জিলহজ মাসের পবিত্র দিনগুলো তো শেষ হলো। আমরা লাখ লাখ টাকা খরচ করে হজও করলাম, আবার সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানিও দিলাম। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন-যে ইহরামের সাদা কাপড় আর পশুর গলায় ছুরি চালিয়ে আমরা ত্যাগের মহিমা শিখলাম, উৎসবের দিনগুলো পার হওয়ার পর সেই শিক্ষা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কতটুকু টিকে রইল? নাকি ইবাদতের সেই আবেগ জিলহজ মাসের সাথেই বিদায় নিল?
পবিত্র হজ এবং কোরবানি-দুটি ইবাদতেরই মূল কথা হলো ত্যাগ এবং আত্মবিসর্জন। এই দুটি আমল নির্দিষ্ট কিছু দিনের জন্য হলেও, এদের ভেতরের আধ্যাত্মিক শিক্ষা কিন্তু বছরজুড়ে এবং আমৃত্যু ধারণ করার বিষয়।
হজ থেকে সদ্য ফিরে আসা হাজি ভাইয়েরা আল্লাহর ঘর ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারক ছুঁয়ে এসেছেন। হজের সফরে গায়ে জড়ানো কাফনসদৃশ সাদা ইহরামের কাপড় আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যেকোনো মুহূর্তে আসল কাফন আমাদের জড়িয়ে ধরতে পারে। এই পরকালের চেতনাকে বাকি জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সজীব রাখতে হবে। সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে যখনই কোনো অন্যায় বা পাপাচারের হাতছানি আসবে, তখনই নিজেকে মনে করিয়ে দিতে হবে কাবার চত্বরে রবের কাছে করা সেই ক্ষমার ওয়াদা।
অন্যদিকে, কোরবানি হলো নিজের ভেতরের পশুবৃত্তি ও কুপ্রবৃত্তিকে জবাই করার জীবন্ত এক অনুশীলন। আল্লাহ আমাদের পশুর রক্ত বা গোশত চান না, তিনি চান আমাদের হৃদয়ের তাকওয়া বা খোদাভীতি।
বাকি জীবনে এই দুই মহান ইবাদতের শিক্ষা ধরে রাখার উপায়গুলো খুবই প্রাত্যহিক:
হাজারো বিত্তশালী যেখানে সুযোগ পাননি, সেখানে আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দিয়েছেন। তাই মনে কোনো অহংবোধ না এনে আমৃত্যু রবের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা।
কোরবানির পশু জবাই করার সময় আমরা যেভাবে কোনো যুক্তি ছাড়া রবের নির্দেশ মেনে নিয়েছি, ঠিক তেমনি জীবনের লেনদেন, ব্যবসা ও পরিবারেও আল্লাহর প্রতিটি বিধান নিঃশর্তভাবে মেনে চলা।
প্রতিনিয়ত নিজেকে পাপমুক্ত রাখার চেষ্টা করা এবং মানুষ হিসেবে ভুল হয়ে গেলেই অহংকার না করে সাথে সাথে তওবা করে নেওয়া।
হজ ও কোরবানি শুধু জিলহজ মাসের কোনো উৎসব নয়, এটি হলো একজন মুমিনের পুরো জীবন বদলানোর বাৎসরিক রিচার্জ। এই দুই ইবাদত থেকে অর্জিত তাওহিদ ও তাকওয়ার আলো যেন আমাদের বাকি জীবনের পথকে আলোকিত করে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই তাওফিক দিন। আমিন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক