পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাতদিনের ছুটিতে প্রকৃতির টানে মৌলভীবাজারে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। সবুজ চায়ের বাগান, পাহাড়ি টিলা আর আঁকাবাঁকা পথে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতাকে আরও রঙিন করে তুলছে চার চাকার জিপ গাড়ি ‘চাঁদের গাড়ি’। লাল-হলুদ রঙের এসব গাড়ি এখন চায়ের রাজধানীতে পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ।
জেলার শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে গেলেই চোখে পড়ে সারি সারি রঙিন জিপ। স্থানীয়রা এগুলোকে ভালোবেসে বলেন ‘চাঁদের গাড়ি’। মূলত পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে সক্ষম এসব শক্তপোক্ত গাড়ি এখন পর্যটকদের ঘোরার প্রধান বাহন হয়ে উঠেছে।
ঈদের ছুটিতে পর্যটকের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাঁদের গাড়ির চাহিদাও বেড়েছে কয়েক গুণ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের নিয়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, মনিপুরী পাড়া, বাইক্কা বিল, বিভিন্ন চা-বাগানসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থানে ছুটে চলছে এসব গাড়ি।
রবিবার (২২ মার্চ) সকালে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সম্মুখে কথা হয় কয়েকজন পর্যটকের সঙ্গে। তাদের একজন ঢাকা থেকে আসা রাফি আহমেদ। তিনি বলেন, চাঁদের গাড়িতে চড়ার মজাটাই আলাদা। খোলা গাড়িতে বসে চা-বাগানের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় মনে হচ্ছিল, এই সবুজের মাঝেই হারিয়ে যাই।
চট্টগ্রাম থেকে আসা তানজিলা হক বলেন, এখানকার বাতাসটা একদম ফ্রেশ। চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ। পরিবার নিয়ে এমনভাবে ঘুরতে পারব, ভাবিনি। খুব ভালো লাগছে।
সিলেটের সুমন চৌধুরী বলেন, লাউয়াছড়া দেখতে আসছিলাম, কিন্তু চাঁদের গাড়িতে ঘোরা এই ট্রিপের সেরা অংশ হয়ে গেছে।
তার স্ত্রী পরমা চৌধুরী যোগ করেন, প্রকৃতি এত কাছ থেকে দেখার সুযোগ খুব কম সময়ই হয়। ছবি তোলার জন্য দারুণ একটা জায়গা। গাড়ির রঙ, চারপাশের সবুজ আর সবুজ। সব মিলিয়ে একেকটা ফ্রেম যেন পোস্টকার্ড।
স্থানীয় পরিবহন (চান্দের গাড়ি) চালক সুত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে আগত পর্যটকদের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ভ্রমণের জন্য প্রায় ৩০০টি ‘চাঁন্দের গাড়ি’ রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য রিজার্ভ ট্রিপ চালু রয়েছে।
খোলা ছাদের বাহারি রঙের জিপকেই স্থানীয়রা ‘চান্দের গাড়ি’ বা ‘চাঁদের গাড়ি’ বলে থাকেন। ৮-১০ জনের বসার ব্যবস্থা থাকে এসব গাড়িতে। প্যাকেজ ভাড়া ধরা হয়েছে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ইকো ট্যুর গাইড সাজু মারছিয়াং খবরের কাগজকে বলেন, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরে দেখার অন্যতম আকর্ষণ এই খোলা জিপ আকৃতির গাড়ি, যা স্থানীয়ভাবে ‘চাঁদের বা চান্দের গাড়ি’ নামে পরিচিত। খোলা ছাদের এই গাড়িতে দাঁড়িয়ে পাহাড় ও প্রকৃতির মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন ভ্রমণপ্রেমীরা।
চান্দের গাড়ি চালক নজরুল মিয়া জানান, পর্যটকদের উন্নত সেবা দিতে চাঁদের গাড়িগুলোর ব্রেকিং সিস্টেম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়াতে নতুন করে রং করা হয়েছে গাড়িগুলো।
চাঁদের গাড়ির মালিক সাগর আহমেদ বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা চেষ্টা করছি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, পর্যটকদের কাছে ‘চাঁদের গাড়ি’ বড় আকর্ষণ। এ সেবার মানোন্নয়নে প্রশাসনের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
পুলক পুরকায়স্থ/অমিয়/



