ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইতিহাস, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির পরভো শহরে এক দিন রাসুল (সা.) এর খাদ্য তালিকায় কেন দুধ ছিল সেরা নওগাঁ সীমান্তে ১৭ ব্যক্তিকে শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিল বিএসএফ গাইবান্ধায় দুই ভুয়া সরকারি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাইজদীতে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্যকে পুলিশে দিল ছাত্রদল রংপুরে মাদকমুক্ত সামজ গঠনে শিক্ষার্থীদের শপথ অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর জয়সওয়াল মহেশখালীতে হিটস্ট্রোকে জেলের মৃত্যু কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী লতাপাতায় ঢাকা ২ কোটি টাকার সেতু, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প গরমে কমেছে কাজের গতি নিজেই নিজেকে গড়ছে এআই, শঙ্কা অ্যানথ্রোপিকের বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত খরা, বন্যা ও খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া দিনাজপুরের: সুই-সুতো আর কি-বোর্ডে নির্যাতিত নারীদের নতুন স্বপ্ন পুতিনকে আলোচনায় বসতে জেলেনস্কির খোলাচিঠি রাজশাহী অঞ্চলে তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতাপার্টির’ বিক্ষোভ আজ ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে বায়ুদূষণে বদলে যাচ্ছে ভ্রূণের জিন জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধে নাকাল ঘিওর বাজার ছায়ানটে শুরু হলো দুই দিনের নজরুল উৎসব রাজধানীবাসীকে ফেরাতে সিটি বাসও গেছে ঢাকার বাইরে ৬ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৬ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল মে মাসে মব হামলায় নিহত ৩২: এমএসএফ ‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন
Nagad desktop

নির্বাচনি ডামাডোলেও বিএনপির ১০ সংগঠনের কার্যক্রমে স্থবিরতা

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৩৭ এএম
নির্বাচনি ডামাডোলেও বিএনপির ১০ সংগঠনের কার্যক্রমে স্থবিরতা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

সারা দেশে নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু হলেও ‘স্থবির’ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। বেশির ভাগ সংগঠনেরই কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। ছাত্রদলের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কমিটি নেই ১২ বছর ধরে। গ্রুপিং-কোন্দলে বিপর্যস্ত জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)। এক বছর ধরে কেন্দ্রীয় কমিটি নেই জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের। মেয়াদহীন কমিটি দিয়ে চলছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, তাঁতী দল এবং কৃষক দল। এসব গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের কার্যকর কমিটি না থাকায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সাংগঠনিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। 

এ অবস্থার মধ্যেই আজ ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। ১৫ মাস ধরে ৬ সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি দিয়ে চলছে যুবদল। এসব সংগঠনের পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছরের বেশি সময় পরও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো গুছিয়ে আনতে না পারা বিএনপির জন্য খুবই নেতিবাচক দিক। আসছে নির্বাচনে কোনো বিরূপ প্রভাব তৈরি হলে এর দায় কে নেবে? তবে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সব খবর রাখছেন। তিনি যখন ভালো মনে করবেন তখন সিদ্ধান্ত নেবেন। কমিটি পূর্ণাঙ্গ থাক বা না থাক কর্মকাণ্ডে কোনো প্রভাব পড়বে না। বিগত দিনে বারবার উদ্যোগ নিয়েও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠন শেষ করতে পারেনি বিএনপি।

এদিকে অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। এ লক্ষ্যে তারা কার্যক্রমও পরিচালনা করছেন। তবে যেসব নেতা এমপি হিসেবে নমিনেশন পাবেন, তাদের আগামীতে অঙ্গসংগঠনের পদে রাখা হবে না বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলকে নানামুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ায় কমিটি গঠনে বিলম্ব হয়েছে। আসলেই সময় অনেক চলে গেছে। এখন ধীরে ধীরে দল পুনর্গঠনের কার্যক্রম শেষ হবে বলে আশা করি।

যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই ১৫ মাস
২০২৪ সালের ৮ জুলাই যুবদলের ৬ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় (আংশিক) কমিটির সভাপতি হয়েছেন আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন। গত ১৫ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। ফলে পদবঞ্চিতের সংখ্যা দীর্ঘ হয়েছে। সেই সঙ্গে ৫ আগস্টের পর যুবদলের বেশ কিছু নেতার বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার ও দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এদিকে আংশিক কমিটি দিয়েই আজ ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে যুবদল। জানা গেছে, কয়েক মাস আগে লন্ডনে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির একটি তালিকা পাঠানো হয়। কিন্তু কী কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হচ্ছে না তা জানা নেই নেতা-কর্মীদের। 

অবশ্য যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি না দেওয়াটা চরম লজ্জাজনক। দলের নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তা না হলে সাংগঠনিকভাবে যুবদল আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেননা, দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অনেকের অবদান যেমন রয়েছে, তেমনই নানাভাবে অনেকেই মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তবে যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক বলেন, কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হলেও যুবদলের সব কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু কী কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হচ্ছে না তা জানা নেই। 

যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না জানান, ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সারা দেশের সব জেলা ও বিভাগীয় শহরে র‌্যালি বের করা হবে। এর পাশাপাশি ২৮ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত জনসম্পৃক্ত সামাজিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। যেমন: মেডিকেল ক্যাম্প, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি। 

তিনি বলেন, ‘গত ৪ আগস্ট আমরা বিশাল সমাবেশ করেছি। এবারও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সমাবেশ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।’

অবশ্য ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সোমবার সকালে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও দোয়া-মোনাজাত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যুবদল। এরপর দুপুর ১২টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে।

ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা
বিএনপির আন্দোলনের অন্যতম চালিকাশক্তি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ১৫ জুন ২৬০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির পূর্ণাঙ্গ (আংশিক) প্রকাশ করে। গত বছরের ৫ আগস্ট-পরবর্তী ছাত্ররাজনীতির প্রতি দেশবাসীর যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, সেটি পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি সংগঠনটি। কেননা, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের মূল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা। তাদের নেতৃত্বেই দেশের আপামর জনসাধারণ আন্দোলনে অংশ নিয়ে শেখ হাসিনার পতন ঘটান। কিন্তু অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ছাত্রদল বেশ কিছু ইতিবাচক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলেও অতি সম্প্রতি ছাত্রদলের কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ ডাকসু, জাকসু, চাকসু ও রাকসু ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের জয়ের পর ছাত্রদলের কার্যক্রম আরও মন্থর হয়েছে। ক্যাম্পাসভিত্তিক কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছে না সংগঠনটি। এতে করে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় গত ১৯ অক্টোবর থেকে কমিটি আরও বর্ধিত করার দাবিতে কর্মসূচি পালন করছেন পদবঞ্চিতরা। তারা জানান, পদ না পেয়ে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন তারা। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে জেল-জুলুম, হামলা-মামলার শিকার হলেও এখন দলীয় পরিচয়হীনতায় ভুগছেন তারা।

জানতে চাইলে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘আমরা ছাত্রদল অতীতের মতোই বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে মাঠে রয়েছি। সংগঠনের প্রয়োজনে ছাত্রদলে নতুনভাবে পদ দেওয়ার বিষয়টি সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান দেখবেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসভিত্তিক আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু আছে।’

স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ
২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি ও রাজিব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় (আংশিক) কমিটি হয়। পরে ২৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলেও এখনো ৩৭টি পদ শূন্য। এর মধ্যেই মেয়াদ শেষ হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দলের। তবে দলের সভাপতি এস এম জিলানী গোপালগঞ্জ-৩ এবং সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান বরিশাল-৪ এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ঝিনাইদহ-৪ আসনে সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সভাপতি এস এম জিলানী বলেন, ‘আমরা আমাদের কাজ করছি। নতুন কমিটি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।’

মেয়াদহীন কমিটি দিয়ে চলছে মহিলা দল
২০১৬ সালে আফরোজা আব্বাসকে সভাপতি ও সুলতানা আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫ সদস্যের মহিলা দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল সংগঠনটির ২৬৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়, যা বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ। এরপরও বিভিন্ন জেলা শাখা কমিটি গঠন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭৭টি সাংগঠনিক জেলা শাখার মধ্যে প্রায় সব কটিই নতুনভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। 

মহিলা দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেত্রী আলাপকালে জানান, সাত বছর আগে মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটি হয়েছে। সবাই এখন নতুন কমিটি চান। 

অবশ্য মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে মহিলা দলও মাঠে আছে। অনেকের মনে পদ নিয়ে সামান্য মান-অভিমান থাকায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর মানে আমরা ঘরে ঢুকে যাইনি। কেন্দ্রীয় কমিটি মেয়াদহীন হলেও এটি বিএনপির হাইকমান্ড দেখবে।’

নাজুক হয়ে পড়েছে শ্রমিক দল
১২ বছরে ধরে কমিটি না হওয়ায় শ্রমিক দল নাজুক হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৯ ও ২০ এপ্রিল জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের জাতীয় কাউন্সিল হয়। আনোয়ার হোসাইন ও নূরুল ইসলাম খান নাসিমের নেতৃত্বাধীন শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ। তা ছাড়া সেক্রেটারি নাসিম বহু দিন নিষ্ক্রিয় ও অসুস্থ। দীর্ঘদিনেও নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি না হওয়ায় দলের কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। শ্রমিক দলের কার্যক্রম সমন্বয় করছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

কৃষক দল
২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর হাসান জাফির তুহিনকে সভাপতি ও শহীদুল ইসলাম বাবুলকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের ২৩১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কৃষক দলের কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ।

মুক্তিযোদ্ধা দল
বিএনপির অন্যতম অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। এই সংগঠনের সর্বশেষ কাউন্সিল হয় ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর। ১৯১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎ ও সাদেক খান। এই সংগঠনের কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ। 

মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান বলেন, ‘গঠনতন্ত্র মোতাবেক আমাদের মেয়াদ নেই। নানা কারণেই সম্মেলন হয়নি। তবে কাউন্সিলের চিন্তা আছে।’

জাসাস
জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) তাদের ঐতিহ্য হারাচ্ছে। গত ১৫ বছরে জাসাসের কর্মকাণ্ড নেই বললেই চলে। ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ড. মামুন আহমেদ ও হেলাল খানের নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর হেলাল খানকে আহ্বায়ক ও জাকির হোসেন রোকনকে সদস্যসচিব করে ২০২১ সালের ৬ নভেম্বর ৭১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা হয়। তবে জাসাসের নতুন কমিটি গঠনের পর ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। নেতাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। অযোগ্য ও নিষ্ক্রিয়দের দিয়ে কমিটি করা হয়েছে দাবি করে তা বিলুপ্ত চেয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে চিঠি দেয় বিক্ষুব্ধ একটি গ্রুপ। 

সূত্র জানায়, আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেলাল খানের নিষ্ক্রিয়তার কারণে ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। বছরের ১১ মাসই তিনি আমেরিকায় অবস্থান করেন। আর সদস্যসচিবের সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। জাসাসের কমিটিও মেয়াদহীন।

তাঁতী দল
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আবুল কালাম আজাদকে আহ্বায়ক ও মো. মজিবুর রহমানকে সদস্যসচিব করে ১২৮ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়, যা মেয়াদোত্তীর্ণ।

মৎস্যজীবী দল
২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মাহতাবকে আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা আব্দুর রহিমকে সদস্যসচিব করে ১৫৪ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কয়েক মাস আগে আহ্বায়ক মারা গেছেন। একপর্যায়ে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মৎস্যজীবী দলের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়।

নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রলীগের মিছিল। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী সদর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। মিছিলের শুরুতে পুলিশ বাধা দিলেও একপর্যায়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে এবং বর্তমান সরকারের 'সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির' বিরুদ্ধে ওই মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। এতে সহস্ত্রাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করে।

স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার ছাত্রলীগ যুবলীগের হাজারের বেশি কর্মী-সমর্থকরা মিছিলটি বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশে বাধা উপেক্ষা করেই নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে অগ্রসর হন। এসময় পুলিশ সদস্যরা গা-ঢাকা দেন।

বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু।

মিছিল শেষে সমাবেশে আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু বলেন, আমরা এখানে যারা রাজপথে নেমেছি, তারা প্রত্যেকেই অন্যায় এবং সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আমাদের এই প্রতিবাদী আন্দোলন ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে। যতদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনা ফিরে না আসবেন, ততদিন আমরা শান্ত হব না এবং রাজপথ ছাড়ব না।

কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। একজন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্বে জায়গা থেকেই আমরা প্রতিবাদ করেছি। পুলিশ প্রথমে আমাদেরকে বাধা দিলে আমাদের নেতাকর্মী ভয়ে এদিক সেদিক চলে যায়। পরে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আমরা প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিয়ে মিছিল করি এবং সমাবেশ করি। আমরা বিশ্বাস করি অতি দ্রুত আমাদের নেত্রী দেশে ফিরে দেশের দায়িত্ব নিবেন এবং আমাদের নেত্রী দেশে ফেরার সাথে সাথেই বর্তমান সময়ের সন্ত্রাস চাঁদাবাজরা দেশ ছেড়ে পালাবে। 

জানতে চাইলে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আগে থেকেই টের পেয়ে পুলিশের ছয় সদস্যের দল সেখানে উপস্থিত ছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে আমাদের কিছুই করার ছিল না । আমরা মিছিলে শুরুতে তাদের বাধা দিলেও পরবর্তীতে তাদের উপস্থিতি সংখ্যা বেড়ে গেলে আমাদের সদস্যরা সরে পড়েন।


ইকবাল হোসেন মজনু/এসএন

সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। ছবি: খবরের কাগজ

দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে সরকারকে সাত দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না জানানো হলে রাজধানীর শাহবাগে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

শুক্রবার (৫ জুন) বাদ জুমা ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে একটি মিছিল বের করে। বিক্ষোভ মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওসমান হাদির সমাধিস্থলে আসে। সেখান থেকে হাদি হত্যার বিচারে সরকারকে আলটিমেটাম দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। 

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সরকার হাদি হত্যার বিচারের কোনো রূপরেখা দেয়নি। সরকার কতদিনের মধ্যে আসামিকে ফিরিয়ে আনবে এবং এ হত্যার বিচার করবে, সে বিষয়ে জানতে চায় ইনকিলাব মঞ্চ। যদি আগামী শুক্রবারের মধ্যে সুনির্দিষ্ট তথ্য, সময়সীমা না দিতে পারে; আমরা বাংলাদেশের জনগণকে নিয়ে শাহবাগে লাগাতার কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। এই কর্মসূচি কোথায় গিয়ে শেষ হবে, আমরা জানি না।’

গত ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদিকে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা গুলি করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। তিন দিনের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মারা যান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র।

হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন?

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন?
ছবি: খবরের কাগজ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র প্রয়াত শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। 

শুক্রবার (৫ জুন) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ঘটনার সময়কার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

সেখানে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে এবং কার অনুমতিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই হত্যা মামলার বাদী হলেন, তা অবিলম্বে পরিষ্কার করতে হবে।

পোস্টে মাসুমা হাদি লেখেন, ভাইয়ের মামলার বাদী হওয়া নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে চালানো হয়েছে, যেসব বিষয়ে তিনি এখনো মুখ খোলেননি শুধু ভাইয়ের কথা ভেবে। তবে দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামলার বাদী হওয়া নিয়ে যে ‘নোংরামি’ চলছে, তার প্রেক্ষিতে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।

মাসুমা হাদি উল্লেখ করেন, ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়েই তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান এবং এক মুহূর্তের জন্যও ভাইয়ের পাশ থেকে সরেননি। তার প্রশ্ন ‘প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে স্বাক্ষর (সাইন) নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের স্বাক্ষর দেবে কেন?’ এ বিষয়ে তাকে বোঝানো হয়েছিল যে, ওমর (ওসমান হাদির ভাই) এর কাছে পুলিশ গিয়েছিল এবং তিনি চিকিৎসার ব্যস্ততার কারণে পরে বিষয়টি দেখবেন বলেছিলেন। মাসুমা হাদি বলেন, ‘এ ধরনের ফৌজদারি মামলায় বাদীর স্বাক্ষর আগে বা পরে নেওয়া নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই, এবং পুলিশ চাইলে স্বপ্রণোদিত হয়েও আইনি ব্যবস্থা নিতে পারতো।’

তৎকালীন বিভীষিকাময় পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে মাসুমা হাদি লেখেন, একই রিকশায় দুই ভাই থাকায় ওসমান গণির (হাদি) রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত হয়ে পড়েছিলেন। বুলেট আরেকটু এদিকে লাগলে ওমরও সেদিন মারা যেতে পারতেন। ওসমান হাদিকে যেদিন সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়, সেদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে নিজের পোশাক ও হাতের ঘড়ি থেকে ভাইয়ের রক্তের দাগ পরিষ্কার করেন।

এসময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জাবের যদি আমাদের নলছিটির ছেলে না হতো, তাহলে কোনো প্রশ্নই থাকত না। কারণ ওসমান গণির সঙ্গে দীর্ঘদিন যারা চলাফেরা করেছেন, তারা জানেন তার জীবনে তার ছোট আপুর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সেই ছোট আপুর সঙ্গে পরামর্শ না করে কার অনুমতিতে জাবের মামলার বাদী হলো এটি পরিষ্কার করতে হবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওমরের লাইফস্টাইল নিয়ে চলা ট্রলিংয়ের জবাবে মাসুমা হাদি জানান, ওমর যে ঘড়ি পরেন তা পাঁচ বছর আগে ১৭ হাজার টাকায় কেনা। এছাড়া ২০১৬ সালে তিনি ৩০ হাজার টাকার ব্লেজার এবং ৭০ হাজার টাকার মোবাইল ব্যবহার করতেন। কাউকে না জেনে অযথা ট্রল না করার অনুরোধ জানান তিনি।

চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে অনেকেই দায়িত্ব নিতে চাইলেও পরিবার সায় দেয়নি। সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে থাইল্যান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। পরে সরকার বিষয়টি জানার পর দায়িত্ব নেয় এবং দ্বিতীয় দফায় সিঙ্গাপুরে কাগজপত্র পাঠালে তা গ্রহণ করা হয়। এরপরই ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।’

রাজু/রিফাত/

রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে দেশের রাজনীতি এক ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য চারদিকে সুপরিকল্পিত ও গভীর চক্রান্ত চলছে।’

শুক্রবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যমে এখনকার রাজনীতিতে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রহনন করে সমাজের কাছে, রাজনীতির কাছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের হীন প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি মূলত রাজনীতিকে ধ্বংস করার একটি চক্রান্ত এবং এটি সুস্থ রাজনীতির জন্য কোনো শুভ লক্ষণ নয়।’

বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ব্যাখ্যা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি সম্পর্কে অনেকেই অনেক রকম চিন্তা করেন। কিন্তু বিএনপির মূল চরিত্র হচ্ছে এটি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়। বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘একটা বড় আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের পর আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আজ গণতন্ত্রকে বিপদে ফেলার চেষ্টা শুরু হয়েছে। সবকিছুকে ভেঙে ফেলা এবং মস্তহীন করার মধ্য দিয়ে একটি নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতির মধ্য দিয়ে একটি সরকার গঠন করতে পেরেছি। এখন এই সরকারের দায়িত্ব হবে দ্রুততার সঙ্গে এই চক্রান্তকে চিহ্নিত করে সঠিক খাতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা।’

স্মরণ সভায় প্রয়াত নেতাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা ভাইয়েরা এমন এক সময়ে রাজনীতি করেছেন যখন রাজনীতিতে এথিক্স, মোরালিটি ও মূল্যবোধ ছিল। তারা সবসময় জনগণের কল্যাণ, মানুষের সমস্যার সমাধান এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে গেছেন।’

রিফাত/

হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফারের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নোয়াখালীর হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড়দেইল গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

অভিযোগ তোলা ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা মোছলেহ উদ্দিনের ছেলে।

সম্প্রতি তিনি ফেসবুক লাইভে এসে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে নোয়াখালী-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর কাছে তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন। আবদুল গাফফার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হান্নান মাসউদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।

ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হান্নান, রিফাত ও মাহিমকে সেফ হোমে রেখে আমি বাঁচিয়েছি। তখন তাদের ভিডিওবার্তা থেকে সব কাজ আমি করে দিতাম। হাতিয়ার রাজনীতিতে তাকে আমিই প্রতিষ্ঠিত করেছি। তার কারণে হান্নানের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার রাজনৈতিক গার্ডিয়ান হিসেবে ৫ আগস্টের পর দেড় মাস আমি তার সঙ্গে ছিলাম। যার কারণে তার অনেক কিছু আমি জানি।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর তিনি নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিন কোটি টাকা দাবি করেন। তখন আমি এতে বাধা দিই।’

গাফফার অভিযোগ করে বলেন, ‘হান্নানের তিন কোটি টাকা দাবির এ ঘটনা গত বুধবার (৩ জুন) গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খানকে জানাই। পরে এ নিয়ে তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। এরপর আমি রাশেদ খানের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি আমার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করি। এ ঘটনার পর থেকে হান্নান মাসউদ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে তার অনুসারীরা আমাকে ফেসবুকে নানা ধরনের হুমকি ও গালাগাল দিতে থাকে। আমাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি হান্নান মাসউদকে জানাই। তিনি বলেন, ওই সব লোকজন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা তার কথা শোনে না। তারা যা করার করুক।’

ছাত্রদল নেতা গাফফারের দাবি, ‘চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁসের পর হান্নানের যোগসাজশে তার অনুসারীরা আমার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ওই সময় হামলাকারীরা আমাদের ভবনের একটি জানালা ভাঙচুর করে এবং প্রধান ফটকে হামলা চালায়। পরে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে চলে যায়। আমার বৃদ্ধ মা জান্নাত আরা বেগম (৬০) ও বাবা মোছলেহ উদ্দিন (৬৯) একাই বাড়িতে থাকেন। তারা এখনও ভীতসন্ত্রস্ত। মা-বাবা বলছেন, আমি যেন আর কোনো বক্তব্য না দিই। আবারও তারা বাড়িতে হামলা করতে পারে।’

হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে তিন কোটি টাকা দাবির স্ট্যাটাস দেওয়ায় গত দুই দিন ধরে ছাত্রদল নেতা গাফফারকে প্রকাশ্যে হান্নান মাসউদের অনুসারী এনসিপির নেতা-কর্মীরা হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। যারা হুমকি দিয়েছে, তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’

হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল তিবরিজ বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা গাফফার দৃঢ়ভাবে বলছে, এটা এনসিপির নেতা-কর্মীরা করেছে। তাহলে আমরা ধরে নেব, তারা নিজেরাই ভাইরাল হওয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় এমপি মুঠোফোনে আমাকে বিষয়টি অবহিত করার পর আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমার নিজের বাড়িতে হামলা হয়। আমি সেগুলোই সামাল দিতে পারি না, আরেকজনের বাড়িতে হামলা করব কেন? পুরো বিষয়টি একটি সাজানো নাটক, যাতে আমাকে হেয় করা যায়। চেষ্টা করে যাক, দেখা যাক তারা কী করতে পারে।’

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ‘গ্রামের বাড়িতে একতলা ভবন। ওই ভবনের দক্ষিণ পাশে অন্ধকার। ওই দিক থেকে কেউ একজন ঢিল মেরেছে। ইটের টুকরা এসে পড়লে জানালার একটি অংশ ভেঙে যায়। কে মারছে, কাউকে দেখা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মজনু/রিফাত/