চলতি বছরের ৪-৫ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে আসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে তিনি এই সফর করবেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটি হবে তার প্রথম ভারত সফর।
ভারত যখন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, তখন এই সম্মেলন মস্কোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার একটি বড় ইঙ্গিত দেবে। ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক বর্তমানে এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিরক্ষা খাতে সম্পর্ক ‘একক নির্ভরতা’ নয়, বরং নানা দিক থেকে বিস্তৃত। আর পুতিনের এবারের সফরে বোঝা যাবে, দশকের পুরোনো ঐতিহ্যগত অংশীদারত্বকে নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারত মানিয়ে নিতে পারবে কি না।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরকালে দুই দিনের বৈঠকে প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক শক্তি, জ্বালানি, মহাকাশ, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য—সব খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ নজর থাকবে পরবর্তী প্রজন্মের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে। এর মধ্যে রাশিয়ার আধুনিক এস-৫০০ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আলোচনার এই দিকগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামরিক সম্পর্ক এখনো দুই দেশের অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে রয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের ড্রোন হামলা ঠেকাতে রাশিয়ার এস-৪০০ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করেছিল ভারত।
পশ্চিমা দেশগুলোর অনীহার কারণে দশকের পর দশক ধরে ভারতীয় সামরিক ভান্ডারের বেশির ভাগই এসেছে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পরবর্তী সময়ে রাশিয়া থেকে। কিন্তু গত এক দশকে এটা কমে এসেছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্যমতে, ২০০০ সালের শুরু থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ভারতের ৭০ শতাংশের বেশি অস্ত্র সরবরাহ করত রাশিয়া (২০০২ সালে ৮৯ শতাংশে পৌঁছেছিল)। তবে ২০১৪ সালের পর এই অংশীদারত্ব কমতে শুরু করে এবং সর্বশেষ পাঁচ বছরে এটি ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ৬০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ভারত এখন ফ্রান্স, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পশ্চিমা দেশের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বাড়িয়েছে। তবে রাশিয়া এখনো ভারতের শীর্ষ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী হিসেবে রয়ে গেছে। কারণ, ভারতীয় সামরিক বাহিনী এখনো সোভিয়েত বা রুশ সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে। সাবমেরিন থেকে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা—সবকিছুই রাশিয়ার। হাইপারসনিক ও পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও রাশিয়া থেকে পাওয়া।
এদিকে, ২০২২ সালে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়া ভারতকে ছাড়ে অপরিশোধিত তেল দিতে শুরু করে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগায়। এর ফলে রাশিয়া থেকে আমদানি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তেল ছাড়াও সার, উদ্ভিজ্জ তেল, কয়লা, ধাতু সব ক্ষেত্রেই রাশিয়া থেকে ভারতের আমদানি বেড়েছে। কিন্তু রাশিয়ায় ভারতের রপ্তানি খুবই কম।
সুলতানা দিনা/