ঢাকা ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সাহসী রোডম্যাপ জুয়ার পূর্বাভাস, ভাঙতে পারে সব রেকর্ড কালোটাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে ১২ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল নতুন বাজেট পুঁজিবাজারকে আস্থায় আনতে নানা পদক্ষেপ ১২ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ইস্পাত রক্ষণ প্রাণে আলমিরন ফুটবলের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে রাজনীতি? প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের শিরোপা কার? সব উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি হয় সাফল্যের রেসিপি ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ ১২ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০টি কালজয়ী মন্তব্য স্বাগতিকের চোখে স্বপ্ন, প্যারাগুয়ের চোখে চমক শেষটায় মেসি-রোনালদোর প্রথম দ্বৈরথ দেখা যাবে? নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু আজ আশার প্রদীপ ডেভিড মরক্কো শিবিরে বড় ধাক্কা, নেইমারকে নিয়ে এখনো দোলাচলে ব্রাজিল গোলের চেয়ে লাল কার্ড বেশি, লজ্জার ইতিহাস ৪০ বছর বয়সেও অদম্য জিকো মাঠে উল্লাস, বাইরে মৃত্যু বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ৩ লাল কার্ড, জয়ে শুরু মেক্সিকোর বিশ্বকাপ ফুটবল ও গাজাবাসীর বাস্তবতা কানাডার স্বপ্নযাত্রা নাকি বসনিয়ার চমক? রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হলেন মরিনিও পেনাল্টি শূন্য ম্যারাডোনা কুইনোনসের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে মেক্সিকো ৬০০ ভক্তের যাতায়াত খরচ দেবেন জার্মানির ফুটবলাররা ‘ফিফা বিশ্বের রাজা নয়’ শাকিরার সুরের মূর্ছনায় বিশ্বকাপের বর্ণিল উদ্বোধন
Nagad desktop

যুদ্ধপরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য হটলাইন চালু

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
যুদ্ধপরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য হটলাইন চালু
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে প্রবাসে বসবাসরত কোনো বাংলাদেশি সমস্যার সম্মুখীন হলে তাদেরকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কল সেন্টার +৮৮০ ৯৬ ১০ ১০ ২০ ৩০ নম্বরে ফোন করে জানাতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

এ নম্বরটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে।

রবিবার (১ মার্চ) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

অমিয়/

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সাহসী রোডম্যাপ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সাহসী রোডম্যাপ
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

দেশে সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বাড়ছে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব। বিনিয়োগ বাড়ছে না, কর্মসংস্থান নেই। ব্যবসায়ে খরচ বেশি। খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় কষ্টে আছেন সাধারণ মানুষ। ব্যাংক খাতে অস্থিরতা, জ্বালানির বাড়তি দাম–এমন হাজারও সংকটে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ছক কষেছেন। এসব ছক বাস্তবায়ন করতে বাজেটের আয়, ব্যয়, ঘাটতিসহ প্রায় সব হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঙ্ক প্রাক্কলন করেছেন। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠনের মূল চালিকাশক্তি অর্থাৎ অর্থনৈতিক ইঞ্জিন দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ক্রমেই দুর্বল হতে হতে একেবারে ধ্বংস হয়েছে। আমরা সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেই নতুন যাত্রার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চেয়েছি। এবারের বাজেটে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সর্বোপরি ন্যায্যতাকে মূল বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করেছি, সামষ্টিক কৌশল নির্ধারণ করেছি। এই পরিকল্পনা ও কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষকে প্ল্যান বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। নির্বাচিত সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। প্রায় দুই দশক পর বাজেট দিয়ে আবারও যাত্রা শুরু করেছে বিএনপি সরকার। 

তলিয়ে যাওয়া অর্থনীতি ভাসিয়ে তুলতে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যয়ের বাজেট ঘোষণা করেছেন। অর্থায়নে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বড় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবারে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে বাজেট দিয়ে বাস্তবায়নের সূত্র আঁকতে গিয়ে অর্থ জোগাড়ে অনেক খাতে নতুন কর আরোপ করেছেন। রাজস্ব-জাল বিছিয়ে আটকে ফেলার চেষ্টা করেছেন। 

অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রস্তাবিত বাজেটকে উচ্চাভিলাষী ও অবাস্তব হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, দীর্ঘ মেয়াদে সুফল মিললেও আগামী অর্থবছরে হিসাব মিলবে না অনেক খাতে। আর এতে পুরো অর্থনীতির ঝুঁকি বাড়বে, দ্রব্যমূল্য বাড়বে। জীবনযাত্রার ব্য়য় জোগাড় করা আরও কষ্টকর হয়ে যাবে। 

অর্থনীতিবিদরা প্রশ্ন তুলে বলেছেন, অর্থমন্ত্রী সংকটেও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে স্বপ্ন দেখেছেন, বাজেটে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। হিসাব মিলবে তো!
তবে অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ‘আমাদের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ–অর্থনীতির পুনরুদ্ধার কার্যক্রম, যা এক বছর মেয়াদি। দ্বিতীয় ধাপ–অর্থনীতির উত্তরণ, যা বর্তমান সরকারের এক থেকে তিন বছর মেয়াদের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তৃতীয় ধাপ–সমৃদ্ধ অর্থনীতি বিনির্মাণ, যা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।’

অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছ থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, এনবিআরবহির্ভূত কর ২৫ হাজার কোটি টাকা, কর ব্যতীত প্রাপ্তি ৬৬ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। 

চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রস্তাবিত বাজেটে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে আয়, মুনাফা ও মূলধনের ওপর কর ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক ৮২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, আমদানি শুল্ক ৬১ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক ৯৯ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক ৭ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর ৩ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোয় হাজারের বেশি পণ্যের দাম ও সব খাতে খরচ বাড়বে। দেশে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। প্রস্তাবিত বাজেটে ১৫০ সিসির ওপরে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীকে অবশ্যই ই-টিআইএন নিতে হবে। আবার সাধারণ মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবেও ই-টিআইএন জমা দিতে হবে। সরকারের আয় বাড়াতে গিয়ে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার (ধারণক্ষমতা ৫ হাজার লিটারের নিচে), আমদানি করা মোটরগাড়ি, সাইকেল ও ওয়াশিং মেশিনের ওপরও কর বাড়ানো হয়েছে। স্মার্ট ঘড়ি, সোনার বার, মধু, আমদানীকৃত ইট, ব্লক, টাইলস ও সিরামিক, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রিচার্জেবল ও রিমোট কন্ট্রোল ব্যাটারিসহ হাজারের বেশি পণ্যের ওপর কর বসানো হয়েছে। এসব পণ্যের দাম বাড়বে। 

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেন, অর্থমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেছেন। আগামী পাঁচ অর্থবছর পর্যন্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অনেক রকম পরিকল্পনার কথা বলেছেন। কিন্তু বড় ব্যবসায়ী, বড় প্রতিষ্ঠান ও বড় জায়গা থেকে আয়ের ক্ষেত্রে কঠোরতা আনেননি। 

তিনি আরও বলেন, অনেকে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে জীবন চালান। এই মানুষটিকে কেন করজালে আনা হলো। আবার গ্রামের একজন সাধারণ মানুষকেও ১ জুলাই থেকে ব্যাংক হিসাব খুলতে হলে ই-টিআইএন নিতে হবে। এটা ওই সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য হয়রানির হবে। অর্থমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘ মেয়াদে সুফল পাওয়া গেলেও আগামী অর্থবছরে সাধারণ মানুষকে হয়রানিতে ফেলবে। সরকারের আয় বাড়াতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী ছাড় দিলেও ছেড়ে দিলেন না। সাধারণ মানুষকে সন্তুষ্টির চেষ্টা করেও অনেক কিছুর দাম বাড়িয়ে ফেলেছেন। বলা যায়, অনেকটা বাধ্য হয়েই সরকারকে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াতে হয়েছে। 

নানা রকম সংকটেও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে অর্থমন্ত্রী বেশ কিছু পণ্যের দাম কমিয়েছেন। এর মধ্যে মোবাইল সিম, দেশীয়ভাবে তৈরি মোবাইল সেট, ক্যানসারের ওষুধও আছে। কিডনি ডায়ালাইসিসের খরচ কমানো হয়েছে। আমদানি করা কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ শতাধিক পণ্যের দাম কমানো হয়েছে। অপ্রদর্শিত অর্থ বিশেষ খাতে বিনিয়োগের শর্ত দেওয়া হয়েছে। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যাংক খাতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। রেল ও মেট্রোতে সিনিয়র নাগরিকদের (৬৫ বছর) টিকিটে ছাড় দেওয়া হয়েছে। 

সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যেও নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে প্রান্তিক মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টানাপোড়েনের অর্থনীতিতেও ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে প্রণোদনা, রাজস্ব ছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার হিসাব কষেছেন। অর্থমন্ত্রী শিল্পের অনেক খাতে উৎসে কর কমিয়েছেন। গত ১৬ মাসের মধ্যে মে মাসে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ছিল। প্রস্তাবিত বাজেটে ৬০ ধরনের নিত্যপণ্যের ওপর থেকে উৎসে কর কমানো হয়েছে। 

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঙ্কের বাজেট দিয়েছেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। 

বাজেটে অর্থমন্ত্রী রাজস্ব ও অনুদান ধরেছেন ৭ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা এবং বিদেশি অনুদান ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরেছেন ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ সুদ ১ লাখ ৫ হাজার কোটি ও বৈদেশিক সুদ ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ৩ লাখ কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে (অনুদান বাদে) ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণ ১ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণ ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। 
ব্যাংকবহির্ভূত ঋণ ১৫ হাজার কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা ৬৮ হাজার ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। 
সরকারের প্রথম বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা শতাংশের হিসাবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল। নতুন সরকার উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নযোগ্য না বলেই মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে বরাবরের মতো আগামীতেও বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ খাতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। কেননা টানা কয়েক বছর ধরে দেশের মূল্যস্ফীতি প্রায় দুই অঙ্কের কাছাকাছি বিরাজ করছে। যেখানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে দেশের বাজারে রেকর্ড পরিমাণ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়াও চলমান।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য ছিল। সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। আগামী অর্থবছর উচ্চসুদের সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া কমাবে সরকার। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাত থেকে ২১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।
 
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ব্যয় ও বরাদ্দ বাড়িয়ে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটে বর্তমান অর্থনীতির সংকট নিরসনের চেষ্টা করেছেন। জনতুষ্টির জন্য অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। বাজেট নিয়ে অনেকে বাহবা দিলেও বাজেট অবাস্তব ও উচ্চাভিলাষী।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, বাজেটে অনেক নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। সরকারপ্রধান এসব বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছেন। এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হলে অর্থ লাগবে। আর তাই সরকারকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে হয়েছে।
 
টানাপোড়েনের বাজেটে অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, ‘ব্লু ইকোনমি’, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির মতো খাতে একাধিক বিশেষ তহবিল ও বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা তহবিলের জন্য সর্বোচ্চ ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। খাদ্য সরবরাহ বাড়াতে এবং কৃষি খাতেও গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। নতুন পদক্ষেপ হিসেবে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। আগামী অর্থবছরে ভর্তুকি বাড়িয়ে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান বিবেচনায় বেতন কাঠামোতে বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্থানীয় ও বৈদেশিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য চার মাস মেয়াদি ‘জেনারেল কেয়ারগিভার’ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বন্ধ কলকারখানা চালু করতে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 

বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা, আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সহজতর করার লক্ষ্যে রাজশাহী, কক্সবাজার, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে উন্নীত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। বাজেটে বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন তহবিলের আওতায় অবসর গ্রহণের সময় মোট সঞ্চিত অর্থের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি বা আনুতোষিক হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
 
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন খবরের কাগজকে বলেন, বরাদ্দ ও গুরুত্ব বাড়ালেও বাজেটে বাস্তবায়নে কঠোরতা আনা হয়নি। অতীতে বরাদ্দ করা অর্থ ফেরত গিয়েছে, খরচ হয়নি¬–এমন নজির আছে।

বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের আয়োজনে আনস্ক্রিপ্টেড ১.০

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:৫০ পিএম
বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের আয়োজনে আনস্ক্রিপ্টেড ১.০
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাব (এমসিসি) সফলভাবে আয়োজন করেছে তাদের উদ্বোধনী প্যানেল ডিসকাশন ইভেন্ট “আনস্ক্রিপ্টেড ১.০”।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিইউপির স্বাধীনতা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন সকাল ১১টায় শুরু হয়ে বিকেল প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে শেষ হয়।

বাংলাদেশের মিডিয়া ও বিনোদন জগতের চার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে একত্রিত করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সৃজনশীলতা, স্থিতিস্থাপকতা এবং জনসম্মুখে কাজ করার বাস্তবতা নিয়ে খোলামেলা ও অকপট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

“একজন ক্রিয়েটরের মনে কী চলে?”—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে ‘আনস্ক্রিপ্টেড ১.০’ এমন একটি পরিসর তৈরি করে, যেখানে সাফল্যের বাহ্যিক গল্পের বাইরে গিয়ে সৃজনশীল প্রক্রিয়া, প্রভাব এবং পাবলিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করার দায়িত্ব নিয়ে নির্ভার আলাপের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে এমসিসির সাধারণ সম্পাদক শানজিন সাইমা শারিতা এ ভাবনার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। এছাড়া ক্লাবের সভাপতি নিগার ইসরাত এবং অনুষদ মডারেটর প্রভাষক ইসরাত জাহান ঐশী বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাইমা ফেরদৌস কথা ও সায়রা নূর। প্যানেল আলোচনা পরিচালনা করেন মুস্তাক শাহরিয়ার শুভ ও তানজিমা নুসরাত চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বিইউপির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদ হাসান তারিক, পিপিএম, পিপিএমএস, পিএসসি। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্যানেলিস্টদের স্বাগত জানান এবং এমসিসি পরিবারের সম্মিলিত উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

এ আয়োজনে অংশ নেন—

যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক ও সংবাদ উপস্থাপক আহমেদ রেজা
ট্রাভেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ‘অপূর্ব শাহ’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মেহেদী হাসান অপূর্ব
জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল সাবিলা নূর
চ্যানেল আইয়ের ব্রডকাস্টার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব দীপ্তি চৌধুরী

আলোচনার উল্লেখযোগ্য দিক

আলোচনায় উঠে আসে বর্তমান সময়ে মিডিয়া জগতে প্রবেশের চ্যালেঞ্জ, অনলাইন সমালোচনা মোকাবিলা, দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং ক্যামেরার সামনে ও পেছনের ব্যক্তিত্বের পার্থক্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

দীপ্তি চৌধুরী জীবনের অনিশ্চয়তা মোকাবিলা প্রসঙ্গে বলেন, ভাগ্য সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু সেই সুযোগ ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায় ও মানসিক দৃঢ়তা।

মেহেদী হাসান অপূর্ব তরুণ ক্রিয়েটরদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান মিডিয়া পরিবেশে নিজের স্বকীয়তা ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি শিক্ষাজীবনে ভুল করতে ভয় না পেয়ে শেখার মানসিকতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। নিজের যাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি শুধু প্রক্রিয়াটা উপভোগ করার চেষ্টা করছি।”

আহমেদ রেজা আত্ম-অনুসন্ধানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, প্রত্যেকের উচিত নিজের দক্ষতা ও আগ্রহের ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করা। তিনি জানান, নিজের কথা বলার দক্ষতাকে চিনতে পেরে বিতর্কচর্চার মাধ্যমে তা বিকশিত করেছেন।

সাবিলা নূর উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জীবনে কখনো কখনো সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তিনি তরুণদের নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

সমাপনী পর্ব

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদ হাসান তারিক প্যানেলিস্টদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন। পরে অনুষ্ঠিত হয় একটি সম্মিলিত ফটোসেশন।

‘আনস্ক্রিপ্টেড ১.০’ ছিল এমসিসির প্রথম বড় প্যানেল ইভেন্ট। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জ্ঞানভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাব (এমসিসি) সম্পর্কে

বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাব (এমসিসি) হলো বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধীন পরিচালিত একটি শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন সংগঠন। ক্লাবটি একাডেমিক শিক্ষা ও দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল এবং মূলধারার মিডিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রকাশ, পেশাগত বিকাশ এবং শিল্প-সংযোগের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করে।

এসএন/

দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত
ছবি: সংগৃহীত

দেশে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইউরোপীয় মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল সিলেটের করিমগঞ্জ সীমান্তবর্তী ভারতের শিলচরে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫। এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।

সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকার কিছু কিছু জায়গা থেকে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে রোববার (৭ জুন) রাত ১১টা ৩৭ মিনিটের দিকে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূকম্পনে কাঁপে সারা দেশ। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র স্থল ছিল ভুটানে।

এসএন/

চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রতিক্রিয়া সরকারের এই বাজেট ঐতিহাসিক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
সরকারের এই বাজেট ঐতিহাসিক
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের মূল্যস্ফীতি কমানো, খাদ্য নিরাপত্তা ও সাপ্লইচেইন ইকোসিস্টেম বজায় রেখে ব্যবসাবান্ধব এবং জনতুষ্টিমূলক বাজেট প্রদান করায় চেম্বারের নেতৃবৃন্দ ধন্যবাদ জানান। জনগণের উপর ভ্যাট ও করের চাপ কমিয়ে করজাল বাড়ানো এবং দেশি-বিদেশী উৎস থেকে অর্থ সংস্থানকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের এই বাজেটকে ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করেন চেম্বার নেতারা।  

বাজেটে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন ও দেশি-বিদেশী বিনিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা নিঃসন্দেহে চট্টগ্রামে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়ন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দুরত্ব ৮০ কি.মি. কমানোর সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিল্প কারখানায় নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে আবাসনসহ সকল ধরণের ইউটিলিটি সেবা বাড়ানোর মাধ্যমে বিনিয়োগ উপযোগী করার আহবান জানান নেতারা। 

বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় বৈদেশিক ঋণের চেয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস গুরুত্ব দেয়াকে দেশীয় সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। বাজেটে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে মানবসম্পদ উন্নয়ন তথা শিক্ষা খাতকে।  

ব্যক্তি করদাতাদের টার্নওভার করের আওতামুক্ত সীমা ৩ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি এবং ব্যাংক স্থিতির ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক অব্যাহতির সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে, এতে সাধারণ মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখতে উৎসাহী হবে। এছাড়া বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনির উপকারভোগীদের ভাতার হার বৃদ্ধির পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য ফ্যামিলি কার্ড জনপ্রতি ২৫০০ টাকা, প্রতিবন্ধী ভাতা, পর্যায়ক্রমে সকল কৃষককে কার্ড প্রদান এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, তরুণ উদ্যোক্তাদের জামানত ছাড়া ১০ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা, বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় গমনেচ্ছুদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদান যুগান্তকারী পদক্ষেপ। 

বাজেটে কর্পোরেট কর ব্যবস্থা সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করায় অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ও ব্যবসার অনুমোদনযোগ্য খরচ বাড়ানো এবং কর্পোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখা ইতিবাচক। পাবলিক ট্রেডেড কোম্পানীর করহার শর্তসাপেক্ষে ২২.৫%, পাবলিকলি ট্রেডেড ব্যাংক, বীমা ও  ফাইন্যান্স কোম্পানীর ক্ষেত্রে ৩৭.৫%, পাবলিকলি ট্রেডেড নয় কোম্পানীর ক্ষেত্রে ৪০%, মোবাইল অপারেটর কোম্পানীর জন্য ৪৫%, বাংলাদেশী অনিবাসী করদাতাদর জন্য ৩০%, ট্রাস্ট ফার্ম ও ব্যক্তিসংগ প্রতিষ্ঠানের জন্য ২৭.৫%, সমবায় সমিতি ২০%, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০% করহার নির্ধারণ করা হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের করহার ১০% করায় উদ্যোক্তারা শিক্ষা খাতে আগ্রহী হবে। 

এছাড়া আমদানিকৃত ১১৩টি পণ্যের রেগুলার ডিউটি প্রত্যাহার, ৯টি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং ৬৯টি পণ্যের কাস্টমস ডিউটি ২৫% থেকে ১৫% নির্ধারণ, শিশু খাদ্য প্রস্তুতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কহ্রাস, সকল মসলা আমদানিতে রেগুলেটরী শুল্ক ও খেজুর আমদানিতে রেগুলেটরী শুল্ক ৫% প্রত্যাহার, পোল্ট্রি, ডেইরী ও মৎস্য খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামালে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করায় মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করেন নেতারা। 

বাজেটে জ্বালানী সক্ষমতা বাড়াতে এবং সৌর বিদ্যুৎকে উৎসাহিত করতে সোলার প্যানেল, লিথিয়াম ব্যাটারীসহ আমদানিকৃত সোলার যন্ত্রপাতিতে রেয়াতি সুবিধা দেয়ায় জ্বালানী সক্ষমতা বাড়বে এবং সেমি কন্ডাক্টর শিল্পে রেয়াতি সুবিধা প্রদান এবং ইলেক্ট্রিক ভেহিকেল (ইভি) আমদানিতে অগ্রিম আয়করের পরিমাণ কমানোর ফলে একদিকে যেমন জ্বালানীর উপর চাপ কমবে, তেমনি সৌর বিদ্যুৎ শিল্প এবং সেমি কন্ডাক্টর শিল্পে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে। ক্যান্সার ঔষধ উৎপাদনে কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদানে ক্যান্সার প্রতিরোধক ঔষধ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ৫% অগ্রিম কর মওকুফ করায় সাধারণ রোগীরা স্বস্তি পাবেন। 

সরকার আইটি সেক্টরকে উৎসাহিত করতে এবং ফ্রিল্যান্সাররা তাদের আয় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে আনার জন্য কর অব্যাহতি সুবিধা, কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে আয়কে করমুক্ত করা, স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য করা, এসএমই উদ্যোক্তাদের টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত সীমা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে যেকোন উৎপাদানমুখী শিল্প পর্যটন বা ক্রীড়া ক্ষেত্রে স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি বিনিয়োগের উপর ১ম বর্ষে ৬০%, ২য় বর্ষে ৪০% হারে ত্বরান্বিত অবচয় সুবিধা প্রদান করায় দেশে তরুণ প্রজন্ম, নারী এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন স্থানে শিল্প কারখানা বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে। 

দেশের প্রধান চট্টগ্রাম বন্দরকে গতিশীল করতে এবং পণ্যজট শূন্য করতে অফডক ও আইসিডি খাত, লজিস্টিক্স, বেসরকারি বন্দর ও টার্মিনাল অপারেটর বিষয়ক বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও সংশোধন করার মাধ্যমে চট্টগ্রামে বন্দরকেন্দ্রিক দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে।  

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এণ্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, আমাদের সাধ আছে, সাধ্য কম। তারমধ্যেও যে বাজেট হয়েছে সেটা সন্তোষজনক। বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। আমার মনে হয়, স্বাধীনতার পর থেকে এমন সিদ্ধান্ত অন্য কেউ নিয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, এই বাজেট সকলের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

বাজেটের চাপ সাধারণ মানুষের উপর পড়বে: শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিক্রিয়া 

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, বাজেট বেশি বড় হয়নি। বর্তমান সরকার একটি সময় উপযোগী বাজেট দিয়েছে। কিন্তু বাজেটে যাই হোক না কেন বাজেটের চাপ সাধারণ মানুষের উপর পড়বে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেছে। এটি দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বাজেট, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা হল- রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দেশিয় ঋণ ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন প্রকল্পের সুশাসন নিশ্চিত করা, বাজেট ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা। 

তিনি বলেন, সরকারের উচিত ব্যাংকের সমস্যা সমাধান করা। এলসি তরান্বিত করা। বন্দরের ট্যারিফ অনেক বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেটি কস্টবেইজ করা উচিত ছিল। কিন্তু বন্দরের চেয়ারম্যান আমাদের বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের সাথে তুলনা করে করা হয়েছে। বুঝতে হবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতি আর আমাদের অর্থনীতির বৃহৎ তফাৎ রয়েছে। আমাদের দেশে যেদিকেই মূল্য বৃদ্ধি করা হোক সেটি অবশ্যই গিয়ে পড়ে ভোক্তাদের উপর। কারণ ব্যবসায়ীরা কেউ লোকসান দিয়ে ব্যবসা করবে না। আসল কথা হলো ব্যবসা করার সুযোগ তৈরি করে দিন। 

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক ও ফারুক ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার ফারুক আহমেদ বলেন, এবারের বাজেট দেখে মনে হচ্ছে দৈনন্দিন জিনিসপত্রের দাম কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে মসলা, খেজুর এবং কিছু ফলের দাম কমবে। সবমিলিয়ে মনে হচ্ছে এটা একটা জনবান্ধব বাজেট হতে পারে। এই বাজেটটা নিয়ে আমরা অনেক আশাবাদী। দেখা যাক, সামনে কী হয়। 

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, বাজেটে সামগ্রিকভাবে সকল খাতই আলোচনায় এসেছে। তবে মূল প্রশ্ন হলো—এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে কীভাবে? বর্তমান এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) কি আরও বেশি রাজস্ব সংগ্রহে সক্ষম? এ বিষয়েও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।  শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ওপর আরও বেশি গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে তরুণরা কর্মসংস্থানের জন্য আরও প্রস্তুত হতে পারে। পর্যটন খাতের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের বর্তমান ব্যবস্থা এখনো পর্যটনবান্ধব নয়। 

প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘কথার ফুলঝুরি ও রাজনৈতিক চমকবাজি’ বলে আখ্যায়িত করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট ঘোষণার পর দলটির কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

বিবৃতিতে জাসদ দাবি করে, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট এবং ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অর্জনযোগ্য নয়। দলের মতে, অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও রাজস্ব প্রশাসনের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ বাস্তবসম্মত নয়।

জাসদ আরও বলে, বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হলেও তা পূরণে বৈদেশিক ঋণ ও ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতিকে আরও ঋণনির্ভর করে তুলতে পারে। এতে ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপ বাড়বে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দলটি মনে করে, ৬০টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর ০.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব ইতিবাচক হলেও বাজারে সিন্ডিকেট ও সুশাসনের অভাব থাকলে এর সুফল ভোক্তারা নাও পেতে পারেন। একইভাবে মূল্যস্ফীতি ৯.৪২ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যকেও অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছে তারা।

বিবৃতিতে জাসদ সরকারের প্রতি বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ, আইনের শাসন ও সুশাসন নিশ্চিত করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়। দলটির মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

 রাজু/এসএন