প্রশ্ন: নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের মতো ব্যবসার মূলধন ও অবিক্রীত পণ্যেরও জাকাত দিতে হয়। একজন ব্যবসায়ী যখন জাকাতের হিসাব করবেন, তখন তার দোকানে বা গুদামে থাকা অবিক্রীত পণ্যের কোন মূল্যটি ধরবেন? খরিদ মূল্য (Cost Price), পাইকারি মূল্য, নাকি খুচরা বাজার মূল্য (Selling Price)?
উত্তর: ব্যবসায়িক পণ্যের জাকাত নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল ধর্তব্য বিষয় হলো পণ্যটির ‘বর্তমান বাজার মূল্য’। এ বিষয়ে শরিয়তের বিধান হলো-
১. বর্তমান বাজার মূল্যই আসল
ব্যবসায়ী যেদিন তার জাকাতের হিসাব করবেন (জাকাত-বর্ষ পূর্ণ হওয়ার দিনে), সেদিন তার কাছে থাকা অবিক্রীত পণ্যগুলো একত্রে বা পাইকারি দরে বিক্রি করলে বর্তমানে যে মূল্য পাওয়া যেত, সেই মূল্যের ওপর ভিত্তি করেই জাকাত হিসাব করতে হবে।
২. খরিদ মূল্য না বর্তমান মূল্য?
পণ্যটি কত টাকা দিয়ে কেনা হয়েছিল (খরিদ মূল্য), সেটি এখানে মুখ্য নয়। কারণ সময়ের ব্যবধানে পণ্যের দাম বাড়তে বা কমতে পারে। শরিয়তের নিয়ম হলো, বর্তমান বাজারদরে ওই পণ্যের যে মূল্য দাঁড়ায়, তার ওপর ২.৫% হারে জাকাত প্রদান করা।
৩. খুচরা না পাইকারি মূল্য?
জাকাতদাতা যদি পাইকারি ব্যবসায়ী হন, তবে তিনি পাইকারি বাজারদর হিসাব করবেন। আর যদি খুচরা বিক্রেতা হন, তবে তিনি তার বর্তমান বিক্রয়যোগ্য বাজার মূল্য অনুযায়ী হিসাব করবেন। সহজ কথায়, ওই দিনে পণ্যগুলো নগদ বিক্রি করলে যা দাম পাওয়া যেত, সেটিই হবে জাকাতের ভিত্তি।
ব্যবসায়ীদের জন্য সংক্ষপ্তি টিপস
রমজানে বা আপনার নির্ধারিত জাকাত বর্ষের শেষ দিনে অবিক্রীত মালের একটি তালিকা করুন।
তালিকার প্রতিটি পণ্যের পাশে ওই দিনের বর্তমান বাজারদর বসান।
মোট পণ্যের মূল্যের সঙ্গে ক্যাশবাক্সে থাকা নগদ টাকা ও ব্যবসার পাওনা টাকা যোগ করে মোট ২.৫% জাকাত বের করুন।
ব্যবসায়িক পণ্যের জাকাত খরিদ মূল্যে নয়, বরং হিসাব করার দিনের বর্তমান বাজার মূল্যে আদায় করা ওয়াজিব। এতে আপনার সম্পদে বরকত আসবে এবং জাকাতও সঠিকভাবে আদায় হবে।
ব্যবসার জটিল ও বড় পরিসরের জাকাত নির্ধারণে সঠিক গাইডলাইনের জন্য নির্ভরযোগ্য কোনো ‘দারুল ইফতা’ বা বিজ্ঞ মুফতি সাহেবের সরাসরি শরণাপন্ন হোন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক