ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বাজেট অধিবেশন বসছে আজ দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ জনগণের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল মধুখালীতে জাল সনদে মাদরাসায় চাকরির অভিযোগ তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর গাইবান্ধায় ট্রেন থেকে পড়ে পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু দৈনিক খবরের কাগজের শাকিলা ববিসহ সিলেটের ৬ সাংবাদিকে প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান নড়াইলে বাস উল্টে আহত ১৫ দক্ষিণ এশিয়ার মুকুট হারাল বাংলাদেশ নড়াইলে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২ সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল ১২০০ ফুট লম্বা পতাকা নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের র‍্যালি কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন
Nagad desktop

চোখের হেফাজত মানে ঈমানের হেফাজত

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৫, ০৭:০০ পিএম
চোখের হেফাজত মানে ঈমানের হেফাজত
প্রতীকী ছবি

আল্লাহতায়ালার দেওয়া নেয়ামতের মধ্যে একটি বড় নেয়ামত হলো চোখ। চোখের মাধ্যমেই আমরা আল্লাহতায়ালার সৃষ্টিসমূহ দেখি, তারপর চিন্তা ও উপলব্ধি করে জ্ঞান অর্জন করি। ইমাম কুরতবি (রহ.)-এর মতে, ‘চোখ অন্তরে কোনো কিছু প্রবেশের বড় দরজা।’ অর্থাৎ চোখ হলো মানবাত্মার চিন্তার খোরাকের প্রবেশদ্বার। অন্তরে প্রশান্তি আর পরকালে সুখময় জীবনলাভের জন্য চোখের যেমন বিকল্প নেই, তেমনি বড় বড় পাপ কাজের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও চোখের দৃষ্টির বিকল্প নেই। সাধারণত বড় বড় পাপ কাজ সম্পাদনের প্রাথমিক ধাপ হলো চোখ। 


পশ্চিমা সংস্কৃতিকে অন্ধ অনুকরণ করতে গিয়ে মানুষ দিন দিন তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ হারিয়ে ধ্বংসের দিকে আপতিত হচ্ছে। তাই সমাজকে এই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে বাঁচাতে দৃষ্টির হেফাজতের বিকল্প নেই। দৃষ্টির হেফাজতের মাধ্যমেই একজন মুসলমান প্রকৃত মুমিনে পরিণত হতে পারে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। (সুরা নূর, ৩০)


দৃষ্টির মাধ্যমে শয়তান মানুষকে পথভ্রষ্ট করে দিতে যেমন উদ্ধত, তেমনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাও দৃষ্টির হেফাজতের মাধ্যমে মানুষের অন্তরে প্রশান্তি দান করতে সর্বদা প্রস্তুত। দৃষ্টির হেফাজতের মাধ্যমেই আল্লাহতায়ালা মানুষের অন্তরে নূর সৃষ্টি করেন। আর এ নূরের কারণে একজন ব্যক্তির ইলমের পথ খুলে যায় এবং ইলমের সব উপকরণ তার জন্য সহজ হয়ে যায়। এটি মানুষের অন্তরে তৃপ্তি, আনন্দ এবং উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। আমরা যখনই বেগানা কোনো নারী বা পুরুষের দিকে দৃষ্টিপাত করি তখন আমাদের মনে অস্থিরতা কাজ করে। যার কারণে আমরা কাজে-কর্মে মনোযোগ দিতে পারি না, রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারি না। দৃষ্টির হেফাজতের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা অন্তরের এসব অশান্তি, ছটফটানি, আফসোস থেকে মানুষকে হেফাজত করে। 


চোখের হেফাজত মানুষকে জাহান্নাম থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। কেননা কুদৃষ্টি মানুষকে অশ্লীল কাজের দিকে ধাবিত করে। দৃষ্টির হেফাজত দ্বারা মানুষের দূরদর্শিতা বৃদ্ধি পায় এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সক্ষম হয়। এ সম্পর্কে আল্লামা কিরমানী (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি তার বাহ্যিক দিকসমূহকে সুন্নাত দ্বারা সাজায়, আর সব সময় অন্তর দিয়ে আল্লাহর কথা চিন্তা করে, নিষিদ্ধ বস্তু হতে চোখকে হেফাজত করে, প্রবৃত্তিকে অন্যায় কর্ম হতে বিরত রাখে এবং হালাল খায়- সে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে কখনোই অক্ষম হবে না। অর্থাৎ, নিজেকে কুপ্রবৃত্তি থেকে দূরে রাখতে দৃষ্টির হেফাজতের গুরুত্ব অপরিসীম। 


দৃষ্টি সংযত নিয়ে আমাদের সমাজে নারীদের মধ্যে কিছু ভুল ধারণা আছে। অনেকে মনে করেন আল্লাহতায়ালা কেবল পুরুষদেরকেই দৃষ্টি সংযত করার নির্দেশ দিয়েছেন। কাজেই একজন নারীর বেগানা পুরুষের দিকে তাকানোকে তারা তেমন ক্ষতিকর মনে করেন না। অনেক পর্দাশীল নারীদের অন্তরেও এ ভুল ধারণা লালিত আছে। কিন্তু আল্লাহতায়ালা নারী-পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এ কথা আমরা অনেকেই জানি না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, মু’মিনা নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে। (সুরা নূর, ৩১) 


দৃষ্টি সংযত রাখা মানে অন্ধ হয়ে চলাকে বুঝায় না, বরং হারাম বস্তুকে উপেক্ষা করাই হলো দৃষ্টি সংযত রাখা। চোখের মাধ্যমেই যেহেতু ফিতনার আশঙ্কা বেশি থাকে, সেহেতু আমাদের দৃষ্টিকেই প্রথমে সংযত রাখতে হবে। আর দৃষ্টি সংযত রাখার প্রধান উপায় হলো দৃষ্টি অবনত রাখা। হারাম বা ফিতনার দিকে নিয়ে যায় এমন বস্তু থেকে সর্বদা দৃষ্টি অবনত রাখতে হবে। আর যদি অনিচ্ছা সত্ত্বেও সেসব বস্তুর প্রতি দৃষ্টি চলে যায়, তা হলে সাথে সাথেই তা ফিরিয়ে নিতে হবে। দ্বিতীয়বার যেন মুখ ফেরানো না হয়। কেননা দ্বিতীয়বারের তাকানোতে শয়তানের কুমন্ত্রণা থাকে। আমাদেরকে যখনই শয়তান দৃষ্টির খিয়ানত করার কুমন্ত্রণা দেয়; সাথে সাথেই আল্লাহর জিকিরে নিমগ্ন থাকতে হবে। কারণ আল্লাহর জিকির মানুষকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে হেফাজত করে এবং অন্তরে প্রশান্তি দান করে। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহকে ভয় করে, শয়তানের কোনো দল যখন তাদের ঘিরে ধরে, তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। সুতরাং তাদের অনুভূতি চলে আসে।’ (সুরা আরাফ, ২০১) 


পরিশেষে, দৃষ্টিকে সংযত রাখতে হলে আমাদেরকে বিশুদ্ধচিত্তে নিয়ত করতে হবে। প্রত্যেক কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আমরা যখন পাপ থেকে দূরে থাকার নিয়ত করি, আল্লাহতায়ালা তখন আমাদের ওপর খুশি হন। আল্লাহ ফেরেশতাদের বলেন, আমার বান্দা যখন পাপ করার ইচ্ছা করে, তখন তোমরা তা আমলনামায় লিখো না যতক্ষণ না সে ওই পাপটি করে। যদি সে তা করে সমান পাপ লিখ। আর যদি সে তা আমার কারণে ত্যাগ করে, তা হলে তার এই পাপটি নেকি হিসেবে লিখো। আর যদি বান্দা নেকি করার ইচ্ছা করে কিন্তু সে ওই নেকি করেনি, তার জন্য তা নেকি হিসেবে লিখো। অতঃপর যদি সে নেকি করে তা হলে তার জন্য ওই নেকি দশগুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত লিখো। (বুখারি ও মুসলিম)। হতে পারে দৃষ্টি সংযত রাখার ইচ্ছা পোষণ এবং তা বাস্তবে লালন করার মাধ্যমেই আল্লাহতায়ালা আমাদের নেকির পরিমাণ দশগুণ থেকে সাতশ গুণ বাড়িয়ে দেবেন। 

 

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে। 

আজ ৭ জুন ২০২৬, রবিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০১ মিনিট

আসর

৪.৩৬ মিনিট

মাগরিব

৬.৪৭ মিনিট

 

এশা

৮.১৩ মিনিট

ফজর (৮ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?
সাহাবিরা তার সেই রূপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠতেন। ছবি: সংগৃহীত

যার হাঁটার ভঙ্গিতে ছিল এক অপার্থিব আভিজাত্য, যার কাঁধের প্রশস্ততা আর কানের লতি ছুঁয়ে যাওয়া ঘন বাবরি চুলে মুগ্ধ হতো গোটা আরব–কেমন ছিল সেই অনন্য রূপের মহিমা? আমরা অনেকেই জানি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে সুদর্শন মানব। কিন্তু আপনি কি জানেন, পুরুষদের জন্য লাল পোশাক পরা নিয়ে সাধারণ একটি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, জীবনের এক বিশেষ মুহূর্তে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এক অনুপম লাল পোশাকে দেখা গিয়েছিল? কী ছিল সেই লাল পোশাকের রহস্য? চলুন, আজ তাঁর শারীরিক গঠন ও পোশাকের সেই অজানা নান্দনিক অধ্যায়ে প্রবেশ করি।

দেহের গঠন ও অনন্য অবয়ব
সাহাবি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) এবং বারা ইবনে আযিব (রা.)-এর নিখুঁত বর্ণনা থেকে জানা যায়, প্রিয় নবি (সা.) ছিলেন উজ্জ্বল গৌরবর্ণ বা ফর্সা ত্বকের অধিকারী। তাঁর শারীরিক অবয়ব ছিল অসম্ভব আকর্ষণীয় এবং সুসামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি খুব বেশি দীর্ঘকায় ছিলেন না, আবার খাটোও ছিলেন না; বরং এক নিখুঁত মধ্যমাকৃতির অধিকারী ছিলেন। তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী অংশ ছিল তুলনামূলক প্রশস্ত, যা তাঁর অবয়বে এক চিরন্তন পুরুষোচিত দৃঢ়তা ফুটিয়ে তুলত। তাঁর মাথার চুলগুলো একদম সোজা কিংবা খুব বেশি কোঁকড়ানো ছিল না, বরং কানের লতি পর্যন্ত ঝুলন্ত সেই ঘন কালো চুল মোবারক তাঁর সৌম্য চেহারায় এক মায়াবী ও রাজকীয় রূপ দান করত।

চলনবলনে আভিজাত্য ও বিনয়
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাঁটার মধ্যেও একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেত। তিনি অলসভাবে বা অহংকার নিয়ে পা ফেলতেন না, বরং পথ চলার সময় কিছুটা সামনের দিকে ঝুঁকে চলতেন। সাহাবিদের ভাষায়, তাঁকে দেখে মনে হতো তিনি যেন কোনো উঁচু পাহাড় বা ঢালু জায়গা থেকে নিচের দিকে নামছেন। এই চলনভঙ্গি তাঁর অতুলনীয় কর্মোদ্যম ও বিনম্র ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ছিল।

লাল পোশাকের সেই অজানা রহস্য
হাদিসের পাতায় একটি চমৎকার বিবরণ মেলে, যেখানে সাহাবি বারা ইবনে আযিব (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে লাল রঙের লুঙ্গি ও চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখেছিলেন এবং মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর কাউকে কখনো দেখিনি।’ অথচ ইসলামের সাধারণ নিয়মে পুরুষদের জন্য একদম খাঁটি বা টকটকে লাল পোশাক পরিধান করা নিষেধ।

আরো পড়ুন: কেমন ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মানুষের অবয়ব?

 
 

ইসলামে পুরুষদের জন্য যে লাল রঙের পোশাকের ব্যাপারে অনুৎসাহিত করা হয়েছে, তা মূলত নিরেট, গাঢ় বা উজ্জ্বল লাল । রাসুলুল্লাহ (সা.) যে চাদর ও লুঙ্গি পরেছিলেন, তা কিন্তু একক কোনো লাল রঙের ছিল না। সেটি ছিল তৎকালীন আরবের ঐতিহ্যবাহী ইয়েমেনি ঘরানার লাল এবং অন্য রঙের মিশ্রণে তৈরি চমৎকার ডোরাকাটা সুতি পোশাক। এই নান্দনিক পোশাকটি তাঁর উজ্জ্বল গৌরবর্ণের সাথে এমন অপার্থিবভাবে মানিয়ে গিয়েছিল যে, সাহাবিরা তার সেই রূপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠেছিলেন।

(তথ্যসূত্র ও বর্ণনাসূত্র: সহিহ বুখারি,৩৫৫১; মুসলিম, ৬২১০; নাসায়ি, ৫২৩; মুসনাদে আবু ই’আলা,৩৮৩২; শারহুস সুন্নাহ, ৩৬৪০)

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

আলহামদুলিল্লাহ শব্দটি কেন এত শক্তিশালী?

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
আলহামদুলিল্লাহ শব্দটি কেন এত শক্তিশালী?
ছবি: সংগৃহীত

একটুখানি ভাবুন তো, যদি মিরাজের মহিমান্বিত রাতে বিশ্বনবি (সা.) দুধের পাত্রটি না নিয়ে মদের পাত্রটি বেছে নিতেন, তবে আজ আপনার আর আমার ভাগ্যে কী ঘটত? মাত্র একটি সঠিক সিদ্ধান্ত আর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার কারণে এক মহাসংকট থেকে বেঁচে গিয়েছিল গোটা মুসলিম উম্মাহ। আমাদের জীবনে প্রতিনিয়ত পাওয়া হাজারও নেয়ামতের বিপরীতে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা কেবল ভদ্রতা নয়, বরং এক অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব বা ওয়াজিব।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, মানুষ যদি তার দেওয়া নেয়ামতের স্বীকৃতি ও শুকরিয়া আদায় করে, তবে তিনি তার নেয়ামত বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, তোমরা আমাকে স্মরণ করো; আমিও তোমাদের স্মরণ করব। তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও, আর অকৃতজ্ঞ (কৃতঘ্ন) হয়ো না। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫২)

আল্লাহ অন্যত্র আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদেরকে অবশ্যই অধিক দান করব, আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর। (সুরা ইব্রাহীম, আয়াত: ৭) এমনকি জান্নাতিদের শেষ বাক্য বা স্লোগানও হবে, ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ (সব প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য)। (সুরা ইউনুস, আয়াত: ১০)

আল্লাহর প্রতি এই কৃতজ্ঞতা বা 'আলহামদুলিল্লাহ' শব্দের শক্তি কতটা গভীর, তা ফুটে ওঠে মিরাজের রাতের একটি বিশেষ ঘটনায়।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মিরাজের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে মদ ও দুধের দুটি পাত্র আনা হলো। তিনি দুটির দিকে তাকিয়ে দুধের বাটিটি বেছে নিলেন। তা দেখে জিবরাঈল (আ.) বললেন, ‘সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আপনাকে ফিতরাত বা ইসলামের স্বভাবজাত প্রকৃতির দিকে পথ দেখিয়েছেন। আপনি যদি মদের পাত্রটি নিতেন, তবে আপনার উম্মত পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।’ (সহিহ মুসলিম, ১৬৮; সহিহ বুখারি, ৩৩৯৪)

জিবরাঈল (আ.) কিন্তু ‘ধন্যবাদ’ জানাননি, তিনি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছিলেন। কারণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিকও আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। 

যদিও একটি বহুল প্রচলিত বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, আল্লাহর প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ) ছাড়া যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করলে তা বরকতহীন বা অসম্পূর্ণ থেকে যায় ( আবু দাউদ); আধুনিক মুহাদ্দিসগণের (যেমন- ইমাম আলবানী ও শুআইব আরনাউত) সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই সুনির্দিষ্ট হাদিসটির সনদ কিছুটা দুর্বল। তবে এর অর্থ ও মূলভাব কোরআনের অগণিত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। প্রতিটি ভালো কাজের শুরুতে এবং শেষে আল্লাহর প্রশংসা করা মুমিনের চিরন্তন ভূষণ।

দুধের পাত্রটি বেছে নেওয়ার মাধ্যমে রাসুল (সা.) আমাদের জন্য যে পবিত্রতার পথ দেখিয়েছেন, তার মূল ভিত্তিই হলো আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা। জীবনের প্রতিটি ছোট-বড় অর্জনে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলার অভ্যাস আমাদের অহংকারমুক্ত রাখে এবং আল্লাহর আজাব থেকে বাঁচিয়ে নেয়ামতের দুয়ার খুলে দেয়। অনলাইন ও পত্রিকার পাতায় এই সত্যটি আধুনিক পাঠককে নতুন করে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে শেখাবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

রাসুল (সা.) এর খাদ্য তালিকায় কেন দুধ ছিল সেরা

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:২২ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৩১ এএম
রাসুল (সা.) এর খাদ্য তালিকায় কেন দুধ ছিল সেরা
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি জীবনব্যবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিটি সুন্নত, অভ্যাস এবং পছন্দ আমাদের জন্য সর্বোত্তম অনুকরণীয় আদর্শ। মহানবি (সা.) তার পার্থিব জীবনে অত্যন্ত সাধারণ, পবিত্র ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতেন। তিনি কখনো খাবারের বিলাসিতা করেননি, তবে খাবারের গুণগত ও পুষ্টিমানের দিকে তার বিশেষ নজর ছিল।

বিভিন্ন হাদিস, সিরাত ও ঐতিহাসিক বর্ণনা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ খাবার ছিল দুধ। দুধ কেবল একটি সাধারণ পানীয় বা খাবার নয়, এটি একাধারে ক্ষুধা নিবারণ করে এবং তৃষ্ণা মেটায়–এমন অনন্য গুণ পৃথিবীর আর কোনো একক খাবারের মধ্যে নেই। প্রিয় নবি (সা.)-এর প্রিয় খাবার হিসেবে দুধের গুরুত্ব, এর শ্রেষ্ঠত্ব এবং এ সম্পর্কিত কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা আমাদের আধ্যাত্মিক ও শারীরিক উভয় জীবনের জন্য সমান তাৎপর্যপূর্ণ।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা দুধকে মানুষের জন্য একটি চমৎকার, কল্যাণময় ও শিক্ষণীয় নিয়ামত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কীভাবে একটি চতুষ্পদ জন্তুর উদর থেকে, রক্ত ও গোবরের মাঝখান দিয়ে একদম খাঁটি ও সুস্বাদু দুধ উৎপাদিত হয়, আল্লাহতায়ালা সুরা আন-নাহলে সেই অলৌকিক ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার বর্ণনা দিয়েছেন, ‘আর নিশ্চয় চতুষ্পদ জন্তুতে রয়েছে তোমাদের জন্য শিক্ষা। তার পেটের ভেতরের গোবর ও রক্তের মধ্যখান থেকে তোমাদের আমি দুধ পান করাই, যা খাঁটি এবং পানকারীদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যকর।’ (সুরা নাহল, ৬৬)

অন্য এক আয়াতে আল্লাহতায়ালা জান্নাতের চিরস্থায়ী নিয়ামতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘মুত্তাকিদের যে জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত হলো, তাতে রয়েছে নির্মল পানির নহরসমূহ, দুধের ঝর্ণাধারা, যার স্বাদ পরিবর্তিত হয়নি, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সুরার নহরসমূহ এবং আছে পরিশোধিত মধুর ঝর্ণাধারা।’ (সুরা মুহাম্মদ, ১৫)। কোরআনের এই অনুপম বর্ণনা প্রমাণ করে যে, দুধ মানবজাতির জন্য আল্লাহর দেওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ, পবিত্র ও জান্নাতি উপহার।

আরো পড়ুন: যে বিশ্বাস মানুষের জীবনে এনে দেয় অভাবনীয় ৬টি পরিবর্তন?

রাসুলুল্লাহ (সা.) দুধ অত্যন্ত পছন্দ করতেন এবং এটিকে অন্য সব পানীয় ও খাবারের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিতেন। হাদিস শরিফে এসেছে, যখনই মহানবি (সা.)-কে দুধ হাদিয়া দেওয়া হতো, তিনি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে তা গ্রহণ করতেন এবং কখনো তা প্রত্যাখ্যান করতেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) দুধের অনন্য বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন যে, এটি এমন একটি মোবারক খাবার, যা একাধারে খাদ্য ও পানীয় উভয়ের কাজ করে। অন্য সব খাবারের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি বরকতের দোয়া করতেন, কিন্তু দুধের ক্ষেত্রে তিনি একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন।

 সুনানে আবু দাউদ ও তিরমিজি শরিফে বর্ণিত একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা যাকে কোনো খাবার খাওয়ান, সে যেন বলে–হে আল্লাহ! এতে আমাদের বরকত দিন এবং এর চেয়ে উত্তম খাবার আমাদের দান করুন। আর আল্লাহতায়ালা যাকে দুধ পান করান, সে যেন বলে–‘হে আল্লাহ! এতে আমাদের বরকত দিন এবং আমাদের তা আরও বাড়িয়ে দিন’ (উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফিহি ওয়া জিদনা মিনহু)। কারণ, দুধ ছাড়া অন্য কোনো খাবার বা পানীয় আমি দেখি না, যা একই সঙ্গে খাদ্য ও পানীয়ের অভাব পূরণ বা উভয়ের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হতে পারে।’ (তিরমিজি, ৩৪৫৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দুধের প্রতি এই গভীর পছন্দ কেবল পার্থিব জীবনের কোনো সাধারণ অভ্যাসের অংশ ছিল না বরং এটি ছিল তার আত্মিক ও স্বভাবজাত বিশুদ্ধতার প্রতীক। মিরাজের ঐতিহাসিক রাতে যখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঊর্ধ্বাকাশে গমন হয়, তখন বায়তুল মুকাদ্দাসে তার সামনে মদের (তখনো মদ হারাম হয়নি) এবং দুধের দুটি পৃথক পাত্র পেশ করা হয়েছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো দ্বিধা ছাড়াই দুধের পাত্রটি নির্বাচন করেন। তার এই দূরদর্শী ও পবিত্র নির্বাচনের পর জিবরাইল (আ.) বলেছিলেন, ‘সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আপনাকে ফিতরাতের (স্বাভাবিক স্বভাব বা ইসলাম) দিকে পরিচালিত ও হেদায়েত করেছেন। আপনি যদি মদের পাত্রটি গ্রহণ করতেন, তবে আপনার উম্মত পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।’ (বুখারি, হাদিস ৪৭০৯, মুসলিম, হাদিস ১৬৮)

আরো পড়ুন: গোটা পৃথিবীই নামাজের জায়গা,তবে মসজিদ কেন প্রয়োজন?

রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত ঠাণ্ডা এবং তাজা দুধ পান করতে পছন্দ করতেন। অনেক সময় দুধের তীব্রতা বা অতিরিক্ত ঘনত্বের কারণে তিনি খাঁটি দুধের পাত্রে সামান্য ঠাণ্ডা পানি মিশিয়ে পান করতেন। আরব উপদ্বীপে এই মিশ্রণটিকে ‘লাবাং’ বা পাতলা দুধের মতো বলা হতো। এতে করে প্রচণ্ড গরমে দুধ অত্যন্ত সহজে তৃষ্ণা মেটাতে পারত এবং তা দ্রুত হজম হতো।

রাসুলুল্লাহ (সা.) দুধ পানের পর পানির সামান্য ঝাপটা দিয়ে কুলি করে নিতেন এবং মুখ পরিষ্কার রাখার প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতেন। বুখারিতে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুধ পান করার পর পানি চেয়ে নিয়ে কুলি করলেন এবং এর কারণ হিসেবে বললেন, ‘এতে চর্বি (বা স্নিগ্ধতা) রয়েছে।’ (বুখারি, ২১১)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় খাবার দুধের এই পছন্দকে আজকের আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পুষ্টিবিজ্ঞানীরা অকপটে স্বীকার করেছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় দুধকে বলা হয় আদর্শ খাদ্য বা সুপারফুড। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে দুধের যে বহুমাত্রিক উপযোগিতার কথা বলে গেছেন, আজকের ল্যাবরেটরি পরীক্ষা প্রমাণ করেছে যে, দুধের মতো এত বিপুল পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একক তরল খাবার পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পুরো জীবনই ছিল মানবজাতির জন্য এক জীবন্ত মোজেজা ও আদর্শ। তার খাদ্যাভ্যাস কেবল ক্ষুধা নিবারণের স্থূল মাধ্যম ছিল না; বরং তা ছিল সুস্বাস্থ্য, পরিমিতিবোধ ও পবিত্রতার এক চমৎকার ভারসাম্যপূর্ণ উদাহরণ। প্রিয় নবি (সা.)-এর সবচেয়ে প্রিয় খাবার দুধ পানের মাধ্যমে আমরা যেমন শারীরিক পুষ্টি, শক্তি ও মানসিক সতেজতা লাভ করতে পারি, ঠিক তেমনি এটি যদি সুন্নতের অনুসরণের নিয়তে পান করা হয়, তবে তা আমাদের বিপুল সওয়াব ও আধ্যাত্মিক বরকতের অধিকারী করবে। 

লেখক: প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক

 

দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত
প্রার্থনারত মুসলিমের প্রতীকী ছবি। ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

দোয়া শব্দের উৎপত্তি আরবি শব্দ দাআ থেকে। যার অর্থ, সম্বোধন করা, (কাউকে) ডাক দেওয়া বা ডাকা, দোয়া তথা (আল্লাহর কাছে চাওয়া) মোনাজাত করা, আহ্বান করা, অনুরোধ করা ইত্যাদি। উপর্যুক্ত অর্থ থেকে যা বুঝে আসে তা হলো, মহান আল্লাহতায়ালাকে সম্বোধন করে ডাকা, তার কাছে কিছু চাওয়া বা আহ্বান করাই হচ্ছে মূলত দোয়া। যার আরেকটি পরিচিত নাম হচ্ছে মোনাজাত। যেমন–কবিতায় বলা হয়, তুলি দুই হাত। করি মোনাজাত ইত্যাদি। 

আমরা আমাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষের কাছে চাই! কখনো হাত পেতে প্রার্থিত বস্তু কামনা করি। আবার বিভিন্ন ক্ষমতাধর ব্যক্তির কাছে চাই। অনেক সময় দানশীল, দানবীর মানুষের কাছে চাই। কিন্তু আল্লাহতায়ালার কাছে চাই না। অথচ, দোয়া বা আল্লাহর কাছে চাওয়া; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যেমন, স্বয়ং আল্লাহতায়ালা বলেছেন, তার কাছে চাইলে। তাকে ডাকলে তিনি তাতে সাড়া দেন।

তবে আল্লাহর কাছে আমরা কেন চাইব না? আর কেন-ই বা চাইতে লজ্জাবোধ করব? যখন আমরা মানুষের কাছে চাইতে লজ্জাবোধ করি না! বরং, মানুষের কাছে চাইতেই লজ্জা করা উচিত। এমনকি মানুষের কাছেই না চাওয়া উচিত।সাহাবি হজরত নুমান ইবনে বাশির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দোয়াই (অর্থাৎ, মহান আল্লাহর কাছে চাওয়া, প্রার্থনা করা) হলো ইবাদত। (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)

লক্ষ করুন, আমরা চাইব আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে। তাও যদি আবার ইবাদত হয়। তখন কেন আমরা এই ইবাদতের সুযোগ হাতছাড়া করব? পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, আর তোমাদের প্রতিপালক (মহান আল্লাহতায়ালা) বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো। আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। (সুরা মুমিন: ৬০)। যখন আল্লাহর কাছে চাইলে তিনি সাড়া দেন। সাড়া দেবেন বলে, ঘোষণা করেছেন।

 তখন কীভাবে আমরা মানুষের কাছে চাই? অথচ আল্লাহর কাছে চাই না। যিনি অমুখাপেক্ষী। আর সব মানুষই তার প্রতি মুখাপেক্ষী। তার দয়া অনুগ্রহ ও কৃপার ভিখারি, অনুগ্রহের কাঙাল। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে দোয়া করতে শিখিয়েছেন। যেমন–আপনি আমাদের সরল সঠিক পথে পরিচালিত করুন। (সুরা ফাতিহা: ৫)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ কখনো এ কথা বলবে না যে, হে আল্লাহ! আপনার ইচ্ছা হলে আমাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনার ইচ্ছা হলে আমাকে দয়া করুন। বরং, দৃঢ় আশা নিয়ে (মন খুল বলবে, আল্লাহর কাছেই চাইবে) দোয়া করবে। কারণ, আল্লাহকে বাধ্য করার কেউ নেই। (বুখারি)


আর দোয়া কবুল না হলেও, বারবার আল্লাহর কাছে চাইতে থাকা। দোয়া অবশ্যই কবুল হয়। অন্যথা, কোনো বিপদ থেকে মুক্তি লাভ হবে। নয়তো পরকালে এর চেয়ে উত্তম বিনিময় লাভের কথাও এসেছে হাদিসে। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে আরেক বর্ণনায় এসেছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়ে থাকে। যদি সে তাড়াহুড়া না করে; আর বলে যে, আমি দোয়া করলাম। কিন্তু আমার দোয়া তো (আল্লাহর কাছে) কবুল হলো না। (মুসলিম ও বুখারি)

এজন্য দোয়া করার সময় একাগ্রতার সঙ্গে, কায়মনোবাক্যে আল্লাহতায়ালার প্রতি দোয়া কবুলের ব্যাপারে শতভাগ আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে, নিজেকে খুব ছোট ও হীন মনে করে, মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা। দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে দোয়া করা। দোয়ার শুরুতে আল্লাহর হামদ-সানা, দরুদ শরিফ, ইস্তিগফার ও আল্লাহর নামে প্রশংসামূলক বাক্য ইত্যাদি পাঠ করে; এরপর দুই হাত তুলে দোয়া করা। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ আদবেরও অন্তর্ভুক্ত।

সাহাবি আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুই হাত তুলে দোয়া করতে দেখেছি। এজন্য হাত তুলে দোয়া করা। আল্লাহতায়ালার কাছে হাত তুলতে কৃপণতা না করা। এটা বিনয়ের প্রকাশভঙ্গিও বটে। এ জাতীয় আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরাসরি কোনো বিজ্ঞ আলেমের কাছ থেকে হাতে-কলমে শিখে নেওয়া জরুরি। যা ফরজ ইলম শেখারও অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া চাইলে এককভাবে সব সময়ই দোয়া করা যায়। যে কেউ আল্লাহর কাছে চাইতে পারে। নিজের প্রয়োজনের কথা বলতে পারে। জাগতিক নিয়ে কোনো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে যেমন সময় নিতে হয়। আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হয়। কোনো সহকারী বা পিএসের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হয়। অথচ, যেকোনো মানুষ চাইলে আল্লাহর কাছে যখন-তখন চাইতে পারে। তার দরজা সব সময় খোলা। 

দোয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এজন্য যেকোনো দোয়ার আমলের বিষয়ে উদাসীনতা কাম্য নয়! একইভাবে দোয়া করতে কৃপণতা করা। তাড়াহুড়ো করে দোয়া করা। পর্যাপ্ত সময় না নেওয়া। মোট কথা, দোয়ার আমলকে গুরুত্বহীন ও অপ্রয়োজনীয় কাজ বলে মনে করা; এমন আচরণ কখনোই কাম্য নয়! আল্লাহতায়ালা আমাদের দোয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদতকে আমল করার তওফিক দান করুন। 

লেখক: খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর