ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুড়িগ্রামে নদীগর্ভে বিলীন শতাধিক বাড়ি সবার সক্রিয় ভূমিকায় রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত হয়েছে: অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকান উচ্ছেদ নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ২০ জীবের আবাসস্থল অধ্যায় থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান চুয়াডাঙ্গায় বিজিবির অভিযানে মাদক ও অবৈধ মালামাল জব্দ শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন বদরগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার শার্শায় বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মবিরতিতে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎকরা মেয়েকে অশালীন কথা বলার প্রতিবাদ করায় প্রাণ গেল বাবার ইসলামে মায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা সমুদ্রের তলদেশে বিচিত্র এক সুতোয় বাঁধা ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক বান্দরবানে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা বিতরণ দক্ষতা বাড়াচ্ছে রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব ক্যামেরা নষ্ট ছিল স্বপ্ন নয় স্মৃতির মলাটে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত পাশে ছিলেন সহপাঠীরা বেরোবির বিশেষ বাসসেবায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা সপ্তাহের প্রথম দিনে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার জাতীয় বাজেট নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা রামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের হালিশহরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্তকে গণপিটুনি ট্রাকসহ ভেঙে পড়ল বেইলি সেতু, ময়মনসিংহ-ধোবাউড়া সড়ক যোগাযোগ বন্ধ Your Favourite Teacher/Favourite Personality বিষয়ক Writing Paragraph, ৩১তম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ২য় পত্র আর্মেনিয়ায় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে রাতে বিজিবির সঙ্গে আনসার-ভিডিপির টহল ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে আরও ১ শিশুর মৃত্যু কুমিল্লায় হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু জিপিএসের নির্দেশ মেনে সোজা রেললাইনে গাড়ি, ভাইরাল বৃদ্ধার গাড়িচালনা
Nagad desktop

আধ্যাত্মিক ব্যবসা

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:০০ পিএম
আধ্যাত্মিক ব্যবসা
আধ্যাত্মিক ব্যবসা যা আত্মার সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর সঙ্গে হয়। ছবি: সংগৃহীত

মানুষের অভাব পূরণের প্রয়োজন থেকে ব্যবসার উৎপত্তি। সুপ্রাচীনকাল থেকে ব্যবসা বৈধ জীবিকা নির্বাহের এক অনন্য উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ব্যবসা শুধু একটি পেশা নয়—গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও বটে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে হারাম করেছেন (সুরা বাকারা, আয়াত ২৭৫)। পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক যুগ পর্যন্ত ব্যবসায়ের অসংখ্য ধরন বা শ্রেণি বিদ্যমান। 

মানুষের মধ্যে দুই ধরনের ব্যবসা থাকতে পারে। এক. বস্তুগত ব্যবসা—যা দুনিয়াবি প্রয়োজন পূরণে একে অপরের সঙ্গে করে থাকে। দুই. আধ্যাত্মিক ব্যবসা—যা আত্মার সন্তুষ্টির জন্য মহান আল্লাহর সঙ্গে হয়।

মহান আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় ব্যবসা করা নিঃসন্দেহে ইবাদতের একটি অংশ। তা ছাড়াও মুনাফা অর্জনের অভিপ্রায়ে লাভজনক খাতে মূলধন, শ্রম ও মেধা বিনিয়োগ করা হয়। ফলস্বরূপ লাভ এবং ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে প্রায় সমান। কিন্তু পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা এমন এক ব্যবসায়ের সুসংবাদ দিয়েছেন যেখানে ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই- আছে শুধু লাভ আর লাভ। সুরা সফফাতের ১০ নম্বার আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, হে ঈমানদারগণ আমি কি তোমাদের এমন এক বাণিজ্যের সন্ধান বলে দেব না, যা তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হতে রক্ষা করবে। এর পরের আয়াতেই আল্লাহতায়ালা বলেন, তা এই যে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা জানতে। অর্থাৎ কোরআনের সংশ্লিষ্ট আয়াতে আল্লাহতায়ালা তাঁর সঙ্গে ব্যবসার মূলধন হিসেবে তিনটি বিষয়কে উল্লেখ করেছেন।

এক. আল্লাহ ও তার রাসলের প্রতি ঈমান আনা। আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস, মুখে স্বীকার এবং তদনুযায়ী আমল এই ব্যবসার শ্রেষ্ঠ মূলধন।

দুই. দ্বীনি কাজে ধন-সম্পদ ব্যয় করা আপাতদৃষ্টিতে দ্বীনের জন্য সম্পদ ব্যয়ের ফলে মনে হয় তা কমেছে। কিন্তু আল্লাহর সঙ্গে আর্থিক এই ব্যবসা ক্ষতিবিহীন এবং অন্তহীন। যা দুনিয়া এবং আখিরাতের সম্পদকে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং সালাত কায়েম করে এবং আল্লাহ যে রিজিক দিয়েছেন তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে তারা এমন ব্যবসার আশা করতে পারে, যা কখনো ধ্বংস হবে না (সুরা ফাতির, আয়াত ২৯)

তিন. জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ। জিহাদ নিয়ে বর্তমান সমাজে ভ্রান্ত ধারণা বিদ্যমান। কিন্তু  জিহাদ বলতে কেবল যুদ্ধকেই বোঝানো হয় না। বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যে কোনো প্রচেষ্টা। যেমন—নিজের ধন-সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় দান এবং দ্বীনের জন্য নিজের জীবন কিংবা নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করা অথবা দ্বীনকে রক্ষা করার অন্য যেকোনো প্রচেষ্টা জিহাদের অংশ।

যেকোনো ব্যবসায় ক্রেতা অপরিহার্য। তবে বান্দা এবং রবে এই ব্যবসায় ক্রেতা যিনি, তিনি হলেন মহান আল্লাহ। তিনি কি কিনে নিচ্ছেন এবং বিনিময়ে আমরা কি লাভ করছি তা সুরা তওবার ১১১ নাম্বার আয়াতে বলেন, অবশ্যই আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুমিনদের নিকট থেকে তাদের জান ও মালকে জান্নাতের বিনিময়ে।

মহান রবের সঙ্গে ব্যবসার লাভ এবং উপকারিতা সম্পর্কে সুরা সফফাতের ১২ নাম্বার আয়াতে তিনি আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নহর প্রবাহিত এবং স্থায়ী জান্নাতের উত্তম বাসগৃহে। এটাই মহাসাফল্য। ব্যবসায়ের চিরাচরিত ঝুঁকি থাকলেও খোদার সঙ্গে লেনদেনে কোনো প্রকার ঝুঁকি নেই। নিশ্চিত লাভের আশায় মুমিনগণ আল্লাহতায়ালার সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টি করতে নিভৃতে ইবাদত করে। ওয়াল্লাহি মুমিনদের জন্য এর থেকে বড় ব্যবসা একটিও নেই।

 

লেখক: শিক্ষার্থী, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ

ইসলামে মায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
ইসলামে মায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ, নির্ভরযোগ্য এবং অকৃত্রিম ভালোবাসার নাম হলো ‘মা’। একজন মানুষ পৃথিবীর আলো দেখার পর প্রথম আশ্রয়, নিরাপত্তা ও ভালোবাসা খুঁজে পায় মায়ের কাছেই। ইসলাম এই সম্পর্কটিকে শুধু আবেগ বা পারিবারিক বন্ধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং মায়ের মর্যাদাকে উন্নীত করেছে ইবাদতের পর্যায়ে, সম্মানের সর্বোচ্চ শিখরে। 

হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি নবি করিম (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে জানতে চান, ‘হে আল্লাহর রাসুল! মানুষের মধ্যে আমার কাছে সর্বোত্তম সেবা লাভের অধিকার কার?’ নবি করিম (সা.) বলেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবার জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবার জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবারও জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার বাবার।’ (বুখারি ও মুসলিম)। 

মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে; তাদের একজন অথবা উভয়ে তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের বিরক্তিসূচক কিছু বলো না এবং তাদের ভর্ৎসনা করো না। তাদের সঙ্গে কথা বলো সম্মানসূচক ও নম্রভাবে’ (সুরা বনি ইসরাইল, ২৩)। 

এছাড়া হাদিসে এসেছে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল হয়; এতে কোনো সন্দেহ নেই। এক, মা-বাবার দোয়া তার সন্তানের জন্য; দুই, মুসাফিরের দোয়া ও তিন, অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া অত্যাচারীর বিরুদ্ধে’ (সুনানে আবু দাউদ, ১৫৩৮)। প্রতিটি সন্তানের উচিত মায়ের সেবা করা। ছোটবেলায় মা যেমন নির্ঘুম রাত কাটিয়ে আমাদের অসুস্থতায় পাশে থেকেছেন ও সেবা করেছেন, তেমনি তার প্রতি যত্ন নেওয়া ও সেবা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। রাসুল (সা.) সাহাবিদের মায়ের সেবা করার প্রতি নির্দেশ দিতেন। 

একদিন হজরত মুয়াবিয়া ইবনে জাহিমা আসসালামি (রা.) রাসুল (সা.)-এর খেদমতে হাজির হয়ে বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি জিহাদ করতে ইচ্ছুক। এ ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কী?’ জবাবে রাসুল (সা.) বললেন, ‘তোমার মা আছেন?’ তিনি বললেন, ‘আছেন।’ রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘মায়ের সেবায় নিয়োজিত থাকো, কেননা তার পায়ের নিচেই জান্নাত।’ 

হাদিসে এরশাদ হয়েছে, যখন কোনো অনুগত সন্তান নিজের মা-বাবার দিকে অনুগ্রহের নজরে দেখে, আল্লাহতায়ালা তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে একটি করে কবুল হজের সওয়াব দান করেন। (বায়হাকি-মিশকাত, পৃ. ৪২১)। 
সর্বোপরি, মা হলেন পৃথিবীর বুকে আল্লাহতায়ালার সবচেয়ে বড় নেয়ামত। মায়ের এই অসামান্য ত্যাগকে ইসলামে বিশেষ স্বীকৃতিই শুধু দেয়নি, বরঞ্চ তার সেবাকে শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে ঘোষণা করেছে। আর তাই দুনিয়া ও আখিরাতের পরম সফলতা লাভ করতে হলে মায়ের সন্তুষ্টি অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। 

লেখক: শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ

শামায়েল রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন
ছবি: সংগৃহীত

কল্পনা করুন আরবের তপ্ত মরুভূমির বুকে দাঁড়িয়ে আছেন এক অনন্য পুরুষ। তাঁর পরনে ইয়েমেনি লাল ডোরাকাটা চাদর ও লুঙ্গি, আর কাঁধ ছুঁয়ে যাচ্ছে ঘন কালো বাবরি চুল। দূর থেকে দেখলেই মনে হয় এক রাজকীয় আভিজাত্যের প্রতীক। তিনি আমাদের প্রিয় নবি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। কিন্তু আপনি কি জানেন, মহানবি (সা.)-এর দু’কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান সাধারণ মানুষের চেয়ে কেমন আলাদা ছিল? কিংবা সাহাবিদের বর্ণনায় তাঁর চুলের দৈর্ঘ্য কখনো কানের লতি, আবার কখনো কাঁধ পর্যন্ত বলার পেছনেদর রহস্যটা কী? চলুন, আজ তাঁর অবয়বের এই চমৎকার দিকটি জেনে নেওয়া যাক।

সাহাবি হযরত বারা ইবনে আযিব (রা.)-এর চোখের দেখা বর্ণনা থেকে জানা যায়, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর দু’কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান অন্যদের তুলনায় কিছুটা বেশি প্রশস্ত ছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং শারীরিক গঠনের দিক থেকে চওড়া কাঁধ হলো একজন পুরুষের শারীরিক দৃঢ়তা, শক্তি এবং নেতৃত্বের প্রতীক। তিনি অতিরিক্ত দীর্ঘ বা খাটো ছিলেন না, বরং এই চওড়া কাঁধ তাঁর সুসামঞ্জস্যপূর্ণ মাঝারি গড়নের দেহে এমন এক রাজকীয় গাম্ভীর্য এনে দিয়েছিল যে, সাহাবি বারা (রা.) মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর কাউকে কখনো দেখিনি।’

হাদিসের পাঠক মাত্রই একটি কৌতূহলের মুখোমুখি হন। কোনো হাদিসে বলা হয়েছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চুল ছিল কানের লতি পর্যন্ত, আবার কোনো বর্ণনায় এসেছে তা কাঁধ পর্যন্ত লম্বা ছিল। আপাতদৃষ্টিতে একে ভিন্ন মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে এক চমৎকার ও নতুন জানার মতো তথ্য।

আরো পড়ুন: রাসুল (সা.) যেভাবে চুলের যত্ন নিতেন

আরো পড়ুন: কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?

মানুষের চুল সব সময় এক মাপে থাকে না, তা প্রতিনিয়ত বাড়ে। আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর চুল মোবারকও সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যে পৌঁছাত। আরবের পরিভাষায় তাঁর চুলের এই পরিবর্তনশীল নান্দনিকতাকে তিনটি ভাগে ব্যাখ্যা করা হয়:

১. ওয়াফরা (Wafrah): যখন তাঁর চুল মোবারক সবচেয়ে ছোট অবস্থায় কানের লতি পর্যন্ত থাকত।

২. লিম্মা (Limmah): যখন চুল কিছুটা বড় হয়ে কান ও কাঁধের মাঝামাঝি বা ঘাড় পর্যন্ত পৌঁছাত।

৩. জিম্মা (Jimmah): যখন চুল মোবারক সর্বোচ্চ বড় হয়ে সরাসরি কাঁধ স্পর্শ করত।

এই তিনটি শব্দের সঠিক জ্ঞান আমাদের শেখায় যে, সুন্নতের অনুসরণে চুল কতটুকু রাখা মার্জিত ও নান্দনিক। তিনি যখনই যেভাবে চুল রেখেছেন, তা তাঁর উজ্জ্বল অবয়ব ও চওড়া কাঁধের সাথে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করত।

তথ্যসূত্র: মুসলিম, ৬২১১; মুসনাদে আহমাদ, ১৮৫৮১

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে। 

আজ ৭ জুন ২০২৬, রবিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০১ মিনিট

আসর

৪.৩৬ মিনিট

মাগরিব

৬.৪৭ মিনিট

 

এশা

৮.১৩ মিনিট

ফজর (৮ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?
সাহাবিরা তার সেই রূপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠতেন। ছবি: সংগৃহীত

যার হাঁটার ভঙ্গিতে ছিল এক অপার্থিব আভিজাত্য, যার কাঁধের প্রশস্ততা আর কানের লতি ছুঁয়ে যাওয়া ঘন বাবরি চুলে মুগ্ধ হতো গোটা আরব–কেমন ছিল সেই অনন্য রূপের মহিমা? আমরা অনেকেই জানি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে সুদর্শন মানব। কিন্তু আপনি কি জানেন, পুরুষদের জন্য লাল পোশাক পরা নিয়ে সাধারণ একটি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, জীবনের এক বিশেষ মুহূর্তে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এক অনুপম লাল পোশাকে দেখা গিয়েছিল? কী ছিল সেই লাল পোশাকের রহস্য? চলুন, আজ তাঁর শারীরিক গঠন ও পোশাকের সেই অজানা নান্দনিক অধ্যায়ে প্রবেশ করি।

দেহের গঠন ও অনন্য অবয়ব
সাহাবি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) এবং বারা ইবনে আযিব (রা.)-এর নিখুঁত বর্ণনা থেকে জানা যায়, প্রিয় নবি (সা.) ছিলেন উজ্জ্বল গৌরবর্ণ বা ফর্সা ত্বকের অধিকারী। তাঁর শারীরিক অবয়ব ছিল অসম্ভব আকর্ষণীয় এবং সুসামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি খুব বেশি দীর্ঘকায় ছিলেন না, আবার খাটোও ছিলেন না; বরং এক নিখুঁত মধ্যমাকৃতির অধিকারী ছিলেন। তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী অংশ ছিল তুলনামূলক প্রশস্ত, যা তাঁর অবয়বে এক চিরন্তন পুরুষোচিত দৃঢ়তা ফুটিয়ে তুলত। তাঁর মাথার চুলগুলো একদম সোজা কিংবা খুব বেশি কোঁকড়ানো ছিল না, বরং কানের লতি পর্যন্ত ঝুলন্ত সেই ঘন কালো চুল মোবারক তাঁর সৌম্য চেহারায় এক মায়াবী ও রাজকীয় রূপ দান করত।

চলনবলনে আভিজাত্য ও বিনয়
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাঁটার মধ্যেও একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেত। তিনি অলসভাবে বা অহংকার নিয়ে পা ফেলতেন না, বরং পথ চলার সময় কিছুটা সামনের দিকে ঝুঁকে চলতেন। সাহাবিদের ভাষায়, তাঁকে দেখে মনে হতো তিনি যেন কোনো উঁচু পাহাড় বা ঢালু জায়গা থেকে নিচের দিকে নামছেন। এই চলনভঙ্গি তাঁর অতুলনীয় কর্মোদ্যম ও বিনম্র ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ছিল।

লাল পোশাকের সেই অজানা রহস্য
হাদিসের পাতায় একটি চমৎকার বিবরণ মেলে, যেখানে সাহাবি বারা ইবনে আযিব (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে লাল রঙের লুঙ্গি ও চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখেছিলেন এবং মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর কাউকে কখনো দেখিনি।’ অথচ ইসলামের সাধারণ নিয়মে পুরুষদের জন্য একদম খাঁটি বা টকটকে লাল পোশাক পরিধান করা নিষেধ।

আরো পড়ুন: কেমন ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মানুষের অবয়ব?

 
 

ইসলামে পুরুষদের জন্য যে লাল রঙের পোশাকের ব্যাপারে অনুৎসাহিত করা হয়েছে, তা মূলত নিরেট, গাঢ় বা উজ্জ্বল লাল । রাসুলুল্লাহ (সা.) যে চাদর ও লুঙ্গি পরেছিলেন, তা কিন্তু একক কোনো লাল রঙের ছিল না। সেটি ছিল তৎকালীন আরবের ঐতিহ্যবাহী ইয়েমেনি ঘরানার লাল এবং অন্য রঙের মিশ্রণে তৈরি চমৎকার ডোরাকাটা সুতি পোশাক। এই নান্দনিক পোশাকটি তাঁর উজ্জ্বল গৌরবর্ণের সাথে এমন অপার্থিবভাবে মানিয়ে গিয়েছিল যে, সাহাবিরা তার সেই রূপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠেছিলেন।

(তথ্যসূত্র ও বর্ণনাসূত্র: সহিহ বুখারি,৩৫৫১; মুসলিম, ৬২১০; নাসায়ি, ৫২৩; মুসনাদে আবু ই’আলা,৩৮৩২; শারহুস সুন্নাহ, ৩৬৪০)

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

আলহামদুলিল্লাহ শব্দটি কেন এত শক্তিশালী?

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
আলহামদুলিল্লাহ শব্দটি কেন এত শক্তিশালী?
ছবি: সংগৃহীত

একটুখানি ভাবুন তো, যদি মিরাজের মহিমান্বিত রাতে বিশ্বনবি (সা.) দুধের পাত্রটি না নিয়ে মদের পাত্রটি বেছে নিতেন, তবে আজ আপনার আর আমার ভাগ্যে কী ঘটত? মাত্র একটি সঠিক সিদ্ধান্ত আর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার কারণে এক মহাসংকট থেকে বেঁচে গিয়েছিল গোটা মুসলিম উম্মাহ। আমাদের জীবনে প্রতিনিয়ত পাওয়া হাজারও নেয়ামতের বিপরীতে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা কেবল ভদ্রতা নয়, বরং এক অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব বা ওয়াজিব।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, মানুষ যদি তার দেওয়া নেয়ামতের স্বীকৃতি ও শুকরিয়া আদায় করে, তবে তিনি তার নেয়ামত বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, তোমরা আমাকে স্মরণ করো; আমিও তোমাদের স্মরণ করব। তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও, আর অকৃতজ্ঞ (কৃতঘ্ন) হয়ো না। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫২)

আল্লাহ অন্যত্র আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদেরকে অবশ্যই অধিক দান করব, আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর। (সুরা ইব্রাহীম, আয়াত: ৭) এমনকি জান্নাতিদের শেষ বাক্য বা স্লোগানও হবে, ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ (সব প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য)। (সুরা ইউনুস, আয়াত: ১০)

আল্লাহর প্রতি এই কৃতজ্ঞতা বা 'আলহামদুলিল্লাহ' শব্দের শক্তি কতটা গভীর, তা ফুটে ওঠে মিরাজের রাতের একটি বিশেষ ঘটনায়।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মিরাজের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে মদ ও দুধের দুটি পাত্র আনা হলো। তিনি দুটির দিকে তাকিয়ে দুধের বাটিটি বেছে নিলেন। তা দেখে জিবরাঈল (আ.) বললেন, ‘সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আপনাকে ফিতরাত বা ইসলামের স্বভাবজাত প্রকৃতির দিকে পথ দেখিয়েছেন। আপনি যদি মদের পাত্রটি নিতেন, তবে আপনার উম্মত পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।’ (সহিহ মুসলিম, ১৬৮; সহিহ বুখারি, ৩৩৯৪)

জিবরাঈল (আ.) কিন্তু ‘ধন্যবাদ’ জানাননি, তিনি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছিলেন। কারণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিকও আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। 

যদিও একটি বহুল প্রচলিত বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, আল্লাহর প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ) ছাড়া যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করলে তা বরকতহীন বা অসম্পূর্ণ থেকে যায় ( আবু দাউদ); আধুনিক মুহাদ্দিসগণের (যেমন- ইমাম আলবানী ও শুআইব আরনাউত) সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই সুনির্দিষ্ট হাদিসটির সনদ কিছুটা দুর্বল। তবে এর অর্থ ও মূলভাব কোরআনের অগণিত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। প্রতিটি ভালো কাজের শুরুতে এবং শেষে আল্লাহর প্রশংসা করা মুমিনের চিরন্তন ভূষণ।

দুধের পাত্রটি বেছে নেওয়ার মাধ্যমে রাসুল (সা.) আমাদের জন্য যে পবিত্রতার পথ দেখিয়েছেন, তার মূল ভিত্তিই হলো আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা। জীবনের প্রতিটি ছোট-বড় অর্জনে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলার অভ্যাস আমাদের অহংকারমুক্ত রাখে এবং আল্লাহর আজাব থেকে বাঁচিয়ে নেয়ামতের দুয়ার খুলে দেয়। অনলাইন ও পত্রিকার পাতায় এই সত্যটি আধুনিক পাঠককে নতুন করে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে শেখাবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক