আহমদ ছফা বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, কবি, ঔপন্যাসিক ও সমাজচিন্তক। সমাজ সংসারে এমন কিছু মানুষ থাকেন, যারা স্বেচ্ছায় জনকল্যাণের প্রয়োজনে সাহিত্য রচনায় ব্রতী হন, আহমদ ছফা ছিলেন তাদের অন্যতম। প্রচলিত জীবনব্যবস্থার প্রতি অনীহ তার সাহিত্যে মানবমুক্তির কথামালা প্রতিধ্বনিত। চলমান রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থার বিপরীতে দাঁড়িয়ে তিনি শোষণ, বঞ্চনা ও মানুষের মর্মবেদনা উপন্যাস, ছোটগল্প ও বিশ্লেষণমূলক রচনায় প্রতিপাদ্য করেছেন। বাংলাদেশে আহমদ ছফা বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাঙালির রাষ্ট্রভাবনা ও মানুষের মুক্তির লড়াই-এ জনসম্পৃক্তির বিষয়টি তার সাহিত্যে প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গ্রন্থ: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাসে (১৩৭১), বাঙালি মুসলমানের মন (১৯৮১), শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য প্রবন্ধ (১৯৮৯), নিকট ও দূরের প্রসঙ্গ (১৯৯৫), সংকটের নানান চেহারা (১৯৯৫), যদ্যপী আমার গুরু (১৯৯৮), বাংলাভাষা: রাজনীতির আলোকে, উপন্যাস: ওঙ্কার (১৯৭৫), একজন আলী কেনানের উত্থানপতন (১৯৮৮), মরণ বিলাস (১৯৮৯), অলাতচক্র, (১৯৯৩), সূর্য তুমি সাথী (১৯৮৭), অর্ধেক নারী, অর্ধেক ঈশ্বরী (১৯৯৬), পুষ্প বৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ (১৯৯৬), গল্পগুচ্ছ: নিহত নক্ষত্র (১৯৬৯), দোলা আমার কনকচাঁপা (১৯৬৮), অনুবাদ, তানিয়া (মূল: পিলিটিভ) (১৯৬৭), ফাউস্ট (১৯৮৬)। এ ছাড়া উপন্যাস সমগ্র, নির্বাচিত প্রবন্ধ, সাক্ষাৎকারভিত্তিকগ্রন্থ, আহমদ ছফার কবিতা (২০০০)।
আহমদ ছফার সাহিত্যে সচেতনতার বহিঃপ্রকাশ প্রকট। সমাজ, রাষ্ট্র, মানুষকে স্পর্শ করে আছে রাজনীতি। তিনি রাজনীতিসচেতন সাহিত্যিক, ১৯৬৭-তে প্রকাশিত ‘সূর্য তুমি সাথী’ উপন্যাসে গ্রাম ও গ্রামের মানুষের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, মানুষের নিরন্তর সংগ্রাম ও সমাজপরিবর্তনকে আমরা প্রত্যক্ষ করি। সাতবাড়িয়া গ্রামের হাসিম গোকুলের ছেলে কাজী বাড়ির মেয়ে জরিনার প্রেমে পড়ে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হয়। গ্রামের মানুষ এ বিষয় নিয়ে নানা সমালোচনায় মত্ত। ক্ষুধা, দরিদ্রতা, বাঁচার লড়াইয়ের সঙ্গে গ্রামীণ জনপদে ধর্মবিশ্বাস যুক্ত হয়। পশ্চাৎপদ মানুষের দিন যাপন ছফা মমতার সঙ্গে বিবৃত করেছেন। অভিমান করে হাকিম গ্রাম ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। গ্রামীণ সমাজ কাঠামোর একটি নিখুঁত বর্ণনা আহমদ ছফা এ উপন্যাসে দিয়েছেন। গ্রাম ঘিরে যাদের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও দিনযাপন তারা কীভাবে খোলস থেকে বেরিয়ে পড়ে, মূল থেকে বিচ্যুত হয়। এসব বিবরণ, ব্যাখ্যা ও পর্যবেক্ষণ তার সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আগ্রাসন; পরবর্তী সময়ে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে যুক্ত হওয়ার পূর্বাপর ঘটনাবলি গাভী বিত্তান্ত, অলতচক্র, একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন পর্বে বিস্তৃত পরিসরে প্রতিস্থাপিত হয়েছে। আহমদ ছফা সুস্থ রাজনৈতিক চিন্তাধারার সঙ্গে বাঙালির দিনযাপনকে যুক্ত করেছেন তার উপন্যাস গল্পের কাহিনির সঙ্গে। ‘ওঙ্কার’ উপন্যাসে জীবনবীক্ষণ, যা আঞ্চলিক ভৌগোলিক অবস্থান থেকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বৃহৎ পরিসরে সম্পর্ক তৈরি করে। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস ‘ওঙ্কার’-এ নারীমুক্তির বার্তা স্পষ্ট। ‘অলাত চক্র’ উপন্যাসে অন্য এক নারী তায়েবা ক্যানসার আক্রান্ত। তার মৃত্যু প্রতীকী ব্যবহার করা হয়েছে।
ষাট দশকে, উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ঘটনা গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ আহমদ ছফা তার উপন্যাসে ধারণ করেছেন। ভোলার তামাপুকুর গ্রামে আলী কেনানের আবির্ভাব। গভর্নরের পিয়ন আলী কেনানের দোর্দণ্ড প্রতাপ। চাকরিচ্যুত হয়ে পীর সেজে ঢাকার মাজারে তার তেলেসমাতি একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন পর্বে বিবৃত। ঊনসত্তর, সত্তর ও পরবর্তী সময়ে পঁচাত্তরের রাজনৈতিক ঘটনার ঘূর্ণি আহমদ ছফা তার উপন্যাসে ধারণ করেছেন।
‘গাভী বিত্তান্ত’ উপন্যাসে ক্ষমতাধর মানুষদের ক্ষমতা প্রয়োগের ছলচাতুরী সুবিধা ভোগের কলাকৌশল উঠে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চপদে আসীন ব্যক্তি, উচ্চশিক্ষিত ও ডিগ্রিধারী মানুষদের চালচলন, ক্ষমতালিপ্সা ও তাদের চারপাশের কাচের দেয়ালে যাদের বসবাস, আহমদ ছফা গভীর মনোযোগের সঙ্গে তাদের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন। ঠিকাদার ঘোরে। মাস্তান ঘোরে। অর্থের লালসায় মত্ত একদল মানুষ কীভাবে নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বন্দি করে ছফা আঙুল দিয়ে তা দেখিয়ে দিয়েছেন। সমাজ ও পরিপার্শ্বের মানুষ তার কাছে ধরা দেয়। সমাজ একদিনে পচনের দিকে যায় না। মানুষের লোভ, রিরংসা কাম ও অর্থলিপ্সুতার কাছে পরাজিত হয় মূল্যবোধ ও মানবতা। আবার মানুষই উদ্ধার করে কল্যাণ ও সুন্দরকে। আহমদ ছফা রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’-এ বুদ্ধিজীবীদের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে যথার্থভাবে। আমাদের সমাজে মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী শ্রেণি সামাজিক জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই বুদ্ধিজীবী শ্রেণি সুবিধা ভোগ করে বেশি, নিজের স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনে সত্য ও মিথ্যা মিশিয়ে যা বলেন, তাতে তাদের মতলববাজি মনোভাবের প্রকাশ ঘটে। ছদ্মনাম ব্যবহার করে তার বিবৃতি দেন, নিবন্ধ রচনা করেন ও ভাষ্য পরিবেশন করেন। নিজেকে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রেখে তারা বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করেন। আবার কখনো কখনো সাধন মানুষদের কাছে নিজেদের অবস্থান অনেক উঁচুতে চিহ্নিত করেন।
আহমদ ছফা প্রচলিত রাজনৈতিক মতবাদে আস্থাশীল ছিলেন না। তার অপছন্দ প্রতিজীবীদের। আহমদ ছফা বুদ্ধিজীবীদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মানসিক চিন্তাধারা সম্পর্কে মতামত তুলে ধরেছেন। মধ্যবিত্তের শ্রেণি চরিত্রে তাদের স্ববিরোধিতার উদাহরণ আমাদের চারপাশে বিস্তর। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিবর্তনে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকার প্রতিভাস লক্ষণীয়। রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির সঙ্গে বুদ্ধিজীবীদের একীভূত হওয়া স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুদ্ধিজীবীরা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। আহমদ ছফা তার প্রবন্ধ গ্রন্থে উল্লেখ করেন:
‘কবি-সাহিত্যিক লেখকেরা গর্ভিণী নারীর মতো। তারা জাতির গড়ে ওঠার, বেড়ে ওঠার, বেঁচে থাকার ভ্রূণ কণা অন্তর্লোকে ধারণ করে থাকেন। জাতীয় জীবনে যা ঘটে গেছে অতীতে, যা বর্তমানে ঘটেছে সব সৃজনশীল অন্তর্লোকে তরঙ্গিত হয়, তারই আলোকে অনেক সময় তারা ভাবের আবেশে সামনের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে বলে- এই হতে যাচ্ছে। এবং এই-ই হবে। কিন্তু বাংলাদেশে তেমন কবি, তেমন সাহিত্যিক, তেমন উপন্যাস লিখিয়ে কিংবা গাল্পিক কি আছেন? নেই আমাদের যে ক’জন নামকরা কবি কিংবা সাহিত্যিক আছেন, তাদের বেশির ভাগের প্রতি মানুষ খুব শ্রদ্ধার মনোভাব পোষণ করে না। বাংলাদেশে আজকের দিনে লেখকেরা-কবিরা সামাজিক দিক দিয়ে বোধ হয় সম্মানহীনজীব। তারা পত্রিকার রবিবাসরীয় সংখ্যার জোগানদার, রেডিও-টেলিভিশনের অঙ্গসজ্জা ও বিকৃত রুচিহীন নীরস পাঠ্যপুস্তক প্রণেতার অধিক কিছু নন।’ (বুদ্ধিবৃত্তিক নতুন বিন্যাস, পৃঃ ২১-২২,
প্রকাশকাল : ১৩৭৯)।
আহমদ ছফা ব্যক্তিগত দুর্বলতা প্রাধান্য দেননি। সাধারণ জনতার কাতারে গিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে জাতীয় নেতৃবৃন্দের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। ইতিহাসের নির্মমতা, প্রাণবন্ত, সরস ও বিশ্লেষণমূলক আলোচনা তিনি নির্মোহভাবে করেছেন। এটা ঠিক বাঙালি যে স্বপ্ন দেখেছিল স্বাধীন দেশে তা পূরণ হয়নি।
আহমদ ছফা নির্দিষ্ট গোষ্ঠী রাজনীতিতে যুক্ত হননি। তার সমাজতান্ত্রিক চিন্তাভাবনা তাকে ঐতিহ্য অন্বেষণ, স্বজাতির বীরত্বগাথা ও মানুষে মানুষে সম্প্রীতির সম্পর্ক নির্মাণে প্রাণিত করেছে। ব্যক্তি বন্দনায় তিনি ব্যস্ত হননি। বরং সমালোচনা ও বিশ্লেষণে মগ্ন তার সত্তা সত্য প্রকাশে উচ্চকিত থেকেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মওলানা ভাসানী, গোটে, রবীন্দ্র, পাকিস্তানের সমাজ ও রাজনীতির বহুতল খুঁড়ে তিনি গবেষণার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন।
বিশ শতকের বাঙালি মুসলমানদের জাগরণের ইতিহাস গৌরবের। রবীন্দ্রভাবনা, দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক, দস্তয়েভস্কি, বার্ট্রান্ড রাসেলের দর্শনের প্রতিক্রিয়া ও সুলতানের চিত্রকলার বিশেষায়িত নানা দিক ‘বাঙালী মুসলমানের মন’ গ্রন্থে আহমদ ছফা তুলে ধরেছেন। পুথিসাহিত্যের বিপুল সম্পদ মুসলমানদের কাছে কীভাবে ধরা দিল তার বিচার-বিশ্লেষণ। ফার্সি-উর্দু চর্চা পলাশীর যুদ্ধের পরের সময়ের জাগরণ নিয়ে তিনি বিস্তর ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’র হোসেন মিয়া কীভাবে তার অস্তিত্ব রক্ষায় সংগ্রামে নিয়োজিত থাকে; বহুবিবাহ-জেলে পল্লিতে অবাধ যাতায়াত আবার সামাজিক প্রতিপত্তি অর্জনের মোহতাকে গ্রাস করে না। হোসেন মিয়া, স্বভাব কবি লালন শাহ, হাছন রাজার মতো হাজার কবির একজনকে আবিষ্কার মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় করেছেন। ছফা এই চরিত্রের ব্যবচ্ছেদে তার বিচার-বিশ্লেষণ বন্দি করেন।
বাঙালি মুসলমানের মনগ্রন্থে নিবন্ধগুলো আহমদ ছফা বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকা ও ছোট কাগজের জন্য রচনা করেছিলেন। গবেষণা নিবন্ধ রচনার ক্ষেত্রেও যে মনোযোগ যে বিচার ও যে বুদ্ধিমত্তার স্ফুরণ ঘটে তার সবটুকুই এ গ্রন্থে উপস্থিত। একুশে ফেব্রুয়ারি বাহাত্তরে যে বিভায় উদ্ভাসিত হয়েছিল, তা নিয়েও ছফা তার সজ্ঞান ব্যাখ্যা-বক্তব্য উদগীরণ করেছেন।
ছফার বক্তব্য: আজ বাংলাদেশের মানুষ, বাংলাভাষী মানুষ বায়ান্নের শহিদদের স্মরণ করছেন। একটি জনযুদ্ধে জয়ের আনন্দ নিয়ে, একটি নতুন সম্ভাবনাময় শোষণমুক্ত সুসভ্য সমাজ সৃজনের দৃঢ় আকাঙ্খা স্পন্দিত অন্তরে-একটি প্রবল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানি ফ্যাসিবাদী সেনাবাহিনীর নির্মম নৃশংস ইতিহাসের নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ডের করুণতম বেদনায় আপুত বাংলাদেশের মানুষ বাংলাভাষী মানুষ-সমগ্র বাঙালি জাতি রাইফেল কামান, মেশিনগান ধরা কড়া পরা হাত, বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার বিসর্জিত প্রাণ শহিদদের অম্লান স্মৃতির প্রতি সম্মাননায় পরস্পর যুক্ত করেছেন (একুশে ফেব্রুয়ারি উনিশশ বাহাত্তর, পৃঃ ৯০)।
আহমদ ছফা অনগ্রসর জাতির অগ্রবর্তীতে কুসংস্কার প্রতিবন্ধক উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি স্বজাতি, স্বধর্ম ও স্বকর্মে বাঙালির আত্মপরিচয়ের নানা দিক তুলে ধরেছেন। সংস্কার, বিশ্বাস ও পশ্চাৎপদ জীবনাচরণ থেকে বেরিয়ে এসে আলোর দিকে অভিযাত্রায় তিনি এ জাতির মনোযোগ অগ্রগণ্য বিবেচনা করেছিলেন। আহমদ ছফা সমাজ ও চারপাশের মানুষের জীবন জিজ্ঞাসায় আন্দোলিত ছিলেন। তিনি মহৎ জীবন দর্শনের অধিকারী ছিলেন। তার লেখায় সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণ ও শুভ্রতার প্রকাশ ঘটেছে। সাহিত্যিক হিসেবে মানুষ হিসেবে আহমদ ছফা নিষ্ঠার সঙ্গে মানবকল্যাণে নিয়োজিত ছিলেন।
কঠিন বাস্তবতার দিকে আমরা এখন এগিয়ে যাচ্ছি। এই বাস্তবতার আঁচ অনুভব করার সময় সবার মনে পড়ে আহমদ ছফার মতো সাহিত্যিক ও অভিভাবকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
আহমদ ছফা ছিলেন নির্ভীক সাহিত্যিক। তার সাহিত্যে সাধারণ মানুষের মুক্তি প্রণোদনা প্রবলভাবে উপস্থিত ছিল। সমাজ রূপান্তর প্রয়াসী ছফা সমাজের অভ্যন্তরের পচন নির্মূল করতে নিরন্তর লিখেছেন। তিনি ছিলেন সমাজচিন্তক ও দার্শনিক লেখক। তার সাহিত্য পাঠ তরুণ প্রজন্মকে জীবন, জগৎ ও মানুষকে জানার সুযোগ করে দেবে। পাঠক তার সামনে উপস্থাপিত কাজটি শনাক্ত করার সুযোগ পাবে তার সাহিত্য কীর্তি থেকে। আহমদ ছফা বাংলা সাহিত্যে অনুসরণীয় একজন সাহিত্যিক। তার সাহিত্যে মানবমুক্তি, জীবন অন্বেষার উপাদান সমৃদ্ধ। তার স্বপ্ন ও আকাঙ্খা বিস্তৃত।
লেখক: প্রাবন্ধিক, গবেষক