ছবি: সংগৃহীত
কঠিন সমীকরণ মিলিয়ে অবশেষে ঢাকা প্রিমিয়ার বিভাগ ক্রিকেট লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তারা প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আর সব মিলিয়ে তারা শিরোপা জিতেছে ১৬ বছর পর।
দশম রাউন্ডে ঢাকা লেওপার্ডসের কাছে অপ্রত্যাশিত হারে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা মোহামেডানের শিরোপা জেতা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই লেওপার্ডসই আবার তাদের উদ্ধার করেছে। শেষ রাউন্ডে মোহামেডানকে যেমন চীর প্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর বিপক্ষে জিততে হবে, তেমনি আবার ঢাকা লেওপার্ডসের কাছে প্রাইম ব্যাংককে হারতেও হবে। সব কিছু ছিল ‘যদি’ নির্ভর। শেষ পর্যন্ত সবই সম্ভব হয়েছে। ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে আবাহনীর বিপক্ষে ৬৩ রানে মোহামেডান জয়ী হওয়ার পর প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে লেওপার্ডস জয়ী হয় ৯ রানে। দুটি খেলাই অনুষ্ঠিত হয়েছে পাশাপাশি যথাক্রমে বিকেএসপির ৩ ও ৪ নম্বার মাঠে। ১১ ম্যাচে মোহামেডানের পয়েন্ট ১৮। সমান ম্যাচে আবাহনী ও প্রাইম ব্যাংকের পয়েন্ট ১৬ করে। হেড টু হেডে আবাহনী জয়ী হওয়াতে গত দুইবারের চ্যাম্পিয়নকে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে আবাহনী টস জিতে মোহামেডানকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল অল্প রানে আটকে ফেলার জন্য। সেখানে তাদের চিন্তা-ভাবনায় পানি ঢেলে দেন এনামুল হক বিজয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। দলীয় ৩৬ ও ব্যক্তিগত ১১ রানে নাঈম শেখ আউট হওয়ার পর বিজয় ও ইমন জুটি বেঁধে দলের রানকে তরতর করে বাড়িয়ে নিতে থাকেন। দুজনে যখন বিচ্ছিন্ন হন, তখন দুজনেরই নামের পাশে শোভা পাচ্ছে তিন অঙ্কের মালা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ২৪৮ রান যোগ করে ইমন আউট ১৫০ রান করে আউট হলে জুটি ভাঙে। তিনি সেঞ্চুরি করেন মাহফুজ রাব্বির বলে ছক্কা মেরে ৯৯ বলে। তার আগেই সেঞ্চুরি করেন বিজয় মারুফ মৃধার বলে বাউন্ডারি মেরে ৯২ বলে।
সেঞ্চুরি করার পর দুজনে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন। ১০০ থেকে ১৫০ রান করতে ইমন খেলেন মাত্র ১৭ বল। সেঞ্চুরির পর বিজয় বাকি ৪১ রান করেন ২৩ বলে। ইমন আরেকটি ছক্কা মারতে গিয়ে সাব্বির হোসেনের বলে সাব্বির রহমানের হাতে ধরা পড়ার আগে ১১৬ বলে ১২ ছক্কা ও ১৬ চারে ১৫০ রান করেন। ১৫০ রানে আউট হওয়াতে তিনি দুটি রেকর্ড থেকে বঞ্চিত হন। একটি ১ রানের জন্য ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রান করতে পারেননি আর ২ রানের জন্য লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে করতে পারেননি সর্বোচ্চ রান। জুটিতে সর্বোচ্চ রান গত বছর করেছিলেন ব্রাদার্সের মাহফিজুল ইসলাম রবিন (১১৪) ও মিজানুর রহমান (১৩৬*)। ১১৬ বলে ৯ ছক্কা ও ১১ চারে ১৪১ রানে বিজয়কে ফিরিয়ে দেন ইকবাল হোসেন ইমন। ক্যাচ ধরেন জিসান আলম। এই দুজন আউট হওয়ার পর আফিফ হোসেন ধ্রুব ৩৩ বলে ৪ ছক্কা ও ৬ চারে ৬১ এবং আনিসুল ইসলাম ১৬ বলে ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৩০ রান করলে মোহামেডান ৪ উইকেটে ৪০৬ রান করে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে চারশোর্ধ রানের ইনিংস এটি দ্বিতীয়। সর্বোচ্চ রান ৪২২। গত বছর ব্রাদার্সের বিপক্ষে করেছিল প্রাইম ব্যাংককে।
বিশাল টার্গেটের পেছনে ছুটে আবাহনী হোঁচট খায় শুরুতেই। শতরানের আগেই হারায় ৩ উইকেট। একপ্রান্ত আগলে রেখে ৬৪ বলে ৫ ছক্কা ও ৬ চারে ৮৫ রান করে ক্রিজে থেকে হারের ব্যবধান কমিয়ে আনার চেষ্টায় ছিলেন ওপেনার অনিক সরকার। তার সঙ্গে ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন সাব্বির রহমান রুম্মান। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে পরে আর খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। আবাহনীর সংগ্রহ ছিল ২৪.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৮ রান। পরে বৃষ্টি আইনে মোহামেডানকে ৬৩ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়।
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে ঢাকা লেওপার্ডসের বিপক্ষে টস জিতে প্রাইম ব্যাংক টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে করে ২৬৬ রান। ওপেনার আজিজুল হাকিম তামিম ৭১, রায়হান রাফসান রহমান ৫৭ ও আকবর আলী ৫১ রান করেন। আল ফাহাদ ৪৭ রানে নেন ৫ উইকেট। লেওপার্ডসও পাল্টা জবাব দেয়। জাওয়াদ আবরারের ৫৩, ইফতেখার হোসেন ইফতির ৪১ ও মুমিনুল হকের ৩১ রানে বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা ৩ উইকেটে করেছে ১৪২ রান। পরে বৃষ্টি আইনে ঢাকা লেওপার্ডসকে ৮ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়।
বসুন্ধরার বিপক্ষে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ২ উইকেটে জয়ী হয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। নিজেদের মাঠে আগে ব্যাট করে বসুন্ধরা ১৮৪ রানে অলআউট হয়। আরিফ ৩৫ রানে ৪ উইকেট পান। ব্যাট করতে নেমে অগ্রণী ব্যাংক ৪০.৪ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৮ রান করার পর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হলে বৃষ্টি আইনে অগ্রণী ব্যাংককে ২ উইকেটে জয়ী ঘোষণা করা হয়। ১২ পয়েন্ট নিয়ে অগ্রণী ব্যাংক ছয়ে এবং ১০ পয়েন্ট নিয়ে ৭ নম্বরে থেকে লিগ শেষ করেছে বসুন্ধরা।
বৃষ্টির ছোবলে পিকেএসপির ২ নম্বরে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব ও রূপগঞ্জ টাইগার্সের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটি টাই হয়েছে। আগে ব্যাট করে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব ৪৯.১ ওভারে ২২৫ রান করে। তন্ময় ৬৩ ও শাহরিয়ার সাকিব ৬১ রান করেন। হুময়ুন ৪টি ও তারেক ৩টি উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে রূপগঞ্জ টাইগার্স ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২২৫ রান করলে ম্যাচ টাই হয়। ম্যাচ টাই করেও প্রথম বিভাগে নেমে যাওয়া ঠেকাতে পারেনি গুলশান ক্রিকেট ক্লাব। ৫ পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান ১১তম। আগেও ওয়াকওভার দেওয়াতে ব্রাদার্স প্রথম বিভাগে নেমে গিয়েছিল। রূপগঞ্জের পয়েন্ট ৭। তারা আছে ১০ নম্বরে। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ও সিটি ক্লাবের ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে ইউল্যাব মাঠে অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। আজ অনুষ্ঠিত হবে।