ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
স্পেসএক্সের শেয়ার যেভাবে কিনবেন, ঝুঁকি কী ময়মনসিংহে ডিসি অফিসে বিএনপির বর্তমান ও বহিষ্কৃত নেতার হাতাহাতি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র হাত ও পায়ের গঠন কেমন ছিল? ঈশ্বরদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ২ চুরি, সিস্টেম লস ও ভর্তুকিতে ঘুরপাক পঞ্চগড়ে ব্যর্থ হয়ে চার দিন পর ১০ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ রামিসা হত্যা মামলার রায় যেভাবে কার্যকর হবে রৌমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা মুক্তাগাছায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু পটুয়াখালীতে জলোচ্ছ্বাস ঠেকানো সবুজ দেয়াল বিলীন! আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর চলচ্চিত্র 'সাঁকোটা দুলছে' বিএনপির ১৩ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগ -যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২১ পুশইন ব্যর্থ, দুদিন পর হরিপুর সীমান্ত থেকে ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিল বিএসএফ বিশ্ব সমুদ্র দিবস আজ ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়াল এনবিআর ময়মনসিংহে ধসে পড়া বেইলি ব্রিজটি ১০ বছর ধরে ছিল ঝুঁকিপূর্ণ সাদুল্লাপুরে কাভার্ডভ্যানে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১ লেবানন থেকে ড্রোন হামলায় ফিরল দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ মতিঝিলে ব্যাংকের সামনে দিনদুপুরে ব্যবসায়ীকে গুলি করে দুর্ধর্ষ ছিনতাই বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক কালজানি ও দুধকুমারের কালো রূপ: বর্ষার আগেই নদীগর্ভে শতাধিক বাড়ি চাকরি না পেয়ে ইউটিউব দেখে আম চাষ, লক্ষাধিক টাকা আয় মিত্রদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ইরানের সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত সন্তানের বাবা-মায়ের শেষ ঠিকানা কেন বৃদ্ধাশ্রম? সৌরবিদ্যুৎ খাতে বাড়তি কর চাপানো ঠিক হবে না ‘ঢলন’ প্রথায় শতকোটি টাকা হারাচ্ছেন রাজশাহীর আমচাষিরা ককরোচ পার্টির আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি, সরকারকে আলটিমেটাম হাসপাতালে ভর্তি সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
Nagad desktop

যে ৪টি পিলার ছাড়া কোনো দাম্পত্যই সুখী হতে পারে না

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:০০ পিএম
যে ৪টি পিলার ছাড়া কোনো দাম্পত্যই সুখী হতে পারে না
নেতৃত্বের অপব্যবহারের জন্য নয়, ভালোবাসার প্রতিফলনের জন্য। ছবি: সংগৃহীত

পারিবারিক জীবন একটি পবিত্র ইবাদত, যা ভালোবাসা, ধৈর্য এবং বোঝাপড়ার ওপর টিকে থাকে। কিন্তু আজকের সমাজে সামান্য মনোমালিন্য বা মতানৈক্য হলেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। এই অস্থিরতার মূল কারণ হলো, আমরা অনেকেই নিজেদের অধিকার নিয়ে সচেতন থাকলেও, দায়িত্ববোধের দিক থেকে উদাসীন। ইসলামে একজন সতী-সাধ্বী নারীর পরিচয় কেবল তার ব্যক্তিগত সততায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা পারিবারিক জীবনকে সুন্দর ও সুসংহত রাখার ক্ষেত্রে তার দায়িত্বশীলতার মধ্যেও নিহিত।

আনুগত্য ও আত্মমর্যাদা

কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘সতী-সাধ্বী নারীরা হয় স্বামীর অনুগত এবং যা লোকচক্ষুর অন্তরালে আল্লাহর হেফাজতে তারা তার হেফাজত করে’ (সুরা নিসা, ৩৪)। এই আয়াতকে অনেকেই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে বলেন, ইসলাম নারীকে পুরুষের দাসী বানিয়েছে। কিন্তু এর পেছনের আসল উদ্দেশ্য হলো, পরিবারে শৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখা। স্বামীর প্রতি আনুগত্যের অর্থ হলো পারিবারিক সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানানো, যা সংসারকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোতে পরিচালিত হতে সাহায্য করে। এটি নারীর আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ন করে না, বরং তাকে পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

ধৈর্য ও বিচক্ষণতা

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে মহিলা সামান্য বিষয়ে স্বামীর কাছে তালাক চায়, জান্নাতের ঘ্রাণও তার জন্য হারাম।’ এই হাদিসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি নারীদের ছোটখাটো বিষয়ে রাগান্বিত হয়ে তালাকের মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করে। কারণ, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মন-মানিসকতার ভিন্নতা থাকবেই। বুদ্ধিমতী ও বিচক্ষণ নারী এই ভিন্নতাকে সম্মান করেন এবং আবেগ দিয়ে নয়, বরং বিবেক দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। তারা মনে করেন, স্বামীর নেতৃত্ব পারিবারিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য জরুরি এবং সেই শৃঙ্খলার প্রতি সম্মান জানানো তাদেরই দায়িত্ব।

নেতৃত্বের অপব্যবহার নয়, ভালোবাসার প্রতিফলন

যদি কোনো স্বামী তার নেতৃত্বের ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তখন একজন বুদ্ধিদীপ্ত স্ত্রীর উচিত হয় বিচক্ষণতার সঙ্গে তাকে বোঝানো। ক্রোধ বা বিতর্কে জড়িয়ে না পড়ে, বরং কোমলভাবে ন্যায়নীতি ও সাম্যের কথা তুলে ধরা। কারণ, যখন একজন স্ত্রী নিজেই আইন হাতে তুলে নেন বা স্বামীর বিরুদ্ধে দাঁড়ান, তখন পারিবারিক সম্পর্ক তিক্ত হয়। সংসার অশান্তি ও বিশৃঙ্খলায় ভরে যায় এবং দুজনেরই সম্মান ও মর্যাদা হ্রাস পায়। সমাজে তাদের নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা শুরু হয়, যা ভবিষ্যতে তাদের দাম্পত্য জীবনের ওপর আরও খারাপ প্রভাব ফেলে।

সংসার ভাঙার নয়, গড়ার মন্ত্র

ইসলামে পারিবারিক জীবন গড়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, ভাঙার ওপর নয়। সতী-সাধ্বী নারী জানেন যে, পারিবারিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা তার নিজের এবং তার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তারা ঝগড়া-বিবাদের বদলে বোঝাপড়া এবং ক্ষমার পথ বেছে নেন। তাদের এই প্রচেষ্টা কেবল নিজেদের সংসারকে রক্ষা করে না, বরং অন্যদের কাছেও একটি উদাহরণ হয়ে থাকে। তাই প্রত্যেক নারীর উচিত পারিবারিক দায়িত্বকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সংসারকে ভালোবাসার একটি অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলা।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র হাত ও পায়ের গঠন কেমন ছিল?

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র হাত ও পায়ের গঠন কেমন ছিল?
ছবি: সংগৃহীত

আপনি কি কখনো এমন কোনো হাতের স্পর্শের কথা শুনেছেন, যা একই সঙ্গে চরম শক্তিশালী অথচ রেশমের চেয়েও নরম? কিংবা এমন কোনো পায়ের অবয়ব দেখেছেন, যা শত মরুভূমির রুক্ষ পথ পাড়ি দেওয়ার পরও ছিল ক্লান্তিহীন ও মাংসল? ইসলামের ইতিহাসে বীরত্বের প্রতীক হযরত আলী (রা.)।

যখনই প্রিয় নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শারীরিক সৌন্দর্যের স্মৃতিচারণ করতেন, তখন তিনি বিশেষভাবে তাঁর হাত ও পায়ের অলৌকিক গঠনশৈলীর কথা উল্লেখ করতেন। চলুন, আজ নবিজির হাত, পা এবং তাঁর চলনভঙ্গির এক অনন্য শারীরিক রহস্য সম্পর্কে জেনে নেয়।

হযরত আলী (রা.)-এর নিখুঁত বিবরণ থেকে জানা যায়, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর হস্তদ্বয় ও পদদ্বয়ের তালু এবং আঙুলসমূহ ছিল বেশ মাংসল (মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪৬)। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং মানব শরীরের গঠনশৈলী (Anatomy) অনুযায়ী, হাত ও পায়ের তালু এবং আঙুল মাংসল হওয়া উচ্চ কার্যক্ষমতা, সহনশীলতা এবং শারীরিক দৃঢ়তার লক্ষণ।

এর পাশাপাশি তাঁর হাত ও পায়ের হাড়ের জোড়াগুলো ছিল বেশ মোটা ও শক্তিশালী (মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪৬)। তাঁর মাথা মোবারক ছিল সাধারণ মানুষের চেয়ে কিছুটা বড় (মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৪১৯৪), যা এক রাজকীয় ব্যক্তিত্ব ও প্রখর বুদ্ধিমত্তার প্রতীক। তিনি অতিরিক্ত দীর্ঘ বা খাটো ছিলেন না, বরং এক সুষম দেহের অধিকারী ছিলেন (মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪৬)।

আরো পড়ুন: কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?

নবিজি (সা.)-এর দেহের আরেকটি অতি সুন্দর ও অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর বুকের পশমের বিন্যাস। তাঁর পুরো শরীর পশমে আবৃত ছিল না; বরং তাঁর বুক থেকে শুরু করে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি অত্যন্ত সরু ও সোজা রেখা প্রলম্বিত ছিল [মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৪১৯৪], যা তাঁর শ্বেত-শুভ্র দেহে এক অপার্থিব নান্দনিকতা এনে দিয়েছিল।

যখনই রাসুলুল্লাহ (সা.) পথ চলতেন, তাঁর হাঁটার গতি ও ভঙ্গিতে এক অদ্ভুত শক্তি ও ক্ষিপ্রতা প্রকাশ পেত। তিনি অলসভাবে পা টেনে চলতেন না। সাহাবিদের ভাষায়, তাঁকে হাঁটতে দেখলে মনে হতো তিনি যেন কোনো উঁচু স্থান বা পাহাড় থেকে সগৌরবে নিচের দিকে অবতরণ করছেন (সহিহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৩১১)।

আরো পড়ুন: কেমন ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মানুষের অবয়ব?

এই গতিশীল চলনভঙ্গি প্রমাণ করে তিনি কতটা কর্মঠ এবং আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। আর এই কারণেই হযরত আলী (রা.) তাঁর চিরন্তন অনুভূতি প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘তাঁর পূর্বে কিংবা পরে আমি তাঁর মতো অনুপম আকর্ষণীয় মানুষ আর কাউকেই দেখিনি’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪৬)।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৮ জুন ২০২৬, সোমবার । ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০১ মিনিট

আসর

৪.৩৬ মিনিট

মাগরিব

৬.৪৭ মিনিট

 

এশা

৮.১৩ মিনিট

ফজর (৯ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত?

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত?
ছবি: সংগৃহীত

নিঝুম রাতে চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর পর আমরা যে স্বপ্নের মুখোমুখি হই, তা কেবলই কি মনের কল্পনা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে থাকে কোনো মহাজাগতিক ইশারা? ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, স্বপ্নের ব্যাখ্যা বা তাবির একটি গভীর ও স্বতন্ত্র জ্ঞান। আর স্বপ্নের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রামাণিক ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব হলেন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সীরীন (রহ.)। তার কালজয়ী গ্রন্থ তাফসিরুল আহলাম-এ ঘুমের ঘোরে গান শোনা বা গান গাওয়ার এমন কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও প্রতীকী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা সমসাময়িক মানুষকে সম্পূর্ণ নতুন এক চিন্তার খোরাক জোগায়।

ঘুমের মধ্যে যদি আপনি কোনো পরিচ্ছন্ন, অশ্লীলতাহীন এবং গভীর অর্থবহ গান বা গজল শুনতে পান, তবে তা কিন্তু ভয়ের কিছু নয়। ইবনে সীরীন (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ধরনের স্বপ্ন সাধারণত স্বপ্নদ্রষ্টার বাস্তব জীবনে বড় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের পূর্বাভাস। এটি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে আকস্মিক উন্নতি এবং আর্থিক সমৃদ্ধি লাভের একটি শুভ ইঙ্গিত। এমনকি কোনো কোনো ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এমন স্বপ্নের গায়কের মাঝে ভবিষ্যতে একজন বড় আলেম, জ্ঞানীগুণী, দূরদর্শী বিচারপতি কিংবা সফল মন্ত্রী হওয়ার মতো সুপ্ত গুণাবলি লুকিয়ে থাকে।

আরো পড়ুন: কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?

কিন্তু সব সুর তো শুভ বার্তা বয়ে আনে না; যদি স্বপ্নে শোনা গানটি হয় সস্তা, অশ্লীল কিংবা মন্দ কথার, তবে তা ভবিষ্যতের এক বড় সতর্কবার্তা। ইমাম ইবনে সীরীন (রহ.)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ধরনের স্বপ্ন মূলত বাস্তব জীবনে লোকসান বা বড় কোনো বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেয়। কোনো ধনাঢ্য বা সম্পদশালী ব্যক্তি যদি নিজেকে লোকালয় বা বাজারে বসে এমন গান শুনতে দেখে, তবে বুঝতে হবে তার জীবনে কোনো নৈতিক স্খলন বা মন্দ কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, কোনো দরিদ্র ব্যক্তি এমন স্বপ্ন দেখলে তা তার মানসিক চাপ বা জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

আরো পড়ুন: রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন

আপনি কি স্বপ্নে নিজেকেই গলা ছেড়ে গান গাইতে দেখছেন? ইসলামি স্বপ্নের বিজ্ঞানে এটিকে বেশ নেতিবাচক ও আশঙ্কাজনক চোখেই দেখা হয়েছে। এই তাবীর অনুযায়ী, স্বপ্নে নিজে গান গাইলে বাস্তব জীবনে তার শত্রু-মিত্র সবাই তাকে একা ফেলে চলে যাওয়ার বা ত্যাগ করার আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া, তাত্ত্বিকগণ মনে করেন গান মূলত মানুষের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ ও ফাসাদের উন্মেষ ঘটায়; কারণ বলা হয়ে থাকে, সৃষ্টির শুরুতে অভিশপ্ত ইবলিসই সর্বপ্রথম গান ও আর্তনাদ করেছিল। তাই স্বপ্নে নিজে গান গাওয়াকে পারিবারিক বা সামাজিক অশান্তির কারণ হিশেবে চিহ্নিত করা হয়।ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, স্বপ্ন মূলত তিন ধরনের, আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, শয়তানের কুমন্ত্রণা অথবা মানুষের নিজের মনের অবদমিত কল্পনা।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক  

কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায়

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায়
ছবি: সংগৃহীত

একটুখানি কল্পনা করুন, মহাবিশ্বের মহান স্রষ্টা আল্লাহতায়ালা নিজে এবং তাঁর অগণিত ফেরেশতা চব্বিশ ঘণ্টা একটি বিশেষ কাজে নিয়োজিত আছেন! কাজটি কী? সেটি হলো সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাত পেশ করা। যে কাজের সাথে স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা যুক্ত, সেই কাজে শামিল হওয়া মুমিনদের জন্য কত বড় সৌভাগ্য! নবিজি (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করা কেবল একটি সাধারণ আমল নয়, এটি সরাসরি আল্লাহর আদেশ এবং কিয়ামতের কঠিন দিনে নবিজির সান্নিধ্য পাওয়ার একমাত্র রাজপথ।

পবিত্র কোরআনের সুরা আহযাবের একটি আয়াত মুমিনের হৃদয়ে নবিপ্রেমের জোয়ার তোলে। যেখানে আল্লাহতায়ালা মুমিনদের প্রতি সরাসরি নির্দেশ জারি করে বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবির প্রতি সালাত (দরুদ) পেশ করেন। হে মুমিনরা! তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত পেশ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।(সুরা আহজাব, ৫৬)। আমরা যখন কারও জন্য দোয়া করি, তখন আমাদের নিজেদের কোনো লাভ হবে কি না তা নিশ্চিত নয়। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পড়ার সমীকরণটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং লাভজনক।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আম্র ইবনুল আ’স (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বা দরুদ বর্ষণ করবেন। (মুসলিম, ৩৮৪; সুনানে নাসায়ী, ৬৭৮)। আপনি যখন দুনিয়ার কোনো মানুষের প্রশংসা বা উপকার করেন, তখন স্রষ্টা আপনাকে সরাসরি ১০ বার পুরস্কৃত করেন না। কিন্তু নবিজির প্রতি ১ বার দরুদ পাঠ করলে মহাবিশ্বের মালিক আপনার ওপর ১০ বার বিশেষ দয়া ও শান্তি বর্ষণ করেন। এটি এক অসামান্য আধ্যাত্মিক ইনভেস্টমেন্ট!

কিয়ামতের দিন যখন কোটি কোটি মানুষের ভিড়ে চারদিকে হাহাকার থাকবে, তখন কার পাশে দাঁড়াতে চাইবেন আপনি? সেই চরম বিপদের মুহূর্তে নবিজির সবচেয়ে কাছে থাকার সূত্রটি অত্যন্ত সহজ। হযরত ইবনে মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি সব মানুষের চেয়ে আমার সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী (কাছাকাছি) হবে, যে তাদের মধ্যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পড়বে। (জামে আত-তিরমিজি, ৪৮৪)

দরুদ ও সালাম হলো নবিপ্রেমের শ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝে একটুখানি সময় বের করে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলা আমাদের জীবনের পাপমোচন করে এবং আল্লাহর রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় দেয়। বইয়ের পাতা কিংবা পত্রিকার কলামে নবিজির অবয়ব ও মর্যাদার এই অনন্য দিকটি আধুনিক পাঠককে প্রাত্যহিক জীবনে দরুদ পড়ার এক নতুন প্রেরণা জোগাবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

ইসলামে মায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
ইসলামে মায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ, নির্ভরযোগ্য এবং অকৃত্রিম ভালোবাসার নাম হলো ‘মা’। একজন মানুষ পৃথিবীর আলো দেখার পর প্রথম আশ্রয়, নিরাপত্তা ও ভালোবাসা খুঁজে পায় মায়ের কাছেই। ইসলাম এই সম্পর্কটিকে শুধু আবেগ বা পারিবারিক বন্ধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং মায়ের মর্যাদাকে উন্নীত করেছে ইবাদতের পর্যায়ে, সম্মানের সর্বোচ্চ শিখরে। 

হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি নবি করিম (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে জানতে চান, ‘হে আল্লাহর রাসুল! মানুষের মধ্যে আমার কাছে সর্বোত্তম সেবা লাভের অধিকার কার?’ নবি করিম (সা.) বলেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবার জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবার জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবারও জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার বাবার।’ (বুখারি ও মুসলিম)। 

মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে; তাদের একজন অথবা উভয়ে তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের বিরক্তিসূচক কিছু বলো না এবং তাদের ভর্ৎসনা করো না। তাদের সঙ্গে কথা বলো সম্মানসূচক ও নম্রভাবে’ (সুরা বনি ইসরাইল, ২৩)। 

এছাড়া হাদিসে এসেছে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল হয়; এতে কোনো সন্দেহ নেই। এক, মা-বাবার দোয়া তার সন্তানের জন্য; দুই, মুসাফিরের দোয়া ও তিন, অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া অত্যাচারীর বিরুদ্ধে’ (সুনানে আবু দাউদ, ১৫৩৮)। প্রতিটি সন্তানের উচিত মায়ের সেবা করা। ছোটবেলায় মা যেমন নির্ঘুম রাত কাটিয়ে আমাদের অসুস্থতায় পাশে থেকেছেন ও সেবা করেছেন, তেমনি তার প্রতি যত্ন নেওয়া ও সেবা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। রাসুল (সা.) সাহাবিদের মায়ের সেবা করার প্রতি নির্দেশ দিতেন। 

একদিন হজরত মুয়াবিয়া ইবনে জাহিমা আসসালামি (রা.) রাসুল (সা.)-এর খেদমতে হাজির হয়ে বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি জিহাদ করতে ইচ্ছুক। এ ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কী?’ জবাবে রাসুল (সা.) বললেন, ‘তোমার মা আছেন?’ তিনি বললেন, ‘আছেন।’ রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘মায়ের সেবায় নিয়োজিত থাকো, কেননা তার পায়ের নিচেই জান্নাত।’ 

হাদিসে এরশাদ হয়েছে, যখন কোনো অনুগত সন্তান নিজের মা-বাবার দিকে অনুগ্রহের নজরে দেখে, আল্লাহতায়ালা তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে একটি করে কবুল হজের সওয়াব দান করেন। (বায়হাকি-মিশকাত, পৃ. ৪২১)। 
সর্বোপরি, মা হলেন পৃথিবীর বুকে আল্লাহতায়ালার সবচেয়ে বড় নেয়ামত। মায়ের এই অসামান্য ত্যাগকে ইসলামে বিশেষ স্বীকৃতিই শুধু দেয়নি, বরঞ্চ তার সেবাকে শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে ঘোষণা করেছে। আর তাই দুনিয়া ও আখিরাতের পরম সফলতা লাভ করতে হলে মায়ের সন্তুষ্টি অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। 

লেখক: শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ