প্রতিবার জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনীতির নানা দিক উঠে আসে আলোচনায়। কখনো বড় কোনো ফোরামে, কখনোবা হাট-বাজারে আমজনতার চায়ের আড্ডায় কিংবা গণমাধ্যমের বিভিন্ন শাখায়। প্রতিবারই হরতাল-অবরোধ, পাল্টাপাল্টি সভা-সমাবেশ, বিদেশিদের দৌড়ঝাঁপ কিংবা নির্বাচনী স্রোতে এগিয়ে চলে দেশের সামগ্রিক রাজনীতি কিংবা আর্থসামাজিক ধারা। এবারও ব্যত্যয় হচ্ছে না এসবের।
এর মাঝেই কয়েকজন মানুষ আছেন, যারা যুগের পর যুগ কিংবা বছরের পর বছর রাজনীতির মাঠে, মানুষের মাঝে নিজেদের বিলিয়ে দেন সমাজ-দেশ-রাষ্ট্রের জন্য। একটা সময়ে বয়সের ভারে কিংবা অসুস্থতার কাছে নত হয়ে তারা রাজনীতির সক্রিয় মাঠ থেকে ছিটকে পড়েন ধীরে ধীরে। তাদের নামও ঠিকই উঠে আসে স্মৃতিকাতর মানুষের মনে। মূলস্রোত থেকে আড়ালে পড়ে যাওয়া বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদরা কেমন আছেন, তা জানার কৌতূহলও জাগে। কারণ তারাও বিভিন্ন সময়ে কাঁপিয়েছেন ভোটের মাঠ।
এবার কেবল অসুস্থতার কারণে প্রথম সারির বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা নির্বাচনী দৌড়ে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েও অনেকের মাঝেই সংশয় রয়েছে। কেউ কেউ অসুস্থতা সত্ত্বেও চেষ্টা করে যাচ্ছেন নিজের অবস্থান সক্রিয় হিসেবে দেখাতে। গাড়িতে কিংবা হুইলচেয়ারে ছুটে চলার চেষ্টা করেন মাঠে-ঘাটে। কেউবা আছেন হাসপাতাল বা বাসায়, পুরোপুরি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে। বয়সের গোধূলিবেলায় থাকা এমন ১০ বর্ষীয়ান রাজনীতিককে নিয়ে এই প্রতিবেদন।
তাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, মাঠের বিরোধী দল বিএনপি, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতা-নেত্রীও আছেন। এমনকি এখনকার রাজনীতি থেকে দূরেও আছেন কেউ কেউ।
এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী
১৯৩২ সালের ১ নভেম্বর কুমিল্লার মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বা বি. চৌধুরী। পৈতৃক বাস মুন্সীগঞ্জে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করে বদরুদ্দোজা চৌধুরী স্কটল্যান্ডের এডিনবরা থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তিনি উপ-প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব। বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসার পর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন। ২০০১ সালের নভেম্বরে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০২ সালে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন ও পরবর্তীকালে আরেকটি রাজনৈতিক দল বিকল্পধারা বাংলাদেশ গঠন করেন।
বিকল্পধারা বাংলাদেশের একাধিক সূত্র জানায়, গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সময়েও তিনি সুস্থ ছিলেন এবং নিজে ভোটে না দাঁড়ালেও রাজনৈতিক বলয়ে সক্রিয় ছিলেন। ছেলে মাহি বি. চৌধুরী এমপি হয়েছেন তার আসন থেকেই। এবার তিনি খুবই অসুস্থ। রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার মতো শারীরিক পরিস্থিতি নেই। এমনকি রাজনীতি নিয়ে তিনি এখন কোনো কথাও বলেন না।
বেগম খালেদা জিয়া
১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা খানম পুতুল বা বেগম খালেদা জিয়া। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম জিয়া স্বামীর মৃত্যুর পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি নিজস্ব পাঁচটি সংসদীয় আসনের সবগুলোতেই জয়ী হন। ফোর্বস সাময়িকীর বিশ্বের ১০০ ক্ষমতাবান নারী নেতৃত্বের তালিকায় ২০০৪ সালে খালেদা জিয়ার অবস্থান ছিল ১৪তম, ২০০৫ সালে ২৯তম ও ২০০৬ সালে ৩৩তম। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন একটি এতিমখানা ট্রাস্ট গঠনের সময় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। দেশের আইন অনুসারে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য হন। তিনি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এভারকেয়ার হাসপাতালের পরিচালক (মেডিকেল) ডা. আরিফ মাহমুদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখনো (গত ১৩ নভেম্বর) আমাদের হাসপাতালেই আছেন। তিনি কেবিনে আছেন। মাঝেমধ্যেই শ্বাসকষ্ট হয় এবং তার এটা থাকবে। কখনো কখনো সিসিইউতে নিতে হয়।’
ড. কামাল হোসেন
১৯৩৭ সালের ২০ এপ্রিল বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিবিদ ১৯৫৭ সালে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জুরিসপ্রুডেন্সে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে ব্যাচেলর অব সিভিল ল ডিগ্রি লাভ করেন। লিংকনস ইনে বার-অ্যাট-ল অর্জনের পর আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে পিএইচডি করেন ১৯৬৪ সালে। ড. কামাল হোসেন বাংলাদেশের সংবিধানের প্রণেতা হিসেবেই অধিক পরিচিত।
রাজনীতিতে তিনি সব সময়ই সোচ্চার ছিলেন। ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে আইনমন্ত্রী এবং ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ঢাকা-১৪ আসন থেকে এমপি হন। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭২-এর ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সঙ্গে তাকেও মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি শেখ মুজিবের সঙ্গে ১০ জানুয়ারি লন্ডন হয়ে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে ১৯৯২ সালে তিনি আওয়ামী লীগের বাইরে চলে যান। এরপর কয়েক দফায় তিনি বিভিন্ন দল ও মোর্চা তৈরি করে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
গত ২৭ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরামের বিশেষ জাতীয় কাউন্সিলে কামাল হোসেন বলেন, ‘আমার বয়স এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় এখন আর সক্রিয়ভাবে সভাপতির দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমি সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে তথা গণফোরামের সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছি।’
তবে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে দেশ ও জাতির জন্য আমার সাধ্য মোতাবেক অবদান রাখতে চেষ্টা করব।’
তোফায়েল আহমেদ
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলায় জন্মগ্রহণ করেন বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ। কয়েকবার মন্ত্রী ছিলেন। তিনি বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৬২ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) নির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) ছিলেন। ১৯৬৮-৬৯-এ গণজাগরণ ও ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন তিনি ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আয়োজনে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো জনতার অংশগ্রহণে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন এই তোফায়েল আহমেদ।
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরবর্তীকালে ১৪ জানুয়ারি ১৯৭২ প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমান সংসদেরও সদস্য তিনি।
পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, বর্তমানে তিনি অসুস্থ। ফলে রাজনীতির মাঠে আর আগের মতো সক্রিয় থাকা হচ্ছে না তার পক্ষে। কখনো চলাফেরা করেন হুইলচেয়ারে, কখনোবা নিজ নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে গাড়িতে বসেই গণসংযোগ করেন কিংবা বিভিন্ন সমাবেশে সংক্ষেপে বক্তব্য দেন।
শারীরিক অবস্থা জানাতে গিয়ে তোফায়েল আহমেদ খবরের কাগজকে (১৩ নভেম্বর) শুধুই বলেন, ‘ভালো আছি।’
মতিয়া চৌধুরী
১৯৪২ সালের ৩০ জুন পিরোজপুরে জন্মগ্রহণ করেন বর্তমান জাতীয় সংসদের সংসদ উপনেতা এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী। রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বামপন্থি রাজনীতি দিয়ে। ইডেন কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৫ সালে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। ওই সময় তার বিল্পবী ভূমিকার ফলে ১৯৬৭ সালে ‘অগ্নিকন্যা’ নামে পরিচিতি পান। পরে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন এবং এর কার্যকরী কমিটির সদস্য হন। যদিও ১৯৭১ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছিলেন। তিনি একাধিবার মন্ত্রী ছিলেন।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে তিনি বেশ অসুস্থ। ফলে আগের মতো রাজপথের সব কর্মসূচিতে বা সভা-সমাবেশে অংশ নিতে পারেন না। কেবল গুরুত্বপূর্ণ সভা বা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সংসদ অধিবেশন এবং দলীয় গুরুত্বপূর্ণ সভায় ঠিকই তিনি অংশ নেন। থাকেন প্রধানমন্ত্রী বা দলীয় সভাপতির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জনসভায়ও।
রওশন এরশাদ
১৯৪১ সালের ১৯ জুলাই ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন বর্তমান জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ। এর আগেও তিনি একাধিকার সংসদ সদস্য ছিলেন। কিছুদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী। জাতীয় পার্টির আমলে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা সংস্থার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
জাতীয় পার্টির একজন সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, ‘রওশন এরশাদ অনেক দিন ধরেই অসুস্থ। ব্যাংককের একটি হাসপাতালের চিকিৎসক টিম তার তত্ত্বাবধান করছে। স্বাভাবিক চলফেরা কমে গেছে। ফলে বিশেষ জরুরি কোনো প্রয়োজন ছাড়া তিনি বাসা থেকেও বের হন না।’
মোরশেদ খান
১৯৪০ সালের ৮ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্ম মোরশেদ খানের। ১৯৬২ সালে তিনি জাপানের টোকিও কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এ ছাড়া তিনি সোফিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা ইন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যানেজমেন্টে পড়াশোনা করেন। সাবেক এই বিএনপি নেতা ১৯৮৬ সালে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। এরপর তিনি আরও তিনবার (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬, জুন ১৯৯৬ ও ২০০১) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তিনি ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ছিলেন এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশ স্পেশাল কমিটি অন ফরেন অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারম্যান ছিলেন। মোরশেদ খান ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মাধ্যমে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দলের সব পদবিসহ সাধারণ সদস্যপদ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। বর্তমানে তিনি খুবই অসুস্থ বলে জানায় তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র।
মহিউদ্দীন খান আলমগীর
১৯৪২ সালে মহিউদ্দীন খান আলমগীর চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার গুলবাহার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে চাঁদপুর-১ আসনের এমপি এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এবং বস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উন্নয়ন অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং বস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সেই বছরই পাকিস্তান সরকারের সরকারি কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন এবং প্রায় ৩২ বছর সরকারের বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানের উপবিভাগীয় কর্মকর্তা (সিএসপি ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৯ পর্যন্ত যশোরের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন
১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য (১ নং। ১৯৬৬ সালে লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি পাস করেন। লাহোরে অধ্যয়নকালে তিনি ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। মিছিল-সমাবেশে সরাসরি নেতৃত্ব দেন। এ সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালে তিনি সর্বপ্রথম তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। একাধিকবার মন্ত্রী ছিলেন।
এখন তিনি অসুস্থতার কারণে রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকতে পারছেন না। তার নির্বাচনী এলাকায় পুত্রকে প্রস্তুত করছেন বলেও জানায় স্থানীয় সূত্র। খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো সভা-সমাবেশ বা অনুষ্ঠানেই কেবল তাকে দেখা যায়।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
১৯৪৬ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গয়েশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্ব বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৪ সালে ইম্পেরিয়াল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিআইসি লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি ১৯৭১ সালে প্রবাসীদের সংগঠিত করেন এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন। তিনি ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব অনুষদে জুনিয়র লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। পর্যায়ক্রমে সহকারী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে বিএনপিতে যোগ দেন। কুমিল্লা-২ আসন থেকে চারবার এমপি নির্বাচিত হন তিনি। তিন দফা মন্ত্রী ছিলেন।
বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরে এখন বাসাতেই থাকেন। রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা নেই। থাকতে হচ্ছে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে।
সালমান/