ঢাকা ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সাহসী রোডম্যাপ জুয়ার পূর্বাভাস, ভাঙতে পারে সব রেকর্ড কালোটাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে ১২ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল নতুন বাজেট পুঁজিবাজারকে আস্থায় আনতে নানা পদক্ষেপ ১২ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ইস্পাত রক্ষণ প্রাণে আলমিরন ফুটবলের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে রাজনীতি? প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের শিরোপা কার? সব উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি হয় সাফল্যের রেসিপি ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ ১২ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০টি কালজয়ী মন্তব্য স্বাগতিকের চোখে স্বপ্ন, প্যারাগুয়ের চোখে চমক শেষটায় মেসি-রোনালদোর প্রথম দ্বৈরথ দেখা যাবে? নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু আজ আশার প্রদীপ ডেভিড মরক্কো শিবিরে বড় ধাক্কা, নেইমারকে নিয়ে এখনো দোলাচলে ব্রাজিল গোলের চেয়ে লাল কার্ড বেশি, লজ্জার ইতিহাস ৪০ বছর বয়সেও অদম্য জিকো মাঠে উল্লাস, বাইরে মৃত্যু বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ৩ লাল কার্ড, জয়ে শুরু মেক্সিকোর বিশ্বকাপ ফুটবল ও গাজাবাসীর বাস্তবতা কানাডার স্বপ্নযাত্রা নাকি বসনিয়ার চমক? রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হলেন মরিনিও পেনাল্টি শূন্য ম্যারাডোনা কুইনোনসের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে মেক্সিকো ৬০০ ভক্তের যাতায়াত খরচ দেবেন জার্মানির ফুটবলাররা ‘ফিফা বিশ্বের রাজা নয়’ শাকিরার সুরের মূর্ছনায় বিশ্বকাপের বর্ণিল উদ্বোধন
Nagad desktop

জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৪৭ পিএম
আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:০৪ পিএম
জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টােবর) দুপুর ১২টার পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের উপস্থিতিতে কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে তুলে দেয়। সরকারের কাছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে শেষ হল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আট মাসব্যাপী ধারাবাহিক কর্মযজ্ঞ।

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এর খসড়া তুলে ধরা হলো:

যেহেতু সুদীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-শ্রমিক-জনতার সফল গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের প্রকাশ ঘটিয়াছে; এবং 

যেহেতু উক্ত গণ-অভ্যুত্থানের ফলে ৫ আগস্ট ২০২৪ (২১ শ্রাবণ ১৪৩১) তারিখে তৎকালীন কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটে, ৬ আগস্ট ২০২৪ (২২ শ্রাবণ ১৪৩১) তারিখে জাতীয় সংসদ ভাঙ্গিয়া দেওয়া হয় এবং ৮ আগস্ট ২০২৪ (২৪ শ্রাবণ ১৪৩১)  তারিখে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যাহা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকারিতা ও স্বীকৃতি লাভ করিয়াছে; এবং

যেহেতু  রাষ্ট্রীয় সংস্কার সাধনের মাধ্যমে সুশাসন, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা  এবং কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করিবার উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থায় সংস্কারের সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে ৬টি সংস্কার কমিশন গঠন করে এবং উক্ত কমিশনসমূহ স্ব স্ব প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করে; এবং 

যেহেতু উপরিউক্ত প্রতিবেদনগুলিতে অন্তর্ভুক্ত সুপারিশসমূহের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ (২৯ মাঘ ১৪৩২) তারিখে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে; এবং 

যেহেতু জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সহিত আলোচনাক্রমে সংবিধান সংস্কারসহ অন্যান্য সংস্কারের সুপারিশ সংবলিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ প্রণয়ন করে এবং রাজনৈতিক দল ও জোট সম্মিলিতভাবে উক্ত সনদে স্বাক্ষর ও তাহা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে; এবং 

যেহেতু সংবিধান সংস্কার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবসমূহ বাস্তবায়নের জন্য সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী জনগণের অনুমোদন প্রয়োজন এবং তদুদ্দেশ্যে গণভোট অনুষ্ঠান, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও উক্ত পরিষদ কর্তৃক সংবিধান সংস্কার অপরিহার্য; এবং 

যেহেতু উপরে বর্ণিতমতে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন সম্পন্ন করিবার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা একান্ত প্রয়োজন, সেহেতু সরকার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে এই আদেশ জারি করিল:-

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম।- এই আদেশ জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ নামে অভিহিত হইবে, যাহা অতঃপর “এই আদেশ” বলিয়া উল্লেখিত।

২। আদেশের প্রবর্তন ও কার্যকরতা।- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফল হিসাবে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই আদেশ অবিলম্বে সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হইবে, এবং-

(ক)    উক্তরূপে গেজেট প্রকাশের তারিখে ইহার ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ১৩ ও ১৬ অনুচ্ছেদ কার্যকর হইবে; এবং
(খ)     ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৪ ও ১৫ অনুচ্ছেদ গণভোটের ইতিবাচক ফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের তারিখে কার্যকর হইবে।

৩। সংজ্ঞা।- বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কিছু না থাকিলে, এই আদেশে,-

(ক)    “গণভোট” অর্থ এই আদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত গণভোট;
(খ)     “জাতীয় সংসদ” অর্থ সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে গঠিত জাতীয় সংসদ;
(গ)     “জুলাই গণঅভ্যুত্থান” অর্থ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান, যাহার পরিণতিতে ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে, ৬ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সংসদ ভাঙ্গিয়া দেওয়া হয় এবং ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়;
(ঘ)     “জুলাই জাতীয় সনদ” অর্থ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহ এবং উক্ত কমিশন কর্তৃক স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫;
(ঙ)     “নির্বাচন কমিশন” অর্থ সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গঠিত নির্বাচন কমিশন;
(চ)     “নির্বাচিত প্রতিনিধি” অর্থ সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুসারে গঠিত জাতীয় সংসদের সকল সংসদ-সদস্য;
(ছ)     “পরিষদ” অর্থ এই আদেশের ৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদ;
(জ)    “সভাপ্রধান” অর্থ এই আদেশের ১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে পরিষদের সভায় সভাপ্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি;
(ঝ)     “সংবিধান” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান; এবং
(ঞ)    “সংসদ নির্বাচন” অর্থ এই আদেশ জারির অব্যবহিত পরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন।

৪। জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গণভোট।- জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে এই আদেশ এবং ইহার তফসিল-১ এ সন্নিবেশিত জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত অংশ গণভোটে উপস্থাপন করা হইবে।

৫। গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্ন ।- (১) গণভোটে নিম্নরূপ প্রশ্ন উপস্থাপন করা হইবে - 

‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং ইহার তফসিল-১ এ সন্নিবেশিত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?’।

(২) ব্যালটের মাধ্যমে গণভোট অনুষ্ঠিত হইবে এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ব্যালটে প্রত্যেক ভোটার গোপনে ভোটদান করিবেন।

৬। গণভোট অনুষ্ঠান।- এই আদেশ জারির অব্যবহিত পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে যথোপযুক্ত সময়ে অথবা উক্ত নির্বাচনের দিন এই আদেশ অনুসারে গণভোট অনুষ্ঠান করা হইবে।

৭। গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য আইন প্রণয়ন।- গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে যথোপযুক্ত আইন প্রণয়ন করা হইবে।

৮। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও উহার কার্যাবলি।- (১) গণভোটে উপস্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে প্রদত্ত সংখ‌্যাগরিষ্ঠ ভোট ইতিবাচক (হ‌্যাঁ সূচক) হইলে-

(ক)    এই আদেশ জারির অব্যবহিত পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হইবে, যাহা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গাঠনিক ক্ষমতা (Constituent Power) প্রয়োগ করিতে পারিবে;
(খ)    উক্ত নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসাবে এবং এই আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন; 
(গ)    পরিষদ উহার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হইতে ২৭০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে এই আদেশের তফসিল-১ এ বর্ণিত জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করিবে এবং তাহা সম্পন্ন করিবার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হইবে।

(২) পরিষদের কার্যধারায় অংশগ্রহণের সময় নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ পরিষদ-সদস্য হিসাবে অভিহিত হইবেন।
(৩) এই আদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পরিষদ ইহার অধিবেশন আহ্বান ও মুলতবি, সংবিধান সংস্কার বিষয়ক প্রস্তাব উত্থাপনের পদ্ধতি, উক্ত প্রস্তাব বিবেচনা ও গ্রহণ এবং অন‌্য সকল বিষয়ে কার্যপ্রণালি নির্ধারণ করিবে। 
(৪) জাতীয় সংসদ সচিবালয় পরিষদকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করিবে।

৯। শপথ এবং শপথ-পাঠ পরিচালনা।- (১) নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ সংসদ-সদস্য হিসাবে শপথ গ্রহণের পর একই শপথ অনুষ্ঠানে এই আদেশের তফসিল-২ অনুযায়ী পরিষদ-সদস্য হিসাবে শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা (এই অনুচ্ছেদে “শপথ” বলিয়া অভিহিত) করিবেন এবং অনুরূপ শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর দান করিবেন। 
(২) সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের ক্ষেত্রে যিনি শপথ-পাঠ পরিচালনা করিবেন তিনিই এই আদেশের তফসিল-২ এ বিধৃত ফরমে পরিষদ-সদস্যদের শপথ-পাঠ পরিচালনা করিবেন।

১০। পরিষদের সভাপ্রধান, ইত্যাদি।- (১) পরিষদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে পরিষদ-সদস্যগণ ইহার সভাপ্রধান ও উপ-সভাপ্রধান নির্বাচন করিবে; এবং উক্তরূপ নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত পরিষদের বয়োজ্যেষ্ঠ একজন সদস্য বৈঠকে সভাপ্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।   
(২) সভাপ্রধান ও উপ-সভাপ্রধান  উভয়ের অনুপস্থিতিতে পরিষদের কার্যপ্রণালী অনুযায়ী কোন পরিষদ-সদস্য সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করিবেন।

১১। পরিষদের অধিবেশন আহ্বান, কোরাম, ভোটদান, ইত্যাদি।- (১) সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হইবার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যে পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হইবে অনুরূপ পদ্ধতিতে পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হইবে। 
(২) পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ন্যূনতম ৬০ (ষাট) জন পরিষদ-সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হইবে।
(৩) সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিষদের মোট সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে; এবং অন্যান্য বিষয়ে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পরিষদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপ্রধান ভোটদান করিবেন না এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক ভোট প্রদান করিবেন।

১২। পরিষদ ও উহার সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি।- পরিষদের কোনো কার্যধারার বৈধতা এবং পরিষদ-সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি জাতীয় সংসদ ও সংসদ-সদস্যদের অনুরূপ হইবে।

১৩। জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্তকরণ।- জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা অনুসারে সংবিধানে জুলাই জাতীয় সনদ অন্তর্ভুক্ত হইবে। 

১৪। সংবিধান সংস্কার অবিলম্বে কার্যকর করা।- (১) এই আদেশের ৮ অনুচ্ছেদের উপঅনুচ্ছেদ (১)(গ) অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হইবার পর যে সমস্ত সংস্কার অবিলম্বে কার্যকর করা সম্ভব তা অবিলম্বে কার্যকর করা হইবে এবং এক্ষেত্রে সরকার সকল যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(২) এই অনুচ্ছেদের উপঅনুচ্ছেদ (১) এর সাধারণতা ক্ষুণ্ন না করিয়া [without prejudice to the generality of sub-article (1)] এই আদেশের ৮ অনুচ্ছেদের উপঅনুচ্ছেদ (১)(গ) অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হইবার পর ৪৫ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (Proportional Representation-PR) পদ্ধতিতে একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হইবে। 
(৩) এই অনুচ্ছেদের উপঅনুচ্ছেদ (২) অনুসারে গঠিত উচ্চকক্ষের মেয়াদ শপথ গ্রহণের তারিখ হইতে এই আদেশ জারির অব্যবহিত পরে গঠিত নিম্নকক্ষের (জাতীয় সংসদের) মেয়াদের শেষ দিবস পর্যন্ত হইবে। 
(৪) এই আদেশ জারির অব্যবহিত পরে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের সময় উচ্চকক্ষের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের প্রয়োজন হইবে না। 
(৫) এই অনুচ্ছেদের উপঅনুচ্ছেদ (২) অনুসারে উচ্চকক্ষ গঠনের ক্ষেত্রে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্দেশ্যে পরিষদ প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে এবং সরকার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করিতে পারিবে।

১৫। পরিষদ কর্তৃক সংবিধান সংস্কার চূড়ান্তকরণ ও প্রকাশ।- (১) সার্বভৌম জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তির ভিত্তিতে পরিষদ গঠিত বিধায় তৎকর্তৃক গৃহীত সংবিধান সংস্কার চূড়ান্ত হইবে এবং উক্তরূপ সংস্কার বিষয়ে অন্য কোনোভাবে অনুমোদন বা সম্মতির প্রয়োজন হইবে না।
(২) পরিষদ কর্তৃক গৃহীত সংবিধান সংস্কারের পূর্ণাঙ্গ পাঠ এবং উক্তরূপে সংস্কারকৃত সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ পাঠ অনতিবিলম্বে সরকার সরকারি গেজেটে প্রকাশ করিবে।

১৬। সরকার কর্তৃক নির্দেশনা ইত্যাদি জারি।- এই আদেশের বিধানাবলি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করিতে পারিবে।

তফসিল-১
[এই আদেশের ৪, ৫ ও ৮ অনুচ্ছেদ দ্রষ্টব্য]

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এর সংবিধান সংস্কার বিষয়ক প্রস্তাবসমূহ

নং

সনদের ক্রমিক

জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব

১|

1

ভাষা: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্র ভাষা হবে বাংলা। সংবিধানে বাংলাদেশের নাগরিকদের মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহৃত অন্যান্য সকল ভাষাকে দেশের প্রচলিত ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।

২|

2

বাংলাদেশের নাগরিকদের পরিচয়: বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬(২)-এ বর্ণিত ‘বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন’ বিধানটি নিম্নোক্তভাবে প্রতিস্থাপন করা হবে: “বাংলাদেশের নাগরিকগণ ‘বাংলাদেশি’ বলিয়া পরিচিত হইবেন।”

৩।

3

সংবিধান সংশোধন: সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের নিম্নকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে; তবে প্রস্তাবনাসহ সুনির্দিষ্ট কতগুলো অনুচ্ছেদ যথা ৮, ৪৮, ৫৬, ১৪২ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, যা অনুচ্ছেদ ৫৮ক, ২ক পরিচ্ছেদ (৫৮খ, ৫৮গ, ৫৮ঘ ও ৫৮ঙ অনুচ্ছেদ) হিসেবে সংবিধানে যুক্ত হবে, তা সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রয়োজন হবে।

৪।

4

সংবিধান বিলুপ্তি ও স্থগিতকরণ ইত্যাদির অপরাধ: সংবিধান বিষয়ক অপরাধ ও সংবিধান সংশোধনের সীমাবদ্ধতা বিষয়ক বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ক এবং ৭খ বিলুপ্ত করা হবে।

|

5

ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫০(২) সংশোধন করা হবে এবং এ সংশ্লিষ্ট ৫ম ও ৬ষ্ঠ তফসিল সংবিধানে রাখা হবে না।

|

6

জরুরি অবস্থা ঘোষণা: (১) বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪১ক সংশোধনের সময় ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগের’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি হুমকি বা মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হবে। (২) জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরের পরিবর্তে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের বিধান যুক্ত করা হবে। জরুরি অবস্থা ঘোষণা সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা অথবা তার অনুপস্থিতিতে বিরোধীদলীয় উপনেতার উপস্থিতি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। (৩) জরুরি অবস্থাকালীন নাগরিকের দুইটি অধিকার অলঙ্ঘনীয় করার লক্ষ্যে এ মর্মে বিধান করা হবে যে, “অনুচ্ছেদ ৪৭ক-এর বিধান সাপেক্ষে কোনো নাগরিকের (ক) জীবনের অধিকার (Right to life) এবং (খ) বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫-এ বর্ণিত মৌলিক অধিকারসমূহ খর্ব করা যাবে না।”

৭।

7

মূলনীতিসমূহ: সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অংশে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন‌্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি’ উল্লেখ থাকবে।

|

8

সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও মর্যাদা: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, বাংলাদেশ একটি বহু-জাতি-গোষ্ঠী, বহু-ধর্মী, বহু-ভাষী ও বহু-সংস্কৃতির দেশ যেখানে সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।

৯|

9

মৌলিক অধিকারসমূহের তালিকা সম্প্রসারণ: নাগরিকের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, সেগুলোর সুরক্ষা এবং বাস্তবায়নে সাংবিধানিক ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। নাগরিকের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রস্তাবগুলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের রিপোর্টে উল্লেখ করা হবে, যাতে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করেন এবং ভবিষ্যতে জনপ্রতিনিধিরা সাংবিধানিক ব্যবস্থা ও আইনি বিধানাবলি পরিবর্তন করতে পারেন।

১০|

10

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী আইনসভার উভয় কক্ষের (নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ) সদস্যদের গোপন ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(৪)-এ বর্ণিত যোগ্যতাসমূহ এবং রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সময় কোনো ব্যক্তি কোনো রাষ্ট্রীয়, সরকারি বা রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের পদে থাকতে পারবেন না।

১১|

11

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়নের লক্ষ্যে এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(৩)-এর সংশোধনী আনয়ন করা, যাতে কারো পরামর্শ বা সুপারিশ ছাড়াই নিজ এখতিয়ারবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নলিখিত পদে নিয়োগ প্রদান করতে পারেন: (১) জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, (২) তথ্য কমিশনের প্রধান তথ‌্য কমিশনার ও তথ‌্য কমিশনারগণ, (৩) বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, (৪) আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, (৫) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এবং (৬) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ।

১২।

12

রাষ্ট্রপতির অভিশংসন প্রক্রিয়া: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, রাষ্ট্রদ্রোহ, গুরুতর অসদাচরণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যাবে। আইনসভার নিম্নকক্ষে অভিশংসন প্রস্তাবটি দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে পাস করার পর তা উচ্চকক্ষে প্রেরণ এবং উচ্চকক্ষে শুনানির মাধ্যমে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনে অভিশংসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

1৩|

13

রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যেকোনো দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করার এবং যেকোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত মানদণ্ড, নীতি ও পদ্ধতি অনুসরণক্রমে তিনি উক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। সংশ্লিষ্ট আইনে এরূপ বিধান রাখা হবে যে, এরূপ কোনো আবেদন বিবেচনার পূর্বে মামলার বাদী বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবারের সম্মতি গ্রহণ করা হবে।

১৪|

14

প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ: একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে যত মেয়াদ বা যত বারই হোক সর্বোচ্চ ১০ (দশ) বছর থাকতে পারবেন, এজন্য সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদসমূহের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।

১৫।

15

প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধান: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন ব্যক্তি একই সঙ্গে দলীয় প্রধানের পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন না।

১৬।

16

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা:

সংবিধান সংশোধন করে নিম্নরূপ বিধান সংযুক্ত করা হবে—

(১) মেয়াদ অবসানের কারণে অথবা মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার পরবর্তী ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

(২) সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৮খ সংশোধনপূর্বক সংসদের মেয়াদ অবসান হওয়ার ১৫ (পনেরো) দিন পূর্বে এবং মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙ্গে গেলে ভঙ্গ হওয়ার পরবর্তী ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।

(৩) মেয়াদ অবসানের ক্ষেত্রে সংসদের মেয়াদ অবসান হওয়ার ৩০ (ত্রিশ) দিন পূর্বে আইনসভার নিম্নকক্ষের স্পিকারের তত্ত্বাবধানে এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ব্যবস্থাপনায়— (১) প্রধানমন্ত্রী, (২) বিরোধীদলীয় নেতা, (৩) স্পিকার, (৪) ডেপুটি স্পিকার (বিরোধী দলের) এবং (৫) সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধি— (যদি সংসদে আসন সংখ্যার বিবেচনায় একাধিক দল দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের অবস্থানে থাকে তাহলে সেসব দলের মধ্য থেকে নির্বাচনে সর্বোচ্চ পরিমাণে ভোটপ্রাপ্ত দলটিই দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল হিসেবে বিবেচিত হবে) মোট ৫ (পাঁচ) সদস্য সমন্বয়ে একটি ‘নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বাছাই কমিটি’ গঠিত হবে। কমিটির যেকোনো বৈঠক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জাতীয় সংসদের স্পিকার সভাপতিত্ব করবেন।

(৪) কমিটি গঠিত হওয়ার পরবর্তী ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে কমিটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহ, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলসমূহ এবং জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সদস্যদের নিকট হতে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৮গ(৭)-এ বর্ণিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির নাম প্রস্তাবের আহ্বান করবে এবং এক্ষেত্রে প্রতিটি দল ১ (এক) জন এবং একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ১ (এক) জন মাত্র ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করতে পারবেন।

(৫) রাজনৈতিক দলসমূহ এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যগণ পরবর্তী ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে তাদের প্রস্তাবিত নাম দাখিল করবে। কমিটি নিজ উদ‌্যোগেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদের জন‌্য উপযুক্ত ব‌্যক্তির নাম অনুসন্ধান ও অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

(৬) পরবর্তী ৭২ (বাহাত্তর) ঘণ্টার মধ্যে কমিটির সদস্যগণ সভায় মিলিত হয়ে নিজেদের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত এবং রাজনৈতিক দলসমূহ ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের নিকট হতে প্রস্তাবিত নামসমূহ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করত বাংলাদেশের যে সকল নাগরিক সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৮গ(৭)-এর অধীনে উপদেষ্টা হওয়ার যোগ্য তাদের মধ্য হতে একজনকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বেছে নিবেন এবং তিনি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন।

(৭) বাছাই কমিটি গঠিত হওয়ার পরবর্তী ১২০ (একশত কুড়ি) ঘণ্টার মধ্যে এ পদ্ধতিতে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কোনো ব্যক্তিকে চূড়ান্ত করা সম্ভব না হলে পরবর্তী ৪৮ (আটচল্লিশ) ঘণ্টার মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা পদের জন্য অনুচ্ছেদ ৫৮গ-এ বর্ণিত শর্ত অনুসরণপূর্বক সংসদের সরকারি দল/জোট ৫ (পাঁচ) জন উপযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করবে এবং প্রধান বিরোধী দল/জোট ৫ (পাঁচ) জন উপযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করবে। এছাড়া, সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল ২ (দুই) জন উপযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করবে। যদি সংসদে আসন সংখ্যার বিবেচনায় একাধিক দল দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের অবস্থানে থাকে তাহলে সেসব দলের মধ্যে নির্বাচনে সর্বোচ্চ পরিমাণ ভোটপ্রাপ্ত দলটিই দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল হিসেবে বিবেচিত হবে। উপর্যুক্ত প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত নামসমূহ স্পিকার জনসাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশ করবেন।

(৮) উপর্যুক্ত দফা (৭)-এ বর্ণিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরবর্তী ৪৮ (আটচল্লিশ) ঘণ্টার মধ্যে সরকারি দল/জোটের প্রস্তাবিত ৫ (পাঁচ) জন ব্যক্তির নামের তালিকা হতে প্রধান বিরোধী দল/জোট যেকোনো ১ (এক) জনকে বেছে নিবে; অনুরূপভাবে প্রধান বিরোধী দল প্রস্তাবিত ৫ (পাঁচ) জন ব্যক্তির নামের তালিকা হতে সরকারি দল যেকোনো ১ (এক) জনকে বেছে নিবে। দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রস্তাবিত মোট ২ (দুই) জনের নামের তালিকা হতে সরকারি দল/জোট যেকোনো একজনকে বেছে নিবে এবং প্রধান বিরোধী দল/জোট যেকোনো ১ (এক) জনকে বেছে নিবে। এই পদ্ধতিতে প্রাপ্ত নামসমূহের মধ্য হতে যেকোনো একজনের ব্যাপারে যদি প্রস্তাবকারী দলগুলোর মধ‌্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তিনিই পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত হবেন। অথবা কোনো একজনের ব্যাপারে কমিটির ৫ (পাঁচ) জন সদস্যের মধ্যে যদি ৪ (চার) জন সদস্য একমত হন তাহলে তিনিই পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মনোনীত হবেন।

(৯) যদি উপর্যুক্ত পদ্ধতিতে কোনো একজনের বিষয়ে প্রস্তাবকারী পক্ষসমূহ একমত হতে না পারে তাহলে পরবর্তী ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে বিচার বিভাগের দুইজন প্রতিনিধি বাছাই কমিটিতে সদস্য হিসেবে যুক্ত হবেন; তবে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কারও নাম প্রস্তাব করতে পারবেন না। উক্ত দুইজন প্রতিনিধির মধ্যে ১ (এক) জন আপীল বিভাগের বিচারপতি হবেন এবং ১ (এক) জন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হবেন। উক্ত ২ (দুই) জন বিচার বিভাগীয় প্রতিনিধিকে মনোনীত করার জন্য- (১) সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি, (২) কর্মরত প্রধান বিচারপতি এবং (৩) আপীল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি সমন্বয়ে ৩ (তিন) সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠিত হবে।

(১০) এই পর্যায়ে ৭ (সাত) সদস্য বিশিষ্ট উক্ত বাছাই কমিটির সদস্যগণ পরবর্তী ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে স্পিকারের তত্ত্বাবধানে গোপন ব্যালটে ‘র‌্যাংকড চয়েজ’ (Ranked Choice) বা ক্রমভিত্তিক ভোটিং পদ্ধতি প্রয়োগ করে উক্ত সংক্ষিপ্ত তালিকা হতে যেকোনো ১ (এক) জনকে পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বেছে নিবেন।

(১১) উপর্যুক্ত যেকোনো পদ্ধতিতে মনোনীত ব্যক্তিকে পরবর্তী ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পরবর্তী ৯০ (নব্বই) দিনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা পদে নিয়োগদান করবেন; তবে শর্ত থাকে যে, সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় তিনি শপথ গ্রহণ করবেন না।

(১২) উপর্যুক্ত পদ্ধতিসমূহের মাধ্যমেও যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বেছে নেওয়া সম্ভব না হয় তাহলে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অনুসরণ করতে হবে; তবে শর্ত থাকে যে, এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে বেছে নেওয়া যাবে না।

(১৩) কোনো কারণে প্রধান উপদেষ্টার পদ শূন্য হলে রাষ্ট্রপতি অবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য পূর্ববর্তী র‌্যাংকড চয়েজ বা ক্রমভিত্তিক ভোটিং পদ্ধতিতে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বয়সে জ্যেষ্ঠতম ব্যক্তিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে নিয়োগদান করবেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বয়সে জ্যেষ্ঠতম ব্যক্তি দায়িত্ব গ্রহণে অসম্মতি জানালে অথবা দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে র‌্যাংকড চয়েজ বা ক্রমভিত্তিক ভোটিং পদ্ধতিতে পরবর্তী স্থানে থাকা ব্যক্তি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য নিযুক্ত হবেন। এই পদ্ধতিতে প্রধান উপদেষ্টা পদে পরিবর্তন হলেও উপদেষ্টা পরিষদ বহাল থাকবে। তবে উপদেষ্টা পরিষদের কোনো পদ শূন্য হলে নবনিযুক্ত প্রধান উপদেষ্টা সেই শূন্য পদ পূরণের অধিকার রাখবেন।

(১৪) নিয়োগলাভের পর প্রধান উপদেষ্টা উপর্যুক্ত বাছাই কমিটির সঙ্গে পরামর্শক্রমে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৮গ(৭)-এ বর্ণিত উপযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্য হতে অনধিক ১৫ (পনেরো) জন ব্যক্তিকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের জন্য বেছে নিবেন এবং রাষ্ট্রপতি তাদের নিয়োগ প্রদান করবেন।

(১৫) মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙ্গে গেলে, ভঙ্গ হওয়ার পরবর্তী ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ব্যবস্থাপনায় বিলুপ্ত সংসদের একই ধরনের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ‘নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বাছাই কমিটি’ গঠিত হবে এবং উক্ত কমিটি পরবর্তী ১৪ (চৌদ্দ) দিন তথা ৩৩৬ (তিনশত ছত্রিশ) ঘণ্টার মধ্যে উক্তরূপ অভিন্ন পদ্ধতিতে ১ (এক) জন ব্যক্তিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বেছে নিবে এবং তিনি অবিলম্বে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধান উপদেষ্টা নিযুক্ত হবেন।

(১৬) সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৮গ(৭)(ঘ) সংশোধনপূর্বক “বাহাত্তর বৎসরের অধিক বয়স্ক নহেন” শব্দসমূহের পরিবর্তে “পঁচাত্তর বৎসরের অধিক বয়স্ক নহেন” শব্দসমূহ প্রতিস্থাপিত হবে।

(১৭) তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন এবং উপদেষ্টাগণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

(১৮) সংবিধানে বর্ণিত বিধানাবলি সাপেক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব, কর্তব্য, এখতিয়ার ও অবসানের সময়সীমা নির্ধারিত হবে।

(১৯) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ হবে অনধিক ৯০ (নব্বই) দিন। তবে দৈব-দুর্বিপাকজনিত কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার আরও সর্বোচ্চ ৩০ (ত্রিশ) দিন দায়িত্ব পালন করতে পারবে।

(২০) নতুন সংসদ গঠিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী যে তারিখে তার পদের কার্যভার গ্রহণ করবেন সেই তারিখে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত হবে।

(২১) ত্রয়োদশ সংশোধনীর অনুচ্ছেদ ৫৮গ(২)-এর বিধানে উল্লিখিত ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

১৭।

১৭

আইনসভা গঠন: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, বাংলাদেশে একটি দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা থাকবে, যা নিম্নকক্ষ (জাতীয় সংসদ) এবং উচ্চকক্ষ (সিনেট) ‍সমন্বয়ে গঠিত হবে।

১৮।

১৮

উচ্চকক্ষের গঠন: (ক) নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (Proportional Representation-PR) পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের ১০০ (একশত) জন সদস্য নির্বাচিত হবেন।

(খ) উচ্চকক্ষের মেয়াদ হবে শপথ গ্রহণের তারিখ হতে ৫ (পাঁচ) বছর। তবে কোনো কারণে নিম্নকক্ষ ভেঙ্গে গেলে উচ্চকক্ষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে।

(গ) রাজনৈতিক দলগুলো নিম্নকক্ষের সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সময় একই সঙ্গে উচ্চকক্ষের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে। তালিকায় কমপক্ষে ১০ (দশ) শতাংশ নারী প্রার্থী থাকতে হবে।

১৯।

১৯

উচ্চকক্ষের দায়িত্ব ও ভূমিকা: উচ্চকক্ষ নিম্নোক্ত দায়িত্বসমূহ পালন করবে: (ক) নিম্নকক্ষের প্রস্তাবিত আইন প্রণয়নের বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। উচ্চকক্ষের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা থাকবে না; তবে কোনো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন প্রণয়নের জন্য নিম্নকক্ষ বরাবর প্রস্তাব করতে পারবে। নিম্নকক্ষে পাসকৃত অর্থবিল এবং আস্থা ভোট ব্যতীত সকল বিল উচ্চকক্ষে অনুমোদনের জন‌্য উপস্থাপিত হতে হবে। উচ্চকক্ষ কোনো বিল স্থায়ীভাবে আটকে রাখতে পারবে না। উচ্চকক্ষ কোনো বিল সর্বোচ্চ ২ (দুই) মাসের বেশি আটকে রাখলে তা উচ্চকক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত বলে বিবেচিত হবে।

(খ) যদি উচ্চকক্ষ কোনো বিল অনুমোদন করে সেক্ষেত্রে উভয় কক্ষ কর্তৃক পাসকৃত বিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হবে।

(গ) যেক্ষেত্রে উচ্চকক্ষ সংশোধনের সুপারিশসহ বিল পুনর্বিবেচনার জন্য নিম্নকক্ষে পাঠাবে সেক্ষেত্রে নিম্নকক্ষ উচ্চকক্ষের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে।

(ঘ) উচ্চকক্ষ থেকে ফেরত পাঠানো বিল যদি নিম্নকক্ষের অধিবেশনে আবারও পাস হয়, তবে উচ্চকক্ষের অনুমোদন ছাড়াই বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য প্রেরিত হবে।

(ঙ) সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত যেকোনো বিল উচ্চকক্ষের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস করতে হবে।

২০।

২০

উচ্চকক্ষের সদস্যদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, উচ্চকক্ষের সদস্যগণের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নিম্নকক্ষের সদস্যগণের যোগ্যতার অনুরূপ হবে।

২১।

২১

জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব: জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব ক্রমান্বয়ে ১০০ (একশত) আসনে উন্নীত করা হবে।

২২।

২২

জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির পদ্ধতি: (ক) বিদ্যমান সংরক্ষিত ৫০ (পঞ্চাশ) টি আসন বহাল রেখে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫(৩)-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে।

(খ) জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষরের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দল বিদ্যমান ৩০০ (তিনশত) সংসদীয় আসনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫ (পাঁচ) শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিবে, তবে এটি সংবিধানে উল্লেখ করা হবে না।

(গ) পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো ন্যূনতম ১০ (দশ) শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিবে।

(ঘ) এই পদ্ধতিতে রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩৩ (তেত্রিশ) শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনে ন্যূনতম ৫ (পাঁচ) শতাংশ বর্ধিত হারে নারী প্রার্থী মনোনয়ন অব্যাহত রাখবে।

(ঙ) সংবিধানে বর্ণিত জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন অব্যাহত রেখে সংবিধানের সপ্তদশ (১৭তম) সংশোধনী (যা ৮ জুলাই ২০১৮ সালে সংসদে পাশ হয়)-এর মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ ২৫ (পঁচিশ) বছর বৃদ্ধি করা হয়, হিসাব অনুযায়ী তা ২০৪৩ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে; তবে সাধারণ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ৩৩ (তেত্রিশ) শতাংশ নারী প্রার্থিতার লক্ষ্য ২০৪৩ সালের আগেই যদি অর্জিত হয়ে যায়, তাহলে সংবিধানের সপ্তদশ (১৭তম) সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত বিধান নির্ধারিত সময়ের আগেই বাতিল হয়ে যাবে।

২৩।

২৩

ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে মনোনয়ন: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, আইনসভার উভয় কক্ষে একজন করে ডেপুটি স্পিকার সরকারদলীয় সদস্য ব্যতীত অপর সদস্যদের মধ্য হতে মনোনীত করা হবে।

২৪।

২৪

সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতি: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব কমিটি, প্রিভিলেজ কমিটি, অনুমিত হিসাব কমিটি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি পদে বিরোধীদলীয় সদস‌্যগণ দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া, জাতীয় সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে সংসদে আসনের সংখ্যানুপাতে বিরোধী দলের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হবে।

২৫।

২৫

জাতীয় সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোটদান: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭০-এর বিদ্যমান বিধান পরির্বতন করে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, জাতীয় সংসদের সদস্যগণ কেবল অর্থবিল এবং আস্থা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে নিজ দলের প্রতি অনুগত থাকবেন। অন্য যেকোনো বিষয়ে তারা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।

২৬।

২৬

আন্তর্জাতিক চুক্তি আইনসভায় অনুমোদন: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, জাতীয় স্বার্থ বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রভাবিত করে এরূপ আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনের পর আইনসভার উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে অনুমোদন (রেটিফাই) করা হবে।

২৭।

২৭

প্রতি জনশুমারি বা দশ বছর পর পর সীমানা পুনঃনির্ধারণ: প্রতি জনশুমারি বা অনধিক ১০ (দশ) বছর পরে সংসদীয় নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণের জন্য সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৯-এর দফা ১-এর (গ)-এর শেষে বর্ণিত “এবং” শব্দটির পর ‘আইনের দ্বারা নির্ধারিত একটি অস্থায়ী বিশেষায়িত কমিটি গঠনের বিধান’ যুক্ত করা হবে। সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন, ২০২১ (সর্বশেষ ২০২৫ সালে সংশোধিত)-এর ধারা ৮(৩)-এর সঙ্গে যুক্ত করে উক্ত কমিটির গঠন ও কার্যপরিধি নির্ধারণ করা হবে।

২৮।

২৮

আপীল বিভাগ থেকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ:  সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৫-এর বিদ্যমান ব্যবস্থা পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতি আপীল বিভাগের বিচারপতিদের মধ্য থেকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন। 

২৯।

২৯

আপীল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ: (১) আপীল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগদান করবেন। (২) তবে শর্ত থাকে যে, অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের অভিযোগের কারণে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৬-এর অধীন কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকলে তাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা যাবে না।

৩০।

৩০

আপীল বিভাগের বিচারক সংখ্যা: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, “আপীল বিভাগের বিচারক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রধান বিচারপতির চাহিদা মোতাবেক, সময়ে সময়ে, আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক নিয়োগ করা যাবে।”

৩১।

৩১

সুপ্রীম কোর্টের বিচারক নিয়োগ: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, সুপ্রীম কোর্টের বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কমিশন (Judicial Appointment Commission-JAC) গঠন করা হবে।

৩২।

৩২

সুপ্রীম কোর্টের বিচারক নিয়োগ কমিশন সংক্রান্ত বিধান: সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক নিয়োগ কমিশন সংক্রান্ত বিধানকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

৩৩।

৩৩

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করা হবে।

৩৪।

৩৪(ক)

বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ:

সুপ্রীম কোর্টের বিকেন্দ্রীকরণ: রাজধানীতে সুপ্রীম কোর্টের স্থায়ী আসন থাকবে, তবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে প্রধান বিচারপতি, সময়ে সময়ে, যে সার্কিট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করতে পারতেদন তার পরিবর্তে প্রধান বিচারপতি কর্তৃক প্রতিটি বিভাগে এক বা একাধিক স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

৩৫।

৩৫

বিচারকদের পদের মেয়াদ ও তাদের অপসারণ: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৬-এ বর্ণিত সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা ও এর এখতিয়ার বৃদ্ধি করা হবে। 

৩৬।

৩৬

বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ: অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে সুপ্রীম কোর্টের উপর ন্যস্ত করার জন্য সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৬ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধন করা হবে।

৩৭।

৩৭

স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস গঠন: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, সংবিধানের অধীনে সুপ্রীম কোর্ট ও জেলা ইউনিটের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী সরকারি অ্যাটর্নি সার্ভিস গঠন করা হবে।

৩৮।

৩৮

নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ: বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮(১) সংশোধনপূর্বক এরূপ যুক্ত করা হবে যে,

(ক) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্ধারিত সংখ্যক নির্বাচন কমিশনারগণের সমন্বয়ে বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে। নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্দেশ‌্যে নিম্নরূপে গঠিত একটি বাছাই কমিটির মাধ্যমে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করা হবে: (১) জাতীয় সংসদের স্পিকার (যিনি এই বাছাই/Selection কমিটির প্রধান হবেন), (২) ডেপুটি স্পিকার (যিনি বিরোধী দল হতে নির্বাচিত হবেন), (৩) প্রধানমন্ত্রী, (৪) বিরোধী দলের নেতা, এবং (৫) প্রধান বিচারপতির প্রতিনিধি হিসেবে আপীল বিভাগের একজন বিচারপতি। এই বাছাই/Selection কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারগণের নিয়োগ করার উদ্দেশ্যে বিদায়ী নির্বাচন কমিশনের প্রধান ও অন্যান্য কমিশনারগণের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ (নব্বই) দিন পূর্বে সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে (যেখানে নির্বাচন কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা-অযোগ্যতা, প্রার্থী অনুসন্ধানের পদ্ধতি, প্রাধিকার ও কর্মপদ্ধতির উল্লেখ থাকবে) ‘ইচ্ছাপত্র’ ও প্রার্থীর সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি আহ্বান করাসহ কমিটির নিজস্ব উদ্যোগে উপযুক্ত প্রার্থী অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

(খ) অনুসন্ধানে প্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের ‘জীবনবৃত্তান্ত’ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করত সর্বসম্মতিক্রমে তাদের মধ্য হতে ১ (এক) জনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্ধারিত প্রতিটি পদের বিপরীতে ১ (এক) জন করে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরণ করবেন এবং রাষ্ট্রপতি তাদেরকে কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ (পাঁচ) বছরের জন্য নিয়োগদান করবেন।

(গ) স্পিকারের তত্ত্বাবধানে জাতীয় সংসদ সচিবালয় এই কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।

(ঘ) বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর দফা (২), (৩), (৪), (৫) ও (৬) অপরিবর্তিত থাকবে।

(ঙ) অনুচ্ছেদ ১১৮(৫)-এর সাথে এরূপ যুক্ত হবে: ‘এতদ্ব্যতীত জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারগণের জবাবদিহিতার জন্য আইন প্রণয়ন ও আচরণবিধি প্রণয়ন করা হবে।’

৩৯।

৩৯

ন্যায়পাল নিয়োগ:

(ক) সংবিধানের বর্তমান অনুচ্ছেদ ৭৭ সংশোধনপূর্বক ৭৭(১)-এ যুক্ত করা হবে যে, “এই সংবিধানের অধীনে দেশে একজন ন্যায়পাল থাকবেন।”

(খ) সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে—(১) জাতীয় সংসদের স্পিকার (যিনি এই বাছাই কমিটির প্রধান হবেন), (২) ডেপুটি স্পিকার (যিনি বিরোধী দল হতে নির্বাচিত হবেন), (৩) সংসদ নেতা, (৪) বিরোধী দলের নেতা, (৫) দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধি, (৬) রাষ্ট্রপতির একজন প্রতিনিধি (নির্দলীয় ব্যক্তি এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন) এবং (৭) প্রধান বিচারপতির প্রতিনিধি হিসেবে আপীল বিভাগের একজন বিচারপতির সমন্বয়ে একটি বাছাই কমিটি গঠিত হবে। এই কমিটি ন্যায়পাল পদে নিয়োগলাভের উপযুক্ত (সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের দ্বারা যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্ধারিত হবে) এবং এই পদে নিয়োগলাভে আগ্রহী ব্যক্তিবর্গের নিকট হতে আইনের দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ‘ইচ্ছাপত্র’ অথবা তথ্য আহ্বান করাসহ উপযুক্ত প্রার্থীর অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

(গ) অনুসন্ধানে প্রাপ্ত জীবনবৃত্তান্তসমূহ যাচাই-বাছাই করত উক্ত বাছাই কমিটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বাছাইকৃতদের মধ্য হতে একজনকে ন্যায়পাল পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত করবে; অতঃপর রাষ্ট্রপতি তাকে কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ (পাঁচ) বছরের জন্য নিয়োগদান করবেন।

(ঘ) ন্যায়পালের যোগ্যতা-অযোগ্যতা, বয়সসীমা, কর্মের শর্তাবলি ও কর্মপরিধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা, পদত্যাগ ও পুনঃনিয়োগ লাভের সুযোগ/অধিকার ইত্যাদি সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে।

৪০।

৪০

সরকারি কর্ম কমিশনে নিয়োগ: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৩৭ সংশোধন/বিলুপ্তিপূর্বক যুক্ত করা হবে যে,

(ক) সংবিধানের অধীনে ৩ (তিন) টি সরকারি কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং প্রত্যেক কমিশন ১ (এক) জন চেয়ারম্যান ও ৭ (সাত) জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে।

(খ) (১) জাতীয় সংসদের স্পিকার (যিনি এই বাছাই কমিটির প্রধান হবেন), (২) ডেপুটি স্পিকার (যিনি বিরোধী দল হতে নির্বাচিত হবেন), (৩) জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ, (৪) বিরোধী দলের প্রধান হুইপ, (৫) দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধি, (৬) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়/স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, এবং (৭) জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির সমন্বয়ে গঠিত একটি বাছাই কমিটি সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ করার উদ্দেশ্যে বিদায়ী সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যগণের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ (নব্বই) দিন পূর্বে আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন আগ্রহী ব্যক্তিবর্গের নিকট হতে আইনের দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ‘ইচ্ছাপত্র’ ও ‘জীবনবৃত্তান্ত’ আহ্বান করাসহ উপযুক্ত প্রার্থীর অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

(গ) অনুসন্ধানে প্রাপ্ত ব্যক্তিগণের ‘জীবনবৃত্তান্ত’ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করত উক্ত বাছাই কমিটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে মনোনীত করে তাদের মধ্য হতে ১ (এক) জনকে চেয়ারম্যান এবং অনধিক ৭ (সাত) জনকে সদস্য হিসেবে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরণ করবে এবং রাষ্ট্রপতি তাদেরকে কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ (পাঁচ) বছরের জন্য নিয়োগদান করবেন।

(ঘ) বিদায়ী সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম‌্যান ও সদস‌্যগণের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবিলম্বে নতুন সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ কার্যভার গ্রহণ করবেন।

(ঙ) সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের যোগ্যতা-অযোগ্যতা, বয়সসীমা, কর্মের শর্তাবলি ও কর্মপরিধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা, পদত্যাগ ও পুনঃনিয়োগ লাভের সুযোগ/অধিকার ইত্যাদি সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে।

(চ) সুপ্রীম কোর্টের কোনো বিচারক যেরূপ পদ্ধতি ও কারণে অপসারিত হতে পারেন, সেরূপ পদ্ধতি ও কারণ ব্যতীত সরকারি কর্ম কমিশনসমূহের কোনো চেয়ারম্যান বা অন্য কোনো সদস্য অপসারিত হবেন না।

(ছ) “সরকারি কর্ম কমিশন স্বীয় দায়িত্ব/কর্ম পালনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন করতে পারবে” বাক্যসমূহ, শব্দসমূহ ও চিহ্নসমূহ প্রতিস্থাপিত হবে।

৪১।

৪১

মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগ: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৭(১) সংশোধনপূর্বক বিধান করা হবে যে,

(ক) (১) জাতীয় সংসদের বিরোধী দল হতে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার (যিনি এই বাছাই কমিটির প্রধান হবেন), (২) সংসদ উপনেতা, (৩) বিরোধীদলীয় উপনেতা, (৪) জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ, (৫) জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, (৬) জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং (৭) জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির সমন্বয়ে একটি বাছাই কমিটি মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক পদে নিয়োগের উদ্দেশ্যে বিদায়ী মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ (নব্বই) দিন পূর্বে আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন আগ্রহী ব্যক্তিবর্গের নিকট হতে আইনের দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ‘ইচ্ছাপত্র’ ও ‘জীবনবৃত্তান্ত’ আহ্বান করাসহ উপযুক্ত প্রার্থীর অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

(খ) অনুসন্ধানে প্রাপ্ত প্রার্থীদের ‘জীবনবৃত্তান্ত’ যাচাই-বাছাই করত উক্ত বাছাই কমিটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে বাছাই করে তাদের মধ্য হতে ১ (এক) জনকে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক পদে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট প্রস্তাব প্রেরণ করবে এবং রাষ্ট্রপতি তাকে কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ (পাঁচ) বছরের জন্য নিয়োগদান করবেন।

(গ) বিদায়ী মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবিলম্বে নবনিযুক্ত মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যভার গ্রহণ করবেন।

(ঘ) মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক পদে নিয়োগ লাভের যোগ্যতা-অযোগ্যতা, বয়সসীমা, কর্মের শর্তাবলি ও কর্মপরিধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা, পদত্যাগ ও পুনঃনিয়োগ লাভের সুযোগ/অধিকার ইত্যাদি সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে।

(ঙ) সুপ্রীম কোর্টের কোনো বিচারক যেরূপ পদ্ধতি ও কারণে অপসারিত হতে পারেন, সেরূপ পদ্ধতি ও কারণ ব্যতীত মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক অপসারিত হবেন না।

(চ) “মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক তার দফতরের দায়িত্ব/কর্ম পালনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন করতে পারবেন” বাক্যসমূহ, শব্দসমূহ ও চিহ্নসমূহ প্রতিস্থাপিত হবে।

৪২।

৪২

দুর্নীতি দমন কমিশনে নিয়োগ:

যেহেতু বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, সেহেতু সেটিকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে সংবিধানে নিম্নরূপ একটি নতুন অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হবে:

“(১) দেশে একটি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন থাকবে এবং এই কমিশনের নিয়োগ ও কার্যক্রম পর্যালোচনার লক্ষ্যে নিম্নোক্তভাবে একটি ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠন করা হবে:

(ক) প্রধান বিচারপতি ব্যতীত, আপীল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি (যিনি এই বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটির চেয়ারম্যান হবেন), (খ) সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি, (গ) মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, (ঘ) সরকারি কর্ম কমিশন (সাধারণ)-এর চেয়ারম্যান, (ঙ) জাতীয় সংসদের সংসদ নেতা কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি, (চ) জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি, এবং (ছ) প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত একজন নাগরিক প্রতিনিধি (যিনি দুর্নীতিবিরোধী ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার কাজে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন)। উক্ত বাছাই কমিটি দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কমিশনারগণের নিয়োগের উদ্দেশ্যে আগ্রহী ব্যক্তিবর্গের নিকট হতে আইনের দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ‘ইচ্ছাপত্র’ ও ‘জীবনবৃত্তান্ত’ আহ্বান করাসহ উপযুক্ত প্রার্থীদের জন্য অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এই কমিটি আইনের দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে—(ক) দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনাগণের নিয়োগের সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে নাম বাছাই করে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরণ এবং (খ) নিয়মিতভাবে দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রম পর্যালোচনা করবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কমিশনারসহ ৫ (পাঁচ) জনের মধ্যে কমপক্ষে একজন নারী হবেন।

(২) উক্ত কমিটি উপযুক্ত প্রার্থীদের আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করত তাদের মধ্য হতে ১ (এক) জনকে চেয়ারম্যান এবং অনধিক ৪ (চার) জনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট প্রস্তাব প্রেরণ করবে এবং রাষ্ট্রপতি তাদেরকে কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী চার (৪) বছরের জন্য নিয়োগদান করবেন।

(৩) সুপ্রীম কোর্টের কোনো বিচারক যেরূপ পদ্ধতি ও কারণে অপসারিত হতে পারেন, সেরূপ পদ্ধতি ও কারণ ব্যতীত দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বা অন্য কোনো কমিশনার অপসারিত হবেন না।

(৪) দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে বাছাই প্রক্রিয়া, নিয়োগলাভের যোগ্যতা-অযোগ্যতা, বয়সসীমা, কর্মের শর্তাবলি ও কর্মপরিধি, কার্যক্রম পর্যালোচনা, স্বচ্ছতা জবাবদিহিতার ব্যবস্থা, পদত্যাগ ও পুনঃনিয়োগ লাভের সুযোগ/অধিকার ইত্যাদি সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে।

(৫) দুর্নীতি দমন কমিশন স্বীয় দপ্তরের দায়িত্ব/কর্ম পালনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।”

৪৩।

৪৩

সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সংবিধান সংশোধন: বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২০(২) নিম্নরূপে প্রতিস্থাপন করা হবে: রাষ্ট্র এমন অবস্থা সৃষ্টি করবে, যেখানে সাধারণ নীতি হিসেবে কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবেন না এবং অনুপার্জিত আয় ভোগ করতে সমর্থ হবেন না এবং যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক ও কায়িক, সকল প্রকার শ্রম সৃষ্টিধর্মী প্রয়াসের ও মানবিক ব্যক্তিত্বের পূর্ণতর অভিব্যক্তিতে পরিণত হবে।

৪৪।

৪৪

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচন: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

৪৫।

৪৫

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং আইন দ্বারা নির্ধারিত সকল কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ কার্যকরী স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা হবে। জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কর্মসূচির অংশ না হলে স্থানীয় পর্যায়ে সকল উন্নয়নমূলক কাজের উপর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ আর্থিক নিয়ন্ত্রণ এবং বাস্তবায়নের কর্তৃত্ব থাকবে।

৪৬।

৪৬

সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের অধীনে ন্যস্ত করা: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, প্রজাতন্ত্রের যে সকল কর্মকর্তা/কর্মচারী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাজে সরাসরি নিয়োজিত তারা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিদের অধীন হবেন এবং যে সকল সরকারি বিভাগ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের এখতিয়ারভুক্ত উন্নয়নপ্রকল্প বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত, তারা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনায় কাজ করবেন।

৪৭।

৪৭

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল সংগ্রহ: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান স্থানীয়ভাবে নিজস্ব তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে। তবে প্রাক্কলিত তহবিল যদি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বাজেটের চেয়ে কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে সেই বাজেট আইনসভার উচ্চকক্ষে পাঠাতে হবে।

৪৮।

৪৮

সংসদ, সংসদের কমিটি এবং সদস্যদের অধিকার, অধিকারের সীমা ও দায় সম্পর্কিত আইন প্রণয়ন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭৮(৫) সংশোধন সাপেক্ষে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সংসদের কমিটিসমূহ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার, অধিকারের সীমা এবং দায় নির্ধারণ করা হবে।


তফসিল-২
[এই আদেশের ৯ অনুচ্ছেদ দ্রষ্টব্য]
সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যদের শপথ ফরম

সংসদ নির্বাচনে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে যিনি শপথ পাঠ পরিচালনা করিবেন তিনিই পরিষদ-সদস্যদের নিম্নরূপ শপথ (ঘোষনা পাঠ) পরিচালনা করিবেন: 

“আমি,...................................................................., সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসাবে  স্বশ্রদ্ধচিত্তে শপথ (বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা) করিতেছি যে, আমি যে কর্তব্যভার গ্রহণ করিতে যাইতেছি, তাহা আইন-অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব; আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব; এবং পরিষদ-সদস্য রূপে আমার কর্তব্য পালনকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হইতে দিব না।”

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সাহসী রোডম্যাপ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সাহসী রোডম্যাপ
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

দেশে সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বাড়ছে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব। বিনিয়োগ বাড়ছে না, কর্মসংস্থান নেই। ব্যবসায়ে খরচ বেশি। খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় কষ্টে আছেন সাধারণ মানুষ। ব্যাংক খাতে অস্থিরতা, জ্বালানির বাড়তি দাম–এমন হাজারও সংকটে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ছক কষেছেন। এসব ছক বাস্তবায়ন করতে বাজেটের আয়, ব্যয়, ঘাটতিসহ প্রায় সব হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঙ্ক প্রাক্কলন করেছেন। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠনের মূল চালিকাশক্তি অর্থাৎ অর্থনৈতিক ইঞ্জিন দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ক্রমেই দুর্বল হতে হতে একেবারে ধ্বংস হয়েছে। আমরা সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেই নতুন যাত্রার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চেয়েছি। এবারের বাজেটে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সর্বোপরি ন্যায্যতাকে মূল বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করেছি, সামষ্টিক কৌশল নির্ধারণ করেছি। এই পরিকল্পনা ও কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষকে প্ল্যান বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। নির্বাচিত সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। প্রায় দুই দশক পর বাজেট দিয়ে আবারও যাত্রা শুরু করেছে বিএনপি সরকার। 

তলিয়ে যাওয়া অর্থনীতি ভাসিয়ে তুলতে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যয়ের বাজেট ঘোষণা করেছেন। অর্থায়নে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বড় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবারে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে বাজেট দিয়ে বাস্তবায়নের সূত্র আঁকতে গিয়ে অর্থ জোগাড়ে অনেক খাতে নতুন কর আরোপ করেছেন। রাজস্ব-জাল বিছিয়ে আটকে ফেলার চেষ্টা করেছেন। 

অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রস্তাবিত বাজেটকে উচ্চাভিলাষী ও অবাস্তব হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, দীর্ঘ মেয়াদে সুফল মিললেও আগামী অর্থবছরে হিসাব মিলবে না অনেক খাতে। আর এতে পুরো অর্থনীতির ঝুঁকি বাড়বে, দ্রব্যমূল্য বাড়বে। জীবনযাত্রার ব্য়য় জোগাড় করা আরও কষ্টকর হয়ে যাবে। 

অর্থনীতিবিদরা প্রশ্ন তুলে বলেছেন, অর্থমন্ত্রী সংকটেও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে স্বপ্ন দেখেছেন, বাজেটে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। হিসাব মিলবে তো!
তবে অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ‘আমাদের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ–অর্থনীতির পুনরুদ্ধার কার্যক্রম, যা এক বছর মেয়াদি। দ্বিতীয় ধাপ–অর্থনীতির উত্তরণ, যা বর্তমান সরকারের এক থেকে তিন বছর মেয়াদের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তৃতীয় ধাপ–সমৃদ্ধ অর্থনীতি বিনির্মাণ, যা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।’

অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছ থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, এনবিআরবহির্ভূত কর ২৫ হাজার কোটি টাকা, কর ব্যতীত প্রাপ্তি ৬৬ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। 

চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রস্তাবিত বাজেটে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে আয়, মুনাফা ও মূলধনের ওপর কর ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক ৮২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, আমদানি শুল্ক ৬১ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক ৯৯ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক ৭ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর ৩ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোয় হাজারের বেশি পণ্যের দাম ও সব খাতে খরচ বাড়বে। দেশে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। প্রস্তাবিত বাজেটে ১৫০ সিসির ওপরে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীকে অবশ্যই ই-টিআইএন নিতে হবে। আবার সাধারণ মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবেও ই-টিআইএন জমা দিতে হবে। সরকারের আয় বাড়াতে গিয়ে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার (ধারণক্ষমতা ৫ হাজার লিটারের নিচে), আমদানি করা মোটরগাড়ি, সাইকেল ও ওয়াশিং মেশিনের ওপরও কর বাড়ানো হয়েছে। স্মার্ট ঘড়ি, সোনার বার, মধু, আমদানীকৃত ইট, ব্লক, টাইলস ও সিরামিক, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রিচার্জেবল ও রিমোট কন্ট্রোল ব্যাটারিসহ হাজারের বেশি পণ্যের ওপর কর বসানো হয়েছে। এসব পণ্যের দাম বাড়বে। 

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেন, অর্থমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেছেন। আগামী পাঁচ অর্থবছর পর্যন্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অনেক রকম পরিকল্পনার কথা বলেছেন। কিন্তু বড় ব্যবসায়ী, বড় প্রতিষ্ঠান ও বড় জায়গা থেকে আয়ের ক্ষেত্রে কঠোরতা আনেননি। 

তিনি আরও বলেন, অনেকে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে জীবন চালান। এই মানুষটিকে কেন করজালে আনা হলো। আবার গ্রামের একজন সাধারণ মানুষকেও ১ জুলাই থেকে ব্যাংক হিসাব খুলতে হলে ই-টিআইএন নিতে হবে। এটা ওই সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য হয়রানির হবে। অর্থমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘ মেয়াদে সুফল পাওয়া গেলেও আগামী অর্থবছরে সাধারণ মানুষকে হয়রানিতে ফেলবে। সরকারের আয় বাড়াতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী ছাড় দিলেও ছেড়ে দিলেন না। সাধারণ মানুষকে সন্তুষ্টির চেষ্টা করেও অনেক কিছুর দাম বাড়িয়ে ফেলেছেন। বলা যায়, অনেকটা বাধ্য হয়েই সরকারকে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াতে হয়েছে। 

নানা রকম সংকটেও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে অর্থমন্ত্রী বেশ কিছু পণ্যের দাম কমিয়েছেন। এর মধ্যে মোবাইল সিম, দেশীয়ভাবে তৈরি মোবাইল সেট, ক্যানসারের ওষুধও আছে। কিডনি ডায়ালাইসিসের খরচ কমানো হয়েছে। আমদানি করা কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ শতাধিক পণ্যের দাম কমানো হয়েছে। অপ্রদর্শিত অর্থ বিশেষ খাতে বিনিয়োগের শর্ত দেওয়া হয়েছে। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যাংক খাতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। রেল ও মেট্রোতে সিনিয়র নাগরিকদের (৬৫ বছর) টিকিটে ছাড় দেওয়া হয়েছে। 

সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যেও নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে প্রান্তিক মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টানাপোড়েনের অর্থনীতিতেও ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে প্রণোদনা, রাজস্ব ছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার হিসাব কষেছেন। অর্থমন্ত্রী শিল্পের অনেক খাতে উৎসে কর কমিয়েছেন। গত ১৬ মাসের মধ্যে মে মাসে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ছিল। প্রস্তাবিত বাজেটে ৬০ ধরনের নিত্যপণ্যের ওপর থেকে উৎসে কর কমানো হয়েছে। 

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঙ্কের বাজেট দিয়েছেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। 

বাজেটে অর্থমন্ত্রী রাজস্ব ও অনুদান ধরেছেন ৭ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা এবং বিদেশি অনুদান ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরেছেন ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ সুদ ১ লাখ ৫ হাজার কোটি ও বৈদেশিক সুদ ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ৩ লাখ কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে (অনুদান বাদে) ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণ ১ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণ ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। 
ব্যাংকবহির্ভূত ঋণ ১৫ হাজার কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা ৬৮ হাজার ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। 
সরকারের প্রথম বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা শতাংশের হিসাবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল। নতুন সরকার উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নযোগ্য না বলেই মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে বরাবরের মতো আগামীতেও বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ খাতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। কেননা টানা কয়েক বছর ধরে দেশের মূল্যস্ফীতি প্রায় দুই অঙ্কের কাছাকাছি বিরাজ করছে। যেখানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে দেশের বাজারে রেকর্ড পরিমাণ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়াও চলমান।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য ছিল। সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। আগামী অর্থবছর উচ্চসুদের সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া কমাবে সরকার। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাত থেকে ২১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।
 
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ব্যয় ও বরাদ্দ বাড়িয়ে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটে বর্তমান অর্থনীতির সংকট নিরসনের চেষ্টা করেছেন। জনতুষ্টির জন্য অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। বাজেট নিয়ে অনেকে বাহবা দিলেও বাজেট অবাস্তব ও উচ্চাভিলাষী।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, বাজেটে অনেক নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। সরকারপ্রধান এসব বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছেন। এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হলে অর্থ লাগবে। আর তাই সরকারকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে হয়েছে।
 
টানাপোড়েনের বাজেটে অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, ‘ব্লু ইকোনমি’, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির মতো খাতে একাধিক বিশেষ তহবিল ও বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা তহবিলের জন্য সর্বোচ্চ ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। খাদ্য সরবরাহ বাড়াতে এবং কৃষি খাতেও গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। নতুন পদক্ষেপ হিসেবে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। আগামী অর্থবছরে ভর্তুকি বাড়িয়ে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান বিবেচনায় বেতন কাঠামোতে বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্থানীয় ও বৈদেশিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য চার মাস মেয়াদি ‘জেনারেল কেয়ারগিভার’ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বন্ধ কলকারখানা চালু করতে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 

বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা, আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সহজতর করার লক্ষ্যে রাজশাহী, কক্সবাজার, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে উন্নীত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। বাজেটে বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন তহবিলের আওতায় অবসর গ্রহণের সময় মোট সঞ্চিত অর্থের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি বা আনুতোষিক হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
 
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন খবরের কাগজকে বলেন, বরাদ্দ ও গুরুত্ব বাড়ালেও বাজেটে বাস্তবায়নে কঠোরতা আনা হয়নি। অতীতে বরাদ্দ করা অর্থ ফেরত গিয়েছে, খরচ হয়নি¬–এমন নজির আছে।

বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের আয়োজনে আনস্ক্রিপ্টেড ১.০

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:৫০ পিএম
বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের আয়োজনে আনস্ক্রিপ্টেড ১.০
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাব (এমসিসি) সফলভাবে আয়োজন করেছে তাদের উদ্বোধনী প্যানেল ডিসকাশন ইভেন্ট “আনস্ক্রিপ্টেড ১.০”।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিইউপির স্বাধীনতা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন সকাল ১১টায় শুরু হয়ে বিকেল প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে শেষ হয়।

বাংলাদেশের মিডিয়া ও বিনোদন জগতের চার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে একত্রিত করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সৃজনশীলতা, স্থিতিস্থাপকতা এবং জনসম্মুখে কাজ করার বাস্তবতা নিয়ে খোলামেলা ও অকপট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

“একজন ক্রিয়েটরের মনে কী চলে?”—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে ‘আনস্ক্রিপ্টেড ১.০’ এমন একটি পরিসর তৈরি করে, যেখানে সাফল্যের বাহ্যিক গল্পের বাইরে গিয়ে সৃজনশীল প্রক্রিয়া, প্রভাব এবং পাবলিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করার দায়িত্ব নিয়ে নির্ভার আলাপের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে এমসিসির সাধারণ সম্পাদক শানজিন সাইমা শারিতা এ ভাবনার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। এছাড়া ক্লাবের সভাপতি নিগার ইসরাত এবং অনুষদ মডারেটর প্রভাষক ইসরাত জাহান ঐশী বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাইমা ফেরদৌস কথা ও সায়রা নূর। প্যানেল আলোচনা পরিচালনা করেন মুস্তাক শাহরিয়ার শুভ ও তানজিমা নুসরাত চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বিইউপির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদ হাসান তারিক, পিপিএম, পিপিএমএস, পিএসসি। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্যানেলিস্টদের স্বাগত জানান এবং এমসিসি পরিবারের সম্মিলিত উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

এ আয়োজনে অংশ নেন—

যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক ও সংবাদ উপস্থাপক আহমেদ রেজা
ট্রাভেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ‘অপূর্ব শাহ’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মেহেদী হাসান অপূর্ব
জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল সাবিলা নূর
চ্যানেল আইয়ের ব্রডকাস্টার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব দীপ্তি চৌধুরী

আলোচনার উল্লেখযোগ্য দিক

আলোচনায় উঠে আসে বর্তমান সময়ে মিডিয়া জগতে প্রবেশের চ্যালেঞ্জ, অনলাইন সমালোচনা মোকাবিলা, দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং ক্যামেরার সামনে ও পেছনের ব্যক্তিত্বের পার্থক্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

দীপ্তি চৌধুরী জীবনের অনিশ্চয়তা মোকাবিলা প্রসঙ্গে বলেন, ভাগ্য সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু সেই সুযোগ ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায় ও মানসিক দৃঢ়তা।

মেহেদী হাসান অপূর্ব তরুণ ক্রিয়েটরদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান মিডিয়া পরিবেশে নিজের স্বকীয়তা ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি শিক্ষাজীবনে ভুল করতে ভয় না পেয়ে শেখার মানসিকতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। নিজের যাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি শুধু প্রক্রিয়াটা উপভোগ করার চেষ্টা করছি।”

আহমেদ রেজা আত্ম-অনুসন্ধানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, প্রত্যেকের উচিত নিজের দক্ষতা ও আগ্রহের ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করা। তিনি জানান, নিজের কথা বলার দক্ষতাকে চিনতে পেরে বিতর্কচর্চার মাধ্যমে তা বিকশিত করেছেন।

সাবিলা নূর উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জীবনে কখনো কখনো সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তিনি তরুণদের নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

সমাপনী পর্ব

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদ হাসান তারিক প্যানেলিস্টদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন। পরে অনুষ্ঠিত হয় একটি সম্মিলিত ফটোসেশন।

‘আনস্ক্রিপ্টেড ১.০’ ছিল এমসিসির প্রথম বড় প্যানেল ইভেন্ট। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জ্ঞানভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাব (এমসিসি) সম্পর্কে

বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাব (এমসিসি) হলো বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধীন পরিচালিত একটি শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন সংগঠন। ক্লাবটি একাডেমিক শিক্ষা ও দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল এবং মূলধারার মিডিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রকাশ, পেশাগত বিকাশ এবং শিল্প-সংযোগের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করে।

এসএন/

দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত
ছবি: সংগৃহীত

দেশে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইউরোপীয় মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল সিলেটের করিমগঞ্জ সীমান্তবর্তী ভারতের শিলচরে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫। এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।

সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকার কিছু কিছু জায়গা থেকে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে রোববার (৭ জুন) রাত ১১টা ৩৭ মিনিটের দিকে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূকম্পনে কাঁপে সারা দেশ। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র স্থল ছিল ভুটানে।

এসএন/

চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রতিক্রিয়া সরকারের এই বাজেট ঐতিহাসিক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
সরকারের এই বাজেট ঐতিহাসিক
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের মূল্যস্ফীতি কমানো, খাদ্য নিরাপত্তা ও সাপ্লইচেইন ইকোসিস্টেম বজায় রেখে ব্যবসাবান্ধব এবং জনতুষ্টিমূলক বাজেট প্রদান করায় চেম্বারের নেতৃবৃন্দ ধন্যবাদ জানান। জনগণের উপর ভ্যাট ও করের চাপ কমিয়ে করজাল বাড়ানো এবং দেশি-বিদেশী উৎস থেকে অর্থ সংস্থানকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের এই বাজেটকে ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করেন চেম্বার নেতারা।  

বাজেটে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন ও দেশি-বিদেশী বিনিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা নিঃসন্দেহে চট্টগ্রামে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়ন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দুরত্ব ৮০ কি.মি. কমানোর সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিল্প কারখানায় নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে আবাসনসহ সকল ধরণের ইউটিলিটি সেবা বাড়ানোর মাধ্যমে বিনিয়োগ উপযোগী করার আহবান জানান নেতারা। 

বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় বৈদেশিক ঋণের চেয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস গুরুত্ব দেয়াকে দেশীয় সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। বাজেটে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে মানবসম্পদ উন্নয়ন তথা শিক্ষা খাতকে।  

ব্যক্তি করদাতাদের টার্নওভার করের আওতামুক্ত সীমা ৩ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি এবং ব্যাংক স্থিতির ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক অব্যাহতির সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে, এতে সাধারণ মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখতে উৎসাহী হবে। এছাড়া বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনির উপকারভোগীদের ভাতার হার বৃদ্ধির পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য ফ্যামিলি কার্ড জনপ্রতি ২৫০০ টাকা, প্রতিবন্ধী ভাতা, পর্যায়ক্রমে সকল কৃষককে কার্ড প্রদান এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, তরুণ উদ্যোক্তাদের জামানত ছাড়া ১০ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা, বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় গমনেচ্ছুদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদান যুগান্তকারী পদক্ষেপ। 

বাজেটে কর্পোরেট কর ব্যবস্থা সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করায় অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ও ব্যবসার অনুমোদনযোগ্য খরচ বাড়ানো এবং কর্পোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখা ইতিবাচক। পাবলিক ট্রেডেড কোম্পানীর করহার শর্তসাপেক্ষে ২২.৫%, পাবলিকলি ট্রেডেড ব্যাংক, বীমা ও  ফাইন্যান্স কোম্পানীর ক্ষেত্রে ৩৭.৫%, পাবলিকলি ট্রেডেড নয় কোম্পানীর ক্ষেত্রে ৪০%, মোবাইল অপারেটর কোম্পানীর জন্য ৪৫%, বাংলাদেশী অনিবাসী করদাতাদর জন্য ৩০%, ট্রাস্ট ফার্ম ও ব্যক্তিসংগ প্রতিষ্ঠানের জন্য ২৭.৫%, সমবায় সমিতি ২০%, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০% করহার নির্ধারণ করা হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের করহার ১০% করায় উদ্যোক্তারা শিক্ষা খাতে আগ্রহী হবে। 

এছাড়া আমদানিকৃত ১১৩টি পণ্যের রেগুলার ডিউটি প্রত্যাহার, ৯টি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং ৬৯টি পণ্যের কাস্টমস ডিউটি ২৫% থেকে ১৫% নির্ধারণ, শিশু খাদ্য প্রস্তুতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কহ্রাস, সকল মসলা আমদানিতে রেগুলেটরী শুল্ক ও খেজুর আমদানিতে রেগুলেটরী শুল্ক ৫% প্রত্যাহার, পোল্ট্রি, ডেইরী ও মৎস্য খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামালে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করায় মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করেন নেতারা। 

বাজেটে জ্বালানী সক্ষমতা বাড়াতে এবং সৌর বিদ্যুৎকে উৎসাহিত করতে সোলার প্যানেল, লিথিয়াম ব্যাটারীসহ আমদানিকৃত সোলার যন্ত্রপাতিতে রেয়াতি সুবিধা দেয়ায় জ্বালানী সক্ষমতা বাড়বে এবং সেমি কন্ডাক্টর শিল্পে রেয়াতি সুবিধা প্রদান এবং ইলেক্ট্রিক ভেহিকেল (ইভি) আমদানিতে অগ্রিম আয়করের পরিমাণ কমানোর ফলে একদিকে যেমন জ্বালানীর উপর চাপ কমবে, তেমনি সৌর বিদ্যুৎ শিল্প এবং সেমি কন্ডাক্টর শিল্পে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে। ক্যান্সার ঔষধ উৎপাদনে কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদানে ক্যান্সার প্রতিরোধক ঔষধ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ৫% অগ্রিম কর মওকুফ করায় সাধারণ রোগীরা স্বস্তি পাবেন। 

সরকার আইটি সেক্টরকে উৎসাহিত করতে এবং ফ্রিল্যান্সাররা তাদের আয় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে আনার জন্য কর অব্যাহতি সুবিধা, কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে আয়কে করমুক্ত করা, স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য করা, এসএমই উদ্যোক্তাদের টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত সীমা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে যেকোন উৎপাদানমুখী শিল্প পর্যটন বা ক্রীড়া ক্ষেত্রে স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি বিনিয়োগের উপর ১ম বর্ষে ৬০%, ২য় বর্ষে ৪০% হারে ত্বরান্বিত অবচয় সুবিধা প্রদান করায় দেশে তরুণ প্রজন্ম, নারী এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন স্থানে শিল্প কারখানা বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে। 

দেশের প্রধান চট্টগ্রাম বন্দরকে গতিশীল করতে এবং পণ্যজট শূন্য করতে অফডক ও আইসিডি খাত, লজিস্টিক্স, বেসরকারি বন্দর ও টার্মিনাল অপারেটর বিষয়ক বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও সংশোধন করার মাধ্যমে চট্টগ্রামে বন্দরকেন্দ্রিক দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে।  

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এণ্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, আমাদের সাধ আছে, সাধ্য কম। তারমধ্যেও যে বাজেট হয়েছে সেটা সন্তোষজনক। বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। আমার মনে হয়, স্বাধীনতার পর থেকে এমন সিদ্ধান্ত অন্য কেউ নিয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, এই বাজেট সকলের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

বাজেটের চাপ সাধারণ মানুষের উপর পড়বে: শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিক্রিয়া 

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, বাজেট বেশি বড় হয়নি। বর্তমান সরকার একটি সময় উপযোগী বাজেট দিয়েছে। কিন্তু বাজেটে যাই হোক না কেন বাজেটের চাপ সাধারণ মানুষের উপর পড়বে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেছে। এটি দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বাজেট, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা হল- রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দেশিয় ঋণ ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন প্রকল্পের সুশাসন নিশ্চিত করা, বাজেট ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা। 

তিনি বলেন, সরকারের উচিত ব্যাংকের সমস্যা সমাধান করা। এলসি তরান্বিত করা। বন্দরের ট্যারিফ অনেক বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেটি কস্টবেইজ করা উচিত ছিল। কিন্তু বন্দরের চেয়ারম্যান আমাদের বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের সাথে তুলনা করে করা হয়েছে। বুঝতে হবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতি আর আমাদের অর্থনীতির বৃহৎ তফাৎ রয়েছে। আমাদের দেশে যেদিকেই মূল্য বৃদ্ধি করা হোক সেটি অবশ্যই গিয়ে পড়ে ভোক্তাদের উপর। কারণ ব্যবসায়ীরা কেউ লোকসান দিয়ে ব্যবসা করবে না। আসল কথা হলো ব্যবসা করার সুযোগ তৈরি করে দিন। 

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক ও ফারুক ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার ফারুক আহমেদ বলেন, এবারের বাজেট দেখে মনে হচ্ছে দৈনন্দিন জিনিসপত্রের দাম কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে মসলা, খেজুর এবং কিছু ফলের দাম কমবে। সবমিলিয়ে মনে হচ্ছে এটা একটা জনবান্ধব বাজেট হতে পারে। এই বাজেটটা নিয়ে আমরা অনেক আশাবাদী। দেখা যাক, সামনে কী হয়। 

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, বাজেটে সামগ্রিকভাবে সকল খাতই আলোচনায় এসেছে। তবে মূল প্রশ্ন হলো—এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে কীভাবে? বর্তমান এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) কি আরও বেশি রাজস্ব সংগ্রহে সক্ষম? এ বিষয়েও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।  শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ওপর আরও বেশি গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে তরুণরা কর্মসংস্থানের জন্য আরও প্রস্তুত হতে পারে। পর্যটন খাতের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের বর্তমান ব্যবস্থা এখনো পর্যটনবান্ধব নয়। 

প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘কথার ফুলঝুরি ও রাজনৈতিক চমকবাজি’ বলে আখ্যায়িত করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট ঘোষণার পর দলটির কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

বিবৃতিতে জাসদ দাবি করে, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট এবং ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অর্জনযোগ্য নয়। দলের মতে, অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও রাজস্ব প্রশাসনের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ বাস্তবসম্মত নয়।

জাসদ আরও বলে, বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হলেও তা পূরণে বৈদেশিক ঋণ ও ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতিকে আরও ঋণনির্ভর করে তুলতে পারে। এতে ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপ বাড়বে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দলটি মনে করে, ৬০টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর ০.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব ইতিবাচক হলেও বাজারে সিন্ডিকেট ও সুশাসনের অভাব থাকলে এর সুফল ভোক্তারা নাও পেতে পারেন। একইভাবে মূল্যস্ফীতি ৯.৪২ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যকেও অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছে তারা।

বিবৃতিতে জাসদ সরকারের প্রতি বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ, আইনের শাসন ও সুশাসন নিশ্চিত করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়। দলটির মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

 রাজু/এসএন