আমরা প্রায়শই দেখে থাকি যে অনেকে দাঁড়িয়ে বা হাঁটতে হাঁটতে খাবার গ্রহণ করেন। যেমন- পান, বাদাম বা বুট। কিন্তু শরিয়তের দৃষ্টিতে এর বিধান কী? নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিসে দাঁড়িয়ে খাওয়া ও পান করাকে ‘শয়তানের কাজ’ বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও কিছু হাদিস পাওয়া যায়, যা এর ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করে। এই দুই ধরনের বর্ণনাকে সামনে রেখে আমরা বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করব।
ইসলামি আদবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বসে খাওয়া ও পান করা। হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.), সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এবং উম্মতের বড় বড় আউলিয়া ও নেককার ব্যক্তিদের সাধারণ অভ্যাস ছিল দস্তরখান বিছিয়ে, তার ওপর খাবার রেখে বসে খাওয়া। এটি খাবার গ্রহণের উত্তম ও মার্জিত পদ্ধতি।
সাধারণ পরিস্থিতিতে হাঁটতে চলতে খাওয়া-পান করা মাকরুহে তানজিহি। অর্থাৎ, এটি অপছন্দনীয় কাজ। তবে এর দ্বারা সরাসরি কোনো বড় গুনাহ হয় না। তবে যদি কোনো কারণে বসার জায়গা না থাকে বা কোনো অক্ষমতা থাকে, তা হলে দাঁড়িয়ে খাওয়ার অনুমতি রয়েছে।
আবার, এমনও দেখা যায় যে কেউ মূলত বসেই খাচ্ছেন, কিন্তু এক-আধ লোকমা দাঁড়িয়ে চেখে দেখছেন বা খেয়ে ফেলছেন। অথবা কিছু ফলমূল, চকলেট ইত্যাদি যা মৌজ-মজার জন্য সামান্য পরিমাণে খাওয়া হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে চলতে-ফিরতে খাওয়ারও রেওয়ায়েত (অনুমতি) হাদিসে পাওয়া যায়।
তবে এ ধরনের কাজকে অভ্যাসে পরিণত করা এবং বারবার করা মর্যাদা, ভদ্রতা ও ইসলামি আদবের পরিপন্থি। দাঁড়িয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং এমন অনুষ্ঠান আয়োজন করা- যেখানে কেবল দাঁড়িয়ে খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে, তা ইসলামি শালীনতা ও আদবের বিরোধী এবং মাকরুহ।
তবে যদি কখনো হঠাৎ এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় বা কোনো নির্দিষ্ট অসুবিধা থাকে, তা হলে দাঁড়িয়ে খেলে গুনাহ হবে না। এক্ষেত্রে যারা এমন অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক নন এবং এই পদ্ধতিকে মন থেকে অপছন্দ করেন, ইসলামি আদবের ধারক-বাহক হিসেবে গণ্য নন, তারা দাঁড়িয়ে খেলে তাদের জন্য এটি মাকরুহ হবে না।
শেষত, কেউ দাঁড়িয়ে পান করলে এটি ‘শয়তানের কাজ’ এভাবে দৃঢ়তার সঙ্গে বলার অবকাশ নেই। বরং এটি ইসলামি আদব ও মার্জিত জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে বিবেচিত। আমাদের উচিত সর্বাবস্থায় ইসলামি আদব মেনে চলা এবং সাধ্যমতো বসে খাওয়া ও পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা।