একটি ফুটবল দলের বেঞ্চে জিনেদিন জিদানকে বসতে দেখার পর কেটে গেছে চার বছর। যদিও বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে তার নাম বারবার জড়িয়েছে। যেমন- এখন ইংলিশ মিডিয়া সয়লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে জিদানের কোচ হওয়ার গুঞ্জনে। কিন্তু এ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য নেই সংশ্লিষ্টদের। এমনটাই হয়ে চলেছে বছরের পর বছর ধরে।
দিনটা ২০২১ সালের ২৭ মে, দ্বিতীয়বারের মতো রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়েছিলেন জিদান। সেই মৌসুমে ক্লাব কোনো শিরোপা জিততে পারেনি। বিদায়ের সময় একটি খোলা চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, ক্লাব ও সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে দূরত্ব এবং ব্যবস্থাপনার কাছ থেকে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও সমর্থনের অভাবই এর কারণ। স্পষ্ট করেছিলেন যে তিনি প্রশিক্ষণে ক্লান্ত নন, তবে ক্লাব আর আগের মতো তার প্রতি আস্থা রাখছে না। এই বিদায়ই তার দীর্ঘ বিশ্রামের সূচনা, যা এখন চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে।
প্রতিবারই ইউরোপের কোনো বড় ক্লাবের কোচের পদ খালি হলে তার নাম উঠে আসে। তবে ১৯৯৮ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী বারবার বলেছেন যে তার স্বপ্ন হলো ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হওয়া। এটি একটি স্বপ্ন যা সম্ভবত ২০২৬ বিশ্বকাপের পরই সত্যি হতে পারে, যেহেতু দিদিয়ের দেশম এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি ফ্রান্সের ডাগ আউট ছাড়বেন। কয়েক মাস আগে শোনা গিয়েছিল আরেক গুঞ্জন। সেটা হলা- জিদান সৌদি ক্লাব আল হিলালের প্রায় ১০০ মিলিয়ন ইউরোর এক মৌসুমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটা বাকি সব গুঞ্জনের মতোই একটি।
রিয়ালে জিদান যেখানে খেলোয়াড় হিসেবে উজ্জ্বল ইতিহাস গড়েছেন এবং কোচ হিসেবে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়েছেন, সেখানে সেই ডেরা ছাড়ার কোনো দলকে কোচিং করাননি তিনি। একসময় তার সঙ্গে পিএসজির নাম জড়ালেও লুইস এনরিকের আগমনে সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। জিদান সেই সব কোচের মতো নন, যারা সবসময় নতুন অফারের পেছনে দৌড়ান। বরং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন- তিনি কেবল এমন পরিবেশে কোচিং করতে চান যেখানে নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।
যার ফেরা নিয়ে এত জল্পনা-কল্পনা সেই জিদান এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। তিনি তার ‘জে-ফাইফ স্পোর্টস সেন্টারস’ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করছেন, যেখানে বিশেষভাবে প্যাডেল ও মিনি-ফুটবলের ব্যবস্থা থাকে। টাউলাউসে, ফ্রাঙ্কো-স্প্যানিশ সীমান্তের কাছে, তিনি একটি নতুন সেন্টার নির্মাণ করছেন যেখানে থাকবে ১৩টি প্যাডেল কোর্ট, ২টি মিনি-ফুটবল কোর্ট ও ১টি বিচ ভলিবল কোর্ট। এটি ২০২৬ সালের শুরুর দিকে চালু হওয়ার কথা। ইতোমধ্যে ফ্রান্স, ইতালি (তুরিনসহ) এবং শিগগিরই স্পেনে আরও কেন্দ্র চালু হবে।
সাবেক রিয়াল কোচ এখনো ফুটবলের জগতে প্রভাবশালী উপস্থিতি বজায় রেখেছেন। তিনি ফিফা ও উয়েফার নানা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পাশাপাশি তিনি ফ্রান্সের লিগ-২ ক্লাব রোদেজ আভেয়রঁ ফুটের শেয়ারহোল্ডার হয়েছেন। উদ্যোক্তা কার্যক্রমের বাইরে জিদান এখনো নিয়মিত ফিটনেস বজায় রাখেন, খেলাধুলা করেন এবং পরিবারকে সময় দেন। তিনি তার ছেলেদের ফুটবল ক্যারিয়ারও ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করেন। তার সাম্প্রতিক এক প্রকাশ্য উপস্থিতি ছিল গ্রানাদায়, যেখানে তার ছেলে লুকাস খেলেন।
একই সঙ্গে নিজ স্বপ্ন লালন করছেন জিদান। যে স্বপ্ন পূরণের মধ্য দিয়ে বেকারত্ব ঘুচাবেন ফরাসি কিংবদন্তি। বেশ কিছু দিন আগে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি ফরাসি জাতীয় দলকে পরিচালনার মতো যোগ্যতা আমার আছে। আমি এখানে প্রায় ১২-১৪ বছর খেলেছি। অবশ্যই এটা একটি স্বপ্ন, আমি অপেক্ষায় আছি।’ অনেকেই ভেবেছিলেন, ২০২১ ইউরো বা ২০২৪ ইউরোর পরই ফ্রান্সের দায়িত্ব তার হাতে যাবে। কিন্তু দেশম টিকে আছেন আজও। এখন যেহেতু নিজ থেকেই বিদায়ের দিনক্ষণ জানিয়ে দিয়েছেন দেশম, তাই জিদানকেই ধরে নেওয়া হয়েছে তার উত্তরসূরি?
অনিক/নিলয়/