অন্যায়ভাবে মানব হত্যা এমন জঘন্য অপরাধ, যা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিন-মুসলমানের দ্বারা কখনোই ঘটতে পারে না। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘এটা কোনো মুমিনের কাজ হতে পারে না যে, সে ইচ্ছাকৃত কোনো মুমিনকে হত্যা করবে। ভুলবশত হয়ে গেলে সেটা ভিন্ন কথা।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৯২)।
হত্যাকারী আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত। হত্যাকারীর জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। অন্যায়ভাবে একজন মানুষ হত্যা করা গোটা মানবজাতি হত্যা করার সমতুল্য আখ্যা দিয়ে আল্লাহ ঘোষণা করেন, ‘আমি বনি ইসরাইলের প্রতি বিধান দিয়েছিলাম, কেউ যদি হত্যা অথবা পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টির অপরাধ ছাড়া (অন্যায়ভাবে) কাউকে হত্যা করে, তবে সে যেন গোটা মানবজাতিকে হত্যা করল। আর যে ব্যক্তি কারও প্রাণ রক্ষা করে, সে যেন গোটা মানবজাতির প্রাণ রক্ষা করল।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৩২)।
একজন মুমিনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার গুনাহ ও অপরাধ কতটা গুরুতর, তা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস পড়লেই বোঝা যায়। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনকে হত্যা করা আল্লাহর কাছে গোটা পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার চেয়ে গুরুতর।’ (নাসায়ি, হাদিস: ৩৯৮৮)। অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা হারাম। এটি কুফুরি কাজ। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সেই প্রাণ হত্যা করো না, যার হত্যা আল্লাহ হারাম করেছেন।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৩৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘মুসলমানকে গালি দেওয়া পাপাচার, তার সঙ্গে লড়াইয়ে লিপ্ত হওয়া কুফর।’ (বুখারি, হাদিস: ৪৮)। একজন মুসলমানের সঙ্গে লড়াইয়ে লিপ্ত হওয়া যদি কুফর হয়, বর্তমানে আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা নারকীয় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে—তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
লেখক: আলেম ও শিক্ষক