর মনোযোগের সঙ্গে তাদের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন। ঠিকাদার ঘোরে। মাস্তান ঘোরে। অর্থের লালসায় মত্ত একদল মানুষ কীভাবে নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বন্দি করে ছফা আঙুল দিয়ে তা দেখিয়ে দিয়েছেন। সমাজ ও পরিপার্শ্বের মানুষ তার কাছে ধরা দেয়। সমাজ একদিনে পচনের দিকে যায় না। মানুষের লোভ, রিরংসা কাম ও অর্থলিপ্সুতার কাছে পরাজিত হয় মূল্যবোধ ও মানবতা। আবার মানুষই উদ্ধার করে কল্যাণ ও সুন্দরকে। আহমদ ছফা রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’-এ বুদ্ধিজীবীদের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে যথার্থভাবে। আমাদের সমাজে মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী শ্রেণি সামাজিক জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই বুদ্ধিজীবী শ্রেণি সুবিধা ভোগ করে বেশি, নিজের স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনে সত্য ও মিথ্যা মিশিয়ে যা বলেন, তাতে তাদের মতলববাজি মনোভাবের প্রকাশ ঘটে। ছদ্মনাম ব্যবহার করে তার বিবৃতি দেন, নিবন্ধ রচনা করেন ও ভাষ্য পরিবেশন করেন। নিজেকে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রেখে তারা বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করেন। আবার কখনো কখনো সাধন মানুষদের কাছে নিজেদের অবস্থান অনেক উঁচুতে চিহ্নিত করেন। 

আহমদ ছফা প্রচলিত রাজনৈতিক মতবাদে আস্থাশীল ছিলেন না। তার অপছন্দ প্রতিজীবীদের। আহমদ ছফা বুদ্ধিজীবীদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মানসিক চিন্তাধারা সম্পর্কে মতামত তুলে ধরেছেন। মধ্যবিত্তের শ্রেণি চরিত্রে তাদের স্ববিরোধিতার উদাহরণ আমাদের চারপাশে বিস্তর। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিবর্তনে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকার প্রতিভাস লক্ষণীয়। রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির সঙ্গে বুদ্ধিজীবীদের একীভূত হওয়া স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুদ্ধিজীবীরা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। আহমদ ছফা তার প্রবন্ধ গ্রন্থে উল্লেখ করেন:

‘কবি-সাহিত্যিক লেখকেরা গর্ভিণী নারীর মতো। তারা জাতির গড়ে ওঠার, বেড়ে ওঠার, বেঁচে থাকার ভ্রূণ কণা অন্তর্লোকে ধারণ করে থাকেন। জাতীয় জীবনে যা ঘটে গেছে অতীতে, যা বর্তমানে ঘটেছে সব সৃজনশীল অন্তর্লোকে তরঙ্গিত হয়, তারই আলোকে অনেক সময় তারা ভাবের আবেশে সামনের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে বলে- এই হতে যাচ্ছে। এবং এই-ই হবে। কিন্তু বাংলাদেশে তেমন কবি, তেমন সাহিত্যিক, তেমন উপন্যাস লিখিয়ে কিংবা গাল্পিক কি আছেন? নেই আমাদের যে ক’জন নামকরা কবি কিংবা সাহিত্যিক আছেন, তাদের বেশির ভাগের প্রতি মানুষ খুব শ্রদ্ধার মনোভাব পোষণ করে না। বাংলাদেশে আজকের দিনে লেখকেরা-কবিরা সামাজিক দিক দিয়ে বোধ হয় সম্মানহীনজীব। তারা পত্রিকার রবিবাসরীয় সংখ্যার জোগানদার, রেডিও-টেলিভিশনের অঙ্গসজ্জা ও বিকৃত রুচিহীন নীরস পাঠ্যপুস্তক প্রণেতার অধিক কিছু নন।’ (বুদ্ধিবৃত্তিক নতুন বিন্যাস, পৃঃ ২১-২২,
প্রকাশকাল : ১৩৭৯)।

আহমদ ছফা ব্যক্তিগত দুর্বলতা প্রাধান্য দেননি। সাধারণ জনতার কাতারে গিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে জাতীয় নেতৃবৃন্দের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। ইতিহাসের নির্মমতা, প্রাণবন্ত, সরস ও বিশ্লেষণমূলক আলোচনা তিনি নির্মোহভাবে করেছেন। এটা ঠিক বাঙালি যে স্বপ্ন দেখেছিল স্বাধীন দেশে তা পূরণ হয়নি।

আহমদ ছফা নির্দিষ্ট গোষ্ঠী রাজনীতিতে যুক্ত হননি। তার সমাজতান্ত্রিক চিন্তাভাবনা তাকে ঐতিহ্য অন্বেষণ, স্বজাতির বীরত্বগাথা ও মানুষে মানুষে সম্প্রীতির সম্পর্ক নির্মাণে প্রাণিত করেছে। ব্যক্তি বন্দনায় তিনি ব্যস্ত হননি। বরং সমালোচনা ও বিশ্লেষণে মগ্ন তার সত্তা সত্য প্রকাশে উচ্চকিত থেকেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মওলানা ভাসানী, গোটে, রবীন্দ্র, পাকিস্তানের সমাজ ও রাজনীতির বহুতল খুঁড়ে তিনি গবেষণার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন।

বিশ শতকের বাঙালি মুসলমানদের জাগরণের ইতিহাস গৌরবের। রবীন্দ্রভাবনা, দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক, দস্তয়েভস্কি, বার্ট্রান্ড রাসেলের দর্শনের প্রতিক্রিয়া ও সুলতানের চিত্রকলার বিশেষায়িত নানা দিক ‘বাঙালী মুসলমানের মন’ গ্রন্থে আহমদ ছফা তুলে ধরেছেন। পুথিসাহিত্যের বিপুল সম্পদ মুসলমানদের কাছে কীভাবে ধরা দিল তার বিচার-বিশ্লেষণ। ফার্সি-উর্দু চর্চা পলাশীর যুদ্ধের পরের সময়ের জাগরণ নিয়ে তিনি বিস্তর ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’র হোসেন মিয়া কীভাবে তার অস্তিত্ব রক্ষায় সংগ্রামে নিয়োজিত থাকে; বহুবিবাহ-জেলে পল্লিতে অবাধ যাতায়াত আবার সামাজিক প্রতিপত্তি অর্জনের মোহতাকে গ্রাস করে না। হোসেন মিয়া, স্বভাব কবি লালন শাহ, হাছন রাজার মতো হাজার কবির একজনকে আবিষ্কার মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় করেছেন। ছফা এই চরিত্রের ব্যবচ্ছেদে তার বিচার-বিশ্লেষণ বন্দি করেন।

বাঙালি মুসলমানের মনগ্রন্থে নিবন্ধগুলো আহমদ ছফা বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকা ও ছোট কাগজের জন্য রচনা করেছিলেন। গবেষণা নিবন্ধ রচনার ক্ষেত্রেও যে মনোযোগ যে বিচার ও যে বুদ্ধিমত্তার স্ফুরণ ঘটে তার সবটুকুই এ গ্রন্থে উপস্থিত। একুশে ফেব্রুয়ারি বাহাত্তরে যে বিভায় উদ্ভাসিত হয়েছিল, তা নিয়েও ছফা তার সজ্ঞান ব্যাখ্যা-বক্তব্য উদগীরণ করেছেন।

ছফার বক্তব্য: আজ বাংলাদেশের মানুষ, বাংলাভাষী মানুষ বায়ান্নের শহিদদের স্মরণ করছেন। একটি জনযুদ্ধে জয়ের আনন্দ নিয়ে, একটি নতুন সম্ভাবনাময় শোষণমুক্ত সুসভ্য সমাজ সৃজনের দৃঢ় আকাঙ্খা স্পন্দিত অন্তরে-একটি প্রবল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানি ফ্যাসিবাদী সেনাবাহিনীর নির্মম নৃশংস ইতিহাসের নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ডের করুণতম বেদনায় আপুত বাংলাদেশের মানুষ বাংলাভাষী মানুষ-সমগ্র বাঙালি জাতি রাইফেল কামান, মেশিনগান ধরা কড়া পরা হাত, বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার বিসর্জিত প্রাণ শহিদদের অম্লান স্মৃতির প্রতি সম্মাননায় পরস্পর যুক্ত করেছেন (একুশে ফেব্রুয়ারি উনিশশ বাহাত্তর, পৃঃ ৯০)।
আহমদ ছফা অনগ্রসর জাতির অগ্রবর্তীতে কুসংস্কার প্রতিবন্ধক উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি স্বজাতি, স্বধর্ম ও স্বকর্মে বাঙালির আত্মপরিচয়ের নানা দিক তুলে ধরেছেন। সংস্কার, বিশ্বাস ও পশ্চাৎপদ জীবনাচরণ থেকে বেরিয়ে এসে আলোর দিকে অভিযাত্রায় তিনি এ জাতির মনোযোগ অগ্রগণ্য বিবেচনা করেছিলেন। আহমদ ছফা সমাজ ও চারপাশের মানুষের জীবন জিজ্ঞাসায় আন্দোলিত ছিলেন। তিনি মহৎ জীবন দর্শনের অধিকারী ছিলেন। তার লেখায় সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণ ও শুভ্রতার প্রকাশ ঘটেছে। সাহিত্যিক হিসেবে মানুষ হিসেবে আহমদ ছফা নিষ্ঠার সঙ্গে মানবকল্যাণে নিয়োজিত ছিলেন।

কঠিন বাস্তবতার দিকে আমরা এখন এগিয়ে যাচ্ছি। এই বাস্তবতার আঁচ অনুভব করার সময় সবার মনে পড়ে আহমদ ছফার মতো সাহিত্যিক ও অভিভাবকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

আহমদ ছফা ছিলেন নির্ভীক সাহিত্যিক। তার সাহিত্যে সাধারণ মানুষের মুক্তি প্রণোদনা প্রবলভাবে উপস্থিত ছিল। সমাজ রূপান্তর প্রয়াসী ছফা সমাজের অভ্যন্তরের পচন নির্মূল করতে নিরন্তর লিখেছেন। তিনি ছিলেন সমাজচিন্তক ও দার্শনিক লেখক। তার সাহিত্য পাঠ তরুণ প্রজন্মকে জীবন, জগৎ ও মানুষকে জানার সুযোগ করে দেবে। পাঠক তার সামনে উপস্থাপিত কাজটি শনাক্ত করার সুযোগ পাবে তার সাহিত্য কীর্তি থেকে। আহমদ ছফা বাংলা সাহিত্যে অনুসরণীয় একজন সাহিত্যিক। তার সাহিত্যে মানবমুক্তি, জীবন অন্বেষার উপাদান সমৃদ্ধ। তার স্বপ্ন ও আকাঙ্খা বিস্তৃত।

লেখক: প্রাবন্ধিক, গবেষক

দিনাজপুরে কবি আযাদ কালাম রচিত ‘শব্দে গৈরিক তরঙ্গ’ কবিতা গ্রন্থের পাঠউন্মোচন অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ১০:১০ পিএম
‘শব্দে গৈরিক তরঙ্গ’ কবিতা গ্রন্থের পাঠউন্মোচন অনুষ্ঠিত
ছবি: সংগৃহীত

উত্তরতরঙ্গ সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে এবং দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সহযোগিতায় কবি আযাদ কালামের কবিতাগ্রন্থ ‘শব্দে গৈরিক তরঙ্গ’-এর পাঠউন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

গত ২২ মে স্থানীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই পাঠউন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উত্তরতরঙ্গ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি অধ্যাপক কামরুজ্জামান গোপন। প্রধান আলোচক ছিলেন কবি, কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক এমরান কবির।

অনুষ্ঠানের অন্যান্য আলোচক ছিলেন কবি অধ্যাপক মোজাম্মেল বিশ্বাস, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কবি ও প্রাবন্ধিক মাসুদ মুস্তাফিজ, কবি ও গবেষক চাষা হাবিব, কবি নিরঞ্জন হীরা এবং কবি কমল কুজুর। এছাড়া বক্তব্য রাখেন কবি অধ্যাপক জলিল আহমেদ, কবি ফরিদুল আজাদ মিলন, রেজাউর রহমান রেজু, গল্পকার মাহবুব আলী, কবি আজাহারুল আজাদ জুয়েল, প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বরূপ বক্সী বাচ্চু এবং উত্তরতরঙ্গের নির্বাহী সম্পাদক রাজ্জাক কাঞ্চন প্রমুখ।

কবি আযাদ কালামের কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী মোকাররম হোসেন, মীর শিরিন, সুবর্ণা মুখার্জী এবং ছড়াকার বিধান দত্ত।

প্রধান আলোচক এমরান কবির বলেন, ‘সাম্প্রতিক কবিতার বড় একটি ব্যর্থতা হলো এর কেন্দ্রহীনতা, পারম্পর্যহীন শব্দসমাবেশ এবং পঙ্ক্তির বিধ্বস্ত বিন্যাস। বিমূর্তায়ন ও বিচ্ছুরণের দিকে ধাবিত হতে গিয়ে সাম্প্রতিক কবিতা প্রায়ই কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে কবিতা পড়া যাচ্ছে না। শব্দ থেকে শব্দের যোগাযোগহীনতা, পঙ্ক্তি থেকে পঙ্ক্তির পারম্পর্যহীনতা পাঠককেও যোগাযোগহীন করে তুলছে। এই যোগাযোগহীনতা বা সংযোগ স্থাপনের ব্যর্থতার কারণে কবিতা এখন সবচেয়ে কম পঠিত সাহিত্যধারাগুলোর একটি। আযাদ কালামের কবিতা পাঠ করতে গিয়ে দেখা যায়, এসব নেতিবাচক উপাদানের উপস্থিতি নেই। ফলে তার কবিতাগুলো পাঠযোগ্য। আর যদি কোনো কবিতা পড়া যায়, তাহলে বলা যেতে পারে সেই কবিতায় ‘কিছু একটা’ আছে। এই ‘কিছু একটা’ হলো কবিতার অধরা আলোর কাছে পাঠকের প্রত্যাশা। আযাদ কালামের কবিতা সেই প্রত্যাশা পূরণ করে। কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে মফস্বলে অবস্থান করেও বৈশ্বিক কবিতার সমান্তরালে যে কবিতাচর্চা করা সম্ভব, আযাদ কালাম তা প্রমাণ করেছেন।’

কবি আযাদ কালাম তার কবিতাগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করার জন্য উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি ও শিল্পী কমল কুজুর।

সমধারার স্রোতে সৃজনের উচ্ছ্বাস: কবিতা, চেতনা ও আনন্দের মিলনমেলা

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
আপডেট: ১২ মে ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
সমধারার স্রোতে সৃজনের উচ্ছ্বাস: কবিতা, চেতনা ও আনন্দের মিলনমেলা
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী উৎসবে বক্তব্য রাখেন। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব যখন অমীমাংসিত যুদ্ধ, সংঘাত আর মানবিক বিপর্যয়ের ভারে ন্যুব্জ—
যখন বিশ্বমানবতা অশান্তি ও উদ্বেগের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে—
ঠিক সেই সময়ই অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠাকে দূরে সরিয়ে দেশের এক কোণে, সীমিত পরিসরে, এক অপার আনন্দময় আবহে ধানমন্ডির ছায়ানটে অনুষ্ঠিত হলো সমধারার দ্বাদশ কবিতা উৎসব ২০২৬।

 ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত আয়োজন কেবল আনন্দের উপলক্ষ নয়; বরং এটি এক চলমান সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রাণস্পন্দন। “সমধারা”-নামটির মধ্যেই যেন প্রবাহমান সৃজনশীলতার ইঙ্গিত, আর সেই স্রোতধারায় যুক্ত হয়েছেন দেশের প্রথিতযশা ও নবীন কবি-সাহিত্যিকেরা। তাদের সম্মিলিত উপস্থিতিতে উৎসবটি হয়ে উঠেছিল এক অনন্য নান্দনিক মেলবন্ধন। সত্যিই, অনুভূতিটা ছিল অপার্থিব।

সমধারা এমন এক উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম, যেখানে নবীন ও প্রবীণ-সব প্রজন্মের সাহিত্যসাধকরা মিলিত হন এক অভিন্ন সৃজনস্পন্দনে। উপস্থিত ছিলেন শিল্প সাহিত্যের দিকপাল বহুমাত্রিক লেখক অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল, কথাসাহিত্যিক-সাংবাদিক হারুন হাবীব, কবি-প্রাবন্ধিক ফরিদ আহমেদ দুলাল, কবি মজিদ মাহমুদ এবং লেখক-গবেষক ড. এমদাদ হাসনাইনসহ আরও অনেক গুণীজন।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী তার বক্তব্যে সাহিত্যচর্চার বহুমাত্রিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন-সাহিত্য কেবল আত্মপরিচয়ের বাহন নয়, এটি চর্চার মধ্য দিয়েই টিকে থাকে। অন্যদিকে, জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামার মাঝেও কবিতা চর্চার এমন আয়োজনকে এক বিশাল প্রাপ্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কথাসাহিত্যিক-সাংবাদিক মোস্তফা কামাল সাহিত্যচর্চাকে তুলনা করেন প্রার্থনার সঙ্গে—যেখানে প্রতিদিনের সাধনাই লেখককে পরিপূর্ণ করে।

অন্যান্য কবি-সাহিত্যিকরাও তাদের বক্তব্যে সন্তুষ্টি ও প্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করেন।

এ উৎসব যেন নববর্ষের রেশ বহন করছিল। পহেলা বৈশাখের আবহ তখনও বাতাসে ভাসমান-চারদিকে বৈশাখি মেলার আমেজ, প্রকৃতিতে মধুমাসের আগমনী বার্তা, গাছে গাছে ফলের সমারোহ। সেই আবহকে ধারণ করেই লাল রঙে সজ্জিত কবিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যেন উৎসবের রঙ আরও গাঢ় হয়ে উঠেছিল।

ফরিদ আহমেদ দুলালের সভাপতিত্বে এবং কথাসাহিত্যিক-সাংবাদিক হারুন হাবীবের উদ্বোধনে, সালেক নাছির উদ্দিনের সুচারু সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সারা দেশ থেকে আগত কবিদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে ছায়ানটের প্রাঙ্গণ।

এবারের সমধারা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল। শিশু সাহিত্যিক ড. ধনঞ্জয় সাহা এবং কবিতা সাহিত্যে আদ্যোনাথ ঘোষও সম্মানিত হয়েছেন। তাদের প্রতি রইল অকুণ্ঠ অভিনন্দন, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

সমধারার কর্ণধার সালেক নাছির উদ্দিন তার অক্লান্ত পরিশ্রম, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে এই সংগঠনকে সুসংগঠিত করেছেন। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি সমধারার যাত্রাকে অব্যাহত রাখার যে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

এবারের আয়োজন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল আরেকটি কারণে-অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর উপস্থিতি। তিনি নিয়মিতভাবে সব অনুষ্ঠানে অংশ না নিলেও, সমধারায় এসে তিনি যেন লেখক-কবি সত্তাকে নতুন করে জাগ্রত করে তুললেন। তার উপস্থিতি সকলের মধ্যে দ্বিগুণ উৎসাহের সঞ্চার করেছে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মোস্তফা কামালের উপন্যাস “দেবো খোঁপায় তাড়ার ফুল” অবলম্বনে কাব্যগীতি নৃত্যনাট্য “প্রেমার্ঘ নৈবেদ্য”-যা ছিল এক অনবদ্য শিল্পসম্ভার।

সব মিলিয়ে, সমধারার দ্বাদশ কবিতা উৎসব ছিল এক সফল, অর্থবহ এবং শিক্ষণীয় আয়োজন। একটি অনুষ্ঠান শুধু উপভোগের বিষয় নয়-এর ভেতরে থাকে শেখার অসংখ্য উপাদান। গুণীজনদের কথা শোনা যেমন সৌভাগ্যের, তেমনি তাদের সান্নিধ্য পাওয়া এক বিরল প্রাপ্তি।

সৌভাগ্যক্রমে সেই প্রাপ্তির অংশীদার হতে পেরেছি-প্রিয় মানুষদের সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে, শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে, আশীর্বাদ চেয়েছি আগামী পথচলার জন্য।

পরিশেষে, এই আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। বিশেষ ধন্যবাদ সালেক নাছির উদ্দিনকে। সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে-সমধারার এই সৃজনযাত্রা আরও বহুদূর এগিয়ে যাক।

এসএন/

বইয়ের প্রচ্ছদই পাঠককে ডাকে: আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
বইয়ের প্রচ্ছদই পাঠককে ডাকে: আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল ফরিদুর রেজা সাগরের নতুন বই ‘প্রিয়জন আপনজন’-এর প্রচ্ছদ উন্মোচন অনুষ্ঠানে লেখকসহ অতিথিরা ছবি: খবরের কাগজ

একটি বইয়ের পরিচিতি ও পাঠককে আকর্ষণের ক্ষেত্রে প্রচ্ছদই প্রধান ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনি বলেছেন, প্রচ্ছদ ছাড়া বই হয় না। প্রচ্ছদ ডাক দেয়, প্রচ্ছদ চিনিয়ে দেয়। প্রচ্ছদ বলে এসো- তারপরে না বই।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের নতুন বই ‘প্রিয়জন আপনজন’-এর প্রচ্ছদ উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিতব্য এই বইটির প্রচ্ছদ করেছেন বরেণ্য শিল্পী ও অভিনেতা আফজাল হোসেন।

বই প্রকাশের আগেই ঘটা করে প্রচ্ছদ উন্মোচনের এই ব্যতিক্রমী আয়োজনকে লুইস ক্যারলের ‘অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’-এর রূপকের সঙ্গে তুলনা করেন অধ্যাপক সায়ীদ। রসিকতা করে তিনি বলেন, ‘এ কেমন বই, যার বই নেই; কিন্তু প্রচ্ছদ আছে! এটি অনেকটা সেই অদৃশ্য বিড়ালের হাসির মতো।’ লেখক ফরিদুর রেজা সাগর সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কেউ লেখক হওয়ার পরে লেখে, আর কেউ লিখতে লিখতে লেখক হয়। সাগরের ভেতরে আগে থেকেই লেখার রসদ তৈরি ছিল, যা এখন বই হয়ে প্রকাশ পাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে লেখক ফরিদুর রেজা সাগর জানান, ‘প্রিয়জন আপনজন’ বইটিতে শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের ১০০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রচ্ছদ নিয়ে লেখক বলেন, শিল্পী আফজাল হোসেন আমার প্রায় ৩০টি বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন। তার একটি স্বভাব হলো কাজ দেরিতে করা। কিন্তু এবার তিনি বই লেখা শেষ হওয়ার আগেই একাধিক প্রচ্ছদ তৈরি করে ফেলেছেন। সেই আনন্দ থেকেই এই প্রচ্ছদ উন্মোচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা।

আফজাল হোসেন বলেন, ‘বই প্রকাশের আগে প্রচ্ছদ উন্মোচন আমাদের দেশে নতুন ঘটনা। একটি সময়কে ধরে রাখার জন্য সাগর ভাই যেসব গুণী মানুষকে নিয়ে লিখেছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে।’

অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, আনিসুল হক, সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী, শাইখ সিরাজ, জিল্লুর রহমান, ছড়াকার আমীরুল ইসলাম ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আবদুন নূর তুষার।

ফারজানা ব্রাউনিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট নজরুল সংগীতশিল্পী ফেরদৌস আরা।

স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলাদেশের কবিতা ও ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলাদেশের কবিতা ও ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’

সম্প্রতি শিল্প-সাহিত্যের সংগঠন সৃজনের মিরপুর কার্যালয়ে একক বক্তৃতা, একক কবিতাপাঠ এবং পাঠপর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কবি লুব্ধক মাহবুবের ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট গবেষক ও গল্পকার প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক, বিশিষ্ট গবেষক প্রফেসর ড. সেলিম আকন্দ।

আনোয়ারুল হক বলেন, কবি লুব্ধক মাহবুব প্রেমের কবি। প্রবাসী জীবনের টানাপোড়েন তার কবিতার অন্যতম অনুষঙ্গ। ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থে এই কবি পরিণত এবং শব্দ চয়নে দক্ষতা তার কবিতাকে ভিন্নমাত্রা দিয়েছে। তার কবিতার বিষয়ে গভীরভাবে দেশের প্রতি ভালোবাসা স্থান পেয়েছে। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং প্রকৃতিও বিশেষভাবে তার কবিতায় উঠে এসেছে। এই কবি যে দেশে না থেকেও দেশের সঙ্গে তার কবিতার মাধ্যমে গভীর সংযোগ রেখেছেন– এই বই তার সাক্ষ্য বহন করে।

প্রফেসর ড. সেলিম আকন্দ বলেন, ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থের কবি লুব্ধক মাহবুব একজন জাত কবি। ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ তার তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ। আগের দুটি কাব্যগ্রন্থ থেকে এ গ্রন্থে তিনি অনেক বেশি পরিণত কবি। সুনির্বাচিত শব্দ চয়ন, অনুপ্রাসের কাব্যময় প্রয়োগ, বক্রোক্তি ও ব্যজস্তুতির বর্ণময় ব্যবহার, প্রাসঙ্গিক যথাযথ উপমা-উৎপ্রেক্ষা ও চিত্রকল্প এবং গদ্য ছন্দের অনবদ্য ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি তার তৃতীয় কাব্যগ্রন্থে নিজের জন্য একটি নিজস্ব ভাষাশৈলী তৈরিতে দারুণভাবে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করি। আর বাংলায় লেখা এ গ্রন্থের ৮০টি কবিতায়ই বিষয় বৈচিত্র‍্যে বৈচিত্র্যময় ধারক হিসেবে কবিকে অনন্য বিশিষ্টতায় বিভূষিত করেছে। দীর্ঘ ৩৪ বছর বিদেশ বিভুঁইয়ে অবস্থান করেও নিজের মা-মাটি-মানুষকে তিনি যে ভুলে যাননি বরং গভীর ও প্রগাঢ় মমতায় তাদের বেঁধে রেখেছেন, এই কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতা তার বড় প্রমাণ। বলা চলে স্রষ্টা প্রদত্ত কবি প্রতিভা আর গভীর অনুশীলন, অধ্যয়ন ও পরিচর্যার মাধ্যমে নিজেকে তিনি একজন উত্তর আধুনিক কবি হিসেবে এ কাব্যগ্রন্থে যেভাবে শিল্পশ্রীমণ্ডিতভাবে মেলে ধরেছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

অনুষ্ঠানের ‘স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলাদেশের কবিতার গতি-প্রকৃতি’ বিষয়ের মূল বক্তব্যে লেখক ও গবেষক ড. কুদরত-ই-হুদা বলেন, সাতচল্লিশে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা যখন তৈরি হয় তখন পূর্ববাংলার মুসলমান কমিউনিটি সাগ্রহে তাতে শামিল হয়েছে। এর কারণ যতটা বা ধর্ম তারচেয়ে বেশি অর্থনীতিকেন্দ্রিক। তিনি বলেন, চল্লিশের দশকে পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদ নিয়ে প্রচুর কবিতা লেখা হয়েছে। ষাটের দশকে গিয়ে কবিদের এ বিষয়ে মোহভঙ্গ ঘটে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আরিফ মঈনুদ্দীনের একক কবিতা পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। পঠিত কবিতার ওপর আলোচনা করেন কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ বাসার, কবি ও কথাসাহিত্যিক নুসরাত সুলতানা এবং কবি ওয়াহিদ জামান। আরিফ মঈনুদ্দীনের কবিতা সম্পর্কে নুসরাত সুলতানা বলেন, কবিতা ব্যাখ্যার অতীত এক শিল্পকর্ম। শিশুর প্রথম কান্না যখন মা শুনতে পান সেই আনন্দ যেমন ব্যাখ্যা করা যায় না তেমনি কবিতাও ব্যাখ্যা করা যায় না। কেবল উপলব্ধি করা যায়। কবি আরিফ মঈনুদ্দীন কাব্যজগতে বহু পথ পেরিয়ে এসেছেন। প্রকাশিত হয়েছে ১৮টি কাব্যগ্রন্থ। এই কবির কবিতার শব্দ চয়ন যেমন নান্দনিকতার দাবি রাখে তেমনি তার গভীর উপলব্ধি ও পাঠকের মননকে নাড়া দেয়। কবির কবিতায় দর্শন ভাবনা, মনস্তত্ত্ব এবং জীবনের ভাঁজকে পরতে পরতে খুলে দেখার আকাঙ্ক্ষা আছে।

আরিফ মঈনুদ্দীনের কবিতা সম্পর্কে কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ বাসার বলেন, এ গ্রন্থের কবিতাগুলোতে মিস্টিক চেতনার প্রকাশ ঘটেছে। কবিতাগুলো হৃদয় নয় বরং মেধাশাসিত।

আলোচক কবি ওয়াহিদ জামান বলেন, আরিফ মঈনুদ্দীনের কবিতা সহজ-সরল, কিন্তু গভীর। জীবনের প্রতিটি অনুভবকে ধারণ করার প্রতিশ্রুতি আছে তার কবিতায়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- কবি লুব্ধক মাহবুব, কবি আরিফ মঈনুদ্দীন, কবি রমজান সরকার, কবি সাদমান সজীব, কবি শামস আরেফিন, কবি ও কথাসাহিত্যিক আকেল হায়দার, অনুবাদক মেজবাহ উদ্দিন, কবি, কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক আহমেদ বাসার, কবি জুননু রাইন, পরিবেশবিদ কবি শেখ আহমেদ ফরহাদ, কবি ও প্রবন্ধকার প্রফেসর ড. রকিবুল হাসান, প্রফেসর ড. ডি. এম, ফিরোজ শাহ, নাট্য নির্মাতা মিতুল খান, গবেষক হোসাইন মোহাম্মদ জাকি, কবি আহমেদ বাবু, কবি হাসিবুর রহমান জয়, মো. আরিফুল ইসলাম, কবি মুনযির সাদ, কবি ও ছড়াকার হুসাইন আলমগীর, কবি অঞ্জলী রাণী পূজা, কবি ও সাংবাদিক মাসুদ হাসান, কবি ও সম্পাদক বহ্নি কুসুম, কবি ও কথাসাহিত্যিক সাহিনা মিতা, কথাসাহিত্যিক ফরিদুল ইসলাম নির্জন, ড. সর্দার এ হায়দার, কবি রহিজ আলী সরদার, কবি বোরহান মাসুদ, কবি তৌহিদ আহাম্মেদ লিখন, কবি আহমেদ বাবুল, কবি ফরহাদুর রহমান, সোহাগ হাওলাদার, রাসেল প্রমুখ...।

একজন নাবিকের চোখ, কিছু প্রশ্ন এবং ‘অবাক পৃথিবীর যত রহস্য’

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
একজন নাবিকের চোখ, কিছু প্রশ্ন এবং ‘অবাক পৃথিবীর যত রহস্য’

সময়ের প্রবাহে মানুষ যত বেশি তথ্যের কাছে পৌঁছেছে, ততই যেন হারিয়ে ফেলেছে ভাবনার গভীরতা। জানা আর বোঝার ভিড়ে প্রশ্ন করার অভ্যাসটি ক্রমেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে এক ভিন্নধর্মী চিন্তার দুয়ার খুলে দিতে বাজারে এসেছে নতুন বই ‘অবাক পৃথিবীর যত রহস্য’। যেখানে উত্তর নয়, বরং প্রশ্নই হয়ে উঠেছে মূল আলোচ্য।

বইটি ছাপিয়েছে পরিবার পাবলিকেশনস আর প্রচ্ছদ করেছেন মৌমিতা রহমান। এবারের অমর একুশে বইমেলায় বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বর্তমানে অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে এই গ্রন্থ।

বইটির লেখক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন একজন অভিজ্ঞ নৌ কর্মকর্তা, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। সমুদ্রপথে দীর্ঘ যাত্রা, প্রকৃতির বিশালতা ও মহাবিশ্বের নীরব বিস্ময় তাকে বারবার দাঁড় করিয়েছে কিছু মৌলিক প্রশ্নের সামনে। সেই অভিজ্ঞতা, সেই উপলব্ধি এবং সেই প্রশ্নগুলোকেই তিনি শব্দে রূপ দিয়েছেন এই গ্রন্থে।

লেখকের ভাষায়, এই বই কোনো তর্ক জেতার জন্য নয়, কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠার জন্যও নয় বরং এটি এক ধরনের মানসিক যাত্রা। যেখানে পাঠককে আহ্বান জানানো হয় ভাবতে, প্রশ্ন করতে এবং চারপাশের দৃশ্যমান জগতের আড়ালে থাকা অদৃশ্য রহস্যগুলোকে অনুভব করতে।

বইটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—এখানে সহজভাবে এমন কিছু প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা মানুষের ভাবনাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। কেন প্রকৃতির নিয়ম আছে? কেন মহাবিশ্ব এত শৃঙ্খলাবদ্ধ? সবকিছু কি কেবলই ঘটে গেছে, নাকি কোনো এক অদৃশ্য প্রজ্ঞা তা ঘটিয়েছে? এই প্রশ্নগুলোর কোনো চূড়ান্ত উত্তর বইটি দেয় না। বরং লেখক সচেতনভাবেই উত্তরহীনতার জায়গাটিকে উন্মুক্ত রাখেন। কারণ তার বিশ্বাস, প্রশ্নই মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়, প্রশ্নই মানুষকে নতুন করে ভাবতে শেখায়।

মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের জীবনের অভিজ্ঞতাও কম বিস্ময়কর নয়। ১৯৭২ সালে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জন্ম নেয়া এই নৌ কর্মকর্তা ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। মিসাইল ফ্রিগেট বানৌজা ওসমানসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজের অধিনায়ক হিসেবে তার নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদান ও লেবাননে দায়িত্ব পালন তাকে দিয়েছে বৈশ্বিক বাস্তবতার কাছাকাছি থাকার সুযোগ।

একজন নাবিক হিসেবে তিনি যেমন বিশাল সমুদ্র দেখেছেন, তেমনি একজন গবেষক হিসেবে খুঁজেছেন তার অন্তর্নিহিত অর্থ। মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) থেকে এমবিএ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে এমফিল ও পিএইচডি অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি জ্ঞানচর্চার পথেও নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা ও প্রকল্প পরিচালনার মাধ্যমে তিনি নতুন প্রজন্মকে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

‘অবাক পৃথিবীর যত রহস্য’ তাই শুধু একটি বই নয়, এটি এক ধরনের চিন্তার অনুশীলন। এটি পাঠককে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেয় না, বরং তাকে এমন এক মানসিক অবস্থানে নিয়ে যায়, যেখানে প্রতিটি দৃশ্য, প্রতিটি নিয়ম, প্রতিটি ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন জাগায়।

এই বই যেন এক নীরব দরজা- যা খুললে হয়তো সব উত্তর মিলবে না, কিন্তু নিশ্চিতভাবে বদলে যাবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি। আর সেই পরিবর্তিত দৃষ্টিই হয়তো আমাদের আবার ফিরিয়ে নিয়ে যাবে সেই হারিয়ে যাওয়া অভ্যাসে, ভাবনায়, প্রশ্নে কিংবা বিস্ময়ে।