ভারত-নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ভারতীয় শিবিরে চাপের ছাপ নেই বললেই চলে। বরং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের কণ্ঠে শোনা গেল আত্মবিশ্বাস আর হালকা মেজাজের মিশেল। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন; বরুণ চক্রবর্তীর অফ ফর্ম, টসের গুরুত্ব, শিশির কিংবা পিচ; সবকিছুই সামলে নিতে প্রস্তুত ভারত।
রোহিত শর্মার কাছ থেকেই বড় ম্যাচের আগে হালকা থাকার কৌশল শিখেছেন বলে জানালেন সূর্য। হাসতে হাসতেই তিনি বললেন, ‘দলের পরিবেশ খুব ভালো। ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারা আমার কাছে বিশেষ সম্মানের। দেশের মাঠে একটা অসাধারণ স্টেডিয়ামে খেলতে নামব। খুবই ভালো লাগছে।’ নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের সেই মন্তব্য আহমেদাবাদের এক লাখ দর্শককে চুপ করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য উঠতেই সূর্যের প্রতিক্রিয়া, ‘সবাই দেখছি একই কথা বলছে। কিছু তো নতুন বলতে বলুন।’
বরুণ চক্রবর্তীর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়েও কোনো দুশ্চিন্তা নেই ভারতের অধিনায়কের। তার কথায়, ‘ওকে নিয়ে চিন্তিত হওয়ার মতো কিছু নেই। সবার প্রয়াসেই তো কোনো দল ম্যাচ জেতে। ক্রিকেটে উত্থান-পতন থাকবেই। ১১ জনই তো আর ম্যাচ জেতাতে পারে না। বরুণ বিশ্বের এক নম্বর বোলার। ভালোই জানে কোন ম্যাচে কীভাবে বল করতে হবে। নিশ্চিত ভাবেই ফাইনালে সেটা করবে।’ প্রথম একাদশ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাসতে হাসতেই বলেন, ‘দল কী হবে সেটা কাল দেখে নিন। সবই আজ জেনে নিলে কী করে হবে।’
নিউজিল্যান্ড দলে চারজন অফস্পিনার থাকায় ভারতের বাঁ হাতি ব্যাটারদের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নেও নির্ভার সূর্য। তিনি বলেন, ‘আমরা এটা নিয়ে কোনো আলোচনাই করিনি। ১২০ স্ট্রাইক রেট নিয়ে যদি ফাইনাল খেলতে নামি, তাতেও আমার আপত্তি নেই। কেউ যদি ভালো ব্যাট করে, সে সেই সুযোগটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে। আগের ম্যাচেই দেখেছেন ইশান, শিবম দুবে, তিলক বর্মা কীভাবে অফস্পিনারদের সামলেছে।’
পিচ ও সম্ভাব্য স্কোর নিয়েও নির্দিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী করতে চান না তিনি। সূর্যের কথায়, ‘আমরা ভালো ব্যাট করার চেষ্টা করব। কত রান তুললে ভালো সেটা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। কখনো পিচের চরিত্র বুঝে খেলতে হয়।’
শিশিরের প্রসঙ্গ উঠলে আবারও মজা করেন ভারত অধিনায়ক, ‘আমি যখন আইসিসিতে যাব তখন এটা নিয়ে ভাবব। এখন তো আমাদের সন্ধ্যাতেই খেলতে হবে’–বলেই পরে সিরিয়াস হয়ে যোগ করেন, ‘শিশির থাকলে আগে ব্যাট করা সুবিধা। তবে পরিস্থিতি যেমনই হোক, দেশের কথা ভেবে খেলতে হবে।’
সূর্যের বিশ্বাস, দলের পরিবেশই তাদের বড় শক্তি। তার ভাষায়, ‘আমাদের দলটা পরিবারের মতো। যে কেউ যে কারও সঙ্গে কথা বলতে পারে। বুমরাহ, হার্দিক, অক্ষরের মতো ক্রিকেটাররা ফাইনাল খেলেছে। বাসে যেতে যেতে বা নৈশভোজের সময় আমরা এসব নিয়েই আলোচনা করি। অভিজ্ঞতার দাম তো আছেই।’
ফাইনালের আগে তাই বার্তা স্পষ্ট; চাপ নয়, আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামতে প্রস্তুত ভারত।
চঞ্চল/অনিক/