ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি শহরেই বেশি হামের প্রকোপ মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু বিশ্ব পরিবেশ দিবস: গ্রিন কনসার্ন’স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ দিল্লিতে দগ্ধ ৮ বাংলাদেশির ৩ জনের অবস্থা গুরুতর রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের অভিযোগে ওসি ক্লোজড চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নান্দাইল, ১৪৪ ধারা জারি খলিলুর রহমান কীভাবে সামলাবেন দুই দায়িত্ব গাছ থেকে পড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ ঘুরতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: নজরুল ইসলাম প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে: জি এম কাদের যে বিশ্বাস মানুষের জীবনে এনে দেয় অভাবনীয় ৬টি পরিবর্তন? জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় জাতীয় সংসদ: স্পিকার চামড়া নৈরাজ্য অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত ৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী গাজীপুরে বাসচাপায় অটোচালকসহ নিহত ২ আছিয়া থেকে রামিসা: বিচার কোথায়? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ঈশ্বরগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় তরুণের মৃত্যু, চেয়ারম্যানসহ ৩১ জনের নামে মামলা
Nagad desktop

প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি মহামায়া লেক

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
আপডেট: ০৮ মে ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি মহামায়া লেক
মহামায়া লেক বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ।

বাংলাদেশের পর্যটন মানচিত্রে চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার মহামায়া লেক একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। পাহাড়, ঝরনা আর টলটলে নীল জলের এই মিতালি যে কাউকে মুগ্ধ করবে। কৃত্রিমভাবে তৈরি হলেও এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একদমই অকৃত্রিম। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে জমে থাকা জলরাশি আর সবুজের সমারোহ পর্যটকদের জন্য এক স্বর্গীয় অনুভূতির সৃষ্টি করে। যারা যান্ত্রিক শহর থেকে দূরে কোথাও নিরিবিলি সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য মহামায়া লেক হতে পারে আদর্শ গন্তব্য।

মহামায়া লেকের ইতিহাস

মহামায়া লেক মূলত একটি সেচ প্রকল্প। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ। ২০১০ সালে সরকার এই লেকটি উদ্বোধন করেন। মূলত মিরসরাই এলাকার কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে পাহাড়ের পাদদেশে বাঁধ দিয়ে এই বিশাল জলাধার তৈরি করা হয়। পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার পানি এখানে জমা হয়ে এক বিশাল হ্রদের রূপ নিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর সৌন্দর্য ভ্রমণপিপাসু মানুষের নজরে আসে এবং বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

অবস্থান ও ভৌগোলিক পরিচিতি

মহামায়া লেক চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলায় অবস্থিত। এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খুব কাছেই অবস্থিত। এর একপাশে আকাশছোঁয়া পাহাড় আর অন্যপাশে সমতল ভূমি। হ্রদটি প্রায় ১১ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এর বিশেষত্ব হলো লেকের একদম গভীরে রয়েছে একটি ঝরনা, যেখানে পৌঁছাতে হলে আপনাকে নৌকায় করে বেশ কিছুক্ষণ পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হবে। পাহাড় আর জলের এই অপূর্ব মিলনস্থলটি মিরসরাইয়ের পর্যটনশিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

 

মহামায়া লেক চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলায় অবস্থিত।

 

কীভাবে যাবেন

মহামায়া লেকে যাওয়া বেশ সহজ। আপনি দেশের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, প্রথমে আপনাকে চট্টগ্রামগামী বাসে বা ট্রেনে করে মিরসরাই পৌঁছাতে হবে।
ঢাকা থেকে বাসে: ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল বা জনপথ মোড় থেকে চট্টগ্রামগামী যেকোনো বাসে উঠতে পারেন। বাসচালক বা হেলপারকে বলবেন আপনাকে মিরসরাইয়ের ‘ঠাকুরদীঘি’ বাজারে নামিয়ে দিতে। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মাত্র ৫-১০ মিনিটেই আপনি পৌঁছে যাবেন লেকের প্রধান ফটকে।
ট্রেনে: ঢাকা থেকে ট্রেনে যেতে চাইলে ফেনী স্টেশনে নামতে হবে। ফেনী থেকে বাসে বা সিএনজিতে করে ঠাকুরদীঘি বাজারে আসা যায়। এর পর লেকের গেটে যাওয়ার পথ একই।
চট্টগ্রাম থেকে: চট্টগ্রাম শহর থেকে অলঙ্কার বা একে খান মোড় থেকে ফেনী বা ঢাকাগামী বাসে চড়ে ঠাকুরদীঘি বাজারে নামতে হবে।

ভ্রমণ অভিজ্ঞতা

মহামায়া লেকের প্রবেশমুখে টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকলেই আপনার চোখে পড়বে বিশাল এক জলাধার। লেকের নীল জলের ওপর যখন সূর্যের আলো পড়ে, তখন চারপাশটা হীরার মতো চকচক করে। এখানে ভ্রমণের প্রধান আকর্ষণ হলো নৌকা ভ্রমণ। আপনি ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ছোট ডিঙি নৌকা ভাড়া করে লেকের গভীরে যেতে পারেন। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে নৌকা যখন চলতে শুরু করবে, আপনার মনে হবে আপনি কোনো রূপকথার রাজ্যে আছেন। লেকের শান্ত পরিবেশে পাখির কিচিরমিচির আর জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আপনার মনকে প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেবে। লেকের গভীরে গেলে দেখা মিলবে সেই কাঙ্ক্ষিত ঝরনার। ঝরনার শীতল পানিতে গা ভেজানো কিংবা পাহাড়ের ওপর থেকে পড়া পানির শব্দ শোনা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এ ছাড়া যারা একটু রোমাঞ্চ পছন্দ করেন, তারা এখানে ‘কায়াকিং’ করতে পারেন। ছোট কায়াক নিয়ে নিজেই লেকের  জলে ঘুরে বেড়ানো এক দারুণ উত্তেজনার কাজ।

মহামায়া লেক সারা বছরই সুন্দর।

 

ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

মহামায়া লেক সারা বছরই সুন্দর, তবে বর্ষাকাল এবং বর্ষার ঠিক পরবর্তী সময়ে (জুলাই থেকে অক্টোবর) এর রূপ সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে। বর্ষায় লেকের পানি কানায় কানায় পূর্ণ থাকে এবং ঝরনাগুলো সজীব হয়ে ওঠে। তবে বর্ষায় পাহাড় কিছুটা পিচ্ছিল থাকে। তাই সাবধানে চলাফেরা করতে হয়। অন্যদিকে শীতকালে লেক বেশ শান্ত থাকে এবং চারপাশের পরিবেশ খুব আরামদায়ক হয়। পিকনিক বা পারিবারিক ভ্রমণের জন্য শীতকালই সেরা সময়। তবে প্রখর রোদে ভ্রমণ কিছুটা কষ্টকর হতে পারে। তাই খুব গরমের সময় না যাওয়াই ভালো।

সতর্কতা

মহামায়া লেক সুন্দর হলেও এখানে ভ্রমণের সময় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি–
লাইফ জ্যাকেট: লেকের পানি অনেক গভীর। নৌকা ভ্রমণ বা কায়াকিং করার সময় অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পরিধান করবেন। কোনোভাবেই লাইফ জ্যাকেট ছাড়া পানিতে নামবেন না।
ঝরনার পথ: ঝরনার কাছে যাওয়ার রাস্তাটি বেশ পিচ্ছিল হতে পারে। তাই হাঁটার সময় ভালো গ্রিপের জুতা ব্যবহার করুন এবং সতর্ক থাকুন।
পরিবেশ রক্ষা: লেকের পানিতে প্লাস্টিক, পলিথিন বা কোনো ময়লা ফেলবেন না। এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
পাহাড় থেকে দূরত্ব: পাহাড়ের খুব কাছাকাছি যাওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন যেন মাটি ধসে না পড়ে। খুব খাড়া পাহাড়ে ওঠার চেষ্টা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রয়োজনীয় টিপস ও অন্যান্য তথ্য

মহামায়া লেক ভ্রমণে আপনার অভিজ্ঞতা আরও সুন্দর করতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে পারেন–
খাবার: লেকের আশপাশে ভালো মানের রেস্তোরাঁ নেই। ঠাকুরদীঘি বাজারে কিছু সাধারণ হোটেল আছে। ভালো হয় যদি সঙ্গে শুকনো খাবার ও পানি নিয়ে যান।
খরচ: নৌকা ভাড়া ও কায়াকিং করার সময় দরদাম করে নেওয়া ভালো। সাধারণত গ্রুপে গেলে খরচ অনেক কম হয়।
সময়: খুব সকালে পৌঁছাতে পারলে সারা দিন মনের মতো ঘুরে বেড়ানো যায়। চেষ্টা করবেন সন্ধ্যার আগেই লেক এলাকা থেকে বের হয়ে আসতে।
গ্রুপ ভ্রমণ: একা যাওয়ার চেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে বা পরিবারের সঙ্গে গেলে নিরাপত্তা ও আনন্দ দুই-ই বেশি পাওয়া যায়।
মহামায়া লেক প্রকৃতির এক অনন্য উপহার। আপনি যদি সাধারণ পাহাড় বা সমুদ্র থেকে ভিন্ন কিছু দেখতে চান, তবে মিরসরাইয়ের এই অপূর্ব লেকটি আপনাকে নিরাশ করবে না। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে মাত্র এক দিনের জন্য হলেও ঘুরে আসতে পারেন পাহাড়ঘেরা এই নীল জলের রাজ্যে।

কাছাকাছি অন্যান্য দর্শনীয় স্থান

পাশাপাশি দুই উপজেলা মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে অনেক দর্শনীয় স্থান আছে। মহামায়া লেক ভ্রমণে গেলে একই দিন নিচের যেকোনো একটি দর্শনীয় স্থানে যেতে পারবেন। পুরোটাই নির্ভর করবে আপনার টাইম ম্যানেজমেন্টের ওপর। মহামায়ার একদম কাছাকাছি আছে খৈয়াছড়া ঝরনা, নাপিত্তাছড়া ঝরনা ও কমলদহ ঝরনা। বিশ কিলোমিটার দূরের সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত কিংবা চন্দ্রনাথ পাহাড়ও চাইলে একই দিন কাভার করতে পারবেন। যেতে পারেন সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক। যার ভেতরে আছে সুপ্তধারা ও সহস্রধারা নামে মায়াবী দুটো ঝরনা।

সিনচিয়াং ঘুরে এলেন বাংলাদেশি সাংবাদিক

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
সিনচিয়াং ঘুরে এলেন বাংলাদেশি সাংবাদিক
আল মামুন হারুন উর রশিদ

‘অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং তথ্য ও বাস্তবতার আলোকেই সত্যকে সন্ধান করা উচিত। এটাই চীনের মূল দর্শন এবং যেকোনো বিভ্রান্তি দূর করার সবচেয়ে বড় উপায়’। চীনের উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিনচিয়াং প্রথমবার সফর করে এসে সিনচিয়াং ডেইলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের সাংবাদিক আল মামুন হারুন উর রশিদ। 
দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ও বিশেষ করে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতে সিনচিয়াংকে নিয়ে একপাক্ষিক ও নেতিবাচক প্রচারণাই দেখে এসেছেন বাংলাদেশের মানুষ। তবে ঢাকার ইংরেজি দৈনিক 'দ্য নিউ নেশন'-এর এই সাংবাদিকের সাম্প্রতিক সিনচিয়াং সফর সেই চেনা বৃত্ত ভেঙে দিয়েছে। পশ্চিমা চশমা সরিয়ে সরাসরি সিনচিয়াংয়ের স্থিতিশীলতা, দ্রুত বিকাশমান পর্যটন শিল্প এবং স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জীবনযাত্রা দেখে তিনি মুগ্ধ।   
এবারের সফরটি হারুন উর রশিদের চতুর্থ চীন সফর হলেও, সিনচিয়াংয়ে এটিই ছিল তার প্রথম পদার্পণ। এই অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভূগোল নিয়ে আগে থেকেই তার প্রবল আগ্রহ ছিল। তবে সেখানে গিয়ে তার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।  
তিনি জানান, পশ্চিমা মিডিয়া সিনচিয়াংয়ের যে চিত্র দেখায়, বাস্তবতার সাথে তার আকাশ-পাতাল তফাত। এখানকার স্থানীয় মানুষ অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ, প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি।  
সিনচিয়াংয়ের জাদুঘরগুলো ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ কোনো সমাজ বা মানবতা মেনে নিতে পারে না। অতীতে এই অঞ্চলে যে সহিংসতার চ্যালেঞ্জ ছিল, তা মোকাবিলা করে সব স্তরের মানুষকে এক ছাতার নিচে এনে শান্তি ফিরিয়েছে প্রশাসন। যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো বর্তমানে চীন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ পর্যটক ভয়হীনভাবে সিনচিয়াংয়ে ঘুরতে আসছেন। 
বাংলাদেশি পাঠকরা কেন সিনচিয়াং নিয়ে পশ্চিমা সংবাদ সহজেই বিশ্বাস করে— সাক্ষাৎকারে এমন এক প্রশ্নের জবাবে হারুন উর রশিদ অত্যন্ত বাস্তবসম্মত একটি ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের চোখের সামনে ২০টি নিউজ পোর্টাল বা মিডিয়া একটি নির্দিষ্ট সুরেই কথা বলে, আর তার বিপরীতে মাত্র একটি মিডিয়া ভিন্ন কিছু বলে, তবে মানুষ ওই ২০টি মিডিয়ার কথাই বিশ্বাস করবে। বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশেই দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমা মিডিয়ার একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে’।  
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভাষার একটি বড় বাধা রয়েছে। চীন তাদের সত্য গল্পগুলো নিজেদের ভাষায় লিখলেও তা সাধারণ বাংলাদেশি পাঠকদের কাছে পৌঁছায় না। কারণ সবাই ইংরেজি বা চীনা ভাষা পড়তে পারেন না। তাই এই শূন্যতা পূরণ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যমে বাংলা ভাষায় সিনচিয়াংয়ের আসল তথ্য ও উপাত্ত তুলে ধরা জরুরি। যখন মানুষ দুই পক্ষের তথ্যই হাতে পাবে, তখন তারা নিজেরাই সত্য-মিথ্যা বিচার করতে পারবেন। 
'বেল্ট অ্যান্ড রোড' উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশ এবং সিনচিয়াংয়ের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা দেখছেন এই সাংবাদিক। ভৌগোলিকভাবে সিনচিয়াং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল, যার সাথে আটটি দেশের সীমান্ত রয়েছে। ফলে এটি ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার সাথে যোগাযোগের একটি অন্যতম প্রধান হাব।  
সিনচিয়াংয়ের কৃষি ও পশুপালন খাত পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সভ্যতার মূলে রয়েছে কৃষি ও ধান চাষ। সিনচিয়াং যেভাবে আধুনিক প্রযুক্তিতে চাল এবং নানারকম শাকসবজি উৎপাদন করছে, তা থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার আছে।  
পাশাপাশি, সিনচিয়াংয়ের উন্নত ডেইরি শিল্প ও অর্গানিক মিল্ক প্রোডাক্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ গুঁড়োদুধ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে। চীন আমাদের অনেক কাছাকাছি দেশ এবং সিনচিয়াং দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য একটি বিশাল কেন্দ্র। ফলে এই খাতে বাংলাদেশ ও সিনচিয়াংয়ের মধ্যে চমৎকার বাণিজ্যিক সহযোগিতা গড়ে উঠতে পারে’।   
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের গণমাধ্যমের এই মেলবন্ধন আরও জোরালো হবে। বাংলাদেশি সাংবাদিকরা আরও বেশি সংখ্যায় সিনচিয়াং সফর করবেন এবং কোনো অন্ধবিশ্বাস বা চাপিয়ে দেওয়া মতবাদে কান না দিয়ে বাস্তব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সত্য গল্পগুলো বাংলাদেশের মানুষের সামনে তুলে ধরবেন।


সূত্র: সিএমজি

পর্যটকে মুখর রাঙামাটি

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আপডেট: ০২ জুন ২০২৬, ১০:৩২ এএম
পর্যটকে মুখর রাঙামাটি
‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি কন্যা পর্যটন শহর রাঙামাটি এখন পর্যটকদের পদভারে মুখরিত। টানা দীর্ঘ ছুটির কারণে ঈদের আগে থেকেই পাহাড়ে পর্যটকের আগমন বাড়তে শুরু করলেও বর্তমানে পর্যটকের আগমন আরও বেড়েছে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়েছে পাহাড়ের প্রতিটি পর্যটন স্পট।

পাহাড়, হ্রদ আর সবুজ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের টানে পর্যটকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে পাহাড়ের এপার থেকে ওপারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ঈদের আগে থেকেই এখানকার হোটেল-মোটেলসহ পাহাড়ের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রের রিসোর্টগুলো ৭০-৮০ ভাগই বুকিং হয়ে গেছে। সাজেক ভ্যালিও এখন পর্যটকে ভরপুর। 

রাঙামাটি শহরে ৫৬টি আবাসিক হোটেল, ১৭টি রিসোর্ট ও সাজেকে ১১৬টি হোটেল, রিসোর্ট এবং রেস্তোরাঁ আছে ১৪টির বেশি। সবগুলোই পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো পর্যটকের পদচারণায় জমে উঠেছে ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদ, সুবলং ঝরনাসহ জেলার বিনোদন কেন্দ্রগুলো। পর্যটকের আগমনে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যটন খাতও।

শহুরে ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছে পাহাড়-হ্রদের শহর রাঙামাটি। কয়েক মাসের স্থবিরতা কাটিয়ে এখন আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতুতে সকাল থেকে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করছেন পাহাড় আর হ্রদের মেলবন্ধনের মনোরম দৃশ্য। প্রকৃতির শান্ত পরিবেশে সময় কাটিয়ে স্বস্তির কথা জানালেন পর্যটকরা।

চট্টগ্রামের মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, রাঙামাটিতে এসে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দেখে আমরা অভিভূত। এখানে কাপ্তাই হ্রদ ও পাহাড়ের যে মিতালি, সেটা অন্য কোথাও দেখা সম্ভব না। পর্যটন শহরটি আরও আধুনিকায়ন করা গেলে এখানে সারা বছরই পর্যটকরা তাদের পরিবার নিয়ে ছুটে আসবে।

রাঙামাটিতে হ্রদ-পাহাড়ের মিতালি দেখে আগত পর্যটকরা খুবই খুশি। জেলায় বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তিপর্যায়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন পর্যটন স্পট। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা রাঙামাটি জেলার পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকারি উদ্যোগে পরিকল্পিতভাবে নতুন নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তোলাসহ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে পর্যটন খাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকেই অনেক রাজস্ব আদায় সম্ভব।

পাশাপাশি এই অঞ্চল দেশি-বিদেশি পর্যটকের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হতে পারে বলে মনে করেন পর্যটকরা।

রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ঝুলন্ত সেতুর টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে নিয়োজিত মো. ইউসুফ বাসসকে বলেন, ঈদের আগে থেকে কিছু পর্যটক আসতে শুরু করলেও বর্তমানে তা অনেক বেড়েছে। শুধু ঝুলন্ত সেতু দেখতে দৈনিক ২-৩ হাজার মানুষ আসছেন।
এখানে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ কাপ্তাই হ্রদে নৌ-ভ্রমণ। তাই সকাল থেকেই পর্যটকরা ট্যুরিস্ট বোট ভাড়া করে ঘুরে দেখছেন সুবলং ঝরনাসহ হ্রদের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। 

এ বছর ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে স্থানীয় হোটেল মালিক সমিতি। রাঙামাটি হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ চৌধুরী জানান, রাঙামাটিতে ঈদের আগে থেকেই পর্যটক আসতে শুরু করেছে। বর্তমানে তা আরও বেড়েছে। 

তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমরা পুরো মাসজুড়েই পর্যটকদের বিশেষ প্যাকেজ সুবিধা দিচ্ছি। এ ছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে আমরা হোটেল মালিক সমিতি বিশেষভাবে নজর দিচ্ছি।

বর্তমানে জেলার সাজেক ভ্যালি, ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদ, পলওয়েল পার্ক, মায়াবী দ্বীপ, আরণ্যক ও সুবলং ঝরনা, রাঙা দ্বীপ, লেকভিউ আইল্যান্ড, কাপ্তাই পট হাউসসহ মনোমুগ্ধকর সব পর্যটন স্পটগুলো এখন মুখরিত হয়ে উঠেছে পর্যটকদের উপস্থিতিতে। রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন উপজেলার পর্যটন স্পটসহ সাজেকের ১১২টি রিসোর্ট-কটেজের মধ্যে প্রায় সব রিসোর্টই শতভাগ পর্যটকে পরিপূর্ণ। 

রাঙামাটি পর্যটন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, এবার ঈদের ছুটিতে রাঙামাটিতে আশানুরূপ পর্যটকের সমাগম ঘটেছে এবং তা দিন দিন আরও বাড়ছে। পর্যটকরা অনলাইন বা অফলাইনে আমাদের হলিডে কমপ্লেক্সের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ রুম বুকিং করেছেন। 

তিনি বলেন, শুধু পর্যটন কমপ্লেক্স নয়, রাঙামাটির সব হোটেল-মোটেলই এখন পর্যটকে পরিপূর্ণ। কোথাও কোনো রুম খালি নেই। পর্যটকের আগমন আরও বাড়বে বলে আশা করছি। বর্তমানে পর্যটন কমপ্লেক্সে গড়ে ২-৩ হাজার পর্যটক আসছেন। এবার পর্যটন ব্যবসায় আশানুরূপ সরকারি রাজস্ব আদায় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন এলাকার বোট ইজারাদার সমিতির সহ-সভাপতি মো. রজমান আলী বলেন, পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাওয়ায় বোটের ব্যবসা অনেক ভালো হচ্ছে। বোট সমিতির পক্ষ থেকে আগত পর্যটকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোনো পর্যটক যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে হেল্প ডেস্ক। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে জেলার সব স্পটে ঘুরে বেড়াতে পারেন তার জন্য আমাদের প্রস্তুতি আছে। এবারের ঈদের ছুটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা নিরাপদে সর্বত্র ভ্রমণ করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সূত্র: বাসস

ঈদে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনা

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
ঈদে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনা
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুর জেলার প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জন্য কোন ধরণের বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় ঈদসহ অন্যান্য উৎসবে ভ্রমন প্রিয় লোকজন ভিড় জমায় শহরের তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেডে।

এবারের ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গত তিনদিন সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এই স্থানে ছুটে আসছে বিভিন্ন বয়সী লোকজন। যার ফলে তিন নদীর মোহনা এখন দর্শনার্থীদের পদাচরণায় মুখর হয়ে উঠেছে।

শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় জমে ওঠে পুরো এলাকা। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে মানুষ উপভোগ করছেন মোহনার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিন নদীর মোহনা বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। বিশেষ করে বিকেলে সূর্যাস্তের সময় এই স্থানটি খুবই চমৎকার দৃশ্য ধারণ করে। আর ওই মুহুর্তটি অনেকেই প্রিয়জনদের নিয়ে উপভোগ করেন।

এদিকে তিন নদীর মোহনা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ থানা ও সদর মডেল থানা পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। সাদা পোষাকেও রয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

মোহনা এলাকা ঘুরে ও দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাঁদপুর ছাড়াও কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন সময় কাটাতে এসেছেন। কেউ নদীর পাড়ে বসে গল্প-আড্ডায় মেতে উঠেছেন, কেউবা মোবাইল ক্যামেরায় স্মৃতিবন্দি করছেন আনন্দঘন মুহূর্ত। অনেকে আবার ট্রলার ও নৌকায় করে ঘুরে আসছেন মেঘনার বুকে জেগে ওঠা বালুচরে। যা স্থানীয়দের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত।

তবে মোহনার এই মনোরম পরিবেশে বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে। শিশুদের হাসি, তরুণ-তরুণীদের ছবি তোলার ব্যস্ততা এবং নদীর ঢেউয়ের মৃদু শব্দ মিলিয়ে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।  

চাঁদপুর সদরের চান্দ্রা এলাকার বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন সময় কাটাতে। তিনি বলেন, এই স্থান ছাড়া আমাদের সময় কাটানোর আর ভালো বিনোদন কেন্দ্র নেই। যে কারণে বারবার এখানে সময় কাটাতে আসি।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানিকগঞ্জের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে একটু ভিন্ন পরিবেশে সময় কাটাতে চাঁদপুরে এসেছি। তিন নদীর মোহনার সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। এখানে এসে মনটা অনেক ভালো হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে ঈদের ছুটিতে আবারো পরিবার নিয়ে আসার চেষ্টা করবো।

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থেকে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন পাঁচ বন্ধু। তাদের একজন মিনহাজ উদ্দিন বলেন, সময় পেলে এই স্থানে ঘুরতে আসি। ঈদে সময় কাটানোর জন্য বন্ধুরা মিলে এসেছি। এই স্থানে আসলে কিছু সময় হলেও আনন্দ উপভোগ করা যায়। বিশেষ করে তিন নদীর মিলনস্থলের ঢেউ সকলের নজর কাড়ে।

কুমিল্লা থেকে বন্ধুদের নিয়ে আসা কলেজ শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান বলেন, অনেকদিন ধরেই বড় স্টেশন মোলহেডে আসার ইচ্ছা ছিল। ঈদের ছুটিতে সুযোগ পেয়ে চলে এসেছি। নদীর মাঝখানে ট্রলারে ঘোরাঘুরি আর বালুচরে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা দারুণ।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, ঈদ উৎসব কেন্দ্রিক মানুষের সার্বিক নিরাপত্তায় তিনটি টহল টিম কাজ করছে। এছাড়া বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তিন নদীর মোহনায় আলাদা একটি টিম রয়েছে। এছাড়া সড়কের প্রতিটি মোড়ে আলাদা ট্রাফিক টিম রয়েছে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে এবং ঘুরতে পারে এজন্য পুলিশ সর্বদা সজাগ রয়েছে।

এসএন/

পর্যটকের পদচারণায় প্রাণ ফিরেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
আপডেট: ৩০ মে ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
পর্যটকের পদচারণায় প্রাণ ফিরেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে
ছবি:সংগৃহীত

ঈদুল আজহার ছুটি ঘিরে শুরুতে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ফিরতে শুরু করেছে প্রাণচাঞ্চল্য। 

শনিবার (৩০ মে) বিকেলের দিকে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের ঢল। সমুদ্রের গর্জন, শীতল বাতাস আর অপরূপ সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে সৈকতে ভিড় করছেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষ।

সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি। কেউ সমুদ্রস্নানে মেতেছেন, কেউবা বালুচরে হেঁটে সময় কাটাচ্ছেন। অনেকে আবার স্মার্টফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ঈদের আনন্দের মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখছেন।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘ ছুটি থাকা সত্ত্বেও এবার আগাম বুকিং প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। কারণ ঈদের সরকারি ছুটির বড় অংশ সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় অনেকেই সংক্ষিপ্ত সফরের পরিকল্পনা করেন। তবে ঈদের দিন পেরিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। বর্তমানে হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে বুকিং বাড়ছে এবং আগামী কয়েক দিনে আরও বেশি পর্যটক আসার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে নানা ধরনের জুস, ফুড ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করেছে। সেখানে মৌসুমি নানা ফল দিয়ে তৈরি বিশেষ সব খাবার ও ডেজার্ট উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকরা। 

ঢাকার মিরপুর থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক মাহমুদ মিঞা বলেন, “শহরের কর্মব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে এসেছি। বিকেলের সমুদ্র আর পরিবেশ সত্যিই মনকে প্রশান্ত করে।”

রাজশাহী থেকে আসা কলেজশিক্ষার্থী শশী জান্নাত বলেন, “বন্ধুদের সঙ্গে প্রথমবার কক্সবাজারে ঈদের ছুটি কাটাচ্ছি। সৈকতের পরিবেশ এবং মানুষের উচ্ছ্বাস দেখে খুব ভালো লাগছে।”

গাজীপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী সিরাজ হাসান বলেন, “আগে ভেবেছিলাম পর্যটক কম থাকবে। কিন্তু বিকেলে সৈকতে এসে দেখি মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি। ঈদের আমেজটা এখানেই বেশি অনুভব করছি।”

সৈকতে দায়িত্ব পালনরত সি-সেইফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার মুহাম্মদ ওসমান বলেন, “পর্যটকদের নিরাপদ সমুদ্রস্নান নিশ্চিত করতে আমাদের সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সবাইকে নির্ধারিত এলাকার মধ্যে থেকে গোসল করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

ট্যুরস অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক)-এর সভাপতি আনোয়ার মোস্তফা বলেন, “আগাম বুকিং খুব বেশি না থাকলেও ঈদের পর থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। আগামী কয়েক দিনে পর্যটন খাতে আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমরা আশা করছি।”

কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, “ছুটির কাঠামোর কারণে এবার পর্যটক আসার সময় কিছুটা সীমিত হয়েছে। তারপরও কক্সবাজারে কয়েক দিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে আমরা মনে করছি। অধিকাংশ আবাসিক হোটেলেই এখন বুকিং বাড়ছে।”

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সদ্য বদলি আদেশ পাওয়া পুলিশ সুপার নাহিদ আদনান তাইয়ান বলেন, “ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ছাড়াও ইনানী, হিমছড়ি ও পাটোয়ারটেক এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।”

এসএন/

ঈদ আনন্দে পর্যটকে মুখর সোনারগাঁর বিনোদনকেন্দ্র

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
আপডেট: ৩০ মে ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
ঈদ আনন্দে পর্যটকে মুখর সোনারগাঁর বিনোদনকেন্দ্র
দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘর প্রাঙ্গণ। ছবি: খবরের কাগজ

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে প্রাচীন বাংলার রাজধানীখ্যাত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর দর্শনীয় স্থানগুলোতে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। 

ঈদের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সোনারগাঁ জাদুঘর, পানাম নগরী ও বাংলার তাজমহলসহ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।

রাজধানী ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বল্প সময়ে ঘুরতে আসার জন্য অনেকেরই পছন্দের তালিকায় ছিল সোনারগাঁ। 

বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর এবং তরুণ-তরুণীদের পদচারণায় দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে পুরো এলাকায়।

সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এবং ঐতিহাসিক পানাম নগরীতে। 

এ ছাড়া বাংলার তাজমহল, গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের মাজার, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম, কাইক্কারটেক ব্রিজ, অলিপুরা ব্রিজ এবং মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজার ঘাটেও দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

ঈদ উপলক্ষে পরিবার নিয়ে পানাম নগরীতে ঘুরতে আসা নরসিংদীর মাধবদীর বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে সোনারগাঁয়ে ঘুরতে এসেছি। এখানকার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো খুবই আকর্ষণীয়। পরিবার নিয়ে সময়টা দারুণ কাটছে।

লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে ঘুরতে আসা রায়হান আহমেদ বলেন, এখানে ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেক কিছু জানার সুযোগ রয়েছে। তাই সন্তানদের নিয়ে এসেছি, যেন তারা দেশের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে।

বাংলার তাজমহল দেখতে আসা সাব্বির ভূঁইয়া বলেন, ভারতের আগ্রার তাজমহল দেখার সুযোগ হয়নি। তাই পরিবারের সঙ্গে বাংলার তাজমহল দেখতে এলাম। জায়গাটি সত্যিই সুন্দর ও আকর্ষণীয়।

বাংলার তাজমহলের প্রতিষ্ঠাতা ও চলচ্চিত্র পরিচালক আহসান উল্লাহ মনি বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী এসেছেন। দেশের সাধারণ মানুষ যেন আগ্রার তাজমহলের আদলে নির্মিত এ স্থাপনাটি দেখতে পারেন, সেই ভাবনা থেকেই এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের (সোনারগাঁ জাদুঘর) কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে এবার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশি দর্শনার্থীরাও জাদুঘরের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় করছেন। দর্শনার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার, পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, সোনারগাঁয়ের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

অমিয়/