নেতারা সাধারণত মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন! তাদের জায়গা অন্য কেউ দখল করে নিল কি না, এ উদ্বেগ তাদের প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়ায়! তাদের জনপ্রিয়তাকে কেউ ছাপিয়ে গেল কি না, এ আশঙ্কা তাদের নিদ্রাহীনতার কারণ বৈকি!
আমাদের দেশে রাজনীতির বাজারে চলে চাটুকারিতার চাহিদা, জোগানের খেলা! চাহিদার চেয়ে জোগান অনেক বেশি। অর্থাৎ, কৃপা চাওয়ার লোক অনেক বেশি! অর্থনীতির পরিভাষায়, চাটুকারিতা এখন একটি ‘ফ্রি গুড’! সরকারি ‘খেতাব’ কিংবা ‘পদ’ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় কেউ জিতছেন, কেউ হারছেন! তবে জেতার মোক্ষম উপায় হলো নিজের নীতি জলাঞ্জলি দিয়ে ‘চ্যাম্পিয়ন চাটুকার’ হয়ে ওঠা!
রাজনৈতিক চাটুকারিতার স্তর এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে নীতিবোধ আর আত্মসম্মানজ্ঞান এখন দুষ্প্রাপ্য! তাই ইদানীং সবকিছুই যেন নিম্নগামী, অর্থাৎ ‘রেস টু দ্য বটম’! এভাবে হয়তো কিছু সময় দলের ওপর কর্তৃত্ব করা যায়, কিন্তু সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদি কোনো ফায়দা হয় না। দল বা সংগঠনের ভাবনাচিন্তায় স্থবিরতা আসে, নতুন কোনো সৃজনশীল প্রস্তাব নিয়ে কেউ আসে না। নেতাদের হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মেলানোই বাকিদের অভ্যাসে পরিণত হয়! দল যদি কারও ‘পরিচয়’ কিংবা পারিবারিক ব্যবসা হয়ে যায়, তখন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য নেতা ‘চাটুকারপ্রিয়’ হয়ে ওঠেন! এমনকি তিনি হয়তো ‘ফ্যাসিস্ট’ হয়েও উঠতে পারেন! আর সে সুযোগ সুবিধাবাদী, মতলববাজ ব্যক্তিরা সানন্দে গ্রহণ করে। প্রশংসাকারীর চেয়ে আজকাল যেন মোসাহেবির সংখ্যা অনেকটাই বেশি! আত্মসম্মান ও আত্মপরিচয়বোধের অভাব আমাদের ক্রমশ নীতিগত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে! এর থেকে নিষ্কৃতি মিলবে কবে, কীভাবে?
আসিফ আল মাহমুদ
ফ্রিল্যান্স রাইটার ও কলামিস্ট
পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম ৪২০২
[email protected]