রাসুলুল্লাহ (সা.) স্ত্রীগণের সঙ্গে খুবই বন্ধুসুলভ আচরণ করতেন। অভ্যাস-আচরণের এ বৈশিষ্ট্য আজীবন তিনি বজায় রেখেছেন। রমজান মাসেও বজায় থাকত তাঁর এ আচরণ-শুভ্রতা। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশ দিনে ইতেকাফ পালন করতেন। আমি তার জন্য একটি তাঁবু টানালাম, তিনি ফজরের নামাজ আদায় করে তাতে প্রবেশ করলেন। হাফসা তাঁবু টানানোর জন্য অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি দিলেন এবং হাফসা আরেকটি তাঁবু টানালেন। জয়নব বিনতে জাহাশ দেখতে পেয়ে তার নিজের জন্য আরেকটি তাঁবু টানালেন। সকালে রাসুলুল্লাহ (সা.) অনেকগুলো তাঁবু দেখে বললেন, এগুলো কি? তাকে বিস্তারিত জানানো হলে তিনি বললেন, তোমরা (সাহাবিদের উদ্দেশ্যে) কি একে পুণ্যের মনে করো? সে মাসে তিনি ইতেকাফ পরিত্যাগ করলেন, অতঃপর (কাজাস্বরূপ) শাওয়ালের দশ দিন ইতেকাফ করলেন।’ (বুখারি, হাদিস নং- ২০৪১)।
আয়েশা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ইতেকাফকালীন আমার কাছে মাথা এগিয়ে দিতেন, আমি তার কেশবিন্যাস করে দিতাম। মানবিক প্রয়োজন ছাড়া তিনি গৃহে প্রবেশ করতেন না।
অন্য এক রেওয়ায়েতে আছে, ‘ইতেকাফকালীন তিনি তার মাথা আমার কাছে এগিয়ে দিতেন। আমি হায়েজা অবস্থাতেও তা ধৌত করে দিতাম। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সম্পর্ক ও প্রীতির এর চেয়ে উত্তম নিদর্শন রয়েছে বলে আমি অবগত নই।’ (মুসলিম, হাদিস নং- ২৯৭)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে নানাভাবে তার স্ত্রীগণকে শিক্ষাদান করতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনার কী মত, আমি যদি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জ্ঞাত হই, তা হলে আমি কী দোয়া পাঠ করব? রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন, এ দোয়া পাঠ করবে— বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি। বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল সম্মানিত, আপনি ক্ষমা পছন্দ করেন। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন।’ (তিরমিজি : হাদিস নং- ৩৫১৩)
রোজা অবস্থাতেও রাসুল (সা.) তাঁর স্ত্রীগণকে চুম্বন করতেন, সহবাস ছাড়া ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রমজান মাসেও রাসুলুল্লাহ (সা.) চুম্বন করতেন।’ (বুখারি, হাদিস নং- ১৮২৭)। অপর রেওয়ায়েতে আছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানে রোজা রেখে স্ত্রীকে চুম্বন করতেন।’
রাসুলুল্লাহ (সা.) তার পরিবারকে রমজানের শেষ দশ দিনে রাতে জাগিয়ে দিতেন। (বুখারি, হাদিস নং- ২০২৪, মুসলিম, হাদিস নং- ১১৭৪)। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর স্ত্রীগণকে তাঁর সঙ্গে ইতেকাফ পালনের অনুমতি প্রদান করতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ দশ দিনে ইতেকাফের কথা উল্লেখ করলেন। আয়েশা (রা.) অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দিলেন। হাফসাও (রা.) আয়েশার (রা.) জন্য অনুমতির কথা বলে অনুমতি নিলেন।’ (বুখারি, হাদিস নং- ২০৪১)। রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানে সম্মিলিতভাবে তাঁর স্ত্রীগণের সঙ্গে ইবাদত পালন করতেন। রমজানের কিছু কিছু রাতে তাঁর সঙ্গে স্ত্রীগণ জামাতে নামাজ আদায় করতেন। (আবু দাউদ, হাদিস নং- ১৩৭৫; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং- ১৩২৭)।
লেখক : আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক