পর্যাপ্ত উৎপাদন, আমদানি ও সরবরাহের পরও খুচরায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে চাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, এলাচ ও ভোজ্যতেল। কোনো কারণ ছাড়াই মাসের ব্যবধানে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে ৩ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। ঠিকমতো বাজার তদারকি না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।
শনিবার (১০ মে) চট্টগ্রাম মহানগরের চকবাজার, কাজীর দেউড়ি, আগ্রাবাদ, ব্যাপারীপাড়া ও নাসিরাবাদ এলাকার বিভিন্ন খুচরা দোকান ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি মোটা চালের দাম ৪ টাকা ও সরু চালের দাম ৩ টাকা বেড়েছে। দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ১২ টাকা এবং দেশি রসুন ও চায়না আদার দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। ছোট এলাচের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০০ টাকা।
নির্ধারিত দামের চেয়ে চড়া দরে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল। দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে মেলেনি কোনো সদুত্তর। অথচ পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে এসব পণ্যের দাম নতুন করে বাড়েনি।
বর্তমানে পাইকারি বাজারে বোরো মৌসুমের কারণে মোটা ও সরু চালের সরবরাহ বেড়েছে। বস্তাপ্রতি চালে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সেই হিসাবে খুচরায় দাম কমার পরিবর্তে উল্টো দাম বেড়েছে। মাসের ব্যবধানে কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে মোটা চাল ৬৪ টাকা, সরু চাল কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে দাপট দেশি পেঁয়াজের। চলছে পেঁয়াজের ভরা মৌসুম। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়ে আরও ছয় মাস চাহিদা মেটানো যাবে। অথচ খুচরায় মাসের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ১২ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে চট্টগ্রাম উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ৯ মাসের প্রতি মাসেই আদা আর এলাচ আমদানি হয়েছে। এ সময় ২১ হাজার ১৯ টন আদা এবং ১ হাজার ৬১৪ টন এলাচ আমদানি হয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় পাইকারিতে এসব পণ্যের দাম বাড়েনি। অথচ খুচরা পর্যায়ে মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি এলাচ ২০০ টাকা বেড়ে ৪ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে সরকার দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও তা মানছেন না খুচরা ব্যবসায়ীরা। সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দাম অনুযায়ী প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৮৯ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৬৯ টাকায় বিক্রি করার কথা। অথচ খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতি লিটার বোতলজাত ভোজ্যতেল ১৯০ টাকায় বিক্রি করছেন। কোথাও কোথাও ১৯৫ টাকা চাইতে দেখা গেছে। অন্যদিকে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।
খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারদের কাছ থেকে পণ্য কিনে আনতে গাড়ি ভাড়া লাগে, মজুরি খরচ দিতে হয়। দোকানের ভাড়া, লাইটিং খরচ, কর্মচারীর বেতন তো আছেই। একটু বাড়তি দরে বিক্রি না করলে দোকানের এত খরচ সামলানো কঠিন হবে।
চট্টগ্রাম মহানগরের ব্যাপারীপাড়া এলাকার আল রহমান স্টোরের মালিক মো. সুফিয়ান বলেন, ‘পাইকারি পর্যায়ে ভোগ্যপণ্যের দাম নিম্নমুখী। কিন্তু এগুলো পাইকারের কাছ থেকে কিনে আনতে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয় যোগ করলে দাম একটু বেড়ে যায়। এখানে তো আমাদের কিছু করার নেই।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘বর্তমানে চাল, পেঁয়াজের মৌসুম চলছে। বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি ও খালাস অব্যাহত আছে। পাইকারি পর্যায়েও দাম অনেটা নিম্নমুখী। মুক্তবাজার অর্থনীতির দোহাই দিয়ে ব্যবসায়ীরা যাচ্ছেতাইভাবে বাড়তি অর্থ আদায় করছেন। কোথাও কোনো শৃঙ্খলা নেই। খুচরা ব্যবসায়ীরা এখন অতি মুনাফালোভী হয়ে উঠেছেন। সামনে কোরবানির ঈদ। তারা কীভাবে ভোক্তার পকেট কাটবেন সেই পাঁয়তারা করছেন। দ্রুত বাজার তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘অভিযানে গেলে আমরা জরিমানার পাশাপাশি সতর্ক করছি। খুচরা দোকানের তো অভাব নেই। তবুও আমরা আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। তবে আমাদের ব্যবসায়ীদের সততার সঙ্গে ব্যবসা করতে হবে। কারণ তাদেরও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে।’