নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ আগেই এনেছিলেন, এবার বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আবারও তোপ দেগেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা থেকে নিয়মিতভাবে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে এক সুপরিকল্পিত সফটওয়্যার জালিয়াতির মাধ্যমে, আর এর মূল লক্ষ্য সংখ্যালঘু ভোটাররা। প্রমাণ হিসেবে তিনি উদাহরণ টেনেছেন কর্ণাটকের আলন্দ বিধানসভা কেন্দ্রের।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রাহুলের দাবি, আলন্দে অন্তত ৬ হাজার ১৮ জন ভোটারের নাম রহস্যজনকভাবে মুছে ফেলা হয়েছে। যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হওয়র সম্ভাবনা।
তার বক্তব্য, ‘হাতেনাতে ধরা পড়ায় কাকতালীয়ভাবে ৬ হাজার ১৮ ভোট মুছে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে।’
ওই কারচুপি ধরা পড়ে যখন এক বুথ-স্তরের আধিকারিক লক্ষ্য করেন তার নিজের কাকার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। পরে খোঁজ করে জানা যায়, পাশের বাড়ির নাম ব্যবহার করে সেই ভোট মুছে ফেলা হয়েছে। অথচ প্রতিবেশী নিজেই জানতেন না যে তার নাম কাজে লাগানো হয়েছে।
রাহুলের কথায়, ‘যে ভোট কাটা হয়েছে সে জানে না, যে কাটছে সেও জানে না। অন্য এক শক্তি গোটা প্রক্রিয়াটাকে হাইজ্যাক করেছে।’
কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, এটা নিছক মানবিক ভুল নয়, বরং কেন্দ্রীভূত এক স্বয়ংক্রিয় ষড়যন্ত্র। সফটওয়্যার ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে একাধিক বুথে প্রথম নামের ভোটারকে ‘আবেদনকারী’ দেখিয়ে তার নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য রাজ্যের বাইরের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।
সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘লোকসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি - ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোট চোরদের আড়াল করছেন। এটা স্পষ্ট প্রমাণ, এখানে কোনো বিভ্রান্তি নেই।’
তিনি আরও জানান, কর্ণাটক সিআইডি গত ১৮ মাসে অন্তত ১৮ বার নির্বাচন কমিশনের কাছে তথ্য চেয়েছে। কিন্তু কমিশন প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়নি।
রাহুলের বক্তব্য, ‘তথ্য দিলে বোঝা যাবে এই পুরো কারচুপির হদিস কোথায় পৌঁছাচ্ছে। আর আমরা নিশ্চিত, তা অনেক দূর গড়াবে।’
ভোটাধিকার যাত্রা শেষে কয়েক দিন আগেই রাহুল ঘোষণা করেছিলেন, ভোট চুরির অকাট্য প্রমাণ তিনি সামনে আনবেন। বৃহস্পতিবারের সাংবাদিক বৈঠক ছিল সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
তবে এটাকে তিনি বললেন ‘হাইড্রোজেন বোমা নয়’ - সেই ‘বিস্ফোরণ’ এখনও বাকি।
অমিয়/