যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার দেশ ছেড়ে রাশিয়া বা অন্য কোথাও চলে যাওয়ার জন্য সুযোগ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার ভেনেজুয়েলায় হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশটির আকাশসীমা ‘বন্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এ সময় মার্কিন সেনাবাহিনী ওই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি বজায় রেখেছে।
ট্রাম্প প্রকাশ্যে মাদুরোর বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের হুমকি না দিলেও তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলার মাদক পাচার বন্ধে শিগগিরই ‘স্থলপথে’ অভিযান শুরু হবে।
মাদুরো বলেছেন, তিনি ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকে ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতা বদলের পূর্বলক্ষণ হিসেবে দেখছেন।
এছাড়া ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে “ঔপনিবেশিক হুমকি” দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলা সরকার বলছে, এই নির্দেশনা “অবৈধ ও অযৌক্তিক আগ্রাসন”, যা তাদের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।
মার্কিন সিনেটের দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কমিটির সদস্য মার্কওয়েন মালিন সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ টক শোতে বলেন, আমরা মাদুরোকে দেশ ছাড়ার সুযোগ দিয়েছি। আমরা বলেছি তিনি রাশিয়ায় যেতে পারেন অথবা অন্য কোনো দেশে চলে যেতে পারেন।
ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা করছেন কি না জানতে চাইলে ওকলাহোমার এই সিনেটর বলেন, না, ট্রাম্প খুব স্পষ্ট করে বলেছেন আমরা ভেনেজুয়েলায় সেনা পাঠাব না। আমরা যা করতে চাই তা হলো আমাদের নিজেদের উপকূল রক্ষা করা।
গত সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারকারী নৌযান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে অন্তত ৮৩ জন নিহত হয়েছে।
ওয়াশিংটন দাবি করেছে, বামপন্থী মাদুরো একটি কথিত মাদক কার্টেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ক্যারিবীয় সাগরে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি আমেরিকান যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমান বারবার ভেনেজুয়েলার উপকূলে মহড়া দিচ্ছে।
এদিকে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন দাবি করেছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা বিভিন্ন গোপন চ্যানেলের মাধ্যমে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে ভবিষ্যতে যোগাযোগ কেমন হবে মূলত, এ নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। সূত্র: এএফপি, সিএনএন
মাহফুজ/