কত ট্রফি হলে সুখে থাকা যায়? বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এই প্রশ্নটা বড্ড বেমানান, যেখানে ট্রফির ক্ষুধা কখনোই কমে না। এই ট্রফি কি শুধুই জয়ের আনন্দ? ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে উত্তর ‘না’। তাই তো কাঁড়িকাঁড়ি টাকায় গড়ে তোলা হয় সেরা সব দল। লক্ষ্য থাকে একটাই- চ্যাম্পিয়ন হওয়া। সেই সেরা দল যখন শ্রেষ্ঠত্বের তকমা গায়ে জড়ায় তখন মালিক পক্ষের পুঁজি ফুলে-ফেঁপে ওঠে। এমন কিছুই সামনে চলে এল উয়েফার ২০২৩-২৪ মৌসুমের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর। জানা গেছে, গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স জিতে রিয়াল মাদ্রিদের আয় হয়েছে রেকর্ড ১৮৬৬ কোটি টাকা, যা ইউরোতে ১৩৮.৮ মিলিয়ন।
ইউরোপিয়ান ফুটবলের শীর্ষ সংস্থা উয়েফা। গত মৌসুমে তাদের তিন টুর্নামেন্ট থেকে দলগুলো কত আয় করেছে, তার বিশদ বিবরণ সামনে তুলে ধরা হয়েছে বেলগ্রেডে শুরু হওয়া সংস্থাটির ৪৯তম কংগ্রেসে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদের ১৫তম শিরোপা এসেছে গত মে মাসে। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে পরাস্ত করেছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এই সাফল্য আয়ের দিক থেকে একটি রেকর্ড। গত মৌসুমে রিয়ালের অর্জিত ১৩৮.৮ মিলিয়ন ছিল ম্যানচেস্টার সিটির ২০২২-২৩ মৌসুমে শিরোপা জেতার সময় পাওয়া পরিমাণের চেয়ে প্রায় ৪ মিলিয়ন বেশি। এটি রিয়ালের বার্ষিক আয় প্রথমবারের মতো ১ বিলিয়ন অতিক্রম করতে সাহায্য করেছে।
মজার বিষয় হলো, ফাইনাল খেলেও ডর্টমুন্ডের আয় ছিল পিএসজির চেয়ে কম। সেমিফাইনালে থমকে যাওয়া প্যারিসের ক্লাবটিকে উয়েফা দিয়েছে ১২৪.৪ মিলিয়ন ইউরো। ফাইনাল হেরে ডর্টমুন্ড পেয়েছে ১২০.৭ মিলিয়ন ইউরো। ম্যানচেস্টার সিটি গতবারও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ আয়কারী প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব ছিল। সিটিজেনরা ১১০.৪ মিলিয়ন উপার্জন করেছে। ইউরোপ সেরা টুর্নামেন্টে ৯৪ মিলিয়ন আয়ে পকেট ভারী করেছে আর্সেনাল। গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে ব্যর্থ হওয়া ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আয় করেছে ৬০.৭ মিলিয়ন।
নিউক্যাসল ইউনাইটেডের দুই দশকের মধ্যে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মৌসুম থেকে বিদায় নিয়েছিল নকআউট পর্বের আগেই। তাদের উয়েফার কো-এফিসিয়েন্ট কম ছিল, যার ওপর ভিত্তি করে ইউরোপিয়ান ফুটবলে র্যাঙ্কিং নির্ধারণ করা হয়। ফলে নিউক্যাসলের মোট পুরস্কারের অর্থ ছিল মাত্র ৩৪.৪ মিলিয়ন ইউরো।
এদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ইউরোপা লিগের মধ্যে আর্থিক ফারাক আবারও স্পষ্ট হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে রিয়াল পেয়েছে ১৩৮.৮ মিলিয়ন। অথচ ইউরোপা লিগ জিতে আটালান্টা পেয়েছে মাত্র ৩৩.৯ মিলিয়ন ইউরো। রানার্সআপ বায়ার লেভাকুসেন পেয়েছে ৪১.২ মিলিয়ন। কারণ তাদের কো-এফিসিয়েন্ট চ্যাম্পিয়নদের চেয়ে শক্তিশালী। ২০২২-২৩ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ক্লাব হিসেবে লিভারপুলের আয় ছিল ৮৪.৩ মিলিয়ন। গত মৌসুমে ইউরোপা লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে থামা অলরেডরা পেয়েছে মোটে ৩৩.৯ মিলিয়ন। ইউরোপা লিগের গত মৌসুমে অংশ নিয়ে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ আলবিওন ২১.৩ মিলিয়ন এবং ওয়েস্টহাম ইউনাইটেড ১৯.১ মিলিয়ন ইউরো উপার্জন করেছে।
উয়েফার নতুন টুর্নামেন্ট কনফারেন্স লিগের বদৌলতে লাভবান হয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। গত মৌসুমে এই আসরে সেমিফাইনাল খেলে তারা আয় করেছে ১৬.২ মিলিয়ন। এ ছাড়া চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে আরও ১০০ মিলিয়নের বেশি উপার্জন নিশ্চিত করেছে প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবটি।
চলতি মৌসুমে উয়েফার তিনটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সব ক্লাবই বেশি আয়ের সম্ভাবনা দেখচ্ছে। কারণ সম্প্রসারিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফরম্যাট আয়ের পরিমাণ বাড়িয়েছে। এই বছরের চূড়ান্ত বিজয়ীরা ১৬০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কার জেতার সুযোগ পাবে এবং বাকি আটটি ক্লাবের মধ্যে পাঁচটি ক্লাব আরও বেশি আয় করার সুযোগ পাবে গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। ফিফা গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছে যে, তাদের প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা ১২৫ মিলিয়ন আয় করতে পারবে।
উয়েফার বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন আর্থিক শক্তির পরিচয় দিয়েছে। রাজস্ব বেড়ে ৬.৭ বিলিয়নে পৌঁছেছে। এটি ২০২০-২১ সালের তুলনায় ১ বিলিয়ন বেশি, যেখানে ২০২৩-২৪ মৌসুমের মিডিয়া অধিকার থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন আয় হয়েছে। উয়েফার তিনটি ক্লাব প্রতিযোগিতা ৩.৭২ বিলিয়ন আয় করেছে, যা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে অর্জিত ২.৫ বিলিয়নের চেয়ে বেশি। ২০২৪ ইউরোতে পুরস্কার বাবদ মোট অর্থ ৩৩১ মিলিয়ন, যেখানে চ্যাম্পিয়ন স্পেন ২৮ মিলিয়ন এবং রানার্স-আপ ইংল্যান্ড ২৪ মিলিয়ন পেয়েছে।