ধর্ষণ, হত্যা ও নিপীড়নের মতো সহিংস ঘটনার কারণে শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে ‘শিশু অধিকার পরিস্থিতি-২০২৫’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ মাসে রাজধানীতে নানা অপরাধ ও দুর্ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর সংখ্যা ২ হাজার ৩৭৬ জন।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সচেতন সংস্থা আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সচেতন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাকিলা পারভীন।
'মানুষের জন্য' ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক জুলিয়া জেসমিন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রতন কুমার হালদার, ওয়াটারকিপার্স-বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল। অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন উত্থাপন করেন স্ক্যান সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুল।
মুকুল জানান, গত ৯ মাসে ১ হাজার ৮৬৭টি নেতিবাচক সংবাদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৬৬ শতাংশ (১১৭০টি) সংবাদ শিশু ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত, যা যৌন ও জীবন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম ঝুঁকি নির্দেশ করে এবং শিশুদের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া অপরাধের ভয়াবহতা তুলে ধরে।
এ সময়ে ২৯৮টি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর পরে। এই হার তদারকির অভাবে অনিরাপদ পরিবেশে শিশুর বেড়ে ওঠার ঘটনাকে নির্দেশ করে। ৫৬টি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে শিশুর স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত নানা বৈষম্য নিয়ে। শিশু নিপীড়নের ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে ২৪টি প্রতিবেদনে, যা পারিবারিক ও সামাজিক সহিংসতার ভয়াল চিত্র উপস্থাপন করছে। ২০টি প্রতিবেদনে শিশুদের ওপর রাজনৈতিক সহিংসতার প্রভাব নিয়ে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক সংঘাতে শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বিভাগওয়ারি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ ও দুর্ঘটনার হার অন্যান্য বিভাগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। গত ৯ মাসে ঢাকা বিভাগে আহত শিশুর সংখ্যা ২৮৪ ও নিহত শিশুর সংখ্যা ২৯৮। নানা অপরাধ ও দুর্ঘটনায় ভুক্তভোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৭৬ জন। গত ৯ মাসে চট্টগ্রামে আহত ও নিহত শিশুর সংখ্যা যথাক্রমে ৪৫ ও ২৮। খুলনায় আহত হয়েছে ৩২১ জন ও নিহত হয়েছে ১৫ শিশু। রাজশাহী বিভাগে আহত শিশুর সংখ্যা ৭৭১ জন। রাজশাহীতে আহতের সংখ্যা বেশি হলেও মৃত্যুর হার কম এবং অপরাধ বা দুর্ঘটনার অন্যান্য দিক থেকে ভুক্তভোগীর সংখ্যা কম। সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহে দেখা গেছে শিশু দুর্ঘটনা ও অপরাধের হার সর্বনিম্ন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশু ধর্ষণের বিপরীতে আইনি পদক্ষেপ সংক্রান্ত উদ্যোগের হার ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ।
এ হারকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে উল্লেখ করে গবেষকরা বলেন, এই হার নির্দেশ করে যে আইনি পদক্ষেপগুলো এখনও প্রতিক্রিয়াশীল (পর্যায়ে সীমাবদ্ধ, প্রতিরোধ ও ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক সহায়তা কাঠামো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।
জয়ন্ত/মেহেদী/