উমরা হজের মতো নয়; এটা ধর্মীয় সফর। অন্যান্য ভ্রমণে গেলে বাজেটের ওপর যেমন থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য সুবিধা নির্ভর করে, উমরাও তেমন। উমরাযাত্রীদের প্রতি অনুরোধ, যার মাধ্যমে উমরায় যাচ্ছেন, তার কাছ থেকে প্যাকেজ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে চুক্তি করুন এবং এজেন্সি মালিকরা, যাত্রীকে উমরা ভ্রমণ সম্পর্কে পরিপূর্ণ স্বচ্ছ ধারণা দিয়ে সফর শুরু করাবেন।
টিকিট কাটা থেকে শুরু করে, ভিসা, হোটেলে অবস্থানসহ খাবার—এ সফরের সবকিছু অবস্থান ও মানের ওপর নির্ভরশীল। টিকিট দুই ধরনের—বিজনেস এবং ইকোনমি। দুইটার খরচ দুই রকম। দিন বা সপ্তাহ তথা সময়ভেদে দামও কম-বেশি হয়। উমরার ভিসা সংগ্রহ সহজ। এটার চার্জ মোটামুটি নির্ধারিত। মক্কা-মদিনায় থাকা নিয়ে অনেক-উমরাযাত্রী বিভ্রান্ত হন। মসজিদে হারামাইনের কাছে-দূরে অবস্থানের কারণে হোটেলের খরচের পরিমাণ কম-বেশি হয়। খারাপ হোটেল কাছে হলেও দাম বেশি। আবার ভালো হোটেল দূরে হলেও দাম কম। মক্কায় হোটেল ফাইভ স্টার হওয়া মুখ্য নয়, মুখ্য হলো হারামের কাছে বা দূরে থাকা। মক্কায় যেহেতু অনেক মানুষের সমাগম হয়, সেজন্য হোটেলের রুম ছোট হয় এবং বেশি সিট থাকে—যেটা অন্য অনেক দেশের সঙ্গে মেলালে চলবে না।
মদিনায় হোটেলের ব্যাপারটি দুই ধরনের—মসজিদে নববির আশপাশের হোটেল এবং এর বাইরে সাধারণ হোটেল। সেন্ট্রালে ভাড়া বেশি, বাইরে কম। মক্কা-মদিনার হোটেলে এক রুমে চার-পাঁচ বা ছয় বেড থাকে। কেউ বেশি খরচ করলে একাও এক রুমে থাকতে পারবেন।
খাবার নিয়ে অনেকের অভিযোগ থাকে। সাধারণত উমরার সময়ের খাবার অনেকের পছন্দ হবে না। কারণ মাছ-মাংস দীর্ঘদিন ফ্রিজিং করে রাখার ফলে স্বাদ অটুট থাকে না।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—উমরাযাত্রীরা সৌদিতে পৌঁছার পর সৌদি কোম্পানির তত্ত্বাবধানে চলে যান। বিমানবন্দর থেকে যে গাড়িতে করে হোটেলে যান, গাড়িগুলো সৌদি কর্তৃপক্ষের। বাংলাদেশের এজেন্সি বা আমাদের রাষ্ট্রেরও নয়। সুতরাং গাড়ি সময়মতো না এলে বিরক্ত হওয়ার কারণ নেই। এটা সারা বিশ্বের উমরাযাত্রীদের বেলায়ও একই।
সর্বোপরি আল্লাহর ঘরের মেহমানদের মনে রাখতে হবে—এটা ধর্মীয় ভ্রমণ, কিছুটা কষ্ট হবেই। কষ্ট সহ্য করার মতো মানসিকতা নিয়েই এ যাত্রা করতে হবে। তবে উমরাযাত্রী হিসেবে যতটুকু অধিকার রয়েছে, সেটা বুঝে নিতে হবে। উমরাযাত্রী ও এজেন্সি মালিক উভয়পক্ষ মিলেমিশে পথ চললে কোনো সমস্যা থাকবে না।
লেখক: সভাপতি, হজ্জ এজেন্সীস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ