ক্রেমলিন সোমবার ( ২১ এপ্রিল) জানায়, ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ নাকচ করে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান রাশিয়াকে সন্তুষ্ট করেছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির আশার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে তারা অস্বীকৃতি জানায়।
মঙ্গলবার ( ২২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
শান্তি স্থাপনকারী হিসেবে ট্রাম্প বারবার বলেন, তিনি ইউক্রেনের তিন বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধ করতে চান। এই সংঘাতকে তার প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে ছায়াযুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দূত জেনারেল কেইথ কেলগ রবিবার বলেন, ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ এখন বিবেচনায় নেই। ট্রাম্প বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের এই সমর্থনই যুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ওয়াশিংটনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে শুনেছি যে ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য সন্তুষ্টির বিষয় এবং আমাদের অবস্থানের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই জোটে ইউক্রেনের সদস্যপদ রাশিয়ার স্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলবে এবং বাস্তবে এটি এই সংঘাতের মূল কারণগুলোর একটি।
২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেন, যা স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মস্কো ও পশ্চিমের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাতের সূত্রপাত ঘটায়। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সব পশ্চিম ইউরোপের নেতারা এবং ইউক্রেন এই আক্রমণকে সাম্রাজ্যবাদী ঘরানার ভূমি দখল হিসেবে বর্ণনা করে রাশিয়াকে পরাজিত করার অঙ্গীকার করেন।
অন্যদিকে পুতিন এই যুদ্ধকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখেন। তার মতে, ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ন্যাটো সম্প্রসারণ ও মস্কোর প্রভাব বলয়ে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে রাশিয়াকে অপমান করা হয়েছে।
২০০৮ সালের বুখারেস্ট শীর্ষ সম্মেলনে ন্যাটো নেতারা একমত হন যে, ইউক্রেন ও জর্জিয়া একদিন ন্যাটো সদস্য হবে। ২০১৯ সালে ইউক্রেন তার সংবিধান সংশোধন করে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্যপদের পথে অগ্রসর হওয়ার অঙ্গীকার করে।
কিন্তু পুতিন বারবার বলেন, ইউক্রেন যদি ন্যাটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে এবং রাশিয়ার দাবি করা চার ইউক্রেনীয় অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয় তাহলে রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রস্তুত। সূত্র: রয়টার্স
দিনা