তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলের মেয়র ইকরাম ইমামোগলুকে ১৯ মার্চ গ্রেপ্তারের পর গত রবিবার জেলে পাঠিয়েছেন দেশটির আদালত। তার গ্রেপ্তারের পরেই ইস্তাম্বুলে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিক্ষোভ। হাজার হাজার মানুষ গত পাঁচ দিন ধরে রাজপথ দখল করে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। গত রবিবার সেই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন ইমামোগলুর স্ত্রী দিলেক কায়া ইমামোগলু।
এ সময় প্রায় ১০ হাজার মানুষের উদ্দেশে দিলেক বলেন, ‘এরদোয়ানের সময় শেষ হয়ে এসেছে। এবার তিনি হারবেন। ইকরামকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশের জনগণের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে, অবিচার করা হচ্ছে। এর দায়িত্ব এরদোয়ানকে নিতে হবে।’ প্রসঙ্গত, বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) নেতা ইমামোগলু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের ঘোরতর বিরোধী। ইস্তাম্বুলে তিনি মেয়র হিসেবে এরদোয়ানের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন। অভিযোগ আছে, সে কারণেই অন্যায়ভাবে তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। গতকাল সোমবার ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধী দল সিএইচপি ইমামোগলুকে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে।
এদিকে তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১৯ তারিখে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৩৩ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ইমামোগলুর পাশে ফ্রান্স
রবিবার রাতে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘যেভাবে ইমামোগলু এবং তার সহকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা গণতন্ত্রের ওপর আঘাত।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২০ বছর ধরে এরদোয়ান তুরস্কে শাসন করছেন। তিনি বিরোধী স্বরকে সম্মান দেওয়ার শপথ নিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সে কাজ তিনি করছেন না।
এরদোয়ান বিরোধী ভোট
ইমামোগলুর সমর্থকরা দেশজুড়ে এক প্রতীকী ভোটের ব্যবস্থা করেছেন। বিভিন্ন শহরে তারা ব্যালট বাক্স বসিয়েছেন। বিরোধী দল সিএইচপির সমর্থক নন, এমন মানুষদেরও ওই প্রতীকী ভোটে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। সিএইচপি জানিয়েছে, প্রায় দেড় কোটি মানুষ এই ভোটে অংশ নিয়েছেন। কোনো কোনো অঞ্চলে এতই ভিড় ছিল যে, ভোটের সময় সাড়ে ৩ ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। দেড় কোটি মানুষের মধ্যে ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ইমামোগলুর সমর্থনে ভোট দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।