দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজের ইসলামিক কালচারাল ক্লাব আয়োজন করতে যাচ্ছে ৩য় ডিআরএমসি ন্যাশনাল ইসলামিক কালচারাল ফেস্টিভ্যাল ও বুক ফেয়ার ২০২৬।
আগামী ৯, ১০ ও ১১ এপ্রিল তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন শুধু একটি ইভেন্ট নয়, বরং প্রতিভা বিকাশের এক বিস্তৃত মঞ্চ, যেখানে সৃজনশীলতা ও জ্ঞানের সমন্বয়ে গড়ে উঠবে এক অনন্য পরিবেশ। ডিআরএমসি ইসলামিক কালচারাল ক্লাব আয়োজিত এই উৎসবের এবারের মূলমন্ত্র নির্ধারণ করা হয়েছে ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ (এসো কল্যাণের পথে), যা তাদের ইভেন্টের সার্বিক লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের পরিচায়ক।
উৎসবে অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে অংশ নেয়ার জন্য থাকছে মোট ৩২টি প্রতিযোগিতামূলক সেগমেন্ট, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা তাদের জ্ঞান, প্রকাশভঙ্গি ও সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ প্রয়োগের সুযোগ পাবে। কোরআন তিলাওয়াত, আজান, নাশীদ, উপস্থিত বক্তৃতা, ও কবিতা আবৃত্তির মতো বিষয়গুলোর পাশাপাশি ক্যালিগ্রাফি, টাইপোগ্রাফি, ওয়াল ম্যাগাজিন, পোস্টার ও স্ক্র্যাপবুক তৈরির মতো সৃজনশীল প্রতিযোগিতাও থাকবে।
এছাড়া কুইজ ও অলিম্পিয়াডপ্রেমীদের জন্য রয়েছে মেগা কুইজ, দলীয় ও একক কুইজ, বেঙ্গল মুসলিম হেরিটেজ অলিম্পিয়াড, ওয়ার্ল্ড মুসলিম হেরিটেজ অলিম্পিয়াড, বাইত আল হিকমাহ অলিম্পিয়াড, স্পট দ্য ল্যান্ডমার্ক ইত্যাদি। এছাড়া লেখনী গুণসম্পন্নদের জন্য রয়েছে প্রবন্ধ রচনা, ইতিহাস ভিত্তিক লেখনী, কনসেপচুয়াল স্টোরি রাইটিং, জুলাইলিপিসহ আরও নানা আয়োজন।
প্রতিযোগিতার বাইরেও দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে নানা প্রদর্শনী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন, সিম্পোজিয়াম। এবারের উৎসবের অন্যতম বড় চমক হলো কলেজ প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত বৃহৎ ইসলামী বইমেলা। দেশের নামী-দামি ও শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনীগুলো এই মেলায় অংশগ্রহণ করবে। মানসম্মত ইসলামি বই এবং সৃজনশীল সাহিত্যের সমাহার নিয়ে এই মেলাটি উৎসবের আমেজকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে বলে সকলের প্রত্যাশা।
৯ এপ্রিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অধ্যাপক মোখতার আহমেদ। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ড. মিজানুর রহমান আজহারী। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু।
প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে স্নাতক পর্যায়ের তরুণ, সবার অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত এই আয়োজন। আয়োজক ক্লাবের সভাপতি মোঃ সাজিদ জামান বলেন, ইসলামী জ্ঞান, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ। এর মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক জ্ঞান এবং নৈতিকতা ও মূল্যবোধে সমৃদ্ধ, যোগ্য ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।