তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাতে আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড ট্রাস্ট সামিটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের প্রতি মস্কোর সমর্থন অব্যাহত থাকবে—বিশেষত তেহরানের পরমাণু ইস্যুতে।
পুতিন বলেন, রুশ কূটনীতিকরা ইরানিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং জাতিসংঘসহ বৈশ্বিক মঞ্চগুলোতে রাশিয়া ইরানের পক্ষে অবস্থান ধরে রাখবে। রাশিয়ার কূটনৈতিক সহায়তার জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়ে পেজেশকিয়ান জানান, জানুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে হওয়া কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তির বাস্তবায়ন আরও এগিয়ে নিতে তেহরান আগ্রহী।
রাশিয়া-তুরস্ক-পাকিস্তান-ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানগণ এক মঞ্চে
শুক্রবার একই সম্মেলনে অংশ নিতে তুর্কমেনিস্তানে একত্রিত হন রাশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানরা। মধ্য এশিয়ার এই দেশটি তাদের বহুল আলোচিত ‘স্থায়ী নিরপেক্ষতা’ নীতির ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বিরল আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র তুর্কমেনিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুই হলো ‘স্থায়ী নিরপেক্ষতা’। ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘ এই মর্যাদা অনুমোদন করার পর দেশটি কার্যত বিশ্বের অন্যতম বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রে পরিণত হয়। রাজধানী আশগাবাতে থাকা প্রায় ১০০ মিটার উঁচু নিউট্রালিটি মনুমেন্টও এর প্রতীক।
নিরপেক্ষতার নীতি তুর্কমেনিস্তানকে কোনো সামরিক জোট বা ইউনিয়নে যোগ দিতে বাধা দেয়; সরকারও এই নীতিকে দেশের বিচ্ছিন্ন অবস্থান বজায় রাখতে ব্যবহার করে। সম্মেলনের আগে বর্তমান প্রেসিডেন্ট সেরদার বারদিমুখামেদভ নিরপেক্ষতার সুফল তুলে ধরে নতুন একটি বই প্রকাশ করেছেন—যা “তুর্কমেন জনগণের জন্য মূল্যবান উপহার” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
গ্যাস বাণিজ্যের কারণে চীন, রাশিয়া, ইরান ও তুরস্ক—এই চার দেশের সঙ্গে তুর্কমেনিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দেশটির সহযোগিতা সীমিতই রয়ে গেছে। সূত্র: রয়টার্স
মাহফুজ/