কোরবানি একটি মহান ইবাদত, যা সামর্থ্যবান মুসলিমদের উপর ওয়াজিব। কিন্তু অনেক সময় প্রশ্ন ওঠে, যদি কারও কোরবানি করার সামর্থ্য না থাকে অথবা তিনি ঋণের বোঝায় জর্জরিত থাকেন, সেক্ষেত্রে ঋণ করে কোরবানি করা জায়েজ হবে কি না। এই বিষয়টি নিয়ে ইসলামি শরিয়তে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।
প্রথমত, আমাদের বুঝতে হবে, কোরবানি মূলত সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর ওয়াজিব। অর্থাৎ, যার কাছে কোরবানির দিনগুলোতে তার মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর পর নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ (নিসাব পরিমাণ) অবশিষ্ট থাকে, তার উপর কোরবানি করা আবশ্যক। এই নিসাব পরিমাণ সম্পদ হতে পারে নগদ টাকা, সোনা-রুপা, ব্যবসার পণ্য অথবা অন্য কোনো সম্পদ।
ঋণ করে কোরবানি কখন জায়েজ
ইসলামি ফিকহের কিতাবসমূহে এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রখ্যাত ফিকহ গ্রন্থ বাদায়েউস সানায়ে’ (৪/২১৬) অনুযায়ী, যে ব্যক্তির উপর কোরবানি ওয়াজিব, তিনিও যদি ঋণের টাকা দিয়ে কোরবানি করেন, তাহলে তার কোরবানি আদায় হয়ে যাবে। এর অর্থ হলো, কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত পূরণ হওয়ার পর, যদি কোনো ব্যক্তি তার হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ না থাকার কারণে ঋণ করে কোরবানি করেন, তবে তার এই ইবাদতটি সহিহ হবে এবং ওয়াজিব আদায় হবে। তবে, এই ঋণের বোঝা পরিশোধ করার সামর্থ্য তার থাকতে হবে, যাতে করে পরবর্তীতে তা তার জন্য বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়। এমন ঋণ করে কোরবানি করা যাবে, যা পরিশোধ করার সক্ষমতা ব্যক্তির রয়েছে এবং যা তার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে না।
সুদের ওপর ঋণ নিয়ে কোরবানি
তবে এই মাসআলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সুদের ওপর ঋণ নিয়ে কোরবানি করা যাবে না। ইসলামে সুদকে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। সুদের লেনদেন একটি বড় গুনাহ। তাই সুদের ভিত্তিতে কোনো ঋণ গ্রহণ করে কোরবানি করা শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নাজায়েয। এমন কোরবানি দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব নয়, বরং তা আরও গুনাহের কারণ হবে। ইসলামি শরিয়তে সুদভিত্তিক যেকোনো লেনদেন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ, আর কোরবানি একটি বিশুদ্ধ ইবাদত, যা সুদের মতো অপবিত্র অর্থ দ্বারা সম্পন্ন করা যায় না।
কোরবানির মূল উদ্দেশ্য
কোরবানি করার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁর নির্দেশ পালন করা। এটি ত্যাগের একটি নিদর্শন। তাই কোরবানি করার ক্ষেত্রে হালাল উপার্জনের অর্থ ব্যবহার করা অত্যাবশ্যক। যদি কোনো ব্যক্তি কোরবানি করতে সামর্থ্যবান না হন, তাহলে তার উপর কোরবানি ওয়াজিব হয় না। এক্ষেত্রে তার জন্য ঋণ করে কোরবানি করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে যদি তিনি ঋণ করে কোরবানি করতে চান এবং সেই ঋণ হালাল পন্থায় গ্রহণ করা হয় ও তা পরিশোধের সামর্থ্য থাকে, তাহলে সেটি জায়েজ হবে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক